প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আবারও ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হতে চলেছে। এবারের ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘মুরাসু’। সোমবার রাত নাগাদ এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, এর প্রভাবে বাংলাদেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম বলে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, আগের ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ তুলনায় মুরাসু বাংলাদেশের উপর প্রভাব ফেলবে অনেক কম। গত ২৭ অক্টোবর অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, যা বাংলাদেশে নামকরণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে, মুরাসু নামটি ভারত দিয়েছে। ‘মুরাসু’ শব্দটি একটি তামিল শব্দ, যার অর্থ বিশাল আকারের ড্রাম বা রণঢাকজাতীয় বাদ্যযন্ত্র। এই বাদ্যযন্ত্রটি দুর্যোগের খবর বা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়ে মানুষকে সতর্ক করার জন্য বাজানো হয় এবং কখনও কখনও এটি যুদ্ধের বাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার অধিদপ্তরের ৭ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম-
মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরো শক্তিশালী হয়েছে। সোমবার ভোররাত ৩টায় এর অবস্থান ছিল ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৮২ দশমিক ৬ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। তখন এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৯০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১ হাজার ২৪৫ কিলোমিটার এবং পায়রা থেকে ১ হাজার ২৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল।
ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ায় তা ঘণ্টায় ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর উত্তাল রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না পরবর্তী নির্দেশ আসে।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, আগের ঘূর্ণিঝড় অর্ণব যেখানে আঘাত হেনেছিল, মুরাসু তার চেয়ে অনেক উত্তরে অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে। আজ রাত নাগাদ এটি উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্ণবের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলসহ বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়েছিল। যদিও বৃষ্টির পরিমাণ বেশি ছিল না, তবে কয়েক দিনের তাপপ্রবাহ কমে গিয়েছিল। তবে, মুরাসুর প্রভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা তেমন নেই বলে জানান ওমর ফারুক।
তিনি আরও বলেন, আজ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। আগামীকাল মঙ্গলবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। বাংলাদেশের উপকূল থেকে মুরাসুর সম্ভাব্য আঘাত হানার স্থান অনেক দূরে রয়েছে।
এদিকে, দেশের বিভিন্ন স্থানে গরম অব্যাহত রয়েছে। গত মাসে কয়েক দফায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এএম
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন