প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর চর থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার কার্যক্রম থামছে না। প্রশাসনের কাছ থেকে ৩০ লাখ ঘনফুট বালু তোলার অনুমতি নিয়ে অন্তত তিন কোটি ঘনফুট বালু তোলার অভিযোগ উঠেছে ‘মা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। বর্তমানে বালু তোলার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির একজন অংশীদার দাবিদার কাজী নজরুল ইসলাম বাবুল। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে অতিরিক্ত বালু তোলা হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সাউথ এশিয়ান সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (এসএএসইসি)-এর আওতায় ঢাকা-সিলেট ছয়লেন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রেলওয়ে ফার্স্ট গ্রুপ কম্পানি লিমিটেড’-কে মাটি বা বালু সরবরাহের চুক্তি দেখিয়ে মা এন্টারপ্রাইজ বালু তোলার অনুমতি নেয়।
ভূমি মন্ত্রণালয় ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে অলইতলী এলাকার কুশিয়ারা নদী থেকে ৩০ লাখ ঘনফুট বালু মেশানো মাটি তোলার অনুমতি নেওয়া হয়। গত ৪ জুন ড্রেজার ও বাল্কহেড ব্যবহার করে বালু তোলার কার্যক্রম শুরু হয়।
অভিযোগের বিস্তারিত অনুযায়ী, মা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মতিউর রহমান এবং তার সহযোগী লুৎফর রহমান প্রতিষ্ঠানটির অংশীদারদের সঙ্গে প্রতারণা করে সরকারি প্রকল্পের জন্য বালু সরবরাহ না করে তা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করছেন। ফলে সরকার কাছ থেকে ৩০ লাখ ঘনফুট বালু তোলার অনুমতি নেওয়া হলেও সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের কুশিয়ারা নদীর অন্তত ১৫টি স্পট থেকে তিন কোটি ঘনফুট বালু তোলা হয়েছে।
মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবুও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯০ হাজার থেকে এক লাখ ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। সরকারের নির্ধারিত ৩০ লাখ ঘনফুটের জায়গায় মাত্র দুই মাসে প্রায় ৫০ লাখ ঘনফুটের বেশি বালু তোলা হয়েছে।
এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বালু তোলার পর তা নির্ধারিত মাঠে স্তূপ না করে বড় বড় বাল্কহেড (১০ হাজার থেকে ১৭ হাজার ঘনফুট ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন) ব্যবহার করে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের অন্তত ১৫টি স্থানে পাঠানো হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ বিগত তিন বছরে বিভিন্ন বালু মহাল আইনে জেলায় অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে।
আইন ও নীতিমালার তোয়াক্কা না করে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নাম ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ বালু তুলে তা বিক্রি করে পরিবেশ ও সরকারি রাজস্বের ক্ষতি করা হচ্ছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন বিভিন্ন স্পটে গিয়ে দেখা যায়, বালু তোলার পর তা নবীগঞ্জ উপজেলার কসবা পারকুলের ছয়টি মাঠ, ওসমানীনগর উপজেলার তিনটি, জগন্নাথপুর উপজেলার তিনটি, মৌলভীবাজারের তিনটি মাঠসহ অন্তত ১৫টি মাঠে এ পর্যন্ত ৩০ লাখ ঘনফুটের কয়েক গুণ বেশি বালু বিক্রি করা হয়েছে।
অভিযোগকারী কাজী নজরুল ইসলাম বাবুলের বক্তব্য, ‘সরকারি রাজস্ব রক্ষা এবং এলাকার পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মতিউর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে তার দুইটি মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিক কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি। তবে মতিউর রহমানের সহযোগী লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমি নবীগঞ্জের কসবা মাঠে মতিউর রহমানকে টাকা দিয়ে বালু উত্তোলন তুলি।’
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন জানান, অবৈধভাবে বালু তোলার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখছি। অবৈধভাবে বালু তোলা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন