প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুর সদর উপজেলায় ঘরে ঢুকে আইভী আক্তার (১৮) নামে এক তরুণীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার কালিকাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আইভী একই এলাকার আসলাম শরীফের মেয়ে এবং শরীয়তপুর শহরের বাসিন্দা কাতারপ্রবাসী মো. ফেরদৌসের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে ছোটবেলা থেকেই চাচা কালাম শরীফের বাড়িতে থাকতেন আইভী। প্রায় এক বছর আগে পরিবারের অসম্মতিতে শরীয়তপুর শহরের বাসিন্দা কাতারপ্রবাসী মো. ফেরদৌসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। সম্প্রতি ফেরদৌস কাতারে চলে যাওয়ায় আইভী স্বামীর বাড়ি থেকে চাচার বাড়িতে বেড়াতে আসেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আইভীর চাচা কালাম শরীফ নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যান। তাঁর স্ত্রীও চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য মাদারীপুর শহরে ছিলেন। এ সময় বাড়িতে আইভী একাই ছিলেন। পরে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ সময় ঘরে থাকা একটি আইফোনও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রাত ৮টার দিকে কালাম শরীফ বাড়িতে ফিরে আইভীর ঘর থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে ভেতরে গিয়ে মেঝেতে তাঁর রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের চাচা কালাম শরীফ বলেন, “আমার স্ত্রী চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। আমি নামাজ পড়তে যাওয়ার আগে বাড়ির প্রধান গেট বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে যাই। ফিরে এসে দেখি গেট ভেতর থেকে তালাবদ্ধ। পরে কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের ভেতরে গিয়ে ভাতিজির রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পাই। কারা তাকে হত্যা করেছে, তা জানি না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সুযোগ বুঝে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে আইভীর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চুরির উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে কি না, কিংবা ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ বা অন্য কোনো বিষয় এর পেছনে রয়েছে কি না—সব দিকই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “নিহত আইভীর মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। চুরি, ব্যক্তিগত বিরোধসহ সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন