ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

উইচিটা শহরে খেলার মাঠে ট্রাক তুলে দিলেন নারী, অতঃপর নিহত ৬ বছরের শিশু ও ৩৫ বছরের ব্যক্তি


উইচিটা শহরে খেলার মাঠে ট্রাক তুলে দিলেন নারী, অতঃপর নিহত ৬ বছরের শিশু ও ৩৫ বছরের ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের উইচিটা শহরে শিশুদের ফুটবল খেলার মাঠে ট্রাক চালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ৬ বছর বয়সী এক শিশু ও ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে শহরের স্ট্রাইকার ক্রীড়া কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩৪ বছর বয়সী এক নারী ট্রাকচালককে আটক করা হয়েছে। তবে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রাকটি মাঠে তুলে দিয়েছিলেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: টিকটক ইলন মাস্কের তথ্যচিত্রের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করেছে

উইচিটা পুলিশের ক্যাপ্টেন অ্যারন মোজেস সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "তদন্তের শুরু থেকে ওই নারী সহযোগিতা করছেন।" নিহত দুজনই ম্যাকফারসন শহরের বাসিন্দা ছিলেন। তবে তাদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল না।

আহত ১০ জনের মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে, যাদের বয়স ৫ থেকে ৯ বছরের মধ্যে। বাকি পাঁচজন নারী ও পুরুষের বয়স ২৮ থেকে ৬৮ বছর। আহতদের মধ্যে কেউ সামান্য আঘাত ও কালশিটে পড়েছে, আবার কেউ গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে তাদের আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

এছাড়া ৬১ বছর বয়সী এক নারীকে আঘাতজনিত নয়, এমন শারীরিক সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার কিছু আগে জরুরি নম্বর ৯১১-এ একের পর এক ফোন আসতে শুরু করে। ফোনকারীরা জানান, স্ট্রাইকার ক্রীড়া কমপ্লেক্সে শিশুদের ফুটবল খেলার মাঠে একটি ট্রাক উঠে পড়েছে।

আরও পড়ুন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান, ‘চলুন ফ্রান্সে বিপ্লবে যোগ দিই’

খবর পেয়ে কানসাস অঙ্গরাজ্যের মহাসড়ক পুলিশ, সেডজউইক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্য এবং পার্শ্ববর্তী বেল এয়ার শহরের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে তারা শিশু ও ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় পান। আহতদের কয়েকজনকে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাকচালক নারী তখনও গাড়ির ভেতরে ছিলেন। তার সঙ্গে গাড়িতে দুটি শিশুও ছিল। ওই নারীর এক সন্তানেরও ওই ক্রীড়া কমপ্লেক্সে খেলা ছিল, তবে দুর্ঘটনাস্থলের অন্য একটি মাঠে।

উইচিটার মেয়র লিলি উ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার জন্য তার সমবেদনা রয়েছে, বিশেষ করে শিশু ও তাদের পরিবারের প্রতি তাঁর চিন্তা ও প্রার্থনা।"

কানসাসের গভর্নর লরা কেলিও এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি জানান, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং মেয়রকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া কর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: কলকাতার দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু, শোকার্ত টালিগঞ্জ

স্ট্রাইকার ক্রীড়া কমপ্লেক্সটি উইচিটা শহরের পরিচালিত একটি ক্রীড়া স্থাপনা। সেখানে বিভিন্ন খেলার জন্য ১১টি কৃত্রিম ঘাসের মাঠ রয়েছে। দুর্ঘটনার পর আপাতত কমপ্লেক্সটির সব আয়োজন বাতিল করেছে শহর কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া কানসাস অঙ্গরাজ্যের উচ্চবিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থা তাদের নির্ধারিত পতাকা ফুটবলের রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপ স্থগিত করেছে। সপ্তাহান্তে সংস্থাটির অন্য খেলাগুলোও স্থগিত রাখা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্ত চলছে। ঘটনার কোনো ভিডিও থাকলে তা তদন্তকারীদের কাছে জমা দেওয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে উইচিটা পুলিশ বিভাগ।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের পক্ষ, হুথিদের অস্ত্রদাতারা মধ্যস্থতাকারী হতে পারে না: ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অন্যের গোপন তথ্য ফাঁসের শাস্তি দেবেন আল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ এম


অন্যের গোপন তথ্য ফাঁসের শাস্তি দেবেন আল্লাহ

ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে গোপনীয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গোপনীয়তা একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। বলা চলে, গোপনীয়তা ছাড়া কোনো মানুষই নেই। এমনকি একান্ত আপনজনের কাছেও মানুষ অনেক কিছু গোপন রাখে। আল্লাহ তায়ালা এই অধিকার মানুষকে প্রদান করেছেন। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য করা হয়।

অন্যের ব্যক্তিগত গোপন বিষয় ও দোষ খোঁজা একটি নিন্দনীয় কাজ। অকারণে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা নিয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করা গুনাহ হিসেবে বিবেচিত। অনুমতি ছাড়া কারো কথা শোনা, তথ্য ফাঁস করা এবং গোয়েন্দাগিরি করার জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভয়াবহ শাস্তির ঘোষণা করেছেন।

তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের কথা গুপ্তভাবে শুনল; অথচ তারা তা পছন্দ করছে না অথবা তারা তার অবস্থান টের পেয়ে তার থেকে দূরে পালিয়ে যাচ্ছে, কিয়ামতের দিন এ জন্য তার কানে সিসা ঢেলে দেওয়া হবে।” (বুখারি, হাদিস : ৭০৪২)

আরেকটি হাদিসে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, “হে লোকেরা, তোমরা যারা মুখে ইসলাম গ্রহণ করেছ; অথচ ঈমান তোমাদের অন্তরে ঢোকেনি, তোমরা মুসলমানদের কষ্ট দিয়ো না। তাদের দোষ অনুসন্ধান করো না। কারণ যে ব্যক্তি তার কোনো মুসলিম ভাইয়ের দোষ অনুসন্ধান করল, আল্লাহ তাআলা তার দোষ অনুসন্ধান করবেন। আর যার দোষ আল্লাহ তায়ালা অনুসন্ধান করবেন, তাকে অবশ্যই তিনি লাঞ্ছিত করে ছাড়বেন, যদিও সে নিজ ঘরের অভ্যন্তরেই অবস্থান করুক না কেন।” (তিরমিজি, হাদিস : ২০৩২)

মানুষের কল্যাণের জন্য অপরিহার্য যে, মানুষের দোষ-ত্রুটি এবং গোপন বিষয় প্রকাশ না করা হয়। আল্লাহ তাআলা অন্যের দোষ-ত্রুটি গোপনকারীর দোষ গোপন করেন এবং তাকে উভয় জগতে পুরস্কৃত করেন। মানবতার নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার দোষ ঢেকে রাখবেন।” (তিরমিজি, হাদিস : ২৯৪৫)

হজরত আলি (রা.) বর্ণনা করেন, ব্যতিব্যস্ত হয়ো না এবং কারো গোপন তথ্য ফাঁস করো না। কেননা তোমাদের পেছনে রয়েছে কেয়ামতের ভীষণ কষ্টদায়ক এবং দীর্ঘস্থায়ী বিপদসমূহ।” (আদাবুল মুফরাদ) ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, যখন তোমার সঙ্গীর দোষ চর্চা করতে ইচ্ছা করে, তখন তোমার নিজের দোষ স্মরণ করো।” (আদাবুল মুফরাদ)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হুথিদের সাথে সংঘর্ষে ৮ ইয়েমেনি সেনা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ এম


হুথিদের সাথে সংঘর্ষে ৮ ইয়েমেনি সেনা নিহত

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় লাহিজ প্রদেশে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে আটজন সরকারি সেনা নিহত হয়েছেন। একই সময়ে প্রতিবেশী তাইজ প্রদেশে হুথিদের গোলাবর্ষণে দুই নারীসহ তিনজন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) এই প্রাণহানির তথ্য দেশটির সরকারি সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে।

ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তুর আল-বাহাহ সামরিক অক্ষ একটি বিবৃতিতে জানায়, লাহিজ প্রদেশের আল-মাকাতিরাহ ফ্রন্টে আট সেনা নিহত হয়েছেন। তবে সংঘর্ষের পরিস্থিতি বা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়নি। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি হুথি বিদ্রোহীরাও।

এদিকে, শনিবার তাইজ প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের গোলাবর্ষণে তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। এই তথ্য দেশটির একটি সরকারি দপ্তর নিশ্চিত করেছে।

গত জুলাই মাস থেকে ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দেশটিতে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজমান ছিল। সাম্প্রতিক সংঘাতকে ওই সময়ের পর সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হুথিরা রাজধানী সানা ও কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করার পর থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালের মার্চ মাসে সউদী আরবের নেতৃত্বাধীন জোট দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে দেশটির নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাণীর প্রতি দয়া আল্লাহর রহমত লাভের উপায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ এম


প্রাণীর প্রতি দয়া আল্লাহর রহমত লাভের উপায়

ইসলাম একটি জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শনের পাশাপাশি আল্লাহর সৃষ্ট প্রতিটি জীবের প্রতি সদাচরণের শিক্ষা প্রদান করে। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা, অকারণে কষ্ট দেওয়া কিংবা খাদ্য ও পানির ব্যবস্থা না করে তাদের বন্দি রাখা ইসলামের নৈতিক শিক্ষার পরিপন্থী। বিপরীতে, ক্ষুধার্ত প্রাণীকে খাবার দেওয়া, তৃষ্ণার্ত প্রাণীকে পানি পান করানো এবং অসহায় জীবকে রক্ষা করা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমত লাভের মাধ্যম হতে পারে।

১. সব প্রাণীই আল্লাহর সৃষ্টি

প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শনের মূল ভিত্তি হলো এই উপলব্ধি যে, পৃথিবীর প্রতিটি জীব মহান আল্লাহর সৃষ্টি। মানুষ যেমন আল্লাহর সৃষ্টি, তেমনি পশুপাখি ও অন্যান্য প্রাণীও তাঁরই সৃষ্টি। তাদের জীবন, অস্তিত্ব ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্যে আল্লাহর অসীম কুদরতের নিদর্শন রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর পৃথিবীতে বিচরণশীল এমন কোনো প্রাণী নেই এবং ডানা দিয়ে উড়ে এমন কোনো পাখিও নেই, যারা তোমাদের মতো একেকটি সম্প্রদায় নয়।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৩৮)

তাহলে কোনো প্রাণীকে অকারণে কষ্ট দেওয়া, পাথর ছুড়ে মারা, বিনোদনের জন্য নির্যাতন করা কিংবা তার স্বাভাবিক জীবনযাপনে অন্যায়ভাবে বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়। বরং আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি মমত্ববোধ, দায়িত্বশীলতা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করা একজন মুমিনের নৈতিক দায়িত্ব।

২. প্রাণীর প্রতি দয়া আল্লাহর রহমত লাভের মাধ্যম

প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শনের প্রতিদান কত মহান হতে পারে, তা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বর্ণিত একটি ঘটনা থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এক ব্যক্তি পথ চলতে চলতে প্রচণ্ড তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়লেন। তিনি একটি কূপে নেমে পানি পান করে উঠে এলেন। তখন তিনি দেখতে পেলেন, একটি কুকুর তৃষ্ণায় হাঁপাচ্ছে এবং পিপাসার কারণে ভেজা মাটি চাটছে। লোকটি ভাবলেন, তৃষ্ণার কারণে কুকুরটিরও আমার মতো কষ্ট হচ্ছে।

অতঃপর তিনি কূপে নেমে নিজের চামড়ার মোজায় পানি ভরে তা মুখে ধরে ওপরে উঠে এলেন এবং কুকুরটিকে পানি পান করালেন। এরপর আল্লাহ তাঁর এ কাজের প্রতিদান দিলেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে দিলেন। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! পশুপাখির প্রতি দয়া প্রদর্শন করলেও কি আমাদের সওয়াব হবে?’ তিনি বললেন, ‘প্রত্যেক জীবন্ত প্রাণীর প্রতি সদয় আচরণে সওয়াব রয়েছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৩৬৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২৪৪)

একটু চিন্তা করুন, একজন মানুষ একটি তৃষ্ণার্ত প্রাণীর কষ্ট অনুভব করে তাকে পানি পান করিয়েছিলেন। তাঁর সেই কাজের বিনিময়ে আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করেছিলেন।

৩. প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা কঠিন শাস্তির কারণ হতে পারে

ইসলাম যেমন প্রাণীর প্রতি দয়ার জন্য পুরস্কারের সুসংবাদ দিয়েছে, তেমনি তাদের ওপর নিষ্ঠুরতা ও অবহেলার ব্যাপারেও কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এক নারী একটি বিড়ালকে বন্দি করে রাখার কারণে শাস্তি পেয়েছিল; সে বিড়ালটিকে বন্দি করে রেখেছিল, ফলে সেটি ক্ষুধায় মারা যায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৩৬৫)

তাহলে কোনো প্রাণীকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখলে তার খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করতে হবে। পোষা প্রাণীকে ক্ষুধার্ত রাখা, তৃষ্ণার্ত অবস্থায় ফেলে রাখা কিংবা অসুস্থতার সময় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া গুরুতর অন্যায়।

৪. আল্লাহর রহমত সৃষ্টির প্রতি দয়া প্রদর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত

ইসলামে দয়া এমন একটি মহৎ গুণ, যা মানুষের হৃদয়কে কোমল করে এবং তাকে অন্যের কষ্ট উপলব্ধি করতে শেখায়। এই দয়া শুধু আত্মীয়স্বজন, বন্ধু কিংবা পরিচিত মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি সামগ্রিক সহানুভূতিও এর অন্তর্ভুক্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দয়াশীলদের প্রতি পরম দয়াময় আল্লাহ দয়া করেন। তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি দয়া করো, আকাশের অধিপতি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ১৯২৪)

পৃথিবীর মানুষের পাশাপাশি অসহায় প্রাণীর প্রতিও দয়া প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষুধার্ত প্রাণীকে খাবার দেওয়া, আহত প্রাণীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা কিংবা বিপদে পড়া কোনো জীবকে রক্ষা করার মাধ্যমে আমরা দয়ার চর্চা করতে পারি।

৫. প্রাণীর প্রতিও সদাচরণ করতে হবে, এমনকি জবাইয়ের সময়ও

ইসলাম প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শনের শিক্ষা শুধু খাবার-পানি দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং প্রয়োজনের ক্ষেত্রে প্রাণী জবাই করার সময়ও নিষ্ঠুরতা পরিহার করার নির্দেশ দিয়েছে। হজরত শাদ্দাদ ইবন আওস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর ক্ষেত্রে সদাচরণকে বিধিবদ্ধ করেছেন। সুতরাং তোমরা যখন হত্যা করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে করবে; আর যখন জবাই করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে জবাই করবে। তোমাদের প্রত্যেকে যেন তার ছুরি ধারালো করে নেয় এবং জবাই করা প্রাণীকে কষ্ট থেকে স্বস্তি দেয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯৫৫)

ইসলাম বৈধ প্রয়োজনে প্রাণী জবাই করার অনুমতি দিলেও অকারণে কষ্ট দেওয়ার অনুমতি দেয়নি। জবাইয়ের সরঞ্জাম যথাযথভাবে প্রস্তুত করা, প্রাণীর কষ্ট কমানো এবং নিষ্ঠুরতা পরিহার করা ইসলামের নির্দেশনার অংশ।

মহান আল্লাহ আমাদের হৃদয়কে দয়ায় পরিপূর্ণ করুন, তাঁর সৃষ্টির প্রতি সদয় আচরণ করার তাওফিক দিন এবং তাঁর রহমত ও সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যমে জান্নাত নসিব করুন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্যারিসে বাংলাদেশিদের দোকানে লুটপাট, ক্ষতি ৭ লাখ ইউরো ছাড়াতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৬ এম


প্যারিসে বাংলাদেশিদের দোকানে লুটপাট, ক্ষতি ৭ লাখ ইউরো ছাড়াতে পারে

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে চলমান চরম বিক্ষোভ ও নৈরাজ্যের সুযোগ নিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফারের অন্তত আটটি বাংলাদেশি মালিকানাধীন দোকানে লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭ লাখ ইউরোর বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সংকটজনক পরিস্থিতিতে দোকান তালাবদ্ধ রেখে কিংবা ব্যক্তিগত পাহারা বসিয়েও প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে বারবার ফোন করা সত্ত্বেও পুলিশের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সহায়তা পাননি বলে দাবি করেছেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে, জিএসআর ইনফোরমেটিক, থ্রি-জি ইনফরমেটিক, প্যারিস টেলিকম, আয়মান সার্ভিস, থ্রি-ডি ইনফোরমেটিক, ফোন স্টোর, বদি টেলিকম ও রাফিদ ইলেকট্রনিক। এসব প্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন বিক্রির পাশাপাশি মানি ট্রান্সফারের সেবা দেওয়া হতো।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দোকানগুলোতে মজুত থাকা পণ্য ও নগদ অর্থ লুট করা হয়েছে। তবে আটটি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

‘উঠে দাঁড়ানোর মতো আর কোনো সম্বল নেই’

ক্ষতিগ্রস্ত রাফিদ ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী রবিউল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইউরোর পণ্যসামগ্রী দোকানে ছিল। দোকান তালাবদ্ধ থাকা অবস্থায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া সংঘবদ্ধ চক্র দোকানে লুটপাট চালায়। এখন আমার উঠে দাঁড়ানোর মতো আর কোনো সম্বল নেই।’

অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিনের দুটি প্রতিষ্ঠানে (ফোন স্টোর ও বদি টেলিকম) একযোগে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি জানান, মাত্র তিন মাস আগে চালু করা একটি শপসহ দুটি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে তার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ইউরো।

তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার দুটি দোকান ছিল। দুটি দোকানেই পুরোপুরি লুটপাট হয়ে গেছে। পুলিশকে বারবার ফোন দিয়ে উদ্ধারের জন্য অনুরোধ করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। দুটি দোকানের মধ্যে একটি মাত্র তিন মাস আগে শুরু করেছি। একটি দোকানে রিয়া মানি ট্রান্সফারের কাউন্টারে প্রায় ৩০ হাজার ইউরো নগদ ছিল। সব মিলিয়ে দুটি দোকানে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ইউরোর ক্ষতি হয়েছে।’

নতুন ব্যবসা শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই এমন ক্ষতির মুখে পড়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘বাংলাদেশি দোকানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা’

প্যারিসের সামাজিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আইসার প্রেসিডেন্ট ওবায়দুল্লাহ কয়েছের অভিযোগ, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বাংলাদেশি মালিকানাধীন মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফারের দোকানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে।

কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের নামে প্যারিসের বুকে এমন নৈরাজ্য আগে কখনো দেখা যায়নি। নৈরাজ্যের সঙ্গে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের জড়িত থাকার অভিযোগ ফ্রান্সের বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসছে। আমাদের আশঙ্কা, আজকের এই ভয়াবহ ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি আগামী দিনে ফ্রান্সের অভিবাসনবিরোধী রাজনীতিকে প্রবলভাবে শক্তিশালী করতে পারে।’

বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে একাধিক দোকানে লুটপাটের ঘটনায় প্রবাসী ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব পাহারাতেও মিলছে না নিরাপত্তা

প্যারিসের মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফার ব্যবসায়ী মুহিবুর রহমান বলেন, ‘পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বেশির ভাগ ব্যবসায়ী নিজেদের প্রতিষ্ঠান রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন। এরপরও বিভিন্ন স্থানে হামলা ঠেকানো যাচ্ছে না।’

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ, দোকান বন্ধ রেখেও যদি প্রতিষ্ঠান নিরাপদ রাখা না যায়, তাহলে তাদের বিনিয়োগ ও জীবিকা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফারের দোকানে মূল্যবান পণ্য ও নগদ অর্থ থাকায় লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণও বড় হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষের প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। শ্রমিক সংগঠন ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে মজুরি, পেনশন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে ১১০টি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। আয়োজক সংগঠনগুলোর হিসাবে এই সংখ্যা ছিল প্রায় আট লাখ। বিক্ষোভের বেশির ভাগ শান্তিপূর্ণ থাকলেও প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, সরকারি ভবনে হামলা এবং দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় প্রায় ৪০০ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় কর্তৃপক্ষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%