সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২৪ এম
সময়ের প্রবাহ তার নিজস্ব নিয়মে অব্যাহত থাকে। এই প্রবাহের মধ্যে ঘটে নানা ঘটনা, দুর্ঘটনা, এবং মনীষী ও সাধারণ মানুষের জন্ম-মৃত্যুর মাধ্যমে মানবসভ্যতা সমৃদ্ধ হয়, যা ইতিহাসের ভিত্তি গড়ে তোলে। যদি বছরগুলো পেছনে ফিরে দেখি, প্রতিটি দিনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে এমন অনেক ঘটনা ও ব্যক্তিত্ব, যেগুলি ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
আজ ২৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার। চলুন ইতিহাসের পাতায় নজর দিয়ে জানি—এই দিনে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম ও মৃত্যু।
ঘটনাবলী
১৮৬৫ সালে এলিজাবেথ গ্যারেট এন্ডারসন প্রথম শল্যাচিকিৎসক হিসেবে ব্রিটেনে নিবন্ধিত হন।
১৯০৬ সালে হংকং এ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে দশ হাজার লোকের মৃত্যু ঘটে।
১৯২৩ সালে বুলগেরিয়ায় ফ্যাসিস্টবিরোধী একটি অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।
১৯২৮ সালে স্যার অ্যালেকজান্ডার ফ্লেমিং প্রথমবারের মতো পেনিসিলিন আবিষ্কারের ঘোষণা দেন।
১৯৯৬ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ একটি প্রস্তাব পাশ করে মুসলমানদের প্রথম ক্বেবলা আল আকসা মসজিদের নীচে খননকাজ বন্ধ করার জন্য ইহুদীবাদী ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানায়।
আজ যাদের জন্ম হয়েছিল:
১৫৭৩ সালে ইতালীয় অনন্য চিত্রশিল্পী মাইকেল এঞ্জেলোর জন্ম হয়।
১৭৪৬ সালে প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা উইলিয়াম জোনস জন্মগ্রহণ করেন।
১৯২৯ সালে ভারতের স্বনামধন্য কন্ঠশিল্পী লতা মঙ্গেশকর জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৭৫ সালে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার স্টুয়ার্ট ক্লার্ক জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৮২ সালে ভারতীয় ক্রিড়াবিদ অভিনভ বিন্দ্রা জন্মগ্রহণ করেন।
আজ যাদের মৃত্যু হয়েছিল:
১৯৩৬ সালে সাহিত্যিক শেখ ফজলল করিমের ইন্তেকাল ঘটে।
১৮৯৫ সালে ফরাসি রসায়নবিদ ও অণুজীববিজ্ঞানী লুই পাস্তুরের মৃত্যু হয়।
১৯০২ সালে ফরাসি ঔপন্যাসিক এমিল জোলার মৃত্যু ঘটে।
১৯৫৩ সালে মার্কিন জ্যোতির্বিদ এডউইন হাবলের মৃত্যু হয়।
১৯৭০ সালে মিশরের প্রেসিডেন্ট জামাল আব্দুন নাসের মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৮৯ সালে ফিলিপাইনের সাবেক রাষ্ট্রপতি ফার্দিনান্দ মার্কোসের মৃত্যু ঘটে।
১৯৯৬ সালে আফগান সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সহকারী শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, দলীয়করণ এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে যোগ্য প্রার্থীদের বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবির।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি এবং অফিস সম্পাদক আব্দুস সালাদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। এতে সংগঠনটির দুই শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
মিছিলে তারা ‘২৪ এর অঙ্গিকার, চাকরি পাবে মেধা যার’, ‘চাকরীতে দলীয়করণ, চলবে না, চলবে না’, ‘শিক্ষাঙ্গনে দলীয়করণ, চলবে না, চলবে না’, ‘নিয়োগে বৈষম্য, মানি না, মানবো না’, ‘কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, মেধার জন্য কোন কার্ড?’, ‘কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, চাকরী দিবে দলীয় কার্ড!’ ‘কার্ড বাবার অনেক গুণ, সবখানে দলীয়করণ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ ও পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী শিক্ষার্থীদের হয়রানি করছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির চেষ্টা করা হয়েছে এবং ভাইভায় নম্বর বাড়িয়ে মেধার পরিবর্তে দলীয় বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার বারবার হাসিনার মতো স্বজনপ্রীতি কায়েম করে পেছনের দিকে যেতে চায়। সরকারকে আমরা এটা বলতে চাই যে চব্বিশের যেই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, সে অভ্যুত্থানের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল মেধাবীদেরকে নিয়োগ দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করব, আপনারা এদেশের মেধাবী শিক্ষার্থী যারা, তাদেরকে হয়রানি না করে তাদেরকে নিয়োগ দিন। প্রাইমারি নিয়োগ পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদেরকে পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় জেলায় মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে বাদ দেয়া হয়েছে। সরকারের প্রতি এসব হয়রানি ও নিয়োগে বৈষম্য বন্ধ করে মেধাবীদের নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি বন্ধ এবং জুলাই সনদ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল নগরীর বটতলা এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে নগরীর হালিমা খাতুন স্কুলসংলগ্ন একটি ভবনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশের দাবি, নগরীতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা নিয়ে সেখানে একটি বৈঠক চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল ওই ভবনে অভিযান চালায়। পরে সেখান থেকে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—ইলিয়াস মুন্সী (৪৫), খলিলুর রহমান সুমন (৪৫), সঞ্জিব কুমার দাস (৫২), সিফাত (২২), মাহাদি ইসলাম (২৬), ইয়াসিন আরাফাত (৩০), রফিকুল ইসলাম (২৫), জিহাদ (২২), নাইম (২৫), শফিকুল ইসলাম, সিয়াম ও রাজিব চন্দ্র দাস।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন বৈঠকের সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাঁর দাবি, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরকে কেন্দ্র করে তারা বৈঠকে বসেছিলেন। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
বরিশাল মহানগর পুলিশের উপকমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই ভবন ঘেরাও করে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তারা নগরীতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করছিলেন। পরে তাদের কোতোয়ালি মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এখানে পুরো সংবাদে “আটক” শব্দটি বাদ দিয়ে “গ্রেফতার” শব্দটি একরূপভাবে ব্যবহার করা হয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকায় ট্রাক টার্মিনাল ও হাই স্কুলসংলগ্ন কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে হেলাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জাল কাগজপত্র তৈরি, মালিকানা দাবি এবং মামলা দিয়ে দুই বৃদ্ধা নারীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মৃত সোনা মিয়া চৌধুরীর ওয়ারিশদের ভোগদখলে থাকা জমি নিয়ে বিরোধের সুযোগ নিয়ে একসময় মামলা পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া হেলাল উদ্দিন পরবর্তীতে ওই জমির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে অসুস্থ ও নিরক্ষর দুই বৃদ্ধা নারীকে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাশিপুর হাই স্কুল ও ট্রাক টার্মিনালসংলগ্ন ওই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। পরিবারের দাবি, মৃত সোনা মিয়া চৌধুরীর মৃত্যুর পর স্থানীয় দুলাল মোল্লা জমিটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা চলমান থাকায় এবং পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ২০১২ সালে মামলা পরিচালনা ও আইনি বিষয় দেখভালের জন্য কাশিপুর এলাকার আকরাম আলীর ছেলে হেলাল উদ্দিনকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামা দেওয়া হয়।
পরিবারটির অভিযোগ, ওই ক্ষমতাপত্রের সুযোগ নিয়ে পরবর্তীতে হেলাল উদ্দিন জমিটির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন এবং জমির মালিকানা-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরিবারের দাবি, জমিটি সরকারি খাস জমি হওয়ায় ব্যক্তিগতভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে জমিটির প্রকৃত আইনগত অবস্থান সরকারি রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে বিএস রেকর্ডে সোনা মিয়া চৌধুরীর ওয়ারিশদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। একই সময়ে সরকার জমিটি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিলে হেলাল উদ্দিন নিজেকে জমিটির একক মালিক দাবি করে অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট নথি ও গেজেটে প্রকৃত ওয়ারিশদের নাম থাকায় তার ওই দাবি গ্রহণ করা হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এরপর থেকেই বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তাদের দাবি, ২০১৭ সাল থেকে হেলাল উদ্দিনের পক্ষ থেকে চেক ডিজঅনারসহ বিভিন্ন দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করা হচ্ছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসেও তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তারা জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বৃদ্ধা রানু বেগম বলেন, জমি-সংক্রান্ত মামলার সুবিধার কথা বলে বিভিন্ন সময় তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা পড়াশোনা জানি না। কোথায় কী কাগজে স্বাক্ষর করেছি, তা বুঝতে পারিনি। পরে জানতে পারি, আমাদের অজান্তে বিভিন্ন কাগজপত্রে আমাদের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা কাউকে কোনো চেক দিইনি। অথচ আমাদের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের মামলা করা হয়েছে।
রানু বেগম আরও জানান, তিনি অসুস্থ ও অসচ্ছল। বর্তমানে নিজের স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় লুৎফুর রহমান সড়ক এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। বয়সের শেষ প্রান্তে এসে একের পর এক মামলার কারণে তিনি আর্থিক ও সামাজিকভাবে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলেও দাবি করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোনা মিয়া চৌধুরী ও তার ছেলে চান মিয়ার মৃত্যুর পর বর্তমানে তাদের দুই মেয়ে রানু বেগম ও ফাতেমা (পারুল) বেগম জীবিত রয়েছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের মামলা ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে দুই বৃদ্ধা নারী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, হেলাল উদ্দিন বিভিন্ন সময় বিএনপির নাম ও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব দেখিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব ব্যবহার করে অসহায় পরিবারটির সম্পত্তি ও বসতভিটা দখলের চেষ্টা করা হয়ে থাকলে সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তাদের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব দেখিয়ে তিনি স্থানীয়ভাবে নিজের প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। হেলাল উদ্দিনের বিএনপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক, দলীয় পদ-পদবি কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দলীয় নথি ও দায়িত্বশীল নেতাদের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে জমি-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সিনিয়র সাংবাদিককে মুঠোফোনে গালাগালি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই সাংবাদিকের সঙ্গে হেলাল উদ্দিনের কথোপকথনের একটি কল রেকর্ডিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
কল রেকর্ডিংয়ে ওই সিনিয়র সাংবাদিককে অশালীন ভাষায় গালাগালি করা এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়টি শোনা যায়। সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের বিষয় নিয়েও তাকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। একই কথোপকথনে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কথা উল্লেখ করে হুমকিসূচক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টিও শোনা যায়।
ভুক্তভোগী সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, **“আমি সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করছিলাম। এ সময় আমাকে মুঠোফোনে গালাগালি করা হয় এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়। কথোপকথনের পুরো বিষয়টি আমার কাছে রেকর্ড করা ছিল। পরে সেই কল রেকর্ডিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।”
তিনি আরও বলেন, *“আমি কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে বিষয়টি সামনে আনছি না। একজন সাংবাদিক হিসেবে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করাই আমার দায়িত্ব। রাজনৈতিক দলের নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে কোনো সাংবাদিককে ভয় দেখানো বা সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সেটি অবশ্যই তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”*
কল রেকর্ডিংয়ে হেলাল উদ্দিনকে বিএনপির সঙ্গে তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কথা বলতে এবং নিজেকে ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সাবেক ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শোনা যায়। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রভাবের কথাও তিনি উল্লেখ করেন বলে কল রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়।
ওই সাংবাদিকের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তাকে ভয় দেখানোর পাশাপাশি সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী দুই নারী ও তাদের পরিবারের দাবি, জমির প্রকৃত মালিকানা, বিএস রেকর্ড, গেজেট, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত নথি এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর প্রকৃত ভিত্তি—সবকিছু একসঙ্গে যাচাই করে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।
তাদের অভিযোগ, কোনো স্বাক্ষর জালিয়াতি বা প্রতারণার মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে কি না এবং মামলা দায়েরের পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিরোধে যেতে চায় না। তাদের দাবি—সরকারি নথি ও আইন অনুযায়ী জমির প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ, কথিত জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত, মামলাগুলোর প্রকৃত ভিত্তি যাচাই এবং দুই বৃদ্ধা নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
এদিকে সাংবাদিককে গালাগালি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ, কল রেকর্ডিংয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব দেখানোর বিষয় এবং বিএনপির নাম ব্যবহারের অভিযোগও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস, জুলাই ও আগস্টে, বাংলাদেশ ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলারের (যা প্রায় ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা) বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে।
গত অর্থবছরের একই সময়ে বাংলাদেশ ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলারের ঋণ পরিশোধ করেছিল, যা দেশীয় মুদ্রায় ৮ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ডলার।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই ও আগস্ট মাসে পরিশোধিত অর্থের মধ্যে মূল ঋণের কিস্তি বাবদ ৫১ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ডলার বা প্রায় ৬ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। সুদ বাবদ পরিশোধের পরিমাণ ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার, যা প্রায় ২ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা।
এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বিদেশি ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। জুলাই-আগস্ট সময়ে বাংলাদেশ নতুন করে ২৪ কোটি ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ৩৮ লাখ ডলার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ