প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যে সীতাকুণ্ডে সাত দিনের বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ বাস্তবায়নের ফলে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর গত এক সপ্তাহে উপজেলায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে, হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হওয়ার সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) কর্ণফুলীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচির আওতায় এসব তথ্য প্রকাশ করেন তিনি। এদিন উপজেলার ১০টি চিহ্নিত ডেঙ্গু হটস্পটে মশকনিধন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলী উপজেলায় সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি ছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীতাকুণ্ডে সাত দিনের বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এর ফলস্বরূপ, গত সপ্তাহে সেখানে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে সংক্রমণের হার আরও কমবে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় জেলা প্রশাসক হাসপাতালনির্ভর চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘শুধু চিকিৎসা দিয়ে আমরা ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে পারব না। আমাদের ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করতে হবে।’
বাড়িঘর, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। শনিবার কর্ণফুলীর সৈন্যাটেক থেকে ব্রিজঘাট পর্যন্ত সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। পরে চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ফগার মেশিন চালিয়ে মশকনিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। এরপর তিনি উপজেলার ১০টি ডেঙ্গু হটস্পট পরিদর্শন করেন।
জেলা প্রশাসক জানান, চট্টগ্রাম নগরের হাসপাতালগুলোতে গত দুই দিনে যথাক্রমে ৯২ ও ৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১২ সেপ্টেম্বর জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্নতার আওতায় আনা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক শয্যা রাখা হয়েছে এবং ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট সরবরাহ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন