০৮:৩৩ পি.এম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করার জন্য দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক যুদ্ধ এবং গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে সারা দেশে এবং দেশের বাইরে মানব পাচারকারীদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা যায়। টেকনাফে মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের বাড়িতে গিয়ে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
শনিবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের নিহত তিতাস শেখের বাড়িতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত হন। সেখানে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমবেদনা জানান। পরে তিনি নিহতের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করেন।
তিনি বলেন, "তিতাস শেখ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চৌকস সাহসী সৈনিক ছিলেন। মানব পাচারকারীদের গুলিতে আমরা তাকে হারিয়েছি। এই মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে যুদ্ধ শুরু করতে হবে। যেকোনো মূল্যে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করতে হবে। কারণ, তারা দেশের শত্রু, জনগণের শত্রু।"
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সফরে গাফিলতি ও দেড় বছর অনুপস্থিতির অভিযোগ জনস্বাস্থ্য মেকানিকের বিরুদ্ধে
মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, "মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের যে অবস্থান তা অত্যন্ত দৃঢ়।" তিনি বলেন, "মানব পাচারকারীদের শনাক্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা সর্বদা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে গভীরভাবে কাজ করে যাচ্ছি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মানব পাচারকারী সিন্ডিকেট দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজ করে থাকে।
তিনি বলেন, "যেসব রুটে তারা বাংলাদেশ থেকে সাধারণ মানুষকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, সেসব দেশের সরকার, পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করে যাচ্ছি।" এ ছাড়া, সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরসহ ১৪টি জেলার ডিসিদের সঙ্গে মানব পাচার সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, "ডিসি-ইউএনওদের দালালচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা যেন লোকাল প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করে দালালচক্রকে গ্রেফতার করে।" তিনি জানান, বিদেশে যারা নিখোঁজ ও জিম্মি রয়েছেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, "গত ১৭ বছরে আমরা বিভিন্ন ধরনের ড্রাগ লর্ড মাফিয়াদের দেখেছি, যারা এই মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী মানব পাচারকারীদের দমন করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।"
আরও পড়ুন: জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের শোক, সেনাসদস্য তিতাসের মৃত্যুতে গভীর দুঃখ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "দেশে এবং বিদেশে সব জায়গাতেই আমরা সোচ্চার রয়েছি।"
শামা ওবায়েদ বলেন, "মানব পাচারকারীদের কারণে তিতাসের মতো সাহসী সৈনিকরা শহীদ হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষও স্বাভাবিকভাবে বিদেশে যেতে পারছে না। এ কারণে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।"
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আযাদ, নিহতের মামা ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে কক্সবাজারের টেকনাফে গহীন পাহাড়ে অভিযানকালে মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত হন সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৮)। তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের আফজাল শেখের ছেলে। তিনি পরিবারের দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মেজো সন্তান ছিলেন। ২০১৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগদান করেন তিতাস শেখ। তিনি সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ‘ডিসেম্বর মাসে ‘আপা’ আসার সুযোগ নেই, প্রস্তুত ফাঁসির মঞ্চ’
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। পরে লস্করদিয়া আতিকুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে নানির পাশের কবরে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন