মোঃ শরীফ উদ্দিন | ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
১২:৩৬ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রতিষ্ঠান চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি শাখা চালু হওয়ার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কোনো সরকারি বেতন-ভাতা ছাড়াই পাঠদান করছেন ১০ জন শিক্ষক। এতে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুদানে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজ। পরবর্তীতে ২০১১ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি (পাস) শাখা চালু হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত ডিগ্রি বিভাগের শিক্ষকরা সরকারি বেতন-ভাতার আওতায় আসতে পারেননি।
বর্তমানে কলেজটিতে প্রায় ৫৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকে প্রায় ৩৫০ জন এবং ডিগ্রি শাখায় প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন মোট ২৭ জন। এর মধ্যে ডিগ্রি বিভাগের ১০ জন শিক্ষক টানা ১৫ বছর ধরে বিনা বেতনে পাঠদান করে যাচ্ছেন।
ডিগ্রি বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, "শিক্ষকতায় যোগ দেওয়ার সময় সরকারি চাকরিতে আবেদন করার বয়স ছিল। এখন সেই সুযোগও নেই। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বিনা বেতনে চাকরি করে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে।"
কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওমর আলী বলেন,
"২০১১ সালে ডিগ্রি বিভাগ চালু হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ডিগ্রি বিভাগের কোনো শিক্ষক সরকারি বেতন-ভাতা পান না। আমরা তিনবার এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেছি। যা পাই, তা দিয়ে কোনো রকম টেনেটুনে সংসার চলে।"
তিনি আরও জানান, ডিগ্রি বিভাগ এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে এবং এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিভাগের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, হাওরাঞ্চলের শিক্ষার স্বার্থে চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি শাখা দ্রুত এমপিওভুক্ত করা হোক এবং দীর্ঘদিন ধরে বেতনবঞ্চিত শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হোক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিবারের অমতে বিয়ে করায় ২৪ বছর বয়সী একজন তরুণীকে পিটিয়ে এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে।
ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রায় এই ভয়াবহ মৃত্যু সংঘটিত হয়েছে। অভিযুক্ত পিতা, বিমল শর্মাকে, পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, পুলিশ জানিয়েছে যে, তিনি এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহত তরুণীর নাম অঙ্কিতা। পুলিশের তথ্য মতে, প্রায় চার মাস আগে, তিনি পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) সদস্য অমিত পাচৌরির সঙ্গে আদালতে বিয়ে করেন।
বিয়ের পর, অমিত কর্মস্থলে ফিরলেও, অঙ্কিতা তার বাবা-মায়ের বাড়িতে থাকতে থাকেন। এসময়, বিয়ে নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে, সোমবার রাতে, বিমল শর্মা তার মেয়েকে মারধর করেন। পরে, একটি ওড়না দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে, তিনি শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
ঘটনার সময়, অভিযুক্তের স্ত্রী ও ছেলে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। হত্যার পর, তিনি তাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন এবং নিজে মরদেহের পাশে বসে ছিলেন বলে পুলিশের দাবি।
প্রতিবেশীরা জানান, রাতের দিকে বাড়ি থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে তারা দরজায় কড়া নাড়েন। কিন্তু, কোনো সাড়া না পেয়ে এবং ঘরের আলো নিভে যেতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে এবং অঙ্কিতাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, তার গলায় শক্ত করে ওড়না পেঁচানো ছিল এবং মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে, বিমল শর্মা পুলিশকে জানান যে, মেয়ের আদালতে গিয়ে বিয়ে করায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। বারবার বোঝানোর পরও, অঙ্কিতা সম্পর্ক থেকে সরে আসতে রাজি না হওয়ায়, ক্ষোভের বশে তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন।
এই ঘটনার পর, পুলিশ হত্যা মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে একদিনে অন্তত ২২ জন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রাশিয়ায় ১৫ জন এবং ইউক্রেনে ১১ জনের মৃত্যুর তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হামলায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকডজন মানুষ। উভয় দেশ একে অপরের বেসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগ তুললেও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রুশ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৩ আগস্ট) ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে ক্রাসনোদার, বেলগোরোদ ও ক্রিমিয়ায়। রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ জানিয়েছেন, গেলেন্দঝিক জেলার পর্যটন এলাকা আরখিপো-ওসিপোভকায় একটি ড্রোন হামলায় তিন শিশুসহ সাতজন নিহত এবং প্রায় ৪০ জন আহত হন। একই দিনে কৃষ্ণ সাগরের উপদ্বীপ ক্রিমিয়ায় একক হামলায় নিহত হন চারজন এবং আহত হন দুজন। এছাড়া, ইউক্রেন সীমান্তঘেঁষা বেলগোরোদ অঞ্চলে ড্রোন হামলায় হত্যার শিকার হন আরও চারজন এবং আহত হন ১৭ জন।
অন্যদিকে, সোমবার ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের কৃভি রিহ জেলায় একটি পেট্রোল স্টেশনে রুশ বিস্ফোরকবাহী ড্রোন আঘাত হানে। এতে একজন জরুরি পরিষেবাকর্মী এবং তার আট বছর বয়সী ছেলেসহ মোট তিনজন নিহত হন। দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা টেলিগ্রামে জানান, হামলার পর পেট্রোল স্টেশনে আগুন ধরে যায় এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সোমবার রাতেই জাপোরিজ্জিয়া অঞ্চলে রুশ বাহিনীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে দুই শিশুসহ আরও আটজন নিহত হয়েছেন।
২০২২ সালে যুদ্ধের শুরুর দিকে বেসামরিক প্রাণহানি তুলনামূলকভাবে কম ছিল; তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। যদিও মস্কো ও কিয়েভ দুই পক্ষই দাবি করে থাকে যে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। এদিকে, একটি পৃথক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের বিলিই কোলোদিয়াজ ও উস্পেনিভকা নামে দুটি বসতি রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার এবং ২০১৫ সালের মিনস্ক চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর, ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। আড়াই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সম্পত্তি দান করার পরও দাতা তার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের আইনি অধিকার বজায় রাখতে পারবেন- এই বিধান সংযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট আইনের সংশোধনী খসড়ার নীতিগত এবং চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ।
সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রচলিত ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ বলা হয়েছে, কেউ সম্পত্তি দান করলে সেটির মালিকানা ও ভোগদখলের অধিকার গ্রহীতার কাছে চলে যায়। তবে নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর হলেও দাতা তার জীবদ্দশায় তা ভোগ ও ব্যবহার করার আইনি অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন।
একই বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ আইনের খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই আইনটির উদ্দেশ্য হলো গুম প্রতিরোধ করা, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার করা, গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান ও ভুক্তভোগী এবং তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা।
আইনটিতে গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। তাদের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে; আর দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় সম্ভব না হলে রাষ্ট্র কর্তৃক ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া, ‘অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাবও মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। তবে ১৯৯৪ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সদ্য সমাপ্ত গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে পাকিস্তানের ভরাডুবি ঘটেছে। ৩৬ সদস্যের পাকিস্তান দলকে মাত্র একটি ব্রোঞ্জ পদক নিয়েই ঘরে ফিরতে হয়েছে।
১৯৯০ সালের পরের কমনওয়েলথ গেমসে এটি পাকিস্তানের সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স। এই ভরাডুবির জন্য পাকিস্তানের ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের অবহেলাকেই দায়ী করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের বড় ভরসা জ্যাভলিন থ্রোয়ার আরশাদ নাদিমই সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছেন। ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে ৯০ দশমিক ১২ মিটার ছুঁড়িয়ে স্বর্ণপদক জেতা আরশাদ এবারের গেমসে ৮০ মিটারের গণ্ডিও পার করতে পারেননি। তিনি নবম হয়ে ৮ জনের ফাইনাল রাউন্ডেও উঠতে ব্যর্থ হয়েছেন, আর অলিম্পিকে ৯২ দশমিক ৯৭ মিটারের রেকর্ড থ্রো করে স্বর্ণপদক জেতা এই তারকাকে ৮০ মিটার পার করতেই এভাবে সংগ্রাম করতে দেখা তার ভক্তদের জন্য ছিল এক মস্ত বড় ধাক্কা।
আরশাদের এই ব্যর্থতার জন্য তার অনুশীলনের ঘাটতি ও পাকিস্তান ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর উপেক্ষাকেই দায়ী করা হচ্ছে। আরশাদের দীর্ঘদিনের কোচ সালমান বাট স্বীকার করেছেন যে, কমনওয়েলথ গেমসে আরশাদ কোনোভাবেই তার সেরা ফর্মে ছিলেন না এবং তার প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল।
তার এই ছন্দপতনের জন্য আংশিকভাবে আরশাদ নিজেও দায়ী, কারণ ফাইনালের সময় তাকে শতভাগ ফিট মনে হচ্ছিল না। তবে ট্র্যাকের বাইরেও তাকে অনেক সমস্যার সাথে লড়াই করতে হয়েছে।
আরশাদের এবারের ফলাফল মোটেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। কারণ এবারের কমনওয়েলথ গেমসের প্রস্তুতি হিসেবে আরশাদ সুইজারল্যান্ডে মাত্র একটি ইভেন্টে অংশ নিতে পেরেছিলেন। এছাড়া তিনি কোনো বিদেশী কোচ বা ট্রেইনারের সরাসরি সাহায্য ছাড়াই লাহোরের তীব্র গরমের মধ্যে একা একা অনুশীলন করে পুরো সময় পার করেন।
আরশাদ আগে দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ টারসিয়াস লিবেনবার্গের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, এবার তিনি স্থানীয় কোচ সালমান বাট এবং স্থানীয় ট্রেইনারদের সাথেই অনুশীলন করেন। লাহোরের তীব্র গরমে অনুশীলনের ফলে গ্লাসগোর আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নেয়ার কোনো সুযোগই পাননি তিনি।
গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে জ্যাভলিন থ্রো ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতেছেন শ্রীলঙ্কার রুমেশ পাথিরাগে। ভারতের নীরজ চোপড়া ও যশবীর সিং যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। আরশাদ লাহোরের তীব্র গরমে একা একা অনুশীলন করতে গিয়ে দেশের বাইরে উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা পাওয়া ভারতীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়েন। ভারতের নীরজ সুইজারল্যান্ডের বিয়েনে তার প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে চূড়ান্ত প্রস্তুতি এবং রিহ্যাবিলিটেশন ক্যাম্প করেছেন। এবং তার সতীর্থ রোহিত যাদব ও যশবীর সিং পোল্যান্ডের স্পালায় বিদেশী কোচ ও ট্রেইনারদের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।
পাকিস্তান ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের সাথে আরশাদের মূল বিরোধটা কোচ হিসেবে সালমান বাটকে বহাল রাখা নিয়ে। এ বিরোধের কারণে পাকিস্তান অ্যামেচার অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন আরশাদকে পুরোপুরি ত্যাগ করে। আরশাদের ঘনিষ্ঠ একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের শেষের দিকে কমনওয়েলথ গেমসের প্রস্তুতি শুরু করার সময় অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন এবং পাকিস্তান স্পোর্টস বোর্ড এই জ্যাভলিন থ্রোয়ারের পাশে দাড়াননি। উক্ত সূত্রটি আরও জানায়, ফেডারেশন আরশাদের প্রস্তুতি থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে নেয় এবং তাকে তার ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেয়। এখান পর্যন্ত, তার প্রশিক্ষণের ব্যাপারে করা কয়েকটি অনুরোধও তারা রাখেনি। একইভাবে, লাহোরে নিজের মত অনুশীলনের সময়ও আরশাদের জন্য কোনো বিদেশী কোচ বা ট্রেইনারের তহবিলের অর্থ ছাড় করেনি পাকিস্তান স্পোর্টস বোর্ড।
পাকিস্তানের সাবেক অলিম্পিক বক্সিং ব্রোঞ্জ পদক জয়ী হুসেন শাহ হতাশ কণ্ঠে বলেন, 'তিনি (আরশাদ) এমন একজন ক্রীড়াবিদ, যিনি সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় গড়ে উঠেছেন। একটি গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন এবং একটি নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তান। তারপরও নিজের স্বর্ণপদক দিয়ে তিনি পাকিস্তানের জন্য এত গৌরব বয়ে এনেছেন। অথচ তিনি কমনওয়েলথ গেমসের জন্য ঠিকমতো প্রস্তুতিই নিতে পারলেন না। এটি আমাদের ক্রীড়া কাঠামোর একটি দুঃখজনক প্রতিফলন।'
হতাশা পাকিস্তানের হয়ে একমাত্র পদকজয়ী নারী বক্সার ফাতিমা জেহরার কণ্ঠেও। ফাতিমার দাবি, আরও ভালো প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে, তিনি তার ওজন শ্রেণীতে স্বর্ণপদক জিততে পারতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফাতিমাকে ব্রোঞ্জ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
অলিম্পিক রেকর্ডধারী জ্যাভলিন থ্রোয়ার নাদিম কমনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের পতাকা বহন করলেও সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের পতাকা ছিল ফাতিমার হাতে। ফাতিমা কমনওয়েলথ গেমসে পাকিস্তানের ইতিহাসে সর্বপ্রথম নারী পদকজয়ী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ