পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি মোঃ মিজানুর রহমান
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৬ পি.এম
পটুয়াখালী জেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন স্তরের মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এ অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা যুবদলের অন্যতম নেতা ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কবির শিকদারকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছে কবির শিকদার পরিচিত মুখ। তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থনের কথা জানিয়ে অনেকেই অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত হন। সমর্থকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে তাঁকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করার সুযোগ পেলে তিনি জনগণের পাশে থাকবেন।
এ সময় কবির শিকদার বলেন, “আমার শক্তি, আমার বিশ্বাস—আমার জনগণই আমার পুঁজি।”
জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনকে পুঁজি করে তিনি সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যেতে চান বলে জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা ভূমি অফিসে গ্রিল কেটে ও কক্ষের তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় অফিস থেকে নগদ ৪৬ হাজার ১৩০ টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তবে ঘটনার রাতে সিসিটিভি ক্যামেরায় কোনো ফুটেজ রেকর্ড না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনাটি তদন্ত করছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে অফিসে এসে চুরির বিষয়টি দেখতে পান নৈশপ্রহরী। এ সময় অফিসের সামনের ও পেছনের গ্রিল কাটা এবং বিভিন্ন কক্ষের তালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। কক্ষের দরজা ও ড্রয়ারের তালাও ভাঙা ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে দায়িত্বে থাকা নৈশপ্রহরী রাত ১টার দিকে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সকালে উঠে তিনি অফিসের গ্রিল ও তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা জানান, চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে কী পরিমাণ মালামাল খোয়া গেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ভূমি অফিস থেকে নগদ ৪৬ হাজার ১৩০ টাকা চুরি হয়েছে। এ ছাড়া অন্য কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চুরির খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি সিআইডিও ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে চুরির ঘটনার রাতে সিসিটিভি ক্যামেরায় কোনো ফুটেজ রেকর্ড না হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। কী কারণে ফুটেজ পাওয়া যায়নি, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ক্যামেরায় কারিগরি ত্রুটি ছিল, নাকি অন্য কোনো কারণে ফুটেজ রেকর্ড হয়নি, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ না পাওয়ার কারণ ও অফিসের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে নিউইয়র্কে প্রবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য ও নীতিবিশেষজ্ঞদের এক সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এ সময় তাকে প্রশ্ন করা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক কী ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।
জয়শঙ্কর তার জবাবে বলেন, ‘যদি পেছনে ফিরে সম্পর্কটির দিকে তাকাই… তাহলে দেখা যায়, বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আগের চেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে।’ যদিও প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের জন্য বিষয়টি কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হলেও পাকিস্তান এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অস্থির সময়ে শুল্ক আরোপ এবং ইরান যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্রদের সঙ্গে কয়েক দশকের আস্থার সম্পর্কও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন ও তা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্য, এমনকি পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা-সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল মিত্ররা এখন বিকল্প অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। হামলার শিকার হলে ওয়াশিংটনের সহায়তা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থক হিসেবে পরিচিত দেশগুলোর নেতারাও ট্রাম্পের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন—অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবেও।
তবে এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মধ্যে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একসময় গভীর সংকটে থাকা সম্পর্ককে এমন এক অংশীদারত্বে রূপ দিতে সক্ষম হয়েছে, যার প্রশংসা ট্রাম্প বারবার করেছেন। যদিও ইসলামাবাদের সরকার দেশে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন এবং নামেমাত্র বেসামরিক শাসন রেখে সামরিক শাসন পাকাপোক্ত করার অভিযোগের মুখে রয়েছে।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। পাকিস্তান এমন একটি দেশ, যারা ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান পার্টির সাফল্য কামনা করবে। কারণ, বর্তমানে দুই কক্ষে গুরুত্বপূর্ণ আসন হারানোর আশঙ্কা রয়েছে দলটির।
সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী—অসাধারণ একজন মানুষ—বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩ কোটি মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য দায়ী, সম্ভবত এর চেয়েও অনেক বেশি মানুষের।’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কথা উল্লেখ করে এ বক্তব্য দেন তিনি। যে যুদ্ধের কারণে ইসলামাবাদের প্রতি ট্রাম্পের আগ্রহ বেড়েছে, সেটির কথাও এখানে উঠে আসে।
আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক
দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক প্রেসিডেন্ট প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। একই সময়ে ওয়াশিংটনে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি তৎকালীন আফগান তালেবানকেও সমর্থন দিয়ে দ্বৈত ভূমিকা পালন করেছে ইসলামাবাদ।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে এবং পরে জো বাইডেন—দুজনই পাকিস্তান সম্পর্কে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। তবে দ্বিতীয় মেয়াদের দুই মাসের মাথায়, ২০২৫ সালের মার্চে, কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রশংসা করেন। ২০২১ সালে কাবুল বিমানবন্দরের অ্যাবি গেট বোমা হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করায় তিনি পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানান।
এরপর মে মাসে আসে বড় ধরনের পরিবর্তন। ভারত-শাসিত কাশ্মীরে সশস্ত্র হামলাকারীদের হাতে ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের তীব্র যুদ্ধ হয়। ১০ মে যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে সংঘাতের অবসান ঘটে। ট্রাম্প প্রথমে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন এবং মধ্যস্থতার জন্য পাকিস্তান তাঁকে ধন্যবাদ জানায়। তবে ভারত ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান হয়েছে।
এরপর থেকে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানানো হয়েছে, দেশটির রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো হয়েছে এবং চলমান যুদ্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করেছে ইসলামাবাদ। ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানান। পাকিস্তানের কোনো সেনাপ্রধানের জন্য এটি ছিল প্রথম ঘটনা, যিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট নন। ট্রাম্প মুনিরকে তার ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।
পাকিস্তান ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীতও করেছে। ৯ অক্টোবর, দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাইয়ের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার দিন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শাহবাজ শরিফ লেখেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। তার সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ পাকিস্তান ও ভারতকে সংঘাতের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে এনে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে, যা আজও কার্যকর রয়েছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের কাছে ইসলামাবাদের গুরুত্ব দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। ইসলামাবাদভিত্তিক সানোবার ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক কামার চিমা বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে এখন পাকিস্তানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’
২০২৫ সালের জুলাইয়ে একটি বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ২৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়। এরপর খনিজ সম্পদ, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ড্রোন খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট অব পিসে পাকিস্তানবিষয়ক সাবেক পরিচালক এবং ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক ইমরান খান বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠতা দেশটির কূটনৈতিক পরিচিতি ও গুরুত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে বলা যায়, কিছু অমূর্ত সুবিধা—যেমন কূটনৈতিক পরিচিতি ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব—ছাড়া পাকিস্তান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তেমন কিছুই পায়নি।
মধ্যস্থতা ও উপসাগরীয় অঞ্চল
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতা করে পাকিস্তান। ১৯৭৯ সালের পর দুই পক্ষের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি আলোচনার আয়োজনও করে দেশটি।
জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে’ সম্মত হয়। চিমা বলেন, ‘৪৭ বছর পর পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে একই ছাদের নিচে আনতে পেরেছিল।’ তবে পরবর্তী আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা আগস্টের মাঝামাঝি কোনো মেয়াদ বৃদ্ধি ছাড়াই শেষ হয়ে যায়।
২০ অক্টোবর আবারও তেহরানে যান মুনির। যুদ্ধ শুরুর পর এটি ছিল তার পঞ্চম ইরান সফর। ইরানি কর্মকর্তারা জানান, ওয়াশিংটনকে দেওয়ার মতো নতুন কোনো প্রস্তাব তাঁদের হাতে নেই। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, হুমকি ও সামরিক তৎপরতা ইরানের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারবে না। সফরে কোনো অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং জার্মান মার্শাল ফান্ডের জ্যেষ্ঠ ভিজিটিং ফেলো গ্রেস ওয়ার্মেনবোল বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান যুদ্ধ এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে এমন ইঙ্গিত বাড়ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র—সম্ভবত আবারও ইসরাইলকে সঙ্গে নিয়ে—নিজ নিজ নির্বাচনের পর হামলা পুনরায় শুরু করতে পারে।’ ইসরাইলে নির্বাচন ২৭ অক্টোবর।
কংগ্রেসের পরীক্ষায় ট্রাম্প
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত এক জরিপে তার প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৩০ শতাংশ। জানুয়ারিতে এই হার ছিল ৩৭ শতাংশ।
বিশ্লেষক ইমরান খানের মতে, ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে ন্যাটোর মতো চুক্তিভিত্তিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেবে। তিনি বলেন, ‘সে ক্ষেত্রে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া ডেমোক্র্যাটরা পাকিস্তানের চেয়ে ভারতের দিকে বেশি ঝুঁকবে।’
প্যারিসভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বুসোল মন্ডিয়ালের নির্বাহী পরিচালক ওয়ার্মেনবোল বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন স্বল্প মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে কি না, তা নিয়ে মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
তার মতে, দীর্ঘ মেয়াদে নির্বাচনের ফলাফল ২০২৮ বা ২০২৯ সালে হোয়াইট হাউসে ক্ষমতার পরিবর্তনের পূর্বাভাসও দিতে পারে। পাকিস্তানের জন্য এখন প্রশ্ন হলো, এই পরিস্থিতিতে দেশটি কীভাবে নিজের অবস্থান নির্ধারণ করবে।
চিমা বলেন, ট্রাম্পের প্রভাব বাড়ছে নাকি কমছে, সেটিকে ভিত্তি করে পাকিস্তানের কৌশল নির্ধারণ করা উচিত নয়। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে পাকিস্তানের প্রাসঙ্গিকতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সুরক্ষায় দেশটির ভূমিকার মধ্যেই এর শক্তি নিহিত। তিনি বলেন, ‘এটি শুধু ট্রাম্পের প্রভাব কমে যাওয়ার প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন হলো, পাকিস্তান কীভাবে নিজের গুরুত্ব ধরে রাখতে পারে।’
ইমরান খান বলেন, ট্রাম্পের ক্ষমতা বা প্রভাব দুর্বল হলেও স্বল্প মেয়াদে পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন নাও হতে পারে। তবে এটি পাকিস্তানের বর্তমান গুরুত্বের অবসানের সূচনা হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, ‘তবে এতে বিশ্বজুড়ে পাকিস্তানের বেড়ে যাওয়া ভূরাজনৈতিক পরিচিতি এবং পশ্চিম এশিয়ায় জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে দেশটির ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব বদলাবে না। ট্রাম্প প্রশাসন শক্তিশালী হোক বা দুর্বল, কিংবা ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকুন বা না থাকুন—এতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. মোখলেছুর রহমান (৬২) নামের এক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দির মৃত্যু ঘটেছে।
মঙ্গলবার, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরাণীগঞ্জ) থেকে অসুস্থ অবস্থায় কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নাজমুলসহ কয়েকজন কারারক্ষী তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল পৌনে ১০টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ও পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
কারা সূত্রে জানা যায়, মোখলেছুর রহমান একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি ছিলেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দেওপাড়া গ্রামে, এবং তার বাবার নাম আবদুল খালেক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন মিশিগানের তরুণ ডেমোক্র্যাট নেতা ড. আব্দুল এল সাইদ। নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি মার্কিন সিনেটের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে পরিচিতি পাবেন। তবে, তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা ঠেকাতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। ট্রাম্প তাকে প্রকাশ্য জনসভায় ‘জিহাদি’ আখ্যা দিয়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংযোগের অভিযোগ তুলেছেন। এ প্রশ্নটি সামনে এসেছে—কে এই আব্দুল এল সাইদ, যিনি ট্রাম্পের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন?
জন্ম ও বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবন
১৯৮৪ সালে মিশিগানের রচেস্টার হিলসে আব্দুর রহমান মোহাম্মদ এল সাইদের জন্ম হয়। তার মা-বাবা ছিলেন মিসরীয় অভিবাসী। অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়ে তিনি জনস্বাস্থ্যের ওপর পিএইচডি এবং চিকিৎসাবিদ্যায় এমডি ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রথাগত চিকিৎসাসেবায় সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি গবেষণায় মনোনিবেশ করেন এবং মর্যাদাপূর্ণ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারিবিদ্যা (এপিডেমিওলজি) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে অধ্যাপনা শুরু করেন।
প্রশাসনিক সাফল্য ও জনপ্রিয়তা
২০১৫ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এল সাইদ। তিনি ছিলেন দেশের কোনো বড় শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বকনিষ্ঠ পরিচালক। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে তিনি ওয়েন কাউন্টি স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব নেন। সিনেট নির্বাচনে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে গত বছর তিনি এ পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
নির্বাচনি প্রচারণায় সাধারণ আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস, আবাসন সংকট সমাধান এবং সবার জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার মতো বাস্তবমুখী প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। বিশেষ করে তরুণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির কাছে তার অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের চেয়ে এগিয়ে থাকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের শিবিরে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের আক্রমণ ও ‘জিহাদি’ তকমা
মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে আয়োজিত জনসভায় ট্রাম্প নিজের দলের প্রার্থীর প্রশংসা করার চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করেন এল সাইদকে আক্রমণ করতে। তিনি অভিযোগ করেন, এল সাইদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং তিনি সিনেটর হলে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত সংবেদনশীল জাতীয় নিরাপত্তার গোপন তথ্যের নাগাল পেয়ে যাবেন। এল সাইদকে মার্কিন সিনেটে যাওয়া থেকে যে কোনো মূল্যে ঠেকানোর আহ্বান জানান ট্রাম্প।
ট্রাম্পের আক্রমণের মুখে সাইদের দৃঢ় জবাব
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের জবাবে এল সাইদ মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে কড়া জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমার নামের প্রথম অংশ ‘আব্দুল’ নিয়ে অস্বস্তিতে ভুগছেন। অথচ তার জামাতার ব্যবসায় শত শত কোটি ডলার ঢালা সৌদির মুসলিম নাম নিয়ে ট্রাম্পের কোনো আপত্তি থাকে না। কাতার থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ উপহার পেলেও তিনি বিচলিত হন না।’
ট্রাম্পকে উপহাস করে এল সাইদ আরও বলেন, ‘ট্রাম্প আমার নাম ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারেন কি না, তা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। কারণ নভেম্বরের নির্বাচনের পর তিনি আমাকে অনায়াসেই ‘সিনেটর’ বলেই ডাকতে পারবেন।’
এদিকে, ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা ড. আব্দুল এল সাইদকে ঘিরে মিশিগানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ সাধারণ আমেরিকান অভিবাসীদের মধ্যে বিপুল উদ্দীপনা ও সমর্থনের জোয়ার তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ