ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘কোনো ধরনের উগ্রতা ও উচ্ছৃঙ্খলতাকে আমরা প্রশ্রয় দেব না’


‘কোনো ধরনের উগ্রতা ও উচ্ছৃঙ্খলতাকে আমরা প্রশ্রয় দেব না’

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর (এমপি) মন্তব্য করেছেন যে, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোনো ধরনের উগ্রতা ও উচ্ছৃঙ্খলতাকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "দলিল যার, জমি তার।" তিনি বলেন, যাদের শক্তি রয়েছে, তারাই জমি জবরদখল করে। একজনের কাছে এক একর জমি থাকলেও পাশের দেড় একর জমি তারা দখল করে খায়।

শনিবার রাতে পটুয়াখালীর দশমিনায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিলিং ফ্যান, ওয়াটার ফিল্টার ও ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: অরেগনের স্কুলে গুলিতে নিহত ৪, আহত ২; শোকে স্তব্ধ শহর

তিনি বলেন, "কে আমার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং কার সঙ্গে আমার ছবি আছে— সেটি বড় বিষয় নয়। বরং এলাকায় গুন্ডামি, বদমাশি ও চাঁদাবাজি করে কিংবা মাদক কারবারি করে কেউ পার পাবে না।"

দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদ হাসান মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম সিকদার, দশমিনা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আলতাফ হোসেন, মো. মিজানুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মান্দায় ৩ ভুয়া ডিবি পুলিশ গ্রেফতার, হ্যান্ডকাফ ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:২১ পি.এম


মান্দায় ৩ ভুয়া ডিবি পুলিশ গ্রেফতার, হ্যান্ডকাফ ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার

নওগাঁর মান্দায় পুলিশ ভুয়া ডিবি পুলিশ হিসেবে পরিচয়দানকারী ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি হ্যান্ডকাফ, ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালংকার এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে মান্দা উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পারইটুঙ্গি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন- দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার চাপড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে মানিক হোসেন (৩৪), দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের মৃত তোজাম্মেল হকের ছেলে এনামুল হক এবং ফুলবাড়ী উপজেলার মুক্তারপুর গ্রামের ইউসুফ খলিফার ছেলে মাহবুব হাসান মুন্না (৩৯)।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে আসামিরা নিজেদের ডিবি পুলিশ হিসেবে পরিচয় দিয়ে পারইটুঙ্গি গ্রামের বিপুল কুমারের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। এ সময় ভুয়া ডিবি পুলিশ সদস্যরা বিপুলের বাবা শুকুমার চন্দ্র ও চাচা সবুজ কুমারের হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেন। পরে পরিবারের নারী সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে পুরো ঘর তল্লাশির নামে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করার চেষ্টা করে। প্রতারকদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বাড়ির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়ার মুখে আসামিরা পাশের জেলা রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার সিমলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় জনতা তাদের ঘিরে ফেলে এবং আটক করে গণধোলাই দেয়।

ঘটনার খবর পেয়ে মান্দা থানার ওসি মো. খোরশেদ আলম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরবর্তীতে বাগমারা থানা পুলিশের সহায়তায় আসামিদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়া হয়।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার সকালে আসামিদের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীর প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ হচ্ছে ই-রিকশা, চলবে আট জোনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:২২ পি.এম


রাজধানীর প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ হচ্ছে ই-রিকশা, চলবে আট জোনে

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, ঢাকায় ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য আটটি আলাদা জোন তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনের জন্য ই-রিকশার আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে। এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে না পারে, সেই ব্যবস্থাও রাখা হবে। এর পাশাপাশি, প্রধান সড়কে ই-রিকশার চলাচল নিষিদ্ধ করা হবে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা বিন ওসমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট আটটি জোনে ই-রিকশার চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। কোন ই-রিকশা কোন সড়কে চলবে, সেটি সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে নির্ধারণ করবে। ই-রিকশা শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচল করতে পারবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকায় দুই ও চার যাত্রী বহন করতে সক্ষম এমন ই-রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ছয় যাত্রী বহনকারী ই-রিকশাকে ঢাকা শহরে নিবন্ধন দেওয়া হবে না। জেলা শহর ও গ্রামীণ এলাকায় দুই, চার ও ছয় যাত্রী বহনকারী ই-রিকশার নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে।

মীর শাহে আলম জানান, ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা তৈরির কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, নীতিমালাটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং সম্পন্ন হওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যে অথবা যত দ্রুত সম্ভব, এটি জারি করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত নীতিমালায় ই-রিকশা নিবন্ধনের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অথবা সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখার প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার কথা রয়েছে। এর পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস সনদও প্রয়োজন হবে।

তিনি জানান, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা ই-রিকশার নিবন্ধন প্রদান করবে। ই-রিকশা তৈরির কারখানাগুলোকেও নির্দিষ্ট ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। বুয়েট বা অন্য কোনো প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ই-রিকশা তৈরি করতে হবে। কারখানার জন্য সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে লাইসেন্স গ্রহণ করা আবশ্যক।

চার্জিং ব্যবস্থার বিষয়ে নীতিমালায় শর্ত রাখা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে ই-রিকশার চার্জিং পয়েন্টগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব চার্জিং পয়েন্টের জন্যও সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত নকশা ও কারিগরি মান মেনে তৈরি ই-রিকশাই নিবন্ধনের আওতায় আসবে। নীতিমালা জারি হলে ই-রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

ঢাকার যানজট ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, এসব সমস্যা দীর্ঘদিনের। একসঙ্গে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য সময় প্রয়োজন।

তিনি জানান, বাসস্ট্যান্ডের বাইরে গাড়ি পার্কিং বন্ধ করা এবং ঢাকার পাইকারি কাঁচাবাজার শহরের বাইরে স্থানান্তরের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব উদ্যোগের দৃশ্যমান ফল পেতে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আয়নাঘর’ থেকে শিলং, তদন্তে উঠে এলো সালাহউদ্দিনকে গুমকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:২৩ পি.এম


‘আয়নাঘর’ থেকে শিলং, তদন্তে উঠে এলো সালাহউদ্দিনকে গুমকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য

দীর্ঘ ১১ বছর পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের অভিযোগের তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাকে উত্তরার বাসা থেকে তুলে নেওয়ার পর কিভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

তদন্তের অংশ হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে ভারতে করা ফরেনার্স অ্যাক্টের মামলার নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই মামলার বিচার চলাকালে ভারতীয় আদালতে দেওয়া বিভিন্ন সাক্ষ্য ও বক্তব্যও পর্যালোচনা করছে প্রসিকিউশন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় মূল তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। অনেক আসামি ইতোমধ্যে কারাগারে রয়েছেন এবং আরও কয়েকজনের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

২০১৫ সালে উত্তরার বাসা থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে তৎকালীন বিএনপির মুখপাত্র সালাহউদ্দিন আহমদকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ। ওই সময় তিনি নিখোঁজ ছিলেন। প্রায় দুই মাস পর, একই বছরের ১১ মে, ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে স্থানীয় পুলিশের হাতে উদ্ধার হন সালাহউদ্দিন। তখন ভারতীয় পুলিশ জানিয়েছিল, শিলংয়ে তাকে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

পাসপোর্ট বা বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকায় তার বিরুদ্ধে ভারতের ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারায় মামলা করা হয়। চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, সালাহউদ্দিনকে বাংলাদেশ থেকে কী প্রক্রিয়ায় ভারতে নেওয়া হয়েছিল, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতে তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলার অনুলিপি ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় আদালতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণও সংগ্রহের কাজ চলছে।

ভারতীয় আদালতের নথিতে কী পাওয়া গেছে

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের আদালতে সালাহউদ্দিন আহমদের নিজের বক্তব্যের পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের পক্ষে দেওয়া বক্তব্য, তাকে চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসকের বক্তব্য এবং তাকে উদ্ধারের পর পুলিশের কাছে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্য রয়েছে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে প্রসিকিউশনের দাবি, সালাহউদ্দিন আহমদ স্বেচ্ছায় ভারতে যাননি। বরং বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ভারতে ছেড়ে দিয়েছিল।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৬১ দিন তাকে টিএফআই সেলে আটক রাখা হয়েছিল, যেটি ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত। এরপর তাকে মেঘালয়ের শিলংয়ে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখানে তিনি ট্রমাটাইজড অবস্থায় ঘোরাফেরা করছিলেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কারণে প্রথমে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর বৈধ পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি না থাকায় তার বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারায় মামলা করা হয়।

আদালতের রায়েও উঠে আসে অপহরণের বিষয়

২০১৫ সালের ২২ জুলাই ভারতের নিম্ন আদালতে সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার বিচার শেষে ২০১৮ সালে তিনি খালাস পান। চিফ প্রসিকিউটরের দাবি, ওই মামলায় ভারতীয় পুলিশের সাক্ষীরাও আদালতে স্বীকার করেছিলেন যে, সালাহউদ্দিনকে বাংলাদেশ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপহরণ করে ভারতে নিয়ে গিয়ে সেখানে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

সালাহউদ্দিনের পক্ষে দেওয়া সাক্ষ্য এবং ভারতীয় পুলিশের সাক্ষ্য- দুই পক্ষের বক্তব্যেই তিনি স্বেচ্ছায় ভারতে প্রবেশ করেননি বলে প্রমাণিত হয় বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভারতীয় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দেন। নিম্ন আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ভারত সরকার আপিল করে। তবে আপিল আদালতও আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। তার ভাষ্য, আপিল পর্যায়েও প্রমাণিত হয় যে সালাহউদ্দিন আহমদকে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপহরণ করে ভারতে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল। তিনি নির্দোষ এবং অপহরণের শিকার-এই বিবেচনাতেই আপিলেও তাকে খালাস দেওয়া হয়।

খালাসের পরও দেশে ফিরতে সময় লাগে

ভারতের আপিল আদালতে খালাস পাওয়ার পরও তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফিরতে পারেননি সালাহউদ্দিন। ২০২৩ সালের ৮ মে তিনি ভ্রমণ অনুমোদনের জন্য আসাম রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেন। অনুমোদন পেলে দেশে ফিরে দেশবাসী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে চান বলে তখন জানিয়েছিলেন তিনি। এর আগে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতের আপিল আদালতেও তিনি খালাস পান এবং তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন আসে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরদিন, ৬ আগস্ট সালাহউদ্দিন আহমদ দেশে ফেরার জন্য ট্রাভেল পাস বা ভ্রমণ অনুমোদন পান। শেষ পর্যন্ত ওই বছরের ১১ আগস্ট তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগের বিষয়টি উঠে আসে। দেশে ফেরার প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ৫ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গুমের অভিযোগ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়। অন্যান্য আসামিরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম। এ ছাড়া আরও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়। এ মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দীর্ঘদিন গুম থাকার পর যারা পরবর্তীতে উদ্ধার হয়েছেন, তাদের ঘটনাগুলোও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদের ঘটনাটি তার মধ্যে অন্যতম।

তদন্তে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন আহমদকে ভারতে নেওয়ার প্রক্রিয়া, শিলংয়ে তার অবস্থান, তাকে উদ্ধারের ঘটনা এবং ভারতে হওয়া মামলার তথ্য-প্রমাণ, সবকিছুই তদন্তের আওতায় এসেছে। তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিবেদন দাখিলের কাছাকাছি চলে এসেছে প্রসিকিউশন। আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় মূল তথ্য-প্রমাণও পাওয়া গেছে। তবে কয়েকজনের বিষয়ে তদন্ত এখনও চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া নেওয়া হবে এবং সময়মতো এ বিষয়ে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম.

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে মালয়েশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:২৬ পি.এম


বাংলাদেশে ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়া বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যান (ইভি), সৌরবিদ্যুৎ এবং হালাল খাদ্যসহ বিভিন্ন সেক্টরে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

রবিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপান্তরিত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী ইভি, সৌরবিদ্যুৎ ও হালাল খাদ্যে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যান, সৌর প্যানেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং হালাল খাদ্য খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। মোট মিলিয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রস্তুতি চলছে। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, খুব শীঘ্রই এসব বিনিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে নতুন করে জনশক্তি নেওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন,

সেপ্টেম্বর থেকে ৬ মাসে মালয়েশিয়া প্রায় দুই লাখ শ্রমিক নেওয়ার

বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কোনো খরচ ছাড়াই নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দেখছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%