বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৪৬ পি.এম
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১২টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মোট ব্যয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প এবং একটি ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্পের অনুমোদন ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকায় দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা রয়েছে ২০৩১ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে এই ইলেকট্রিক ট্রেন চালু করার।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অনুমোদন প্রদান করা হয়। বৈঠকের পর পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এই বিষয়ে ব্রিফ করেন।
তিনি জানান, ‘জয়দেবপুর-ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ইলেকট্রিক ট্রেনের প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আমাদের বর্তমান কমিউটার ট্রেনের মতোই এই ব্যবস্থা। বলতে পারেন এর সঙ্গে মেট্রো রেলের একটা সাদৃশ্য আছে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মেট্রো রেল যেভাবে চলে, এটাও সেভাবে চলবে। তবে এটি ট্রেডিশনাল ট্রেন লাইন ট্র্যাকের মধ্য দিয়েই পরিচালিত হবে। এই প্রকল্প পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইলেকট্রিক ট্রেন লাইনের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।’
তিনি যোগ করেন, ‘এটা সফল হলে এখানে একটি ইলেকট্রিক ট্রেন লাইন যুক্ত হবে এবং একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম ইলেকট্রিক ট্রেন লাইন হবে। তার জন্য ট্র্যাক তৈরি করার প্রকল্প রয়েছে। অনেকের প্রশ্ন—বিদ্যমান ট্র্যাক লাইন দিয়ে এটি চলবে কিনা। বিদ্যমান ট্র্যাক লাইনের যে স্পিড ওঠে, আর এই কমিউটার ট্রেনের যে স্পিড হবে—দুয়ের মধ্যে একটু পার্থক্য থাকবে।’
জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘তবে এই কমিউটার ট্রেন আবার বুলেট ট্রেনের মতো ৩০০ কিলোমিটার পার আওয়ার—এরকম স্পিডে যাবে না, এটার সর্বোচ্চ গতি হবে ১৬০। এই ১৬০ কিলোমিটার চলার মতো যে ট্র্যাক লাইন দরকার, সেটি তৈরি করা হচ্ছে। প্রায় ৭০ শতাংশ ইতিমধ্যে এগিয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইলেকট্রিক ট্রেন লাইনের প্রকল্প সম্পন্ন হলে এই ট্র্যাক লাইনে কমিউটার ট্রেন প্রায় ১৬০ গতিতে চলবে, যেমনটা মেট্রো রেল চলে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস. এম. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পেশাগত অসদাচরণসহ ২৪টি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিধিমোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান স্বাক্ষরিত স্মারক নং-০৫.১০.৭৯১৪.০০০.০৭.০০১.২৬-
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল (বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা-২০২৪-এর ৫৩(২) বিধির আওতায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নোটিশে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উল্লেখ করা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ব্যাংক হিসাব একক স্বাক্ষরে পরিচালনা এবং জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ভর্তি ও বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা আনুমানিক ৭৯ লাখ ৪ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ। এছাড়া ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৭৫৪ টাকা উত্তোলন এবং নির্দিষ্ট সময়ে ২৪ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ টাকার হিসাব মেলাতে না পারার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি পিবিজিএসআই (চইএঝও) স্কিমের ৫ লাখ টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যয় না করে ফেরত প্রদানের মাধ্যমে ২০ জন সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রী, ৬ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ছাত্রী, শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের উন্নয়নকে বঞ্চিত করেছে।
এছাড়া উৎসে ভ্যাট ও আয়কর কর্তন না করে গত আড়াই বছরে সরকারের প্রায় ১২ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া এবং স্ট্যাম্প আইন অমান্য করে ক্যাশ ভাউচারে স্ট্যাম্প ব্যবহার না করে লেনদেন করার অভিযোগ রয়েছে।
নোটিশে টাকার বিনিময়ে নির্ধারিত রোল নম্বর অতিক্রম করে বেআইনিভাবে ছাত্রী ভর্তি, উপবৃত্তির টাকা শিক্ষকদের মধ্যে বিতরণ না করে আত্মসাৎ এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অনুমতি ছাড়া স্কুলের বেঞ্চ ও টেবিল বাইরের এক হোটেল মালিকের কাছে মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসাঃ সেলিনা আক্তারের বিয়ে, বয়স, গায়ের রঙ ও পোশাক নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি সভাপতির অনুমোদন ছাড়া একক সিদ্ধান্তে সহকারী প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কার এবং শিক্ষকদের বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতা বেআইনিভাবে বন্ধ রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
নোটিশে উল্লিখিত অভিযোগগুলো বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালা-২০২৪-এর বিধি ৫১(ক) থেকে ৫১(ঙ) এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী অদক্ষতা, পেশাগত অসদাচরণ, কর্তব্যে অবহেলা, দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কারণ দর্শানোর নোটিশে নোটিশ প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রধান শিক্ষককে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না, তার কারণ জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে চান কি না, তাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে বিধিমোতাবেক তদন্ত কমিটি গঠন করে পরবর্তী চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৩০০ পিস ইয়াবাসহ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের জুলাই যোদ্ধা হাসান আলী ও যুবদল নেতা মাহমুদুল হাসান কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় এলেঙ্গা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল ডিবি দক্ষিণ। ডিবি দক্ষিণের এসআই রিয়াজ উদ্দিন সঙ্গীর ফোর্সসহ তাদের গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা ভূঞাপুর উপজেলার চিতুলিয়াপাড়া এলাকার আজাহার আলীর ছেলে হাছান আলী (৩৭) এবং একই এলাকার আব্দুল হকের ছেলে মাহমুদুল হাসান (৩৪)।
এ বিষয়ে ডিবি দক্ষিণের এসআই রিয়াজ উদ্দিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদেরকে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তাদেরকে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫০ পিস করে মোট ৩০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুর, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আজ সাপ্তাহিক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে।
সাপ্তাহিক এ গণশুনানির আয়োজন করা হয় আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক-সাইফ মিজান স্মৃতি সভাকক্ষে।
গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সেবাপ্রত্যাশীরা সরাসরি উপস্থিত হয়ে তাদের বিভিন্ন অভিযোগ, সমস্যা, আবেদন ও প্রত্যাশার কথা জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ আগত সেবাপ্রত্যাশীদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনেন এবং উত্থাপিত বিষয়সমূহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। কিছু বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
গণশুনানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে এবং জনগণের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ দ্রুততার সঙ্গে চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিয়মিত সাপ্তাহিক গণশুনানি অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরিয়ার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য হুমকি হচ্ছে ইসরায়েল—এমন মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি সিরিয়া সফর শেষে সাংবাদিকদের সামনে এই সতর্কবার্তা দেন।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির রিপোর্ট অনুযায়ী, দুই দিনের দামেস্ক সফরের সময় তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার সঙ্গে দুই ঘণ্টাব্যাপী একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকের সময় দু দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং ইসরায়েল প্রসঙ্গে বৈঠক শেষে হাকান ফিদান জানান, গত দুই বছরে নিষেধাজ্ঞামুক্ত হওয়া এবং সন্ত্রাসবাদী তালিকা থেকে বাদ পড়ার মাধ্যমে সিরিয়া একটি ইতিবাচক পথে ফিরেছে। তবে, এই অগ্রগতির প্রধান বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে প্রতিবেশী ইসরায়েল।
ফিদান বলেন, "ইসরায়েল কখনোই তার প্রতিবেশী দেশগুলোকে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অবস্থায় দেখতে চায় না। এ কারণেই তারা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।"
ইসরায়েলকে একটি কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ইসরায়েলকে তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান মেনে নিতে হবে, নাহলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একঘরে হয়ে পড়ার ঝুঁকি নিতে হবে।
'মক্কা জোট' ও আঞ্চলিক সুরক্ষা
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন উদীয়মান শক্তির জোট সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে ফিদান জানান, তুরস্ক, সউদী আরব এবং পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত হতে যাওয়া নতুন 'মক্কা জোট' (Mecca Alliance)-এর কাঠামো তৈরির কারিগরি কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই জোটের পরিধি এবং সদস্য সংখ্যা সামনে আরও বৃদ্ধি করা হবে।
একই সঙ্গে সৌদি আরবের সুরক্ষার বিষয়ে আঙ্কারার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। ইরান ভিত্তিক বা যেকোনো স্থান থেকে সউদী আরবের ওপর হামলা সম্পূর্ণভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে সতর্ক করেন তিনি। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের যেকোনো ধরনের হুমকির মুখে সউদী আরবের সঙ্গে তুরস্কের পূর্ণ সংহতি বজায় থাকবে বলেও স্পষ্ট জানান তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ