১২:৪০ পি.এম
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে একদিনে অন্তত ২২ জন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রাশিয়ায় ১৫ জন এবং ইউক্রেনে ১১ জনের মৃত্যুর তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হামলায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকডজন মানুষ। উভয় দেশ একে অপরের বেসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগ তুললেও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রুশ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৩ আগস্ট) ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে ক্রাসনোদার, বেলগোরোদ ও ক্রিমিয়ায়। রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ জানিয়েছেন, গেলেন্দঝিক জেলার পর্যটন এলাকা আরখিপো-ওসিপোভকায় একটি ড্রোন হামলায় তিন শিশুসহ সাতজন নিহত এবং প্রায় ৪০ জন আহত হন। একই দিনে কৃষ্ণ সাগরের উপদ্বীপ ক্রিমিয়ায় একক হামলায় নিহত হন চারজন এবং আহত হন দুজন। এছাড়া, ইউক্রেন সীমান্তঘেঁষা বেলগোরোদ অঞ্চলে ড্রোন হামলায় হত্যার শিকার হন আরও চারজন এবং আহত হন ১৭ জন।
আরও পড়ুন: বাঁশপাতার চায়ের উদ্ভাবনী ধারণায় দেশসেরা বেরোবির মাহিদ-আজিজ, পাচ্ছেন লাখ টাকার ফান্ড
অন্যদিকে, সোমবার ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের কৃভি রিহ জেলায় একটি পেট্রোল স্টেশনে রুশ বিস্ফোরকবাহী ড্রোন আঘাত হানে। এতে একজন জরুরি পরিষেবাকর্মী এবং তার আট বছর বয়সী ছেলেসহ মোট তিনজন নিহত হন। দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা টেলিগ্রামে জানান, হামলার পর পেট্রোল স্টেশনে আগুন ধরে যায় এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সোমবার রাতেই জাপোরিজ্জিয়া অঞ্চলে রুশ বাহিনীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে দুই শিশুসহ আরও আটজন নিহত হয়েছেন।
২০২২ সালে যুদ্ধের শুরুর দিকে বেসামরিক প্রাণহানি তুলনামূলকভাবে কম ছিল; তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। যদিও মস্কো ও কিয়েভ দুই পক্ষই দাবি করে থাকে যে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। এদিকে, একটি পৃথক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের বিলিই কোলোদিয়াজ ও উস্পেনিভকা নামে দুটি বসতি রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার এবং ২০১৫ সালের মিনস্ক চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর, ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। আড়াই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন