মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:১৮ পি.এম
আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের আধিপত্য প্রতিরোধ এবং উত্তর সমুদ্রপথকে (নর্দান সি রুট) অবাধ রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নতুন একটি কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই তথ্যটি দ্য টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইইউ-এর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস প্রকাশ করেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই নতুন পরিকল্পনার আওতায়, এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য চলাচলের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটের ওপর এককভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না মস্কো ও বেইজিং। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিতিশীলতার কারণে সুয়েজ খালের বিকল্প হিসেবে উত্তর সমুদ্রপথের গুরুত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা এশিয়ার সাথে যাতায়াতকে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দ্রুততর করে। কালাস উল্লেখ করেছেন, রাশিয়া ও চীনের একক আধিপত্য প্রতিরোধে ইইউ যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
আগামী মঙ্গলবার ইউরোপীয় কমিশন তাদের নতুন আর্কটিক বা মেরু কৌশল প্রকাশ করতে যাচ্ছে। ২০২১ সালের পর এটি প্রথম কৌশলগত নীতি আপডেট হবে। নতুন পরিকল্পনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
নতুন আইসব্রেকার বা বরফ ভাঙার জাহাজ নির্মাণে বিনিয়োগ। আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের জন্য একটি নতুন সামরিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা। আর্কটিক অঞ্চলে অফশোর তেল ও গ্যাস উত্তোলনের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা।
এর আগে ব্লুমবার্গ রিপোর্ট করেছে যে, ২০২৭ সালের মধ্যে ইইউর কোপার্নিকাস ও গ্যালিলিও স্যাটেলাইট সিস্টেম ব্যবহার করে একটি আর্কটিক নজরদারি কর্মসূচি চালু করা হবে, যা জল ও স্থলের যেকোনো হুমকি শনাক্ত করতে সক্ষম হবে।
এদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইউরোপীয় বিভাগের পরিচালক ভ্লাদিস্লাভ মাসলনিকভ ইইউ-এর এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে মন্তব্য করেছেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন উত্তর মেরুতে উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে চাচ্ছে এবং উচ্চ উত্তরের সহযোগিতাকে অযথা রাজনৈতিক রূপ দিচ্ছে। সূত্র: দ্য টাইমস, ব্লুমবার্গ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে একটি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গোলাবারুদ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অন্তত আটজন সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে গুলি চালানোর প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানান এক কর্মকর্তা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ওই কর্মকর্তা জানালেন, রোববার গভীর রাতে সরাসরি গুলি চালানোর প্রশিক্ষণ চলাকালীন এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নিহত ও আহত ব্যক্তিরা দেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন একটি নিরাপত্তা বাহিনীতে যোগদান করেছিলেন।
শহরের নিরাপত্তা বিভাগের ওই কর্মকর্তা বলেন, জাওয়িয়ার উপকণ্ঠে নিরাপত্তা সংস্থাটির প্রশিক্ষণস্থলে সদস্যরা সরাসরি গুলি চালানোর অনুশীলন করছিলেন। এই সময় প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত একটি গোলাবারুদ বিস্ফোরিত হলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, ‘গত রাতে দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে আটজন প্রশিক্ষণার্থী নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।’
এ ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা জানান, বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আরব নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) শিরোপা কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে সেনেগালের করা আপিলের রায় নভেম্বরের শেষ দিকে দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস)।
সিএএস সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, “এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে এবং সিএএসের পূর্ণাঙ্গ রায় ২০২৬ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে প্রকাশ করা হবে।”
গত জানুয়ারিতে রাবাতে অনুষ্ঠিত আফকন ফাইনালে স্বাগতিক মরক্কোকে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সেনেগাল। ম্যাচে ঘটে যাওয়া নানা প্রশ্নবিদ্ধ ঘটনাবলীর পর তাদের শিরোপা কেড়ে নেওয়া হয় এবং মরক্কোকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
সেনেগাল, মরক্কো ও সিএএফের যুক্তি-তর্ক গত ৮ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের লোজানে সিএএসের শুনানিতে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
সেসময় সিএএস জানিয়েছিল, কয়েক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে এখন তারা শুধু সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত নয়, আইনি ভিত্তিসহ পূর্ণাঙ্গ রায় বা "সিএএস অ্যাওয়ার্ড" প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ফাইনাল ম্যাচে নিয়মিত সময়ের শেষ দিকে সেনেগালের বিরুদ্ধে একটি পেনাল্টি দিলে দলটির খেলোয়াড়রা প্রতিবাদস্বরূপ ১৪ মিনিটের জন্য মাঠ ছেড়ে চলে যায়। কয়েকজন খেলোয়াড় ড্রেসিংরুমেও ফিরে গিয়েছিলেন।
পরে তারা মাঠে ফিরে আসে এবং খেলা পুনরায় শুরু হয়। মরক্কো পেনাল্টিটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। সেখানে সেনেগাল জয়সূচক গোল করে শিরোপা নিশ্চিত করে।
তবে দুই মাস পর সিএএফের আপিল বোর্ড রায় দেয় যে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার কারণে সেনেগাল ম্যাচটি পরিত্যাগ করেছে। ফলে মাঠের ফল বাতিল করে মরক্কোর পক্ষে ৩-০ গোলের জয় ঘোষণা করা হয় এবং তাদের আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
এরপরই সেনেগাল সিএএসে আপিল করে। ২৫ মার্চ আপিল দাখিল করা হলেও শুনানি হয় প্রায় ছয় মাস পরে। সেনেগালের মূল যুক্তি হলো, রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং তিনি ম্যাচটি সম্পূর্ণ করতে দিয়েছিলেন, তাই ফলাফল পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
এ মাসের শুরুতে শুনানির বাইরে সিএএসের মহাপরিচালক ম্যাথিউ রিব বলেন, “সেনেগাল ও মরক্কোর মধ্যকার ফাইনালের কয়েক মাস পর সমর্থকদের জন্য এটি অবশ্যই দীর্ঘ অপেক্ষা।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনাগুলো স্পষ্ট এবং প্রতিষ্ঠিত। আলোচনার বিষয় হবে মূলত কিছু প্রক্রিয়াগত ও আইনি দিক।”
এই মামলার সিএএস প্যানেলের সভাপতি ফরাসি ক্রীড়া আইন বিশেষজ্ঞ জেরাল্ড সিমন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ইতালির আন্তর্জাতিক আইন অধ্যাপক লুইজি ফুমাগাল্লি এবং হামবুর্গভিত্তিক আইনজীবী ও জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক উলরিখ হাস।
সিএএসের সিদ্ধান্তকে “অ্যাওয়ার্ড” বলা হয় এবং এর আইনি মর্যাদা একটি জাতীয় আদালতের রায়ের সমান। পরিস্থিতি অনুযায়ী এসব রায় ক্রীড়া ফেডারেশন কিংবা রাষ্ট্রের আদালতের মাধ্যমে কার্যকর করা যেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নসহ ৩ দফা দাবিতে নতুন ধারাবাহিক কর্মসূচির ঘোষণা করেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের জন্য।
এ কর্মসূচিটি মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নীতিনির্ধারণী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন শাহীন এবং সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি স্বাগত বক্তব্য দেন।
শিক্ষকদের ঘোষিত ৩ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন : নবম জাতীয় বেতন স্কেলের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকদের জন্য অবিলম্বে ১১তম গ্রেড প্রদান করা।
২. উচ্চতর গ্রেড ও শতভাগ পদোন্নতি : নবম পে স্কেল অনুযায়ী ৮ ও ১৪ বছর পূর্তিতে প্রাপ্য দুটি উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিত করা এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে শতভাগ পদোন্নতি চালুকরণ।
৩. হয়রানিমূলক বদলি ও মামলা প্রত্যাহার : সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপিসহ সব শিক্ষকের হয়রানিমূলক বদলির আদেশ বাতিল এবং দায়েরকৃত ভিত্তিহীন বিভাগীয় মামলাগুলো অবিলম্বে প্রত্যাহার।
এদিকে উল্লিখিত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। তা হলো—
১. সংবাদ সম্মেলন : আজ ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা।
২. কালো ব্যাজ ধারণ ও দোয়া মাহফিল (৮ নভেম্বর, রবিবার) : সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। পাশাপাশি প্রয়াত শিক্ষক ফাতেমা আপার রুহের মাগফিরাত এবং গ্রেনেড হামলায় নিহত ও আহতদের স্মরণে কেন্দ্রীয় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
৩. জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি (৮ নভেম্বর, রবিবার) : একই দিনে দেশের প্রতিটি জেলায় শিক্ষক প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দাবি সংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করবেন।
৪. বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি (১৭ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার) : বিভাগীয় শিক্ষক প্রতিনিধিরা বিভাগীয় কমিশনারদের কাছে স্মারকলিপি পেশ করবেন।
৫. মহাসমাবেশ (ডিসেম্বর ২০২৬) : বার্ষিক পরীক্ষা শেষে দেশের সর্বস্তরের শিক্ষকদের অংশগ্রহণে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বা শাহবাগে মহাসমাবেশ আয়োজন করা হবে (তারিখ পরবর্তীতে চূড়ান্ত হবে)।
৬. অবস্থান ও অনশন কর্মসূচি : এসব কর্মসূচির পরও দাবি আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে জাতীয় প্রেস ক্লাব বা শাহবাগে এক দফা দাবিতে অবস্থান ও আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করবেন শিক্ষকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অস্থিরতা বর্তমানে বিশৃঙ্খলার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।
এই মন্তব্যটি সোমবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে রুশ প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব দিমিত্রি পেসকভ করেছেন।
পেসকভ উল্লেখ করেন, ফ্রান্সের প্রধান প্রধান শহরগুলো থেকে শুরু হওয়া এই অস্থিরতা এখন ইতালি এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি একে স্পষ্ট সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তবে তিনি একইসঙ্গে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ