১১:১৬ এম
ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : স্পেনে গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে ৬৯ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন মার্কিন নাগরিক এবং কানাডা, জাপান, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, তিউনিসিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের একজন করে নাগরিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এ তথ্য দেশটির কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে জানা গেছে।
গত বুধবারের এই দুর্ঘটনাটি চলতি শতাব্দীতে ইউরোপের অন্যতম প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের কাজ চলছে। অনেক ক্ষেত্রে মরদেহের বিচ্ছিন্ন অংশ পরীক্ষা করেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হচ্ছে। এদিকে, স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা পরিস্থিতি আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে।
আরও পড়ুন: প্রযুক্তি জায়ান্টদের ইউক্রেনীয়দের রক্তের বিনিময়ে ব্যবসার অভিযোগ
নিহতদের পরিচয় শনাক্তে গঠিত একটি আইনি সংস্থা, যা পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত, রোববার গভীর রাতে সর্বশেষ শনাক্ত হওয়া ১০ বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছে।
এর আগে ফ্রান্স ও পর্তুগালের একজন করে নাগরিক এবং স্পেনের ৫৪ জন নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নিহত ৬৯ জনের মধ্যে তিনজন ছাড়া বাকি সবার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে, এখনও নিখোঁজ রয়েছেন তিনজন, যাদের মধ্যে দুজন অস্ট্রেলিয়ার এবং একজন জাপানের নাগরিক।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ই-কমার্সে রিমার্কের শক্ত অবস্থান, বিশ্ববাজারে যাচ্ছে হাজারো পণ্য
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো স্পেনে এসে পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা ব্যক্তিগতভাবে শনাক্তকরণের জন্য স্পেনে আসতে চান। তাঁদের আগমনের অপেক্ষায় রয়েছি আমরা।’
চলতি বছর স্পেনে এটি দ্বিতীয় দ্রুতগতির ট্রেন দুর্ঘটনা। এর আগে গত জানুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া অঞ্চলে আরেকটি ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪৬ জন প্রাণ হারান। পরপর এ ধরনের দুর্ঘটনা দেশটির রেলব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
সর্বশেষ দুর্ঘটনাটি ঘটে রাজধানী মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে উর্দা গ্রামের কাছে। এ সময় রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেনফের একটি ট্রেন একই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইরিওর একটি ট্রেনের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনার পর স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা কাজ করায় ওই রেলপথের ৬৩ কিলোমিটার এলাকায় সব ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে রেনফের ট্রেনটিকে আবার যাত্রা শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়, যদিও ইরিওর ট্রেনটি তখনো একই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল।
আরও পড়ুন: ভ্যান্সকে গালিবাফের খোঁচা: বসকে এসব বলছেন না কেন?
মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন আগামী ২৯ নভেম্বর স্পেনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট নেতা পেদ্রো সানচেজ তার আট বছরের শাসনকাল আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
তবে বিভিন্ন জনমত জরিপে তার দল প্রতিকূল অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন