বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৪৩ পি.এম
মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। তবে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর শুরু কবে হবে, সে সম্পর্কে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক সদস্যদের স্মারকলিপি গ্রহণের সময় সচিব এসব মন্তব্য করেন।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে বায়রার সাবেক প্রতিনিধিরা বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, তালিকাভুক্ত ৩১২টি এজেন্সিসহ সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে সমান সুযোগ দেওয়া, সিন্ডিকেট ও একচেটিয়া আধিপত্য বন্ধ করা, অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
এছাড়া, সব যোগ্য মেডিক্যাল সেন্টার উন্মুক্ত করার এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর দাবি জানানো হয়।
বায়রার একাংশের প্রতিনিধিরা বলেন, তালিকাভুক্ত ৩১২টি বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হলে সিন্ডিকেটের অভিযোগ ওঠার সুযোগ থাকবে না, শুধু ২৫টি এজেন্সিকে নয়।
সচিব মো. মোখতার আহমেদ স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি বলেন, এসব দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
সচিব আরও বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যেন মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর সুযোগ নিয়ে ফায়দা লুটতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। শ্রমবাজার কোনো সিন্ডিকেটের কবলে না পড়ে, সেদিকেও সরকারের নজর রয়েছে।
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে দালাল ও প্রতারক চক্রের বিষয়ে সচিব সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাধারণ কর্মীদের এসব চক্রের হাত থেকে রক্ষা করতে মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতিমধ্যে অবৈধ ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এই সময় ‘ত্রিপল এ ওভারসিজ’-এর কার্যালয় সিলগালা, জরিমানা এবং তিন বক্স পাসপোর্ট জব্দ করা হয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া কী হবে, সে সম্পর্কে প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে। কর্মী পাঠানোর দিনক্ষণ বা প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে তা যথাসময়ে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের ক্রিকেটার রিংকু সিং ও সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য প্রিয়া সরোজের বিয়ের তারিখ প্রায় ১৫ মাসের বাগদানের পর চূড়ান্ত হয়েছে।
আগামী ৪ ডিসেম্বর ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষ্ণৌয়ে অনুষ্ঠিত হবে রিংকু ও প্রিয়ার বিয়ের অনুষ্ঠান। বিয়ের আয়োজনের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে রামাডা হোটেল নির্বাচিত হয়েছে।
ইন্ডিয়া টুডে সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের তারিখ ও স্থান দুই পরিবারই নিশ্চিত করেছে। ইতিমধ্যে বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন ও বিশেষ অতিথিদের উপস্থিতিতে।
রিংকু ও প্রিয়ার বাগদান হয়েছিল ২০২৫ সালের ৮ জুন লক্ষ্ণৌর দ্য সেন্ট্রাম হোটেলে। বিয়ের পরিকল্পনা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা পিছিয়ে যায়। অবশেষে ৪ ডিসেম্বর বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হলো।
প্রিয়া সরোজ উত্তর প্রদেশের মাছলিশহর লোকসভা আসনের সংসদ সদস্য। অন্যদিকে, রিংকু সিং ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের একজন পরিচিত মুখ।
২০২৩ আইপিএলে একটি ম্যাচের শেষ পাঁচ বলে পাঁচ ছক্কা মেরে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে জয়ী করেন রিংকু। এরপর রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠা রিংকু ও ২০২৪ সালে সমাজবাদী পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য হওয়া প্রিয়া দুজনের বাড়ি ভারতের উত্তর প্রদেশে অবস্থিত। তবে তাদের জেলা ভিন্ন। রিংকুর বাড়ি আলীগড়ে, আর প্রিয়ার বেনারসে।
অনেকের ধারণা, রিংকু তারকা হওয়ার পর অথবা প্রিয়া সংসদ সদস্য হওয়ার পর তাদের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। তবে আসল ঘটনা ভিন্ন।
রিংকু ও প্রিয়ার প্রথম যোগাযোগের সময় দুজনের কেউই প্রতিষ্ঠিত ছিলেন না। রিংকু তখন আইপিএলে তারকা হননি এবং ভারত জাতীয় দলে খেলার সুযোগও পাননি। প্রিয়াও তখন সংসদ নির্বাচনে দাঁড়াননি।
দুজনের পরিচয় সামাজিক অনুষ্ঠানে নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে হয়েছিল। পরিচয়ের কিছুদিন পরই তাদের প্রেম শুরু হয়।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার রিংকু ও প্রিয়ার সম্পর্ক বিয়ের মাধ্যমে পরিণতি পেতে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত একটি আইন, যা রাশিয়ার তেল ও গ্যাস ক্রয়ের ক্ষেত্রে দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ভারত, যা রুশ জ্বালানির অন্যতম বড় ক্রেতা, এই আইনের আওতায় পড়তে পারে বলে জানাচ্ছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে।
গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ বিলটি ২১৪-২১১ ভোটে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত ধাপ অতিক্রম করেছে। বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে এই বিলটির চূড়ান্ত ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পর বিলটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে।
প্রস্তাবিত আইনটিতে রাশিয়ার নেতৃত্ব, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত এবং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কোকে সহায়তা প্রদানকারী ‘ছায়া বহর’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই শুল্কের উদ্দেশ্য হলো রুশ জ্বালানি ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করে মস্কোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানির ফলে দিল্লি-মস্কো সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এর বিপরীতে, রুশ তেল ক্রয়ের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।
গত বছরের আগস্টে রুশ তেল ক্রয়ের কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এর সাথে আগে থেকেই ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক ছিল। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-সংক্রান্ত অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হয় এবং একটি মার্কিন-ভারত বাণিজ্য কাঠামোর আওতায় পাল্টা শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়।
তবে দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি এখনো ঝুলে আছে এবং এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১২টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মোট ব্যয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প এবং একটি ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্পের অনুমোদন ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকায় দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা রয়েছে ২০৩১ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে এই ইলেকট্রিক ট্রেন চালু করার।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অনুমোদন প্রদান করা হয়। বৈঠকের পর পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এই বিষয়ে ব্রিফ করেন।
তিনি জানান, ‘জয়দেবপুর-ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ইলেকট্রিক ট্রেনের প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আমাদের বর্তমান কমিউটার ট্রেনের মতোই এই ব্যবস্থা। বলতে পারেন এর সঙ্গে মেট্রো রেলের একটা সাদৃশ্য আছে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মেট্রো রেল যেভাবে চলে, এটাও সেভাবে চলবে। তবে এটি ট্রেডিশনাল ট্রেন লাইন ট্র্যাকের মধ্য দিয়েই পরিচালিত হবে। এই প্রকল্প পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইলেকট্রিক ট্রেন লাইনের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।’
তিনি যোগ করেন, ‘এটা সফল হলে এখানে একটি ইলেকট্রিক ট্রেন লাইন যুক্ত হবে এবং একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম ইলেকট্রিক ট্রেন লাইন হবে। তার জন্য ট্র্যাক তৈরি করার প্রকল্প রয়েছে। অনেকের প্রশ্ন—বিদ্যমান ট্র্যাক লাইন দিয়ে এটি চলবে কিনা। বিদ্যমান ট্র্যাক লাইনের যে স্পিড ওঠে, আর এই কমিউটার ট্রেনের যে স্পিড হবে—দুয়ের মধ্যে একটু পার্থক্য থাকবে।’
জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘তবে এই কমিউটার ট্রেন আবার বুলেট ট্রেনের মতো ৩০০ কিলোমিটার পার আওয়ার—এরকম স্পিডে যাবে না, এটার সর্বোচ্চ গতি হবে ১৬০। এই ১৬০ কিলোমিটার চলার মতো যে ট্র্যাক লাইন দরকার, সেটি তৈরি করা হচ্ছে। প্রায় ৭০ শতাংশ ইতিমধ্যে এগিয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইলেকট্রিক ট্রেন লাইনের প্রকল্প সম্পন্ন হলে এই ট্র্যাক লাইনে কমিউটার ট্রেন প্রায় ১৬০ গতিতে চলবে, যেমনটা মেট্রো রেল চলে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস. এম. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পেশাগত অসদাচরণসহ ২৪টি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিধিমোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান স্বাক্ষরিত স্মারক নং-০৫.১০.৭৯১৪.০০০.০৭.০০১.২৬-
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল (বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা-২০২৪-এর ৫৩(২) বিধির আওতায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নোটিশে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উল্লেখ করা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ব্যাংক হিসাব একক স্বাক্ষরে পরিচালনা এবং জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ভর্তি ও বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা আনুমানিক ৭৯ লাখ ৪ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ। এছাড়া ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৭৫৪ টাকা উত্তোলন এবং নির্দিষ্ট সময়ে ২৪ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ টাকার হিসাব মেলাতে না পারার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি পিবিজিএসআই (চইএঝও) স্কিমের ৫ লাখ টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যয় না করে ফেরত প্রদানের মাধ্যমে ২০ জন সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রী, ৬ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ছাত্রী, শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের উন্নয়নকে বঞ্চিত করেছে।
এছাড়া উৎসে ভ্যাট ও আয়কর কর্তন না করে গত আড়াই বছরে সরকারের প্রায় ১২ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া এবং স্ট্যাম্প আইন অমান্য করে ক্যাশ ভাউচারে স্ট্যাম্প ব্যবহার না করে লেনদেন করার অভিযোগ রয়েছে।
নোটিশে টাকার বিনিময়ে নির্ধারিত রোল নম্বর অতিক্রম করে বেআইনিভাবে ছাত্রী ভর্তি, উপবৃত্তির টাকা শিক্ষকদের মধ্যে বিতরণ না করে আত্মসাৎ এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অনুমতি ছাড়া স্কুলের বেঞ্চ ও টেবিল বাইরের এক হোটেল মালিকের কাছে মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসাঃ সেলিনা আক্তারের বিয়ে, বয়স, গায়ের রঙ ও পোশাক নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি সভাপতির অনুমোদন ছাড়া একক সিদ্ধান্তে সহকারী প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কার এবং শিক্ষকদের বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতা বেআইনিভাবে বন্ধ রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
নোটিশে উল্লিখিত অভিযোগগুলো বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালা-২০২৪-এর বিধি ৫১(ক) থেকে ৫১(ঙ) এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী অদক্ষতা, পেশাগত অসদাচরণ, কর্তব্যে অবহেলা, দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কারণ দর্শানোর নোটিশে নোটিশ প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রধান শিক্ষককে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না, তার কারণ জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে চান কি না, তাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে বিধিমোতাবেক তদন্ত কমিটি গঠন করে পরবর্তী চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ