সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৮ পি.এম
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের পাশাপাশি যাত্রী ও গাড়িচালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বিআরটিএ ঢাকা জেলা সার্কেলের উদ্যোগে কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই কর্মসূচিটি পালন করা হয়। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো- “নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”। গত ২২ অক্টোবর ছিল জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। বিআরটিএ এ দিবসকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপি কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় কর্মসূচির সূচনা হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন বিআরটিএ ঢাকা জেলা সার্কেলের উপপরিচালক (ইঞ্জি.) মোবারক হোসেন। চালক, যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে লিফলেট ও ব্রোশিওর বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারের গুরুত্ব, হেলমেট ও সিট বেল্ট পরিধান, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, মাদকাসক্ত ও ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে গাড়িচালকদের সচেতন করা হয়।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা পুলিশের ট্র্যাফিক সার্জেন্ট মো. শাহজাহান, বিআরটিএ ঢাকা জেলা সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মো, নজরুল ইসলাম মো. আবু জামাল, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে (৫৫) সজনে গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার পর দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন এ তথ্য প্রকাশ করেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন আশিকুজ্জামান ওরফে আলো মিয়া (৩৫) এবং তার ভাই আসাদুজ্জামান (৩২)। তাদের বাসস্থান উপজেলার বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের সোনাপুকুর নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের হাসিমপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, আশিকুজ্জামানকে মামলার প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
হত্যার শিকার মনোরঞ্জন রায় চিরিরবন্দর উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের চক সুখদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তার আবাসস্থল একই উপজেলার সুখদেবপুর এলাকায় অবস্থিত।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পার্বতীপুরের নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে প্রয়াত আজিজুল হকের বাড়িতে নির্মাণকাজের পারিশ্রমিক, ইউক্যালিপটাস গাছের গুঁড়ির হিসাব এবং শ্রমিকদের মজুরি বণ্টন নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। এছাড়াও বাড়ির পাশের রাস্তার জমি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে দুই ভাইয়ের বিরোধ চলছিল।
নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত কাঠমিস্ত্রি ফরতাজ হোসেনের সঙ্গে আজিজুল হকের ছেলে আল রোমানের বিরোধ দেখা দিলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে উপস্থিত হন শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন আরও জানান, বিরোধের একপর্যায়ে মনোরঞ্জন রায়ের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আশিকুজ্জামান তাকে সজনে গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে।
প্রাণ বাঁচাতে মনোরঞ্জন রায় সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করা হয়। পরে ধানখেতে পড়ে যাওয়ার পরও তাকে মারধর করা হয় বলে পুলিশের দাবি। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
পুলিশ জানায়, প্রায় ১৩ বছর আগে আজিজুল হকের মৃত্যুর পর থেকে তার পরিবারের দেখাশোনা করতেন মনোরঞ্জন রায়। ওই পরিবারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পরিচয় ও সুসম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে বিরোধ মেটাতে গিয়েই তিনি হামলার শিকার হন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
ঘটনার পর পুলিশ শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন সহযোগী সংগঠন হিসেবে ‘জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তি’র আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের অনুমোদনক্রমে এই কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে রাতে গণমাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয় এই বিষয়ে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে মো. মাহিন সরকারকে নিযুক্ত করা হয়েছে। সদস্যসচিব পদে আছেন জোবাইরুল হাসান আরিফ এবং মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পালন করবেন মহিউদ্দিন রনি।
পূর্ণাঙ্গ কমিটি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রকাশ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক শক্তির মূল কাজ হবে দুর্যোগ ও সংকটের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, উদ্ধারকাজে সহায়তা করা, ত্রাণ বিতরণ এবং সাধারণ মানুষকে আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে সহযোগিতা করা।
এছাড়াও, সংগঠনটি দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন, জনসভা সফল করা ও দলীয় আদর্শ প্রচারের কাজে অংশ নেবে। সংগঠনটির রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ, বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে কাজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নড়াইলে বিষধর সাপের ছোবল খেয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে হাজির হয়েছেন এক বৃদ্ধ, যিনি জ্যান্ত সাপটি হাতে নিয়ে এসেছেন।
সোমবার দুপুরে নড়াইল জেলা হাসপাতালে গোলাম রাব্বানী (৬০) নামে ওই ব্যক্তি জ্যান্ত গোখরা সাপটি ব্যাগে বন্দী করে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর চিকিৎসা শুরু করেন এবং হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত।
গোলাম রাব্বানী, যিনি নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের বুড়িখালি গ্রামের মৃত জাফর মুন্সির ছেলে, সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, প্রতিবেশী হান্নান খাঁয়ের বাড়িতে একটি বিষধর গোখরা সাপ ঢুকে পড়ার খবর পেয়ে সেখানে যান। কিছুক্ষণের চেষ্টায় তিনি সাপটি ধরে ফেলেন, কিন্তু সাপটি ধরে খেলা দেখাতে গিয়ে তিনি দংশনের শিকার হন। এরপর দংশিত অবস্থায় সাপটিকে একটি ব্যাগে পুরে চিকিৎসার জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
এদিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে জ্যান্ত গোখরা সাপ দেখে উপস্থিত সাধারণ রোগীসহ সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। লোকজন ভয়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে থাকেন।
জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শারমিন জানান, সাপে দংশনের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-ভেনম দিয়ে গোলাম রাব্বানীকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি এখন সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার পর বিকেলে উদ্ধার করা সাপটিসহ সুস্থ অবস্থায় হাসপাতাল ত্যাগ করেন গোলাম রাব্বানী।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মানবতাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্য ও দেশপ্রেমের চেতনায় তরুণ প্রজন্মকে আলোকিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের মিলনায়তনে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ের বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, নজরুলের মানবতাবাদী দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্য ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, নজরুলচর্চার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করা সম্ভব। সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ একটি আলোকিত, মানবিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ময়মনসিংহের ত্রিশালে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেন। এর ফলে সারা দেশে নজরুলচর্চাকে নতুন গতি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে কবির জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে আগ্রহ বাড়াবে।
মন্ত্রী নজরুলের সৃষ্টিকর্মে প্রেম ও দ্রোহের অনন্য সমন্বয়ের কথা তুলে ধরে বলেন, ইসলামী সংগীতের পাশাপাশি শ্যামাসংগীত রচনা করে নজরুল ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িকতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক।
দেশের লোকজ ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির চর্চা ও প্রসারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, নৌকাবাইচ, যাত্রাশিল্প, বাউলগান এবং হাছন রাজা, লালন ও বিজয় সরকারের গানের মতো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, পাহাড় ও সমতলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির সম্মিলনে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। এই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সবার দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিসচিব ইয়াসমিন বেগম বলেন, নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার লক্ষ্য শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি করা নয়; বরং জাতীয় কবির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃষ্টিশীল ভাবনা ছড়িয়ে দেওয়া।
তিনি আরো বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশের পাশাপাশি মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আজমুল হক, আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নুরজাহান আক্তার, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, জাসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হেলাল খান ও সদস্যসচিব জাকির হোসেন রোকন।
অনুষ্ঠান শেষে ঢাকা বিভাগের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। পরে সেখানে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ