ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর, তবু ভিক্ষার হাত বাড়াননি আব্দুস সামাদ


বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর, তবু ভিক্ষার হাত বাড়াননি আব্দুস সামাদ

‎বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে। চামড়া কুঁচকে গেছে এবং দৃষ্টিশক্তি কমে গেছে। হাঁটার গতিও আগের মতো নেই। যে বয়সে সন্তানের স্নেহের ছায়ায় নিশ্চিন্তে থাকার কথা, সেই বয়সে ৭-৮ কেজি পাপড়ের গামলা মাথায় নিয়ে রাস্তায় বের হচ্ছেন আশির ঊর্ধ্ব আব্দুস সামাদ। এক গলি থেকে অন্য গলিতে ঘুরে ঘুরে পাপড় বিক্রি করছেন। প্রতি পিসের দাম ১০ টাকা। দিন শেষে যা আয় হয়, তা দিয়েই তার খাবার জোটে।‎

‎শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, আব্দুস সামাদ মাথায় বড় গামলা নিয়ে ধীর পায়ে হাঁটছেন। বয়সের ভারে শরীর সামনের দিকে ঝুঁকে গেছে, চোখেও আগের মতো দেখতে পান না। তবে তিনি থামছেন না। ক্রেতা ডাকলে গামলা নামিয়ে পাপড় তুলে দিচ্ছেন। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন, তারপর আবার শুরু করেন পথচলা। কারণ, প্রতিটি পাপড় বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার দিনের খাবার। প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে আজিমপুর কবরস্থানসহ আশপাশের এলাকায় পাপড় বিক্রি করে আসছেন তিনি। প্রতিদিন বিকালে গামলা মাথায় নিয়ে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে অলিগলিতে ঘুরে পাপড় বিক্রি করেন। প্রতিদিন আনুমানিক ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হয়। তার জীবন এই সামান্য আয়ের ওপরই নির্ভরশীল।

‎অসহায় বৃদ্ধ আব্দুস সামাদ যুগান্তরকে বলেন, "আমি পাপড় ভাজা বিক্রি করি। মাথায় গামলা নিয়ে আজিমপুর কবরস্থানসহ আশপাশের এলাকায় ঘুরি। প্রতি পিস পাপড় ১০ টাকা করে বিক্রি করি। দিনে ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। এই টাকা দিয়েই চলি। যতদিন শরীরে শক্তি আছে, ততদিন কাজ করেই খাব।"

আরও পড়ুন: রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় আটক ৫১৮ জন

‎বৃদ্ধ সামাদের কথায় নিজের কষ্টের দীর্ঘ বর্ণনা নেই। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগও নেই। বয়সের ভারে শরীর যখন আর আগের মতো সায় দেয় না, তখনও তার মুখে দৃঢ়তা—অন্যের কাছে হাত না পেতে নিজের শ্রমের বিনিময়ে খাবেন। তিনি বলেন, "কারও কাছে হাত পাতিনি। যতদিন শ্বাস আছে, কাজ করেই খাব।"

‎স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম সুমন বলেন, "সামাদ চাচাকে আমরা অনেক বছর ধরে এভাবেই দেখে আসছি। বয়স অনেক বেড়ে গেছে, শরীরও ভেঙে পড়েছে। তারপরও মাথায় গামলা নিয়ে ঘুরে বেড়ান। তার বয়সে মানুষের বিশ্রামে থাকার কথা। কিন্তু তিনি এখনো নিজের খাবারের জন্য কাজ করছেন।"

‎আজিমপুর এলাকার স্থানীয় জসিম আহমেদ বলেন, "অনেক সময় মানুষ তার বয়স ও কষ্ট দেখে বাড়তি টাকা দিতে চান। কিন্তু তিনি তা নিতে চান না। পাপড় কিনলে যে টাকা হয়, শুধু সেটাই নেন। তার আত্মসম্মান অনেক বেশি। তাকে দেখে ভালোও লাগে, আবার কষ্টও হয়।"

‎জানা গেছে, আব্দুস সামাদ রাজধানীর লালবাগের শহীদনগর তিন নম্বর গলিতে মেয়ের সঙ্গে থাকেন। তার সন্তান রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন এবং উপযুক্ত এক ছেলে রয়েছে। তবে শেষ বয়সে তার ভরণপোষণের দায়িত্ব সন্তানরা পুরোপুরি নিচ্ছেন না বলে জানা গেছে। ফলে আশির ঊর্ধ্ব বয়সেও নিজের জীবিকার জন্য তাকে কাজ করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ঢাকা বায়ুদূষণে বিশ্বে ষষ্ঠ, শীর্ষে পাকিস্তানের লাহোর

‎সন্তানদের প্রসঙ্গ উঠলেও সামাদ কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে চান না। তার কণ্ঠে ক্ষোভ বা অভিমান নেই। নিজের কষ্টের জন্য কাউকে দায়ী না করে তিনি শুধু নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার কথাই বলেন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর নিয়েও তাই প্রতিদিন মাথায় গামলা তুলে বেরিয়ে পড়েন।

‎স্থানীয়রা জানান, অনেক পথচারী তার বয়স ও শারীরিক অবস্থা দেখে সহানুভূতি দেখান। কেউ বাড়তি টাকা দিতে চাইলে সামাদ অনেক সময় তা নিতে চান না। তার কাছে পাপড় বিক্রি করে পাওয়া ১০ টাকাই সম্মানের। দয়ার টাকা নয়, নিজের শ্রমের বিনিময়ে পাওয়া সামান্য অর্থেই তিনি বেঁচে থাকতে চান।

‎আশির ঊর্ধ্ব এক বৃদ্ধের মাথায় ৭-৮ কেজি পাপড়ের গামলা—দৃশ্যটি শুধু একজন ফেরিওয়ালার জীবিকার গল্প নয়; এর মধ্যে আছে বার্ধক্যের নিঃসঙ্গতা, পরিবারের দায়িত্ববোধের প্রশ্ন এবং নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার কঠিন লড়াই। যে বয়সে সন্তানের হাত ধরে নিশ্চিন্তে থাকার কথা, সেই বয়সে এক মুঠো ভাতের জন্য গলির পর গলি ঘুরে বেড়ান আব্দুস সামাদ। বিশ্রাম চাইলেও শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ নেই তার। মাথার গামলায় শুধু পাপড় নয়, রয়েছে বেঁচে থাকার তাগিদ ও আত্মসম্মান। সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে শরীর যতদিন সায় দেবে, ততদিন নিজের শ্রমেই বেঁচে থাকতে চান তিনি। তার ধীর পায়ে পথচলা যেন সমাজের কাছে রেখে যায় এক কঠিন প্রশ্ন—শেষ বয়সে একজন মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয় কি তার নিজের শ্রমই হয়ে থাকবে?

আরও পড়ুন: ঢাকার আবহাওয়া আজ যেমন থাকবে, তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পেনে আবাসন সংকটের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, সরকার বিপাকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৮ এম


স্পেনে আবাসন সংকটের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, সরকার বিপাকে

স্পেনে আবাসন সংকটের কারণে রাজপথে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাড়ির ভাড়া বৃদ্ধি, উচ্ছেদের ঝুঁকি এবং সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া আবাসন ব্যয়ের বিরুদ্ধে রাজধানী মাদ্রিদসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে স্পেনে আবাসন ব্যয় ও ভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে মাদ্রিদ ও অন্যান্য বড় শহরে সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য বাসা খুঁজে পাওয়া এবং ভাড়া বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে, এমন অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।

তাদের দাবি হলো– ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ থেকে সুরক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি ভাড়ার চুক্তি এবং স্বল্পমেয়াদি ও পর্যটনভিত্তিক ভাড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) স্পেনের পার্লামেন্টে সরকারের দুটি আবাসন সংক্রান্ত ডিক্রি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর আন্দোলনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথম ডিক্রিতে অসচ্ছল ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ থেকে সুরক্ষা, ভাড়া বৃদ্ধিতে সীমা, স্বল্পমেয়াদি ও কক্ষভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট ধরনের আবাসন বিনিয়োগের ওপর বিধিনিষেধ ছিল। দ্বিতীয় ডিক্রিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ভাড়ার চুক্তি বাড়ানোর ব্যবস্থা ছিল।

কিন্তু কংগ্রেসে উভয় ডিক্রি প্রয়োজনীয় সমর্থন পায়নি। সংসদে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর আন্দোলনকারীরা এখন আরও বড় কর্মসূচির পরিকল্পনা করছেন।

মাদ্রিদের ভাড়াটিয়া সংগঠনের মুখপাত্র ভালেরিয়া রাকু জানিয়েছেন, আবাসন নিয়ে সাধারণ ধর্মঘটের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বড় শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গেও আলোচনা চলছে। তবে সাধারণ ধর্মঘটের নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালে বন্যায় নিখোঁজ ৩৭ দিন পর এক মালয়েশিয়ান নাগরিক উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০১ এম


নেপালে বন্যায় নিখোঁজ ৩৭ দিন পর এক মালয়েশিয়ান নাগরিক উদ্ধার

নেপাল-চীন সীমান্তে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ফলে নিখোঁজ ৫৫ জন মালয়েশিয়ান নাগরিকের মধ্যে একজনকে ৩৭ দিন পর জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। হিমালয়ের লাংটাং লিরুং পর্বতের নিকটে হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট বন্যায় নিখোঁজ হওয়া ওই মালয়েশিয়ান পর্যটক নিরাপদে দেশে ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে। এই তথ্যটি দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) ‘মালয়েশিয়া সলিডারিটি: ফ্যামিলিজ ইন হোপ’ (মাসফি)-এর মুখপাত্র মনিভান্নান রেথিনাম এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, নেপাল ভ্রমণে যাওয়া ওই নাগরিক কাঠমান্ডুতে অবস্থিত মালয়েশিয়ার দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে নিজের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের দীর্ঘ ৩৭ দিন পর তাকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় নিখোঁজ অন্যান্য পরিবারের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ও আশা ফিরে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপসংস্থা (ইউএসজিএস) এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, লাংটাং লিরুং পর্বতে হিমবাহ ও বরফ ধসের ফলে সৃষ্ট কম্পনের মাত্রা ৫ দশমিক ২ ভূমিকম্পের সমতুল্য ছিল। এই ভয়াবহ ঘটনায় নেপাল ও সংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলে এক হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং এখনো পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

এর আগে ২৭ আগস্ট মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, নেপাল বন্যার পর কাঠমান্ডু দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া ৫৫ জন মালয়েশিয়ান নাগরিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

মনিভান্নান রেথিনাম জানান, গত ২৫ আগস্ট বিকাল ৩টা ২৬ মিনিটে (বন্যার ঠিক এক দিন আগে) ওই পর্যটক নাগথালি ভিউপয়েন্টে অবস্থান করছিলেন। স্থানীয় রাস্তাঘাট ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এবং বিদ্যুৎ ও খাবার পানির তীব্র সংকটের কারণে তিনি ওই দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েছিলেন।

নেপালে সাম্প্রতিক এই দুর্যোগের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার তৎপরতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বরের নেপালের পর্যটন দপ্তরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ ৩০টিরও বেশি দেশের নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এদের মধ্যে ১৮০ জনের বেশি ভারতীয়, ৬৫ জন আমেরিকান, ৫৪ জন ইউক্রেনীয়, ৫৪ জন মালয়েশিয়ান এবং ৩৭ জন চীনা নাগরিক রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হোপের ১৬২*-তে ভারতের ৩৫১ টপকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৪ এম


হোপের ১৬২*-তে ভারতের ৩৫১ টপকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড

রাহুলের ১২৯* এবং রোহিতের ৯২ রানের সাহায্যে ৩৫১/৭ স্কোর করেও ভারত জয় লাভ করতে পারেনি; ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড গড়েছে ৪৮.৫ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৫২ রান তুলে, যেখানে শাই হোপ ১৬২* এবং আমির জাঙ্গু ৬৭ রান করেন।

নিউ চণ্ডীগড়ে ভারত ৩৫১/৭ রান করার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫ উইকেটে জয়লাভ করে। শাই হোপ ১৪৩ বল খেলে ১৬২* রান করেন, যা তাকে পুরুষদের ওয়ানডেতে ১৫০ রান করা প্রথম উইকেটকিপার-অধিনায়ক হিসেবে পরিচিতি দেয় এবং এটি তার ২১তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। ভারতীয় দলের হয়ে লোকেশ রাহুল ১২৯* রান করেন, যা তার ৩৬ ইনিংসে পাঁচ নম্বরে চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি। শেষ ১২ বলে রাহুল ৪২ রান করেন এবং শেষ তিন ওভারে ভারত ৫০ রান তোলে। রোহিত শর্মা ৯২ রান করেন, এবং রুতুরাজ গায়কোয়াড় ৫৭ রান করেন ৬৯ বলে; গায়কোয়াড় ইনিংসে চারবার জীবন পান।

ভারত ৪/২ অবস্থায় ছিল যখন জেইডেন সিলসের পরপর দুই বলে শুভমান গিল এবং বিরাট কোহলি আউট হন। এরপর রোহিত ও রাহুল মিলে ইনিংস গড়েন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিলস ৩/৬২ উইকেট নেন। জবাবে, আমির জাঙ্গু ৫৬ বলে ৬৭ রান করে হোপের সঙ্গে ১০৯ রানের জুটি গড়েন; ৩৪ রানে কোহলির হাতে জীবন পাওয়া জাঙ্গু রানআউট হন। সিরিজে তার রান ২৩৯ (১৭৬ বল) এবং স্ট্রাইক রেট ১৩৬।

হোপের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গ দেন কিমো পল, যিনি ৪৪ রান করেন এবং ওয়ানডেতে প্রথমবার টপ ফাইভে ব্যাট করেন। তিনি ২৫তম ওভারে রোহিতকে ৯২ রানে ফিরিয়ে দেন। শারফেন রাদারফোর্ড ২৪ রানে আউট হওয়ার সময় রিভিউ নিলেও তৃতীয় আম্পায়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। পুরুষ ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবার উইকেটকিপার-ক্যাপ্টেন হিসেবে ১৫০ রান পার করেন শাই হোপ।

ভারতের ফিল্ডাররা অন্তত ছয়বার ক্যাচ ফেলেছেন। জুয়েল অ্যান্ড্রু ক্যাচ নিতে গিয়ে চোট পেয়ে হাসপাতালে স্ক্যান করান; তবে ফ্র্যাকচার পাওয়া যায়নি, কিন্তু ব্যথার কারণে প্রয়োজন না হলে ব্যাটিং করেননি। রস্টন চেজের বদলে একাদশে ছিলেন গুদাকেশ মোতি, এবং ভিটেল ল’স চোটের কারণে মাঠ ছাড়েন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের একমাত্র রান তাড়ার ম্যাচে এই রেকর্ড জয় আসে।

ম্যাচের প্রথম ১০ ওভারে রান ছিল ২৮/২, কিন্তু এরপর ম্যাচে যোগ হয় আরও ৬৭৫ রান, রানরেট ৭.৬৪। ভারতের বোলিংয়ে জসপ্রিত বুমরাহ এবং হার্দিক পান্ডিয়া না থাকায় দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। ধীর ওভার রেটের শাস্তিতে ভারতকে শেষ চার ওভারে অতিরিক্ত একজন ফিল্ডার বৃত্তের ভেতরে রাখতে হয়। আগের ম্যাচে ৪০৫ রান করেও হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবার ৩৫২ রান তাড়া করে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া সম্পন্ন করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাবে বই: শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৬ এম


জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাবে বই: শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যারা পাঠ্যবই ছাপাতে প্রতারণার পথে হাঁটবেন, তাদের আগামী বছর থেকে আর বই ছাপানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, "সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, একবার যদি কোনো প্রিন্টার্স (ছাপাখানা) চিট (প্রতারণা) করে, তাহলে আমি আগামী দিনে তাকে আর বই ছাপাতে দেবো না।" প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্থানীয় শিল্পের উন্নয়ন করা প্রয়োজন। এই কারণে তিনি বলেন, "তারা যেন ভেবেচিন্তে কাজ করেন। একবার চিট করলে পরেরবার বাদ।" গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, অতীতে দেখা গেছে যে, ভারত থেকে বই ছাপিয়ে আনা হতো। এবারের ছাপার মান কিছুটা ভিন্ন, যা তিনি দেখেছেন এবং জেনেছেন। তিনি বলেন, "আমাদের ছাপাখানা সহযোগিতা করছেন। সবাই সহযোগিতা করলে আমরা বই সময়মতো পাবো।"

ড. এহছানুল হক মিলন শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের শুরুতে বই দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, "২০০১ থেকে ২০০৬ সালে আমরা পাঠ্যবই ছাপিয়ে সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে দিয়েছি। শতভাগ নিশ্চিত বলতে পারি এবারও পাঠ্যবই ভালো হবে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সবার সহযোগিতা পেলে বই সময়মতো পৌঁছাবে এবং জানুয়ারিতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%