০৭:০৪ এম
সুন্নাতে রসুল পালন করার মাধ্যমে আমাদের জন্য হেদায়েত ও মুক্তি নিহিত রয়েছে। প্রিয় নবী (সা.) যেভাবে একটি কাজ সম্পন্ন করেছেন, আমাদেরও সেই কাজ সেইভাবে করতে হবে। রসুল (সা.) যেভাবে নামাজ পড়েছেন, সেভাবেই আমাদের নামাজ পড়তে হবে। তদ্রুপ, প্রিয় নবী (সা.) যেভাবে খাওয়াদাওয়া করেছেন, আমাদেরও সেভাবে খাওয়াদাওয়া করতে হবে।
পবিত্র কোরআনের সুরা আলে ইমরানের ৩১ নম্বর আয়াতে আল্লাহপাক বলেছেন, ‘হে নবী, আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর। তাহলে মহান আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের জীবনের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। আল্লাহ অতিশয় দয়ালু মেহেরবান।’ এই আয়াতটির মূল বক্তব্য হলো, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভালোবাসতে চায়, সে যেন প্রিয় নবী (সা.)-এর অনুসরণ করে। আর যিনি রসুল (সা.)-এর অনুসরণ করবেন, আল্লাহ তাকে দুটি পুরস্কার দেবেন। কিন্তু এই দুটি পুরস্কার এত বেশি মূল্যবান যে এর চেয়ে মূল্যবান আর কিছু নেই।
পুরস্কার দুটির মধ্যে প্রথমটি হলো, সৃষ্টির কর্তা আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসবেন। দ্বিতীয়টি হলো, আল্লাহ আপনার জীবনে সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। যদি কেউ এই দুটি পুরস্কার পেতে পারে, তাহলে তার জীবনের আর কোনো পুরস্কারের প্রয়োজন থাকবে না। এই দুটি পুরস্কার প্রিয় নবী (সা.)-এর সুন্নত পালন করলে পাওয়া যাবে। এবার বোঝা গেল, আল্লাহর ভালোবাসার মানদণ্ড হলো রসুলের সুন্নত পালন করা, এবং যার মধ্যে যত বেশি রসুলের সুন্নত থাকবে, সে তত বেশি আল্লাহর ভালোবাসা পাবে। একইসাথে এটাও নিশ্চিত হলো যে নবী (সা.)-এর সুন্নত পালন করা গেলে সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জিত হবে। আল্লাহপাকের ভালোবাসা একটি জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।
আরও পড়ুন: প্রাণীর প্রতি দয়া আল্লাহর রহমত লাভের উপায়
হাদিসের মাধ্যমে সুন্নতে রসুলের অনুসরণের প্রতি ব্যাপকভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হজরত ইরবাজ ইবনে সারিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, একবার রসুল (সা.) আমাদের নিয়ে নামাজ পড়লেন। এরপর তিনি আমাদের দিকে মনোনিবেশ করে এমন একটি হৃদয়স্পর্শী আলোচনা করলেন, যা আমাদের অশ্রু গড়িয়ে পড়তে বাধ্য করেছিল এবং আমাদের অন্তর ভয়ে কম্পমান হয়ে গিয়েছিল। এই অবস্থায় এক ব্যক্তি বললেন, ইয়া রসুলুল্লাহ! এটা যেন বিদায় দানকারীর উপদেশ। অতএব আমাদের আরও কিছু অসিয়ত করুন। তিনি তখন বললেন, ‘আমি তোমাদের তাকওয়া অবলম্বন এবং আমিরের আনুগত্যের অসিয়ত করছি, এমনকি আমির যদি এক হাবশি ক্রীতদাসও হয়। মনে রেখো! আমার পরে যারা বেঁচে থাকবে, তারা অনেক মতবিরোধ দেখবে। অতএব তোমরা আমার এবং আমার পরবর্তী খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নতকে অবলম্বন করতে থাকবে, যারা হেদায়াতের পথ অনুসরণ করতে থাকবে। প্রিয় নবীর সুন্নত পালনের মধ্যে রয়েছে মুক্তি। তোমরা এই সুন্নত ও আদর্শকে ধারণ করবে এবং মজবুতভাবে তা পালন করবে। ইসলাম ধর্মে নতুন উদ্ভাবিত যেকোনো মতাদর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ, প্রতিটি নতুন মতাদর্শই বিদআত, এবং প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতার কারণ। মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ।
এ এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, সব সময় বিদআত থেকে দূরে থাকতে হবে। ইসলাম ধর্মের নামে নতুন কিছু সমাজে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বললেই বিদআত। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত অপর এক হাদিসে তিনি বলেন, রসুল (সা.) আমাকে নির্দেশ করেছেন, হে বৎস! তুমি যদি সকাল-সন্ধ্যা এভাবে থাকতে পার যে, তোমার অন্তরে কারও প্রতি হিংসা ও অকল্যাণ চিন্তা নেই, তাহলে তাই করো। এরপর তিনি বললেন, এটা হচ্ছে আমার সুন্নত ও নীতি। আর যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে ভালোবাসে, সে আমাকেই ভালোবাসে। আর যে আমাকে ভালোবাসলো, সে জান্নাতে আমার সঙ্গেই থাকবে। তিরমিজি। আরেকটি হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, প্রিয় নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ফেতনা-ফাসাদের জমানায় আমার সুন্নতকে আঁকড়ে ধরবে, তার জন্য রয়েছে ১০০ শহীদের সওয়াব। অর্থাৎ যে ব্যক্তি শেষ জমানায় নিজের জীবনকে সুন্নত অনুযায়ী সাজাবে এবং সকাল থেকে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা থেকে সকাল সব কাজ প্রিয় নবীর (সা.) পদ্ধতি অনুযায়ী করবে, আল্লাহ তাকে ১০০ শহীদের সওয়াব দেবেন। এই শেষ জমানায় সুন্নতের প্রতি অটল থাকলে এত বড় পুরস্কারের কারণ হলো যে তখন এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে যেখানকার মানুষ নবীর (সা.) সুন্নতের প্রতি ব্যাপক অবহেলা করবে। সমাজে সুন্নত পালনকারীর প্রতি বিদ্রূপ করা হবে এবং তাকে নিয়ে হাসাহাসি করা হবে। এমন কঠিন সময়ে সুন্নত পালন করলে এত বড় পুরস্কার পাওয়া যাবে।
♦ লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা
আরও পড়ুন: অন্যের গোপন তথ্য ফাঁসের শাস্তি দেবেন আল্লাহ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন