প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সম্মাননীয় ফেলো, সিপিডি বলছেন, ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি করলেও লাভ এবং রপ্তানি করলেও লাভ। তাই ভারতীয় বাণিজ্যের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখা উচিত।
গতকাল বিকালে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে সেলফোনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেন। বিগত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশের জন্য ভারতের রপ্তানি ১৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বিভিন্ন বাধার মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিনে এসব বিষয়ে সিপিডির সম্মাননীয় এই ফেলো বলেন, ২০২১ সালের দিকে বিভিন্ন কারণে আমদানী পণ্যের দাম বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আমদানি ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ওই সময় ভারত যে ১৬ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য করেছে বাংলাদেশে, তা মূলত ‘প্রাইস ইফেক্ট’ এর জন্য। এই ‘প্রাইস ইফেক্ট’ বাদ দিলে বাংলাদেশে ভারতের বাণিজ্য কম হওয়ার পেছনে অন্য কিছু কারণ রয়েছে, এর মধ্যে ইম্পোর্ট ডাইভারসিফিকেশনের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। অর্থাৎ, বাংলাদেশ অন্য জায়গা থেকে আমদানি করছে।
ড. মোস্তাফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, ভালোবেসে তো কেউ আমদানি করে না। প্রতিযোগিতার বিচারে বেসরকারি খাত পণ্য আমদানির উৎস বেছে নেয়। ভারত সময় সময় বিভিন্ন পণ্যে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কখনো চাল, কখনো পিঁয়াজে। বাংলাদেশ ওইসব পণ্যের চাহিদা মেটাতে বিকল্প গন্তব্য থেকে আমদানির পথ বেছে নিয়েছে। আবার (ভারত থেকে) স্থলপথে সুতা আমদানিও বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ।
এসব কারণে ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য কিছুটা সক্ষমতা হারিয়েছে। অন্যদিকে ভারতও স্থলপথে কিছু পণ্য আমদানির পথ বন্ধ রেখেছে। এই কারণে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হ্রাস পেয়েছে।
রাজনৈতিক সংকটের কারণে বাণিজ্যে স্থবিরতার বিষয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক বলেন, ভারত থেকে আমদানি করে বেসরকারি খাত এবং রপ্তানি করে বেসরকারি খাত। দেশটি থেকে যদি প্রতিযোগিতামূলক দরে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করা যায়, তবে রপ্তানি খাতে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে পারব। ভারত থেকে আমদানির ফলশ্রুতিতে ভোক্তা কল্যাণ বৃদ্ধি পায় এবং আমদানি প্রতিস্থাপন ও রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা শক্তিশালী হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের আমদানি বাড়লে ভারতেরও বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়। এখন দুই পক্ষের মধ্যে এই লাভজনক বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে হলে উভয় পক্ষকেই এগোতে হবে। কিছু নন-ট্যারিফ বাধা রয়েছে, সেগুলো দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য যত বেশি উন্মুক্তভাবে করতে পারি, ততই লাভের।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের আলোচনা চার বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। যৌথ বাণিজ্য কমিশনের বৈঠকও হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বাণিজ্যের গতি আনতে কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এত কিছুর পরও ভারত বাংলাদেশকে শূন্য শুল্ক সুবিধা (জিরো ট্যারিফ) দিচ্ছে ২০১১ সাল থেকে। এতে বাংলাদেশ সুফল পেয়েছে। ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে ৪০ বছর লেগেছিল। জিরো ট্যারিফ সুবিধার কারণে ২০১৭ সালে ১ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য পরবর্তী ৫ বছরে, ২০২২ সালে সেটি দ্বিগুণ বেড়ে ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই সুবিধা কীভাবে আরও কাজে লাগানো যায়, সে দিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত। এর পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের এলডিসি সুবিধা নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যে ভোটাভুটি হবে, সেখানে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশ ভোট দেবে। আমাদের প্রয়োজনেই এই দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। ভারতে আমরা যে শূন্য শুল্ক পাচ্ছি সেই সুবিধা আরও সম্প্রসারণ করতে অর্থাৎ এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তীতে শূন্যমূল্য সুবিধা সম্প্রসারণের আলোচনা ভারতের সঙ্গে শুরু করতে পারি। যেমনটি আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও চীনের সঙ্গে করেছি। মর্যাদার ভিত্তিতে, উইন-উইন সিচুয়েশন থেকে ভারতের সঙ্গে আলোচনা মাধ্যমে যদি আমরা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়ে যাওয়ার পথ তৈরি করতে পারি, সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক করতে পারি, সেটাও আমাদের বাণিজ্যের জন্য লাভজনক হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন