বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০২:০২ পি.এম
চলমান আন্দোলনকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনের জন্য নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানী ঢাকার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের স্মরণে ৩৬ দিনের কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে এগারো দলীয় জোট। এই কর্মসূচিগুলোর প্রধান দাবি হলো, জুলাই নির্ভর গণ-অভ্যুত্থানের প্রতি জনসচেতনতা তৈরি করা, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনমত তৈরি করা এবং বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত গুম-খুনের বিচার নিশ্চিত করা।
এছাড়া, এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ১ থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত সকল জেলা ও মহানগরে সেমিনারের আয়োজন করা। ২৩, ২৪, ২৫ জুলাই চিত্র প্রদর্শনী এবং গ্রাফিতি অঙ্কন করা হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্মৃতিচারণমূলক সমাবেশ সহ ৫ আগস্ট সারাদেশের সকল জেলা, উপজেলা এবং মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেস জনবল নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আগ্রহী ব্যক্তিরা আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
পদের নাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে: ল্যাব অ্যাসিসট্যান্ট। তবে পদসংখ্যা নির্ধারিত নয়।
শিক্ষাগত যোগ্যতার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে: এসএসসিতে বিজ্ঞান অথবা ফুড টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা করা।
অন্যান্য যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা থাকা। এই পদের জন্য অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই।
দায়িত্ব ও কাজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত: খামারিদের নিকট থেকে দুধের নমুনা গ্রহণ করে পরীক্ষা করা, গুনগত মান নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দুধ ওজন ও সংগ্রহ করা, দুধের ক্যান, মিল্ক ট্যাংক ও চিলিং সেন্টার পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখা, চিলিং সেন্টারের প্রয়োজনীয় রেজিস্টার মেইন্টেন করা, জেনারেটর চালানো, বন্ধ ও পরিস্কার করা, রাত্রিকালীন চিলিং সেন্টারের নিরাপত্তা প্রদান করা এবং অন্যান্য অর্পিত দায়িত্ব পালন করা।
চাকরির ধরন: ফুলটাইম উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মক্ষেত্র হবে ল্যাবে। প্রার্থীর ধরন হিসেবে নারী-পুরুষ (উভয়) বিবেচিত হবে। বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
কর্মস্থল থাকবে: রংপুর, বগুড়া, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাইদহ, পাবনা, কুষ্টিয়া ও সিরাজগঞ্জ।
বেতন হচ্ছে: মাসিক সর্বমোট ১৪,৪৪৫ টাকা। অন্যান্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে: স্বাস্থ্য ও জীবন বীমা, উৎসব ভাতা, আনুতোষিক, প্রদায়ক ভবিষ্যনিধি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।
আবেদনের নিয়মাবলী: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করার সুবিধা পাবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে দুই মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে মা শাহিনুর বেগম (৩৮), বড় মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯) রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত মেজো মেয়ে কলেজছাত্রী ইকরা আক্তারকে (১৭) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অজ্ঞাত এক যুবককে জনতার দ্বারা পিটুনি দেওয়া হয়েছে। তাকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলে পুলিশে ৬-৭ জন সদস্য আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার ভাড়া বাসায় ঘটনাটি ঘটে।
তবে কী কারণে ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা বলতে পারেনি কেউ।
নিহতদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তারা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ঘটনাস্থলে ভাড়া থাকেন। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং আহত ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন। কয়েক বছর আগে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর তিনি ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করে আসছেন। সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ঘাতক যুবককে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম জানিয়েছেন, হাসপাতালে ৫ জনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। তাদের এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের সবার শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত একজনকে গণপিটুনির মাধ্যমে আহত করা হয়েছে। তার মাথায় ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ জানান, ৩ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত যুবককে জনতা গণপিটুনি দিয়েছে। তাকেও সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিত জনতা ইটপাটকেল ছুড়ে আক্রমণ করে, যার ফলে আমাদের ৬-৭ জন সদস্য আহত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এক বছরে বিভিন্ন সেবা খাতে মোট ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে। এই তথ্যটি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালবেলায় রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত টিআইবি কার্যালয়ে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ নামে একটি জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়েছে।
এতে টিআইবি জানাচ্ছে, এই জরিপের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের দুর্নীতির অবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নমুনাকাঠামো ব্যবহার করে দেশের আটটি বিভাগের গ্রাম ও শহরের অঞ্চল থেকে দুই ধাপে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ১ হাজার ১৪৯টি এলাকা নির্বাচন করে এই জরিপটি সম্পন্ন করেছে টিআইবি। জরিপে মোট ১৮টি সেবা খাতের অবস্থা প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালে টিআইবি এই জরিপ পরিচালনা করেছিল। বর্তমান জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মতো ২০২৫ সালেও পাসপোর্ট (৭৬.৬ শতাংশ) এবং বিআরটিএ (৬৩.৫ শতাংশ) থেকে সেবা নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষের ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি, ভূমি ও বিচার সংক্রান্ত সেবার ক্ষেত্রেও ঘুষের পরিমাণ বেশি দেখা যাচ্ছে।
সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। গত বছরে গড় ঘুষের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১২৪ টাকা।
এই জরিপে অংশ নেওয়া ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন, ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং বিচারিক সেবায় ঘুষ ও দুর্নীতির উচ্চতর হার মানুষের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে একটি বড় বাধা সৃষ্টি করছে। এছাড়া, কৃষি, স্থানীয় সরকার, ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পাসপোর্ট এবং বিআরটিএ খাতেও দুর্নীতির প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে বা আগের মতোই রয়েছে।
দুর্নীতির শিকার হলেও ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবারের সদস্যরা কোনোরকম অভিযোগ করেননি। তাদের মতে, পুরো ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত। আবার প্রায় অর্ধেক পরিবারেরই জানা নেই, তারা কীভাবে এবং কোথায় দুর্নীতির অভিযোগ জানাবে।
দুদক সম্পর্কে ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সরকারি অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস) সম্পর্কে মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার অবগত থাকলেও অভিযোগ করার হার খুবই কম। অভিযোগ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হয়নি বা কোনো ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়নি।
জরিপে অংশগ্রহণকারীরা মনে করছেন, দুর্নীতির পেছনে প্রধান কারণ হচ্ছে বিচারহীনতা, সচেতনতার অভাব এবং দুর্নীতিতে জড়িতদের শাস্তির পরিবর্তে সুবিধা পাওয়া।
জরিপে আরও দেখা গেছে, গ্রামীণ পরিবারগুলো শহরের তুলনায় বেশি ঘুষের শিকার হয়ে থাকে (৬৬ শতাংশ বনাম ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ)। কিন্তু ঘুষের পরিমাণের দিক থেকে শহরের পরিবারগুলো বেশি অর্থ দেওয়ার জন্য বাধ্য হচ্ছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তাদের আয়ের তুলনায় বেশি ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছে।
টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘নারী, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী’ ব্যক্তিদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, বিভিন্ন খাতের ডিজিটাল সেবা চালু থাকলেও তা দুর্নীতি কমাতে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের এখনও দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের উপরে নির্ভর করতে হচ্ছে, ফলে ঘুষ ও দুর্নীতির সুযোগ থেকেই যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে হাকিমপুর থানা পুলিশ। অভিযানে মাদক মামলার ওয়ারেন্ট এবং সিআর (কোর্ট) মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত মোট তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় থানা পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মাদক সংক্রান্ত মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত এবং সিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক জারি করা ওয়ারেন্ট কার্যকর করার লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হাকিমপুর থানা পুলিশ জানায়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক নির্মূল এবং আদালতের ওয়ারেন্ট বাস্তবায়নে তাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে বলেও জানানো হয়।
এদিকে পুলিশের এমন অভিযানে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অপরাধী ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার জন্য স্থানীয়রা পুলিশ প্রশাসনের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ