ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাদারীপুরে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা


মাদারীপুরে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

মাদারীপুর সদর উপজেলায় ঘরে ঢুকে আইভী আক্তার (১৮) নামে এক তরুণীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার কালিকাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আইভী একই এলাকার আসলাম শরীফের মেয়ে এবং শরীয়তপুর শহরের বাসিন্দা কাতারপ্রবাসী মো. ফেরদৌসের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে ছোটবেলা থেকেই চাচা কালাম শরীফের বাড়িতে থাকতেন আইভী। প্রায় এক বছর আগে পরিবারের অসম্মতিতে শরীয়তপুর শহরের বাসিন্দা কাতারপ্রবাসী মো. ফেরদৌসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। সম্প্রতি ফেরদৌস কাতারে চলে যাওয়ায় আইভী স্বামীর বাড়ি থেকে চাচার বাড়িতে বেড়াতে আসেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আইভীর চাচা কালাম শরীফ নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যান। তাঁর স্ত্রীও চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য মাদারীপুর শহরে ছিলেন। এ সময় বাড়িতে আইভী একাই ছিলেন। পরে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ সময় ঘরে থাকা একটি আইফোনও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ

রাত ৮টার দিকে কালাম শরীফ বাড়িতে ফিরে আইভীর ঘর থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে ভেতরে গিয়ে মেঝেতে তাঁর রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের চাচা কালাম শরীফ বলেন, “আমার স্ত্রী চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। আমি নামাজ পড়তে যাওয়ার আগে বাড়ির প্রধান গেট বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে যাই। ফিরে এসে দেখি গেট ভেতর থেকে তালাবদ্ধ। পরে কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের ভেতরে গিয়ে ভাতিজির রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পাই। কারা তাকে হত্যা করেছে, তা জানি না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সুযোগ বুঝে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে আইভীর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চুরির উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে কি না, কিংবা ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ বা অন্য কোনো বিষয় এর পেছনে রয়েছে কি না—সব দিকই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “নিহত আইভীর মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। চুরি, ব্যক্তিগত বিরোধসহ সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”

আরও পড়ুন: বেগম খালেদা জিয়ার নামে সিলেটের পুরানো কারাগারে জায়গায় পার্ক নির্মাণ হচ্ছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে বিশেষ অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেফতার ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২১ পি.এম


কাউখালীতে বিশেষ অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেফতার ৩

 

পিরোজপুরের কাউখালী থানা-পুলিশের পৃথক অভিযানে দেড় বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ও জরিমানা প্রাপ্ত পলাতক আসামিসহ জিআর পরোয়ানাভুক্ত ২ জনসহ ৮০ গ্রাম গাঁজাসহ নিয়মিত মামলার এজাহারনামীয় এক জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে কাউখালী থানা-পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাউখালী থানার এসআই (নিঃ) দীপক বালার নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স উপজেলার শিয়ালকাঠী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জিআর মামলার এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা প্রাপ্ত পলাতক আসামি রাহাত হোসেনকে গ্রেফতার করেন।
আরেক অভিযানে এএসআই (নিঃ) খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে অপর একটি দল চিরাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিআর মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি সাগর চৌধুরীকে গ্রেফতার করে ।
একই রাতে এসআই (নিঃ) রহমত উল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশ দল বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে কাউখালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এজাহারনামীয় আসামি মোঃ মিজানুর রহমান হাওলাদারক (৫২)কে ৮০ গ্রাম গাঁজাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতদের বিষয়ে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উপজেলার মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাউখালী থানা-পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। গত রাতে পরিচালিত পৃথক অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামি এবং ৮০ গ্রাম গাঁজাসহ এক নিয়মিত মামলার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসিদের লিগে খারাপ খেললেও কোনো দল কেন বাদ পড়ে না?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২২ পি.এম


মেসিদের লিগে খারাপ খেললেও কোনো দল কেন বাদ পড়ে না?

মেসিদের লিগে খারাপ খেললেও কোন দল কেন বাদ পড়ে না?

 

ফুটবল লিগগুলোতে প্রমোশন ও রেলিগেশন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) এ বিষয়টি অনুপস্থিত। এমএলএসের নতুন কমিশনার ল্যারি বার্গ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, অদূর ভবিষ্যতে প্রমোশন-রেলিগেশন চালু করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

 

এমএলএসে প্রমোশন ও রেলিগেশন না থাকার পেছনে বেশ কিছু কারণ বিদ্যমান। এমএলএসের কাঠামো অন্যান্য লিগের তুলনায় ভিন্ন। এখানে সকল ক্লাব এবং খেলোয়াড়দের চুক্তি কেন্দ্রীয় লিগ কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকে। ক্লাব মালিকরা মূলত লিগের শেয়ারহোল্ডার এবং ইনভেস্টর/অপারেটর হিসেবে কাজ করেন।

 

নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ, বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ সুবিধা গড়ে তোলা এবং মেগা স্টার খেলোয়াড়দের দলে টানতে মালিকদের বিশাল অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়। রেলিগেশন বা অবনমনের ভয় থাকলে নতুন বিনিয়োগকারীরা এত অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহী হতেন না।

ল্যারি বার্গের মতে, রেলিগেশন না থাকলেও মৌসুম ও প্লে-অফের কঠিন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বজায় রাখা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রে ‘ইউএসএল চ্যাম্পিয়নশিপ’ নামে একটি দ্বিতীয় স্তরের লিগ রয়েছে, তবে এমএলএসের সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক বা সাংগঠনিক কোনো সম্পর্ক নেই।

এ কারণে এক লিগ থেকে অন্য লিগে ওঠা-নামার কাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি।

উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৯৬ সালে মাত্র ১০টি দলের সঙ্গে যাত্রা শুরু করা এমএলএস বর্তমানে ৩০টি দলে পরিণত হয়েছে। ইউরোপের মতো সরাসরি রেলিগেশন না এনে ভবিষ্যতে লিগটি নিজেদের মধ্যে ‘এমএলএস ১’ ও ‘এমএলএস ২’ নামে দুটি বিভাগ চালুর পরিকল্পনা করতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্ট্রেলিয়ায় ডেপুটি মেয়র হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এলিজা রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৩০ পি.এম


অস্ট্রেলিয়ায় ডেপুটি মেয়র হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এলিজা রহমান

আরেকজন বাংলাদেশি, এলিজা আজাদ রহমান, অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সিডনির ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর ফলে, অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি নারী ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হলেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ক্যামডেন সিটি কাউন্সিলকক্ষে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে এলিজা আজাদ ডেপুটি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন।

এলিজা আজাদ তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, "দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এই দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা ও কাজের পরিধি আরও বাড়ল।"

 

 

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এলিজা আজাদের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আজাদুল ইসলামের কন্যা।

দুই দশকেরও বেশি সময় আগে এলিজা আজাদ শিক্ষার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। পরবর্তীতে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি ক্যামডেন কাউন্সিলের নর্থ ওয়ার্ড থেকে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

এলিজা আজাদ বলেন, "একজন বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে অবস্থান তৈরি করা সহজ ছিল না।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নারীরা রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বে আরও এগিয়ে আসুক।

এলিজা আজাদ তার যাত্রায় স্বামী ও সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, "তা ছাড়া বাংলাদেশি ও স্থানীয় বহু সাংস্কৃতিক কমিউনিটির সমর্থন আমি পেয়েছি। তারা আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।"

সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটি এলিজা আজাদ ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত। সিডনির ডেনহ্যাম কোর্টের বাসিন্দা বোরহান খান লিমন বলেন, "এলিজা আজাদ দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করছেন। স্থানীয় সরকারে তার এই অবস্থান প্রবাসী বাংলাদেশিদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে, সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করছি।"

এর আগে, বাংলাদেশি সুমন সাহা সিডনির কাম্বারল্যান্ড সিটি কাউন্সিল ও মাসুদ খলিল ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে আরেক বাংলাদেশি মাসুদ চৌধুরী ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুশিয়ারা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৩২ পি.এম


কুশিয়ারা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছেই

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর চর থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার কার্যক্রম থামছে না। প্রশাসনের কাছ থেকে ৩০ লাখ ঘনফুট বালু তোলার অনুমতি নিয়ে অন্তত তিন কোটি ঘনফুট বালু তোলার অভিযোগ উঠেছে ‘মা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। বর্তমানে বালু তোলার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির একজন অংশীদার দাবিদার কাজী নজরুল ইসলাম বাবুল। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে অতিরিক্ত বালু তোলা হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সাউথ এশিয়ান সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (এসএএসইসি)-এর আওতায় ঢাকা-সিলেট ছয়লেন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রেলওয়ে ফার্স্ট গ্রুপ কম্পানি লিমিটেড’-কে মাটি বা বালু সরবরাহের চুক্তি দেখিয়ে মা এন্টারপ্রাইজ বালু তোলার অনুমতি নেয়।

 

ভূমি মন্ত্রণালয় ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে অলইতলী এলাকার কুশিয়ারা নদী থেকে ৩০ লাখ ঘনফুট বালু মেশানো মাটি তোলার অনুমতি নেওয়া হয়। গত ৪ জুন ড্রেজার ও বাল্কহেড ব্যবহার করে বালু তোলার কার্যক্রম শুরু হয়।

অভিযোগের বিস্তারিত অনুযায়ী, মা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মতিউর রহমান এবং তার সহযোগী লুৎফর রহমান প্রতিষ্ঠানটির অংশীদারদের সঙ্গে প্রতারণা করে সরকারি প্রকল্পের জন্য বালু সরবরাহ না করে তা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করছেন। ফলে সরকার কাছ থেকে ৩০ লাখ ঘনফুট বালু তোলার অনুমতি নেওয়া হলেও সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের কুশিয়ারা নদীর অন্তত ১৫টি স্পট থেকে তিন কোটি ঘনফুট বালু তোলা হয়েছে।

 

মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবুও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯০ হাজার থেকে এক লাখ ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। সরকারের নির্ধারিত ৩০ লাখ ঘনফুটের জায়গায় মাত্র দুই মাসে প্রায় ৫০ লাখ ঘনফুটের বেশি বালু তোলা হয়েছে।

এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বালু তোলার পর তা নির্ধারিত মাঠে স্তূপ না করে বড় বড় বাল্কহেড (১০ হাজার থেকে ১৭ হাজার ঘনফুট ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন) ব্যবহার করে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের অন্তত ১৫টি স্থানে পাঠানো হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ বিগত তিন বছরে বিভিন্ন বালু মহাল আইনে জেলায় অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে।

 

আইন ও নীতিমালার তোয়াক্কা না করে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নাম ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ বালু তুলে তা বিক্রি করে পরিবেশ ও সরকারি রাজস্বের ক্ষতি করা হচ্ছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন বিভিন্ন স্পটে গিয়ে দেখা যায়, বালু তোলার পর তা নবীগঞ্জ উপজেলার কসবা পারকুলের ছয়টি মাঠ, ওসমানীনগর উপজেলার তিনটি, জগন্নাথপুর উপজেলার তিনটি, মৌলভীবাজারের তিনটি মাঠসহ অন্তত ১৫টি মাঠে এ পর্যন্ত ৩০ লাখ ঘনফুটের কয়েক গুণ বেশি বালু বিক্রি করা হয়েছে।

অভিযোগকারী কাজী নজরুল ইসলাম বাবুলের বক্তব্য, ‘সরকারি রাজস্ব রক্ষা এবং এলাকার পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মতিউর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে তার দুইটি মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিক কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি। তবে মতিউর রহমানের সহযোগী লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমি নবীগঞ্জের কসবা মাঠে মতিউর রহমানকে টাকা দিয়ে বালু উত্তোলন তুলি।’

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন জানান, অবৈধভাবে বালু তোলার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখছি। অবৈধভাবে বালু তোলা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%