ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাবির মনোমুগ্ধকর প্যারিস রোড; যেখানে প্রতিদিনই লেখা হয় নতুন গল্প


রাবির মনোমুগ্ধকর প্যারিস রোড; যেখানে প্রতিদিনই লেখা হয় নতুন গল্প

সকাল থেকে দুপুর, দুপুরের পর বিকেল, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে দৃশ্যপটও পাল্টায়। সকালের কোমল রশ্মিতে গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে রোদ এসে পড়ে পথের ওপর। শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত পায়ে ক্লাসের দিকে ছুটে যায়। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে গল্পে মেতে ওঠে, আবার কেউ প্রিয়জন বা ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সময় কাটায়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক প্যারিস রোড। কাজলা গেট থেকে শেরে বাংলা ফজলুল হল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তা। যদিও দৈর্ঘ্যে এটি খুব বেশি নয়, তবে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য এটি স্মৃতির এক বিশাল ভাণ্ডার। ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, জীবন-মৃত্যু, হাসি-কান্না এবং একাকিত্বের নানা অভিজ্ঞতার সাক্ষী এই প্যারিস রোড।

এখানে সবুজের বিস্তীর্ণ প্রান্তর, ছায়াঘেরা পথ এবং তরুণদের উচ্ছ্বাস। দুই পাশে সারি সারি গাছ, প্রশস্ত পথ, নির্মল পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যে প্রতিদিনই যেন নতুন রূপে ধরা দেয় এই সড়ক। এই পথ শুধু গন্তব্যে পৌঁছায় না, বরং অসংখ্য স্মৃতি ও গল্প তৈরি করে।

আরও পড়ুন: ১৪ অক্টোবর: ইতিহাসের পাতায় উল্লেখযোগ্য ঘটনা ও বিশ্ব মান দিবসের স্মরণ

বিকেল নামলেই প্যারিস রোড যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের আড্ডা, বন্ধুদের হাসি-ঠাট্টা, ছবি তোলা কিংবা নিছক হাঁটাহাঁটি চারপাশকে মুখরিত করে তোলে। কেউ এখানে মনের কথা বলতে আসে, কেউ ক্লান্তি দূর করতে। আবার কারও কাছে এই পথ একান্তই নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর জায়গা।

বর্ষার বৃষ্টিতে প্যারিস নতুন আবহ পায়। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দে মেতে ওঠে, আবার কেউ দাঁড়িয়ে বৃষ্টির সৌন্দর্য উপভোগ করে। কখনো হঠাৎ নেমে আসা বৃষ্টিতে পথচারীদের ছোটাছুটি, আবার কখনো ইচ্ছা করেই বৃষ্টিতে ভিজে চলা—সব মিলিয়ে বর্ষায় প্যারিস রোড শিক্ষার্থীদের বৃষ্টিবিলাসের অন্যতম ঠিকানা হয়ে ওঠে।

শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় প্যারিস রোড প্রতিদিন সরব থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা অনেকের কাছে এটি ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণ। অতিথিরা এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন, তেমনি শিক্ষার্থীদের জন্য এটি স্মৃতি জমিয়ে রাখার একটি বিশেষ স্থান।

প্যারিস রোডের সৌন্দর্যের বড় অংশজুড়ে রয়েছে এর সবুজ আবহ। ঋতু বদলের সঙ্গে গাছপালার রং ও প্রকৃতির বৈচিত্র্যও পরিবর্তিত হয়। বর্ষায় ভেজা পাতার সবুজ, শরতে নির্মল আকাশ, শীতে কুয়াশার আবরণ কিংবা বসন্তে ফুলের রঙ—প্রতিটি ঋতুতেই প্যারিস রোড যেন নতুন কোনো গল্প নিয়ে হাজির হয়।

আরও পড়ুন: প্রথমবার দেশে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য অলিম্পিয়াড

ক্যাম্পাসের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে এই পথের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য ব্যক্তিগত স্মৃতি। প্রথমবার বন্ধুর সঙ্গে হাঁটা, ক্লাস শেষে দীর্ঘ আড্ডা, বিশেষ দিনের ছবি কিংবা নিছক বিকেলের হাঁটাহাঁটি—এসব মুহূর্ত সময়ের সঙ্গে মূল্যবান স্মৃতি হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন শেষ হলেও প্যারিস রোডের কথা সহজে ভুলে যাওয়ার নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন বলেন, "প্যারিস রোডে হাঁটলে মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততার মাঝেও একটু নিজের মতো করে সময় কাটানো যায়। বন্ধুদের সঙ্গে এখানে কাটানো সময়গুলো পরে হয়তো সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে।"

রাজশাহীর রাজপাড়া থেকে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, "প্যারিস রোড শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বাইরের দর্শনার্থীদের জন্যও আকর্ষণীয় একটি জায়গা। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে গাছপালা আর ভেজা রাস্তার দৃশ্যটা অসাধারণ লাগে। এখানে কিছু সময় কাটালে শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থাকার অনুভূতি পাওয়া যায়।"

দিন শেষে যখন ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে কমে আসে, তখনও প্যারিস রোড তার নিজস্ব সৌন্দর্যে দাঁড়িয়ে থাকে। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে আসা শেষ বিকেলের আলো, পথের ওপর দীর্ঘ ছায়া এবং নীরবতার মধ্যে হেঁটে যাওয়া কয়েকজন মানুষ—সব মিলিয়ে তখন তৈরি হয় অন্যরকম এক আবহ।

আরও পড়ুন: ৫ অক্টোবর: ইতিহাসের পাতায় উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি

এত বিশেষত্ব থাকলেও প্যারিস রোডের জন্মের ইতিহাস কিন্তু অনেকটা সাদামাটা। ১৯৬৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে গগন শিরীষ গাছ লাগানো হয়। তৎকালীন উপাচার্য এম শামসুল হক ফিলিপাইন থেকে কিছু গাছ নিয়ে আসেন। তিনি এ গাছগুলো রোপণের দায়িত্ব দেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী মোহাম্মাদ ইউনুসকে। তার হাত ধরেই লাগানো হয় গাছগুলো। তখন এটি ছিল নেহাৎ বৃক্ষরোপণের একটি উদ্যোগ।

জনশ্রুতি আছে, একবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের কিছু ছবি তুলে তার এক বন্ধুর কাছে পাঠায়। বন্ধু দেখে বিস্মিত হয়ে বলে এটি কোন দেশের ছবি। সেই শিক্ষার্থী তখন বলে দেয় এটা আমাদের ক্যাম্পাসের। তার মধ্যে অন্যতম ছিল প্যারিস রোডের ছবিটিও। এরকম আরও অনেক গল্প রয়েছে।

এছাড়াও জনশ্রুতি আছে ১৯৮০-র দশকে ‘রোড টু সোয়াদ’ কিংবা ‘রোড টু প্যারিস’ নামের চলচ্চিত্রগুলোতে যে রাস্তা দেখানো হয়, সেসব রাস্তার সঙ্গে এই রাস্তাটির মিল থাকায় এর নাম হয় প্যারিস রোড।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থানের মধ্যে প্যারিস শুধু একটি রাস্তা নয়। এটি ক্যাম্পাস জীবনের এক নীরব সাক্ষী। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এর ওপর দিয়ে হেঁটে যায়, কিন্তু প্রত্যেকের গল্প আলাদা। কারও কাছে এটি বন্ধুত্বের স্মৃতি, কারও কাছে ভালো লাগার জায়গা, আবার কারও কাছে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে সুন্দর বিকেলগুলোর ঠিকানা।

আরও পড়ুন: ২৮ সেপ্টেম্বর: ইতিহাসের পাতায় উল্লেখযোগ্য ঘটনা ও বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু

সময় এগিয়ে যায়, শিক্ষার্থীরা আসে-যায়, প্রজন্ম বদলায়। কিন্তু প্যারিস রোড থেকে যায় একইভাবে নতুন মানুষকে স্বাগত জানিয়ে, নতুন গল্পের অপেক্ষায়। হয়তো এ কারণেই রাবির প্যারিস রোড শুধু একটি পথ নয়; এটি এমন এক ক্যানভাস, যেখানে প্রতিদিনই লেখা হয় নতুন নতুন গল্প।

লেখক : ইসমাইল হোসেন সায়েম

শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন: মঞ্চ একই, সময় আলাদা: জাতিসংঘে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে নেদারল্যান্ডসের ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের সাথে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১১ পি.এম


বরিশালে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে নেদারল্যান্ডসের ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের সাথে আলোচনা

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক ‘ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ’-এর কর্মকর্তাদের সাথে মহানগরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে বৈঠক করেছে। বৈঠকে বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

নগর প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত সিইও রুম্পা সিকদার এবং প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুকও বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার হ্রাস করে নগরীতে উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। উন্নত ও অত্যাধুনিক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, স্বল্পমূল্যে নগরবাসীকে পানি প্রদানের লক্ষ্যে ‘ওয়াটার এটিএম বুথ’ স্থাপন, বিতরণ ব্যবস্থা পুনর্বাসন এবং আধুনিকায়নের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এছাড়াও, পরিবেশসহায়ক সোলার সিস্টেম নির্ভর পানি সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাভারে নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১২ পি.এম


সাভারে নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভ্রাম্যমাণ আদালত সাভারে দুইটি প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ লঙ্ঘনের জন্য ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। অভিযানের সময় জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

সাভার উপজেলায় আজ অনুষ্ঠিত দুটি পৃথক অভিযানের নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অনুপম দাস অনুপ।

সাভারের উলাইল, গেন্দা এলাকার ভরসা বেকার্সে অভিযান চলাকালে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বিস্কুট, কেকসহ বিভিন্ন খাদ্যের মোড়কে বিভ্রান্তিকর তথ্যসংবলিত লেবেল ব্যবহার করছে। কারখানায় উৎপাদনের সময় অ্যামোনিয়া ব্যবহৃত হলেও বিস্কুটের মোড়কে সেই উপাদানের উল্লেখ ছিল না। এছাড়া, কারখানার উৎপাদন পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও অপরিষ্কার ছিল এবং খাদ্যকর্মীরা গ্লাভস, মাস্ক, ক্যাপসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহার না করে কাজ করছিলেন। এসব অপরাধের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

অন্যদিকে, কর্ণপাড়ার বেকো লাইভ বেকারিতে অভিযানের সময় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে কাজ করছে। একই রেফ্রিজারেটরে কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। এছাড়া, বিভিন্ন খাদ্য ও খাদ্য উপাদান কোনো লেবেল ছাড়াই সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হচ্ছিল।

অভিযান চলাকালে প্রতিষ্ঠানটি ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, প্রিমিসেস লাইসেন্স, কর্মীদের স্বাস্থ্য সনদ, পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণক এবং পানি পরীক্ষার হালনাগাদ সনদ প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়। এসব অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

জনস্বার্থে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এ ধরনের তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মহাখালীতে ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে ডিএমপির অভিযান, ১৫ অবৈধ দোকান উচ্ছেদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১২ পি.এম


মহাখালীতে ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে ডিএমপির অভিযান, ১৫ অবৈধ দোকান উচ্ছেদ

ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাজধানীর মহাখালী অঞ্চলে পথচারীদের অবাধ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক মহাখালী জোন ফুটপাথের অবৈধ দোকানপাট ও হকারদের উচ্ছেদে একটি অভিযান পরিচালনা করেছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়।

ডিএমপির প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মহাখালী এলাকার নতুন ফুটওভার ব্রিজ থেকে টার্মিনাল ইনগেট পর্যন্ত ইনকামিং রাস্তার ফুটপাথ অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছিল। সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করে এবং ফুটপাথ থেকে ১৫টি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে রাস্তাটিকে চলাচলের উপযোগী করে তোলে।

পুলিশ জানিয়েছে, জনস্বার্থে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল রাখতে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাউজানের বেরুলীয়া সড়ক খানাখন্দে চলাচলের অনুপযোগী, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৩ পি.এম


রাউজানের বেরুলীয়া সড়ক খানাখন্দে চলাচলের অনুপযোগী, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

রাউজান পৌরসভার জনগুরুত্বপুর্ণ বেরুলীয়া সড়কটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়কের বেরুলীয়া নামক স্থান থেকে বাঁচা মিয়ার দোকান পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি পাকিস্তান আমল থেকে অতিরিক্ত গুরুত্বপুর্ণ হিসাবে পরিচিত হয়ে আসছে।

সড়কটির কালিমন্দিরের পর থেকে দক্ষিণাংশে বড় বড় গর্ত এবং গর্ত দেখা যাচ্ছে। সড়কের দু-অংশে অল্প পরিমাণে সি.সি. ঢালাই রয়েছে। বাকী অংশের পিস ঢালাই উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, যা যেন মিনি পুকুরের মতো হয়ে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটিতে প্রতিদিন ছোট বড় গাড়ি চলাচল করছে। এলাকার যাত্রী সাধারণের অভিযোগ, ব্রিকফিল্ডের ইট বহনকারী ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে এই সড়কটি একদম নষ্ট হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে বেশ কয়েকটি সিএনজি অটোরিক্সা সড়কের গর্তে উল্টে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল।

সড়কের পাশে একটি উচ্চবিদ্যালয়, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেশ কয়েকটি জুমা মসজিদ, একটি বড় মন্দির এবং নানাবিধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

সড়কের বাঁচামিয়ার দোকানের দক্ষিণাংশেও বেশ কয়েকটি গর্ত দেখা যায়। বর্তমানে এই সড়ক দিয়ে মাইক্রোবাস (হাইস), পিলডার, জিপ, বাস, ট্রাক চলাচল করতে পারছে না। তাও সিএনজি অটোরিক্সা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

কুয়েতে কর্মরত (রাউজানের বাসিন্দা) সিভিল ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম বলেন, "যে কোন মানুষের মূল দাবী টেকসই উন্নয়ন। আর এটি করতে হলে প্রকল্প তৈরির সময় সড়কের উচ্চতা দেখতে হবে। কারণ আমাদের দেশে ৬/৭ মাস বৃষ্টি হয়। সড়কের পাশে পানি জমে থাকে। সে পানির কারণে সড়কের দু-পাশ নরম হয়ে যায়। আর গাড়ি চলতে চলতে সড়কগুলা ভিতর থেকে ফাটল কিংবা ধ্বসে পড়ে। একসময় এসে সড়কে বড় বড় গর্ত জম্ম নেয়। তাই সড়ক টেকসই করার জন্য প্রথমে উচুঁ ভরাট। এরপর অন্যান্য পদক্ষেপ। তাহলে সড়ক সহজে ধেবে যাবেনা। টেকসই উন্নয়ন হবে।"

সড়কের বিষয়ে জানতে চাইলে রাউজান পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী শাহিন হোসাইন জানান, "আমরা সড়কটি সংস্কারের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অবকাঠামো উন্নয়ন থেকে প্রকল্প পাশ করেছি। আগামী সপ্তাহে পত্রিকার মাধ্যমে টেন্ডারে যাবে।" তিনি জানান, দ্রুত সময়ের মধ্য সড়কটির কাজ সম্পন্ন করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%