ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরিশাল সদরে নীতিমালার তোয়াক্কা না করে একই পরিবারের দুই ভাইকে সার ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ


বরিশাল সদরে নীতিমালার তোয়াক্কা না করে একই পরিবারের দুই ভাইকে সার ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ

বরিশাল সদর উপজেলার ০৯ নম্বর টুংগীবাড়িয়া এবং ০৮ নম্বর চাঁদপুরা ইউনিয়নে একই পরিবারের দুই ভাইয়ের বিসিআইসি সার ডিলারশিপ লাভ করা নিয়ে স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও মিথ্যা তথ্য প্রদানের মাধ্যমে আইন ও নীতিমালা অমান্য করে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।

অভিযোগে জানা যায়, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল খন্দকারের ছোট দুই ভাই সিরাজ খন্দকার ও শাহ আলম খন্দকার পৃথক দুটি ইউনিয়নে সরকারি সার ডিলারশিপ লাভ করেছেন। প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও সরকারি নীতিমালা বহাল থাকা সত্ত্বেও একই পরিবারের দুই সদস্য কীভাবে এই সুযোগ পেলেন এবং ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক পরিচয় ভূমিকা রেখেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, খন্দকার পরিবারের মূল বাড়ি ভোলা জেলায়। বাবার চাকরি সূত্রে পরিবারটি বহুকাল আগে বরিশাল সদর উপজেলার টুংগীবাড়িয়া ইউনিয়নে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করে। সেখানে বড় ভাই বাবুল খন্দকারের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ছোট ভাই সিরাজ খন্দকার টুংগীবাড়িয়া ইউনিয়নের জন্য সরকারি সার ডিলারশিপ বাগিয়ে নেন।

আরও পড়ুন: বেগম খালেদা জিয়ার নামে সিলেটের পুরানো কারাগারে জায়গায় পার্ক নির্মাণ হচ্ছে

অন্যদিকে, মেজ ভাই শাহ আলম খন্দকার সংলগ্ন ০৮ নম্বর চাঁদপুরা ইউনিয়নের কুন্দিয়ালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে নিজের পরিচয় পত্র ও কাগজপত্র তৈরি করেন। সেখানে তিনি ‘খন্দকার স্টোর’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে চাঁদপুরা ইউনিয়নের সার ডিলারশিপ বাগিয়ে নেন বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, মূল ঠিকানা গোপন ও ভুয়া তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে দুই ইউনিয়নে ডিলারশিপ ভাগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’ এবং পরবর্তী হালনাগাদ নির্দেশনায় ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও ডিলার সিন্ডিকেট ভাঙার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এই নীতিমালায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, একই পরিবারের একাধিক সদস্য কোনোভাবেই সার ডিলারশিপ বা বিক্রয় প্রতিনিধি হতে পারবেন না।

নীতিমালার এই শর্ত চ্যালেঞ্জ করে পূর্বে হাইকোর্টে রিট করা হলে স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাসকো) জারি করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত করে সরকারি নীতিমালাই বহাল রাখেন। ফলে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের সার ডিলারশিপ পাওয়ার সুযোগ পুরোপুরি আইনিভাবে বন্ধ রয়েছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা

আইনজ্ঞদের মতে, বর্তমান আইনি বাস্তবতায় একই পরিবারের দুই ভাইয়ের নামে পৃথক দুই ইউনিয়নে ডিলারশিপ বহাল থাকা পুরোপুরি নীতিমালার পরিপন্থী।

এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সরকার-নির্ধারিত মূল্যে প্রান্তিক কৃষকের দোরগোড়ায় সার পৌঁছানো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবা। কিন্তু এক পরিবারের হাতে দুটি ইউনিয়নের সার সরবরাহ ও বিক্রির দায়িত্ব চলে গেলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা সিন্ডিকেটের আশঙ্কা থেকে যায়।

স্থানীদের প্রশ্ন— ১. একই পরিবারের দুই ভাই দুটি পৃথক ইউনিয়নে ডিলারশিপের জন্য আবেদন করার পর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় তাঁদের পারিবারিক সম্পর্ক কেন আড়াল হলো? ২. আবেদনকারীদের স্থায়ী ঠিকানা, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, নিজস্ব গুদামঘর ও ব্যাংকিং যোগ্যতার শর্তসমূহ সরজমিনে কীভাবে অনুমোদন পেল? ৩. নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনৈতিক লেনদেন বা রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে কি না?

সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এই নিয়োগ বাতিল এবং যোগ্য ও বঞ্চিত আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নিয়ম মেনে নতুন ডিলার নিয়োগের জোর দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে সেলুনে ঢুকে নরসুন্দরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্ত্রী অভিযুক্ত

সকল অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলারশিপ পাওয়া খন্দকার শাহ আলম এবং খন্দকার সিরাজ যৌথভাবে জানান, “আমাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সত্য নয়। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আহ্বান করা দরপত্রে অংশ নিয়ে সমস্ত নিয়ম-নীতি, কাগজপত্র ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ডিলারশিপ পেয়েছি। এখানে কোনো অনিয়ম বা ভুয়া তথ্য দেওয়ার সুযোগ নেই।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রেনে পাথর ছুড়লেই শনাক্ত করবে সিসিটিভি ক্যামেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪০ এম


ট্রেনে পাথর ছুড়লেই শনাক্ত করবে সিসিটিভি ক্যামেরা

বারবার প্রচার-প্রচারণা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানোর পরও চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা থামছে না। এর ফলে যাত্রীরা আহত হচ্ছেন এবং ট্রেনের জানালার কাচ ভেঙে যাচ্ছে। রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে এই রুটে ৫০টিরও বেশি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এই প্রাণঘাতী অপরাধ প্রতিরোধের জন্য এবার প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনে স্থাপন করা হয়েছে তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা।

রেলওয়ে সূত্র জানাচ্ছে, ঢাকা-কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে চলাচলকারী ট্রেনগুলোতে প্রধানত রামু, ইসলামাবাদ, ডুলাহাজারা, চকরিয়া ও হারবাং এলাকায় পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বেশি ঘটে। রাত বা দিনে দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া পাথরে জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীরা গুরুতর আহত হচ্ছেন, যা রেলওয়ের মূল্যবান সম্পদের ক্ষতি করছে।

এমন পরিস্থিতিতে পাথর নিক্ষেপকারীদের শনাক্ত করতে কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের ওয়াশপিটে পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের বগির দুই পাশে পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

আতঙ্ক নিয়ে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা

কক্সবাজারে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী শাহিদুল আলম জানান, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের কারণে এখন ভয় নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। তিনি বলেন, "তার পাশের এক যাত্রীর চোখ পাথরের আঘাতে নষ্ট হয়ে গেছে।" বিশেষ করে পরিবার নিয়ে রাতের ট্রেনে ভ্রমণের সময় আতঙ্ক বেশি কাজ করে।

শাহিদুল আলম আরও বলেন, "কক্সবাজারে আসার সময় আনন্দ থাকলেও ফেরার পথে সুস্থভাবে বাড়ি পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কা থাকে।" এ ধরনের ঘটনা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চান তিনি।

আরেক যাত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, রেলপথে ভ্রমণের অন্যতম প্রত্যাশা নিরাপত্তা। কিন্তু চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা যাত্রীদের মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তিনি বলেন, "এসি কিংবা নন-এসি-যেকোনো বগিতে জানালার পাশে বসে থাকা যাত্রী পাথরের আঘাতে গুরুতর আহত হতে পারেন।" মাথায় পাথর লাগলে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।

ফরহাদ হোসেনের মতে, শুধুমাত্র প্রশাসন বা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এ সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনসচেতনতাও জরুরি। যারা পাথর নিক্ষেপ করেন, তাঁদের এ বিপজ্জনক কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

যাত্রী হোসাইন ইব্রাহীম বলেন, রাতের বেলা চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় বড় দুর্ঘটনা, এমনকি প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এতে যাত্রীদের পাশাপাশি রেলওয়ের মূল্যবান সম্পদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, "সরকারি সম্পদের ক্ষতি মানে জনগণেরই ক্ষতি।" তাই এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

ঢাকা থেকে কক্সবাজারে নিয়মিত যাতায়াতকারী জাহেদুল হক বলেন, বিশেষ করে অন্ধকারে পাথর নিক্ষেপের আশঙ্কা যাত্রীদের নিরাপত্তাহীনতায় ফেলে। তিনি মনে করেন, প্রতিটি ট্রেনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলে পাথর নিক্ষেপকারীদের শনাক্ত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও উদ্যোগটি ভূমিকা রাখতে পারে।

পর্যটক এক্সপ্রেসে তিন ক্যামেরা

কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের ওয়াশপিটে রাখা পর্যটক এক্সপ্রেসের বগিতে পরীক্ষামূলকভাবে স্থাপন করা হয়েছে তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা। বগির দুই পাশে এসব ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো পাথর নিক্ষেপের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা।

কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের ওয়াশপিট সুপারভাইজার চয়ন রায় বলেন, ট্রেন স্টেশনে পৌঁছানোর পর ওয়াশপিটে নিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়। তিনি জানান, "কোনো জানালার কাচ ভাঙা থাকলে মজুত সাপেক্ষে সেখানে পরিবর্তন করা হয়।" অনেক ক্ষেত্রে এ কাজ ঢাকায় গিয়ে সম্পন্ন করতে হয়। প্রতিটি কাচ পরিবর্তনের হিসাবও সংরক্ষণ করা হয়।

চয়ন রায় বলেন, দুর্বৃত্তদের পাথর নিক্ষেপে ট্রেনের জানালার কাচ প্রায়ই ভেঙে যেত। তবে পর্যটক এক্সপ্রেসে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পর গত এক সপ্তাহে কোনো কাচ ভাঙার ঘটনা পাওয়া যায়নি।

তার ভাষ্য, সরকারের এ উদ্যোগ ইতিবাচক। তিনি আশা করেন, পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ট্রেনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলে পাথর নিক্ষেপ ও জানালার কাচ ভাঙার ঘটনা কমে আসবে।

অন্য ট্রেনেও ক্যামেরা স্থাপনের দাবি

কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী অন্যান্য ট্রেনগুলোতেও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন রেলসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, শুধুমাত্র একটি ট্রেনে ক্যামেরা স্থাপন করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। এ জন্য পুরো রেলপথে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কক্সবাজার এক্সপ্রেসের স্টুয়ার্ড ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম তুহিন বলেন, রামু, ইসলামাবাদ ও ডুলাহাজারার মধ্যবর্তী কয়েকটি স্থানে তাদের ট্রেন পাথর নিক্ষেপের শিকার হচ্ছে। তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনা পুরোপুরি প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় তাদের ট্রেনেরও বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। অনেক সময় ট্রেনের কর্মীরাই আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। পাথর নিক্ষেপকারীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, তা সময়ের সঙ্গে বোঝা যাবে। তবে এ সমস্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, রেললাইনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় যাত্রীরা আহত হচ্ছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রেলওয়ের সম্পদ। তিনি আশা করেন, পর্যটক এক্সপ্রেসে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলে এর মাধ্যমে পাথর নিক্ষেপকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

মেহেদী হাসান আরও বলেন, বিভিন্ন স্টেশনে গিয়ে পাথর নিক্ষেপের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। তবে তিনি জানান, "শুধু প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে এ সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।" তাই এবার ক্যামেরার মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে অন্য ট্রেনেও এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে দুই জোড়া এবং ঢাকা থেকে দুই জোড়া ট্রেনে প্রতিদিন কক্সবাজার রুটে যাতায়াত করেন প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার যাত্রী। বিপুলসংখ্যক এসব যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাথর নিক্ষেপ বন্ধ করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সচেতনতামূলক প্রচারণায় কাজ না হওয়ায় সিসিটিভি ক্যামেরার পরীক্ষামূলক ব্যবহার কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এমবাপ্পের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যে ফরাসি কিংবদন্তী পাপিনের ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪০ এম


এমবাপ্পের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যে ফরাসি কিংবদন্তী পাপিনের ক্ষোভ

কিলিয়ান এমবাপ্পে ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। তবে ফ্রান্সের কিংবদন্তি তারকা জিন-পিয়েরে পাপিন এই পুরস্কার নিয়ে এমবাপ্পের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যকে ভালোভাবে নেননি। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডের প্রতিভা ও অর্জনের প্রশংসা করলেও, ১৯৯১ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী পাপিন পুরস্কার নিয়ে এমবাপ্পের মনোভাবের সমালোচনা করেছেন।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ফুট মার্কাতো’র সঙ্গে আলাপে পাপিন বলেন, "এমবাপের রেকর্ড অসাধারণ। কিন্তু ব্যালন ডি’অরের প্রসঙ্গ উঠলেই তার কথায় আত্মকেন্দ্রিকতার প্রকাশ ঘটে।"

তিনি আরও বলেন, "আমি সত্যিই কিলিয়ানের প্রশংসা করি। তার অনেক রেকর্ড আছে, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট বিষয় (ব্যালন ডি’অর প্রসঙ্গ) এলে সে কেবল 'আমি, আমি, আমি'-তে পরিণত হয়। যদিও ব্যালন ডি’অর অন্যদের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।"

এমবাপ্পের একটি মন্তব্যকে বাড়াবাড়ি বলেও উল্লেখ করেছেন পাপিন। ফরাসি তারকা বলেছিলেন, এ বছর তার চেয়ে ভালো কোনো খেলোয়াড় ছিলেন না। পাপিনের মতে, এমন মন্তব্য পুরস্কার নিয়ে এমবাপ্পের অবস্থানকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরে।

তবে সাবেক মার্সেই স্ট্রাইকার এমবাপ্পের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি। তার মতে, ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক গুণই এমবাপ্পের রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেসকোর ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪১ এম


ডেসকোর ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর

ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (ডেসকো), আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর এবং ফাইবার অ্যাট হোমের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির আওতায় আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের ছাদে ৩০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য এই চুক্তির মাধ্যমে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান সোমবার আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুতের ঘাটতি মোকাবিলায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সম্প্রতি সব সরকারি দপ্তরে সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করেছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহ দিতে সরকার বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। এই সময়ের মধ্যে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে নিজস্ব চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে তা কিনবে।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের ব্যয় কমাতে ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী ১৮০ দিনের জন্য সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় গ্রন্থাগার ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে সরকারের এই কার্যক্রমে অংশ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে ইয়াসমিন বেগম বলেন, বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যেন হতাশ না হয়, সে বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ ও স্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যেসব স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসানো সম্ভব, সেগুলোতে এ ব্যবস্থা চালুর জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির আওতায় ডেসকোর ১২ দশমিক ৫ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অংশ হিসেবে আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের ছাদে ৩০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চুক্তিতে ডেসকোর পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গাজী শাহরিয়ার পারভেজ। আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পক্ষে স্বাক্ষর করেন পরিচালক (যুগ্ম সচিব) ফারজানা সুলতানা। আর ফাইবার অ্যাট হোমের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রকল্প পরিচালক শাহজামান হোসেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সবুর হোসেন এবং ফাইবার অ্যাট হোম লিমিটেডের চেয়ারম্যান মঈনুল হক সিদ্দিকী।

স্বাগত বক্তব্য দেন ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) খন্দকার জহিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পূর্ণতা রায়। এতে ডেসকো, আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর এবং ফাইবার অ্যাট হোমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জর্জিয়ায় রোলার কোস্টার থেকে পড়ে একজনের মৃত্যু, আহত একাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪২ এম


জর্জিয়ায় রোলার কোস্টার থেকে পড়ে একজনের মৃত্যু, আহত একাধিক

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি বিনোদন পার্কে রোলার কোস্টার থেকে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে আটলান্টার নিকটবর্তী অস্টেল শহরে সিক্স ফ্ল্যাগস ওভার জর্জিয়া পার্কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

কব কাউন্টির জরুরি যোগাযোগ বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে, একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। কব কাউন্টি পুলিশের গুরুতর অপরাধ তদন্ত বিভাগ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পার্কের গোলিয়াথ নামের রোলার কোস্টার থেকে একজনকে পড়ে যেতে দেখা গেছে। অন্তত দুজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ওই ব্যক্তি মাটিতে পড়ার আগে রাইডের বিভিন্ন অংশে আঘাত পান।

এক প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "ওই ব্যক্তি পড়ে যাওয়ার সময় রোলার কোস্টারের গাড়িতে তিনবার আঘাত পান।"

লোগান কনার নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি তার বাগ্‌দত্তাকে নিয়ে ওই রোলার কোস্টারে ছিলেন। তিনি বলেন, "এ সময় আমি এক ব্যক্তিকে নিজের আসন থেকে ছিটকে বেরিয়ে যেতে দেখেছি।" তার ভাষ্য, লোকটি পাশের দিকে কাত হয়ে শূন্যে ভেসে উঠেছিলেন এবং তার সঙ্গে সরাসরি চোখাচোখিও হয়েছিল।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, রোলার কোস্টার থেকে পড়ে যাওয়া ব্যক্তির সঙ্গে একটি শিশু ছিল।

ঘটনার পর রোলার কোস্টারটি মাঝপথে থেমে যায়। পরে যাত্রীদের সেখান থেকে বেরিয়ে আসার দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছে।

পার্ক কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "এ ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত।" নিহত ব্যক্তির পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পার্কে উপস্থিত দর্শনার্থী ও কর্মীদের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। পরিবারের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানিয়ে আপাতত ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান বোলিগার অ্যান্ড মাবিলার কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার্সের নকশা ও নির্মাণে তৈরি গোলিয়াথ রোলার কোস্টারটি ২০০৬ সালে চালু হয়। এতে ২০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতা থেকে নিচে নামার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ধরনের রোলার কোস্টারকে হাইপার কোস্টার বলা হয়।

এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সিক্স ফ্ল্যাগস ম্যাজিক মাউন্টেন পার্কের এক্স২ রোলার কোস্টারে চড়ার পর মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের হয়। আইনজীবীদের দাবি, ওই রাইডে চড়ার কারণে প্রায় ১০০ জনের মস্তিষ্কে আঘাত লেগেছিল।

এক্স২ রোলার কোস্টারে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে পারে এমন আসন, ২১৫ ফুট উচ্চতা থেকে নিচে নামার ব্যবস্থা এবং আকস্মিক উল্টে যাওয়া ও ঘূর্ণনের ব্যবস্থা রয়েছে। গত ১২ জুলাই থেকে রাইডটি বন্ধ রয়েছে। এর আগের দিন আইনজীবী ক্রিস্টোফার বুলোন জানিয়েছিলেন, মামলাকারীদের একজন ওই রাইডে চড়ার পর গুরুতর মস্তিষ্কের আঘাত পেয়েছেন। সে সময় পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, চলমান মামলা নিয়ে তারা মন্তব্য করে না।

আটলান্টার শহরকেন্দ্র থেকে প্রায় ১০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত সিক্স ফ্ল্যাগস ওভার জর্জিয়া পার্ক।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%