প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মানবতাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্য ও দেশপ্রেমের চেতনায় তরুণ প্রজন্মকে আলোকিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের মিলনায়তনে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ের বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, নজরুলের মানবতাবাদী দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্য ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, নজরুলচর্চার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করা সম্ভব। সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ একটি আলোকিত, মানবিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ময়মনসিংহের ত্রিশালে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেন। এর ফলে সারা দেশে নজরুলচর্চাকে নতুন গতি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে কবির জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে আগ্রহ বাড়াবে।
মন্ত্রী নজরুলের সৃষ্টিকর্মে প্রেম ও দ্রোহের অনন্য সমন্বয়ের কথা তুলে ধরে বলেন, ইসলামী সংগীতের পাশাপাশি শ্যামাসংগীত রচনা করে নজরুল ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িকতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক।
দেশের লোকজ ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির চর্চা ও প্রসারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, নৌকাবাইচ, যাত্রাশিল্প, বাউলগান এবং হাছন রাজা, লালন ও বিজয় সরকারের গানের মতো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, পাহাড় ও সমতলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির সম্মিলনে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। এই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সবার দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিসচিব ইয়াসমিন বেগম বলেন, নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার লক্ষ্য শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি করা নয়; বরং জাতীয় কবির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃষ্টিশীল ভাবনা ছড়িয়ে দেওয়া।
তিনি আরো বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশের পাশাপাশি মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আজমুল হক, আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নুরজাহান আক্তার, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, জাসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হেলাল খান ও সদস্যসচিব জাকির হোসেন রোকন।
অনুষ্ঠান শেষে ঢাকা বিভাগের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। পরে সেখানে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন