ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সওজের ৪০০ স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন হবে


সওজের ৪০০ স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন হবে

সরকারি স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যার আওতায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) চার শতাধিক স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি, অধিদপ্তরের অব্যবহৃত জায়গায়ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে মোট ৫ হাজার ১৪৪ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

সওজের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, "সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভবনের ছাদ ও অব্যবহৃত জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।"

সওজের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্থাপনায় ৪১০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় ৫০ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি

প্রধান প্রকৌশলী জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৮৪ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে দরপত্র আহ্বায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৯৬০ কিলোওয়াট সক্ষমতার ব্যবস্থা স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ২৪৪ কিলোওয়াট, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ১ হাজার ২০০ কিলোওয়াট, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১ হাজার ২০০ কিলোওয়াট এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে এক হাজার ৫০০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।

সওজের ভবনগুলোর ছাদে প্যানেল স্থাপনের পাশাপাশি অব্যবহৃত খালি জায়গায় মেগাওয়াট-স্কেলের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ জন্য প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে।

মো. মনিরুজ্জামান বলেন, "সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ বা জমি ব্যবহারের প্রয়োজন ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। দিনের বেলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে ব্যবহার করা গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয় এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে।"

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ বলেন, "বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে সৌর ও বায়ুশক্তির মতো পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে রূপান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো ২০৫০ সালের নেট-জিরো জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনেও অবদান রাখবে। এ ক্ষেত্রে সওজের ভূমিকা প্রশংসনীয়।"

স্রেডার তথ্য অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫-এ ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে সওজের এ উদ্যোগের সুফল নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, উৎপাদিত বিদ্যুতের যথাযথ ব্যবহার এবং ব্যয় সাশ্রয়ের হিসাব নিয়মিত মূল্যায়ন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আরও পড়ুন: নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের দাবি জানালো নিসচার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইয়ুব বাচ্চুর অপূর্ণ স্বপ্ন, ১৫ লাখ দর্শকের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে কনসার্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৭ এম


আইয়ুব বাচ্চুর অপূর্ণ স্বপ্ন, ১৫ লাখ দর্শকের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে কনসার্ট

আউল-বাউল ও লালনের দেশে ব্যান্ড সংগীতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম শিল্পী হলেন আইয়ুব বাচ্চু। অসাধারণ গায়কী ও গিটার বাজানোর দক্ষতা এবং নিজস্ব সংগীতভাষার মাধ্যমে তিনি শ্রোতাদের হৃদয় জয় করেছেন। তাঁর সাফল্যের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের অনেক সংগীতশিল্পীর পথচলায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে সংগীতজীবনে অসংখ্য অর্জনের পরেও কিছু স্বপ্ন তাঁর অপূর্ণ রয়ে গেছে।

আজ ১৮ অক্টোবর আইয়ুব বাচ্চুর অষ্টম প্রয়াণবার্ষিকী। ২০১৮ সালের এই দিনে বাংলা রক সংগীতের কিংবদন্তি ৫৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। প্রতিবছরের মতো এবারও তাঁর স্মরণে বিভিন্ন আয়োজন করা হবে। পারিবারিকভাবে তাঁকে স্মরণ করা হবে এবং আয়োজন করা হবে দোয়া মাহফিল। ব্যান্ড সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও নানা আয়োজনে এই শিল্পীকে স্মরণ করবেন।

আইয়ুব বাচ্চু কেবল একজন গায়ক বা গিটারবাদক ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন স্বপ্নদ্রষ্টা। নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি নতুনদেরও স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন। তাঁর অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনায় সংগীতজগতে অনেক শিল্পী জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁদের কাছে আইয়ুব বাচ্চু কেবল একজন তারকা নন, সংগীতের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণাও।

১৫ লাখ দর্শকের সামনে কনসার্টের স্বপ্ন ছিল আইয়ুব বাচ্চুর। মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি মানেই দর্শকের উচ্ছ্বাস। গানের পাশাপাশি গিটারের সুরে শ্রোতাদের মুগ্ধ করার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তাঁর। কনসার্ট নিয়ে এই শিল্পীর একটি বড় স্বপ্ন ছিল, যা বাস্তবায়িত হয়নি।

এক সাক্ষাৎকারে আইয়ুব বাচ্চু তাঁর স্বপ্নের কনসার্টের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বিশাল এক কনসার্ট আয়োজনের ইচ্ছা ছিল তাঁর। সেখানে দেশি-বিদেশি খ্যাতিমান সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করার পরিকল্পনা ছিল।

বিদেশি শিল্পীদের মধ্যে মার্কিন গিটারবাদক স্টিভ ভাই, জো সাত্রানি ও কার্লোস সান্টানা ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ব্রিটিশ ড্রামার আয়েন পেজও থাকবেন। বাংলাদেশের শিল্পীদের মধ্যে আইয়ুব বাচ্চুর পরিকল্পনায় ছিলেন জেমস, বেজবাবা সুমন ও মানাম আহমেদ।

স্বপ্নের সেই আয়োজনের ব্যাপ্তি বোঝাতে আইয়ুব বাচ্চু বলেছিলেন, "আমরা একটা স্লট বাজাবো, ঘণ্টা তিনেক ধরে। আর দর্শক থাকবে ১৫ লাখ। তাহলে সেটা হবে স্বপ্নের কনসার্ট।"

তার কল্পনায় এটি ছিল কেবল একটি কনসার্ট নয়, বরং বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের সক্ষমতা ও জনপ্রিয়তাকে বড় পরিসরে তুলে ধরার আয়োজন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।

গিটার ঘিরে আরেক স্বপ্ন

গিটারের প্রতি আইয়ুব বাচ্চুর ভালোবাসা ছিল আজীবনের। তিনি বিভিন্ন ধরনের দামি ও নামী গিটার সংগ্রহ করতেন। গিটার বাজানোর নিজস্ব দক্ষতা দিয়ে বাংলা রক সংগীতে তিনি তৈরি করেছিলেন স্বতন্ত্র পরিচয়।

তবে তিনি নিজের গিটারচর্চা ও সংগ্রহের মধ্যেই এই ভালোবাসাকে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি। তাঁর ইচ্ছা ছিল, এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার, যেখানে ছেলেমেয়েরা গিটারসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখতে পারবে। সেখান থেকে প্রশিক্ষিত শিল্পীরা এককভাবে কিংবা দল গঠন করে সংগীতজগতে নিজেদের প্রতিভার পরিচয় দেবেন।

নতুন সংগীতশিল্পী তৈরির এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের ব্যান্ড সংগীতের বিকাশে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু সেই উদ্যোগও পূর্ণতা পায়নি আইয়ুব বাচ্চুর জীবদ্দশায়।

যেভাবে হয়ে উঠলেন আইয়ুব বাচ্চু

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। পরিবারের অনিচ্ছা সত্ত্বেও সংগীতের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। ১৯৭৩ সালে বাবার কাছ থেকে গিটার পাওয়ার পর শুরু হয় সেই বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে তাঁর নিবিড় পথচলা।

কলেজজীবনে বন্ধুদের নিয়ে ‘গোল্ডেন বয়েজ’ নামে একটি ব্যান্ড গঠন করেন তিনি। স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান করত দলটি। ১৯৭৭ সালে যোগ দেন ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডে। সেখানে জেমসের সঙ্গে একই দলে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয় তাঁর।

১৯৮০ সালে আইয়ুব বাচ্চু যোগ দেন ‘সোলস’ ব্যান্ডে। দীর্ঘ সময় এই দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর ১৯৯১ সালে গড়ে তোলেন নিজের ব্যান্ড ‘এলআরবি’। একই বছরের এপ্রিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কনসার্টের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে দলটি।

১৯৯২ সালে এলআরবি প্রকাশ করে ‘এলআরবি ১’ ও ‘এলআরবি ২’ নামে দুটি অ্যালবাম। বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে এই দ্বৈত অ্যালবাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পরে ‘সুখ’ অ্যালবামের মাধ্যমে দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা পায় এলআরবি।

এরপর একে একে প্রকাশিত হয় ‘তবুও’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘আমাদের বিস্ময়’, ‘মন চাইলে মন পাবে’, ‘অচেনা জীবন’, ‘মনে আছে নাকি নাই’, ‘স্পর্শ’ ও ‘যুদ্ধ’-এর মতো অ্যালবাম। এসব গানের মধ্য দিয়ে বাংলা ব্যান্ড সংগীতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে এলআরবি।

ব্যান্ডের বাইরেও ছিল জনপ্রিয়তা

এলআরবির সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি একক শিল্পী হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন আইয়ুব বাচ্চু। তাঁর একক অ্যালবামের মধ্যে রয়েছে ‘রক্ত গোলাপ’, ‘ময়না’, ‘কষ্ট’, ‘সময়’, ‘একা’, ‘প্রেম তুমি কি!’, ‘পথের গান’ ও ‘জীবন’। সব মিলিয়ে ১৬টি একক অ্যালবাম প্রকাশ করেছিলেন তিনি। চলচ্চিত্রের গানেও ছিল তাঁর উপস্থিতি; অন্তত এক ডজন সিনেমায় প্লেব্যাক করেছেন এই শিল্পী।

আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠ, গিটার আর গান বাংলা সংগীতের শ্রোতাদের কাছে এখনো সমানভাবে স্মরণীয়। তাঁর প্রয়াণের পরও সেই জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। নতুন প্রজন্মের শ্রোতারাও তাঁর গান শুনছেন, গিটারের সুরে খুঁজে নিচ্ছেন নিজেদের আবেগের প্রকাশ।

সংগীতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক দেওয়া হয়েছে। জন্মশহর চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়ে তাঁর সম্মানে স্থাপন করা হয়েছে গিটার ভাস্কর্য।

জীবদ্দশায় আইয়ুব বাচ্চু নিজের স্বপ্নের কনসার্ট কিংবা সংগীতশিক্ষার প্রতিষ্ঠান- কোনোটিই বাস্তবায়ন করতে পারেননি। তবে তাঁর গান, গিটারের সুর এবং নতুন শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করার উত্তরাধিকার রয়ে গেছে। মৃত্যুর সাত বছর পরও শ্রোতাদের ভালোবাসায় বেঁচে আছেন ‘রূপালি গিটার’-এর এই জাদুকর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সে সহিংসতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করলেন ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৮ এম


ফ্রান্সে সহিংসতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করলেন ভ্যান্স

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভের সময় সহিংসতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করেছেন।

তিনি শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে এই মন্তব্য করেন। পোস্টের সঙ্গে তিনি ফ্রান্সের লিমোজ শহরের সিটি হল ভবনে আগুন জ্বলতে থাকা একটি ভিডিও শেয়ার করেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে উল্লেখ করেছেন, ‘বৈচিত্র্য ও সহমর্মিতার নামে পশ্চিমা উদারপন্থীরা ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশে তৃতীয় বিশ্বের মানুষদের নিয়ে এসেছেন। তারা অভিবাসীদের স্থানীয় সমাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং তাদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে স্থানীয় সমাজের সামঞ্জস্যের মতো মৌলিক বিষয়গুলো উপেক্ষা করেছেন। তাদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল, এর পরিণতি এমন হতে পারে। কিন্তু তাঁরা সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্রান্স একটি সুন্দর দেশ, যার মানুষ অসাধারণ। আমি প্রার্থনা করি, আরও ঐতিহাসিক স্থাপনা আগুনে পুড়ে যাওয়ার আগেই দেশটি যেন এই উন্মত্ততা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালমনিরহাটে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ, বিজিবির বাধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১০ এম


লালমনিরহাটে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ, বিজিবির বাধা

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী বামনদল সীমান্তের মাধ্যমে নারী ও শিশু সহ মোট ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশ্যে চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কার্যকর বাধার কারণে তাদের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

বর্তমানে এই ১২ জন ভারতের অভ্যন্তরে সীমান্তের নিকটবর্তী স্থানে অবস্থান করছেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহিনুল ইসলাম।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বুড়িমারী বামনদল সীমান্তের ৮৩৮/১ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় বিএসএফ একযোগে ২ শিশু, ২ নারী এবং ৮ পুরুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং তাদের বাধার সম্মুখীন করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই ১২ জন বর্তমানে সীমান্তের প্রায় ১০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।

এ বিষয়ে ৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহিনুল ইসলাম জানান, বিএসএফের পুশইনের চেষ্টার বিরুদ্ধে বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অরেগনের স্কুলে গুলিতে নিহত ৪, আহত ২; শোকে স্তব্ধ শহর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১১ এম


অরেগনের স্কুলে গুলিতে নিহত ৪, আহত ২; শোকে স্তব্ধ শহর

যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে তিন শিশু ও এক শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেন্ড শহরের সিলভার রেইল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই হামলার পর আহত এক শিক্ষক ও এক শিশু এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের বেঁচে থাকা স্বজন ও পরিচিতদের মনে কিছুটা আশার আলো জোগাচ্ছে, যদিও শোকের পরিবেশ বিরাজমান।

আহতদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট সাত বছর বয়সী সেলর গ্রাহাম। জিনগত সমস্যার কারণে সাধারণত হুইলচেয়ারে চলাফেরা করে সে এবং কথা বলতেও পারে না। তবে তার প্রাণবন্ত স্বভাব ও হাসিমুখ অনেকের মন ছুঁয়ে গেছে। শিশুদের চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনে সহায়তা করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্প্যারো ক্লাবসের নির্বাহী পরিচালক ম্যাট স্যাম্পসন জানিয়েছেন, শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সেলর চোখ ও বিশেষ কম্পিউটার ট্যাবলেটের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে সক্ষম।

আহত শিক্ষক ৫৪ বছর বয়সী বেকি ড্রুরি হাত ও বাহুতে আঘাত নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার পরিবারের এক ঘনিষ্ঠজনের মতে, তিনি দ্রুত বাড়ি ফেরার আশা করছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ১৬ বছর বয়সী সাবেক শিক্ষার্থী গ্রিফিন জে জন দ্বিতীয় বিদ্যালয়টির বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শ্রেণিকক্ষে ঢুকে গুলি চালায়। এতে পাঁচ, আট ও ১১ বছর বয়সী তিন শিশু এবং ২৫ বছর বয়সী শিক্ষিকা মেগান ল্যামবার্ট নিহত হন।

এ সময় এক শিক্ষক বন্দুকধারীর কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে দুই শিক্ষার্থীর বাবা সেখানে এসে বন্দুকধারীকে গুলি করে হত্যা করেন। তাদের সাহসী ভূমিকার কারণে আরও অনেকের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিদ্যালয়ের বাইরে ফুল, খেলনা ও বেলুন রেখে নিহতদের স্মরণ করেন স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষকরা। নিহত শিক্ষিকা মেগান ল্যামবার্টের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও প্রশিক্ষক। খেলাধুলার খরচ বহন করতে না পারা শিশুদের বৃত্তি দেওয়ার জন্য নিজের প্রশিক্ষকের পারিশ্রমিকও ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি।

একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে হাসপাতালে জীবনযুদ্ধে থাকা শিক্ষক ও শিশুকে ঘিরে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে অরেগনের এই ছোট্ট শহর এখন গভীর বেদনায় আচ্ছন্ন। পুলিশ হামলার উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে।

সূত্র: এপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%