সাকিব হোসেইন, তিতাস (কুমিল্লা) সংবাদদাত
০৪:১৪ পি.এম
আজ শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ইসুবপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহতের নাম নুরুল হক (৬৫), যিনি ওই গ্রামেরই মৃত করম আলী ভূঁইয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক এক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাবা নুরুল হকের সাথে তাঁর ছেলের প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
তর্কাতর্কির একপর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে ছেলে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। সন্তানের নির্মম আঘাতেই নুরুল হক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর করুণ মৃত্যু হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে তিতাস থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করে।
নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে এবং এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যে সীতাকুণ্ডে সাত দিনের বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ বাস্তবায়নের ফলে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর গত এক সপ্তাহে উপজেলায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে, হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হওয়ার সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) কর্ণফুলীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচির আওতায় এসব তথ্য প্রকাশ করেন তিনি। এদিন উপজেলার ১০টি চিহ্নিত ডেঙ্গু হটস্পটে মশকনিধন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলী উপজেলায় সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি ছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীতাকুণ্ডে সাত দিনের বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এর ফলস্বরূপ, গত সপ্তাহে সেখানে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে সংক্রমণের হার আরও কমবে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় জেলা প্রশাসক হাসপাতালনির্ভর চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘শুধু চিকিৎসা দিয়ে আমরা ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে পারব না। আমাদের ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করতে হবে।’
বাড়িঘর, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। শনিবার কর্ণফুলীর সৈন্যাটেক থেকে ব্রিজঘাট পর্যন্ত সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। পরে চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ফগার মেশিন চালিয়ে মশকনিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। এরপর তিনি উপজেলার ১০টি ডেঙ্গু হটস্পট পরিদর্শন করেন।
জেলা প্রশাসক জানান, চট্টগ্রাম নগরের হাসপাতালগুলোতে গত দুই দিনে যথাক্রমে ৯২ ও ৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১২ সেপ্টেম্বর জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্নতার আওতায় আনা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক শয্যা রাখা হয়েছে এবং ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট সরবরাহ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন জানিয়েছেন, নদী দূষণের সঙ্গে যুক্ত যারা, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “নদী দূষণ রোধে সবাইকে নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে বর্জ্য পরিশোধনের জন্য ইটিপি প্লান্ট স্থাপন করা হয়নি, তাদের দ্রুত ইটিপি প্লান্টের আওতায় আনা হবে। নদী দূষণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে মাধবদী মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
খায়রুল কবির খোকন আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচন যেমন উৎসবমুখর ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, তেমনি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রাশেদুল হাসান রিন্টু (সিআইপি), নরসিংদী জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন হোসাইন বিদ্যুৎ প্রমুখ।
মাধবদী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৩২ জন। এর মধ্যে ১নং জোনে ১৩৪২ ভোটারের বিপরীতে ৩১ জন প্রার্থী, ২নং জোনে ২৯০ ভোটারের বিপরীতে ৪ জন প্রার্থী, ৩নং জোনে ৫২ জনের বিপরীতে ২ জন এবং ৪নং জোনে ৩৪৫ ভোটারের বিপরীতে ২ জন প্রার্থী রয়েছেন। মোট ৩৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। বিজয়ী প্রার্থীদের ভোট সভাপতি ও সেক্রেটারি সহ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হবে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ব্যবসায়ী ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য নিউইয়র্কে অবস্থানকালে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেওয়ার একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।
ছবিটি শনিবার (৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশ করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২২ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আসা বিশ্বনেতাদের সম্মানে এই নৈশভোজের আয়োজন করেন।
নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান ছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক। তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো ফটোগ্রাফার উপস্থিত ছিলেন না। এ কারণে ছবিটি পেতে কিছুটা সময় লেগেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার স্লিপার বাসের বডি নির্মাণ ও সড়কে চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রথমবারের মতো নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রস্তাবিত নীতিমালায় স্লিপার বাস তৈরির জন্য সম্পূর্ণ নতুন চেসিস ব্যবহার, পেছনে টেনডেম এক্সেল, সব এক্সেলে এয়ার সাসপেনশন এবং এবিএস বা উন্নত প্রযুক্তির ব্রেকিং ব্যবস্থা রাখার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, প্রতিটি বার্থে ৩০০ কেজি ওজন বহনের সক্ষমতা নিশ্চিত করার প্রস্তাবও করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সম্প্রতি ‘স্লিপার বাস গাইডলাইন/নীতিমালা, ২০২৬’ শিরোনামে একটি খসড়া তৈরি করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠিয়েছে। তবে, এই নীতিমালাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে দেশে ৮০০টির বেশি স্লিপার বাস চলাচল করছে। এসব বাসের কাঠামো নির্মাণ, বার্থের নকশা, স্থিতিশীলতা, অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা নিয়ে নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, চালক ছাড়া কমপক্ষে ১৩ জন যাত্রী বহনের উপযোগী এবং যাত্রীরা শুয়ে বা আরাম করে ভ্রমণ করতে পারেন এমন বাসকে স্লিপার বাস হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে সম্পূর্ণ তৈরি বা সিবিইউ (কমপ্লিটলি বিল্ট-আপ) অবস্থায় কোনো স্লিপার বাস আমদানি করা হয়নি। এ ধরনের বাসের বডি তৈরির বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানও নেই। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের অনলাইন গাইডলাইন পর্যালোচনা করে জরুরি প্রয়োজন ও বিশেষ বিবেচনায় নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছে বিআরটিএ। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়াই স্লিপার বাস নির্মাণ করে সড়ক-মহাসড়কে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে।
খসড়ায় স্লিপার বাস নির্মাণে ব্যবহৃত চেসিস অবশ্যই সম্পূর্ণ নতুন হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পুরোনো বা ব্যবহৃত চেসিস দিয়ে এ ধরনের বাস তৈরি করা যাবে না। বাসের পেছনে টেনডেম এক্সেল এবং সব এক্সেলে এয়ার সাসপেনশন অথবা উন্নত প্রযুক্তির সাসপেনশন রাখতে হবে। একই সঙ্গে ব্রেকিং ব্যবস্থায় এবিএস (অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম) বা সমমানের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের শর্ত দেওয়া হয়েছে।
বাসের স্থিতিশীলতা পরীক্ষার সময় প্রতিটি বার্থে ৭৫ কেজি ওজন প্রয়োগ করতে হবে। যাত্রী ও মালামালসহ বাসের সর্বোচ্চ ওজন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে ২১ টন। আর বাসের সর্বোচ্চ উচ্চতা হতে পারবে ৪ দশমিক ২৫ মিটার।
প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি বার্থের দৈর্ঘ্য কমপক্ষে ১ হাজার ৮০০ মিলিমিটার হতে হবে। এক সারিতে তিনটি বার্থ থাকলে প্রতিটির প্রস্থ কমপক্ষে ৬০০ মিলিমিটার এবং দুটি বার্থ থাকলে প্রতিটির প্রস্থ ৬৫০ থেকে ৭৫০ মিলিমিটারের মধ্যে রাখতে হবে।
প্রতিটি বার্থে ৩০০ কেজি ওজন বহনের সক্ষমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুই পাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। উপরের বার্থে ওঠানামার জন্য হাতলসহ সিঁড়ি রাখতে হবে। এ ছাড়া যাত্রীদের সুবিধায় কলিং লাইট ও কলবেল, রিডিং লাইট, হেডরেস্ট, আর্মরেস্ট এবং খাবারের ট্রে রাখার জন্য ভাঁজযোগ্য টেবিল রাখার শর্তও রয়েছে।
স্লিপার বাসে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার এবং কমপক্ষে তিনটি স্মোক ডিটেক্টর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি নির্গমন দরজা, নিচের ও ওপরের ডেকে জরুরি জানালা এবং জরুরি প্রয়োজনে কাচ ভাঙার জন্য সেফটি হ্যামার রাখতে হবে।
এ ছাড়া সার্ভিস দরজার এয়ারলক খোলার জন্য ম্যানুয়াল ভালভ রাখার শর্ত রয়েছে। বার্থের প্যাডে অগ্নিপ্রতিরোধক ফোম ব্যবহার করতে হবে। আসনের কভার, পর্দা, প্লাইউড ও ফ্লোরিংসহ বাসের অভ্যন্তরীণ উপকরণেও নির্ধারিত দাহ্যতা মান বজায় রাখতে হবে।
প্রস্তাবিত নীতিমালাটি চূড়ান্ত হলে স্লিপার বাস নির্মাণ ও চলাচলের ক্ষেত্রে এসব শর্ত কার্যকর করার কাঠামো তৈরি হবে। তবে খসড়ার বিধানগুলো চূড়ান্ত নীতিমালায় কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ