০৯:৫৩ এম
সিংহ, যা বনের রাজা হিসেবে পরিচিত, শক্তি, সাহস এবং রাজকীয় উপস্থিতির কারণে বন্যপ্রাণীজগতে একটি আলাদা পরিচিতি নিয়ে রয়েছে। তবে মানুষের বসতি ও সভ্যতার বিস্তারের ফলে বনাঞ্চলের পরিমাণ কমছে। এর ফলে সিংহের আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। ফলে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই বন্যপ্রাণী অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ছে।
বিশ্ব সিংহ দিবস প্রতি বছর ১০ আগস্ট পালন করা হয়। এই দিবসটি সিংহ সংরক্ষণ ও সুরক্ষা নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে উদযাপন করা হয়। আজ সোমবার, বিশ্বজুড়ে দিবসটির নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হচ্ছে।
এই দিবসের সূচনা কেন?
আরও পড়ুন: ধূমপান না করেও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকিতে অনেকেই
সিংহের সংখ্যা ক্রমহ্রাসমান হওয়া নিয়ে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যেই বিশ্ব সিংহ দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর ১০ আগস্ট বিশ্ব সিংহ দিবস পালিত হয়ে আসছে।
এই উদ্যোগের পেছনে ডেরেক ও বেভারলি জুবার্ট দম্পতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সিংহসহ বড় আকারের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করার সময় তারা লক্ষ্য করেন, বনের রাজা সিংহের অস্তিত্বও ধীরে ধীরে হুমকির মুখে পড়েছে। এই বিষয়ে বিশ্ববাসীকে সচেতন করার জন্য তারা ২০০৯ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের সঙ্গে অংশীদারিত্বে বড় বিড়াল সংরক্ষণ উদ্যোগ শুরু করেন।
এরপর ২০১৩ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও তাদের সংরক্ষণ উদ্যোগকে একই ছাতার নিচে এনে বিশ্বজুড়ে অবশিষ্ট সিংহদের রক্ষার উদ্দেশ্যে কাজ আরও শক্তিশালী করা হয়। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায়ই বিশ্ব সিংহ দিবসের সূচনা হয়।
সিংহ সংরক্ষণ কেন জরুরি?
আরও পড়ুন: ১৪ অক্টোবর: ইতিহাসের পাতায় উল্লেখযোগ্য ঘটনা ও বিশ্ব মান দিবসের স্মরণ
সিংহ শুধুমাত্র বন্যপ্রাণীজগতের একটি আকর্ষণীয় প্রাণী নয়, বরং এর বাস্তুতন্ত্রের বড় একটি ভূমিকা রয়েছে। তাই সিংহের আবাসস্থল রক্ষা করা এবং তাদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্ব সিংহ দিবসে মানুষের কাছে সিংহের গুরুত্ব, তাদের সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং বন্যপ্রাণীর সঙ্গে মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিষয়ে সচেতন করার চেষ্টা করা হয়।
দিবসটি কিভাবে পালিত হয়?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। শিল্পকলা, আলোকচিত্র এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিংহের জীবন ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠন, চিড়িয়াখানা এবং সাধারণ মানুষও এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: প্রথমবার দেশে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য অলিম্পিয়াড
সিংহ সংরক্ষণ প্রকল্পের জন্য অর্থ সংগ্রহ, কর্মশালা, আলোচনা ও সভার আয়োজনের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন লেখা, ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে সিংহ নেই, তবে দিবসটি পালন করা হয়।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বনে সিংহের বসবাস নেই, তথাপি দেশের বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন দিবসটি পালন করে। এর মূল উদ্দেশ্য শুধু সিংহ সংরক্ষণ নয়, বরং সামগ্রিকভাবে বন্যপ্রাণী রক্ষা বিষয়ক সচেতনতা তৈরি করা।
সিংহ ও মানুষের মধ্যে সংঘাত কমানো এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নিশ্চিতকরণ, এছাড়া বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষা করাই এই দিবসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। বনের রাজা সিংহের রক্ষা করা মানে শুধু একটি প্রাণীকে রক্ষা করা নয়, বরং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করার প্রচেষ্টাকেও এগিয়ে নেওয়া।
আরও পড়ুন: ৫ অক্টোবর: ইতিহাসের পাতায় উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন