০৩:০৭ এম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর পারমাণবিক আলোচনা শুরুর আগে নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে তুলে ধরছে ইরান। যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হলেও দেশটির নেতারা এই সমঝোতাকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন।
যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক সমঝোতার পর ইরানের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সামরিক কর্মকর্তা এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা একে দেশের দৃঢ়তা ও প্রতিরোধ ক্ষমতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ইরান চূড়ান্ত বিজয়ের পথে একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
একই সঙ্গে সরকারের কার্যক্রম তদারককারী শক্তিশালী পরিষদের চেয়ারম্যান সাদেঘ আমোলি লারিজানি বলেন, ইরানিরা নতুন করে প্রতিরোধের চেতনা প্রদর্শন করেছে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে উৎখাতের যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: কংগ্রেসকে পরজীবী ও রাহুলকে ব্যর্থ পণ্য আখ্যা দিলেন নরেন্দ্র মোদি
তবে বাস্তবতার দিকে তাকালে, যুদ্ধের সময় ইরান তাদের বেশ কয়েকটি শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাকে হারিয়েছে। দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নৌ অবরোধের কারণে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। তবুও দেশটির নেতৃত্বের বিশ্বাস, চুক্তির শর্তাবলি যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত লক্ষ্য ‘সম্পূর্ণ বিজয়’ এবং ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ থেকে অনেক দূরে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের পর ইরানের ক্ষমতার কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। কিছু বাস্তববাদী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। এর ফলে ভবিষ্যৎ আলোচনায় ইরানের অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যও ইরানের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করছে। ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছেন এবং বর্তমান ইরানি নেতৃত্বকে তুলনামূলকভাবে ‘বাস্তববাদী’ বলে উল্লেখ করেছেন।
চুক্তি অনুযায়ী, ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, ভবিষ্যতে এই প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ফি আদায় করা হতে পারে, যা যুদ্ধের আগে প্রচলিত ছিল না।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের গোয়াদরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৩ সন্ত্রাসী
মিসৌরি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ইরান বিশেষজ্ঞ মেহরজাদ বোরুজেরদি মন্তব্য করেছেন, সাম্প্রতিক চুক্তি ইরানকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। এত বড় সামরিক ক্ষতির পরও কূটনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার এমন উদাহরণ খুব কম দেখা যায়।
জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের গবেষক হামিদরেজা আজিজি বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ভূমিকা এখন কার্যত স্বীকৃতি পাচ্ছে এবং আঞ্চলিক দেশগুলোও সংঘাতের বদলে সমঝোতার পথ খুঁজছে।
তিনি আরও জানান, ইরান আলোচনায় লেবাননের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। তেহরানের দাবি, চুক্তির আওতায় লেবাননে সংঘাত কমানোর বিষয় রয়েছে, যদিও ইসরাইল এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করছে।
এদিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল ইস্যুগুলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে কী ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ হবে তা পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে নতুন দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট
বিশ্লেষকদের মতে, আত্মবিশ্বাসী অবস্থান নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়া ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহজে ছাড় দিতে রাজি হবে না। ফলে আসন্ন পারমাণবিক আলোচনা হবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্থায়িত্ব এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের প্রকৃত পরীক্ষা।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন