প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এক বছরে বিভিন্ন সেবা খাতে মোট ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে। এই তথ্যটি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালবেলায় রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত টিআইবি কার্যালয়ে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ নামে একটি জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়েছে।
এতে টিআইবি জানাচ্ছে, এই জরিপের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের দুর্নীতির অবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নমুনাকাঠামো ব্যবহার করে দেশের আটটি বিভাগের গ্রাম ও শহরের অঞ্চল থেকে দুই ধাপে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ১ হাজার ১৪৯টি এলাকা নির্বাচন করে এই জরিপটি সম্পন্ন করেছে টিআইবি। জরিপে মোট ১৮টি সেবা খাতের অবস্থা প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালে টিআইবি এই জরিপ পরিচালনা করেছিল। বর্তমান জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মতো ২০২৫ সালেও পাসপোর্ট (৭৬.৬ শতাংশ) এবং বিআরটিএ (৬৩.৫ শতাংশ) থেকে সেবা নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষের ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি, ভূমি ও বিচার সংক্রান্ত সেবার ক্ষেত্রেও ঘুষের পরিমাণ বেশি দেখা যাচ্ছে।
সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। গত বছরে গড় ঘুষের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১২৪ টাকা।
এই জরিপে অংশ নেওয়া ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন, ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং বিচারিক সেবায় ঘুষ ও দুর্নীতির উচ্চতর হার মানুষের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে একটি বড় বাধা সৃষ্টি করছে। এছাড়া, কৃষি, স্থানীয় সরকার, ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পাসপোর্ট এবং বিআরটিএ খাতেও দুর্নীতির প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে বা আগের মতোই রয়েছে।
দুর্নীতির শিকার হলেও ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবারের সদস্যরা কোনোরকম অভিযোগ করেননি। তাদের মতে, পুরো ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত। আবার প্রায় অর্ধেক পরিবারেরই জানা নেই, তারা কীভাবে এবং কোথায় দুর্নীতির অভিযোগ জানাবে।
দুদক সম্পর্কে ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সরকারি অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস) সম্পর্কে মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার অবগত থাকলেও অভিযোগ করার হার খুবই কম। অভিযোগ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হয়নি বা কোনো ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়নি।
জরিপে অংশগ্রহণকারীরা মনে করছেন, দুর্নীতির পেছনে প্রধান কারণ হচ্ছে বিচারহীনতা, সচেতনতার অভাব এবং দুর্নীতিতে জড়িতদের শাস্তির পরিবর্তে সুবিধা পাওয়া।
জরিপে আরও দেখা গেছে, গ্রামীণ পরিবারগুলো শহরের তুলনায় বেশি ঘুষের শিকার হয়ে থাকে (৬৬ শতাংশ বনাম ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ)। কিন্তু ঘুষের পরিমাণের দিক থেকে শহরের পরিবারগুলো বেশি অর্থ দেওয়ার জন্য বাধ্য হচ্ছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তাদের আয়ের তুলনায় বেশি ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছে।
টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘নারী, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী’ ব্যক্তিদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, বিভিন্ন খাতের ডিজিটাল সেবা চালু থাকলেও তা দুর্নীতি কমাতে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের এখনও দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের উপরে নির্ভর করতে হচ্ছে, ফলে ঘুষ ও দুর্নীতির সুযোগ থেকেই যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন