ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘আয়নাঘর’ থেকে শিলং, তদন্তে উঠে এলো সালাহউদ্দিনকে গুমকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য


‘আয়নাঘর’ থেকে শিলং, তদন্তে উঠে এলো সালাহউদ্দিনকে গুমকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য

দীর্ঘ ১১ বছর পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের অভিযোগের তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাকে উত্তরার বাসা থেকে তুলে নেওয়ার পর কিভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

তদন্তের অংশ হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে ভারতে করা ফরেনার্স অ্যাক্টের মামলার নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই মামলার বিচার চলাকালে ভারতীয় আদালতে দেওয়া বিভিন্ন সাক্ষ্য ও বক্তব্যও পর্যালোচনা করছে প্রসিকিউশন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় মূল তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। অনেক আসামি ইতোমধ্যে কারাগারে রয়েছেন এবং আরও কয়েকজনের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

২০১৫ সালে উত্তরার বাসা থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে তৎকালীন বিএনপির মুখপাত্র সালাহউদ্দিন আহমদকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ। ওই সময় তিনি নিখোঁজ ছিলেন। প্রায় দুই মাস পর, একই বছরের ১১ মে, ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে স্থানীয় পুলিশের হাতে উদ্ধার হন সালাহউদ্দিন। তখন ভারতীয় পুলিশ জানিয়েছিল, শিলংয়ে তাকে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন: ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশ গঠনের লক্ষ্যে বিএনপি: প্রতিমন্ত্রী টুকু

পাসপোর্ট বা বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকায় তার বিরুদ্ধে ভারতের ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারায় মামলা করা হয়। চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, সালাহউদ্দিনকে বাংলাদেশ থেকে কী প্রক্রিয়ায় ভারতে নেওয়া হয়েছিল, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতে তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলার অনুলিপি ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় আদালতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণও সংগ্রহের কাজ চলছে।

ভারতীয় আদালতের নথিতে কী পাওয়া গেছে

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের আদালতে সালাহউদ্দিন আহমদের নিজের বক্তব্যের পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের পক্ষে দেওয়া বক্তব্য, তাকে চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসকের বক্তব্য এবং তাকে উদ্ধারের পর পুলিশের কাছে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্য রয়েছে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে প্রসিকিউশনের দাবি, সালাহউদ্দিন আহমদ স্বেচ্ছায় ভারতে যাননি। বরং বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ভারতে ছেড়ে দিয়েছিল।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৬১ দিন তাকে টিএফআই সেলে আটক রাখা হয়েছিল, যেটি ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত। এরপর তাকে মেঘালয়ের শিলংয়ে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখানে তিনি ট্রমাটাইজড অবস্থায় ঘোরাফেরা করছিলেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কারণে প্রথমে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর বৈধ পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি না থাকায় তার বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারায় মামলা করা হয়।

আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগে আইনের ব্যত্যয় হয়নি: অ্যাটর্নি জেনারেল

আদালতের রায়েও উঠে আসে অপহরণের বিষয়

২০১৫ সালের ২২ জুলাই ভারতের নিম্ন আদালতে সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার বিচার শেষে ২০১৮ সালে তিনি খালাস পান। চিফ প্রসিকিউটরের দাবি, ওই মামলায় ভারতীয় পুলিশের সাক্ষীরাও আদালতে স্বীকার করেছিলেন যে, সালাহউদ্দিনকে বাংলাদেশ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপহরণ করে ভারতে নিয়ে গিয়ে সেখানে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

সালাহউদ্দিনের পক্ষে দেওয়া সাক্ষ্য এবং ভারতীয় পুলিশের সাক্ষ্য- দুই পক্ষের বক্তব্যেই তিনি স্বেচ্ছায় ভারতে প্রবেশ করেননি বলে প্রমাণিত হয় বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভারতীয় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দেন। নিম্ন আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ভারত সরকার আপিল করে। তবে আপিল আদালতও আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। তার ভাষ্য, আপিল পর্যায়েও প্রমাণিত হয় যে সালাহউদ্দিন আহমদকে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপহরণ করে ভারতে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল। তিনি নির্দোষ এবং অপহরণের শিকার-এই বিবেচনাতেই আপিলেও তাকে খালাস দেওয়া হয়।

খালাসের পরও দেশে ফিরতে সময় লাগে

আরও পড়ুন: রাশেদ খাঁন: হাজার ডিসেম্বর গেলেও হাসিনা ফিরবেন না

ভারতের আপিল আদালতে খালাস পাওয়ার পরও তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফিরতে পারেননি সালাহউদ্দিন। ২০২৩ সালের ৮ মে তিনি ভ্রমণ অনুমোদনের জন্য আসাম রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেন। অনুমোদন পেলে দেশে ফিরে দেশবাসী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে চান বলে তখন জানিয়েছিলেন তিনি। এর আগে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতের আপিল আদালতেও তিনি খালাস পান এবং তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন আসে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরদিন, ৬ আগস্ট সালাহউদ্দিন আহমদ দেশে ফেরার জন্য ট্রাভেল পাস বা ভ্রমণ অনুমোদন পান। শেষ পর্যন্ত ওই বছরের ১১ আগস্ট তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগের বিষয়টি উঠে আসে। দেশে ফেরার প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ৫ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গুমের অভিযোগ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়। অন্যান্য আসামিরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম। এ ছাড়া আরও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়। এ মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ১৩ জেলায় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক পদে ১৩ উপসচিবের পদায়ন

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দীর্ঘদিন গুম থাকার পর যারা পরবর্তীতে উদ্ধার হয়েছেন, তাদের ঘটনাগুলোও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদের ঘটনাটি তার মধ্যে অন্যতম।

তদন্তে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন আহমদকে ভারতে নেওয়ার প্রক্রিয়া, শিলংয়ে তার অবস্থান, তাকে উদ্ধারের ঘটনা এবং ভারতে হওয়া মামলার তথ্য-প্রমাণ, সবকিছুই তদন্তের আওতায় এসেছে। তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিবেদন দাখিলের কাছাকাছি চলে এসেছে প্রসিকিউশন। আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় মূল তথ্য-প্রমাণও পাওয়া গেছে। তবে কয়েকজনের বিষয়ে তদন্ত এখনও চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া নেওয়া হবে এবং সময়মতো এ বিষয়ে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম.

আরও পড়ুন: শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে মালয়েশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:২৬ পি.এম


বাংলাদেশে ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়া বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যান (ইভি), সৌরবিদ্যুৎ এবং হালাল খাদ্যসহ বিভিন্ন সেক্টরে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

রবিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপান্তরিত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী ইভি, সৌরবিদ্যুৎ ও হালাল খাদ্যে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যান, সৌর প্যানেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং হালাল খাদ্য খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। মোট মিলিয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রস্তুতি চলছে। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, খুব শীঘ্রই এসব বিনিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে নতুন করে জনশক্তি নেওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন,

সেপ্টেম্বর থেকে ৬ মাসে মালয়েশিয়া প্রায় দুই লাখ শ্রমিক নেওয়ার

বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কোনো খরচ ছাড়াই নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দেখছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাধীন দেশে কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না : রাষ্ট্রপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৩২ পি.এম


স্বাধীন দেশে কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত ক্ষমতাবানই হোক, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

 

রবিবার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এ স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।’

গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গুম কোনো সাধারণ অপরাধ নয়।

 

এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। গুম শুধু একজন মানুষকে কেড়ে নেয় না; কেড়ে নেয় প্রিয়জনদের হাসি, শান্তি, স্বপ্ন, অর্থনৈতিক-সামাজিক স্বস্তি। এ এক জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে।

 

গুম-খুনের মাধ্যমে এসব অধিকার একসঙ্গে লঙ্ঘন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম ও গোপন বন্দিশালার দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের ওপর চেপে বসেছিল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ভিন্নমত প্রকাশ কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন করলে অনেককে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে, এমনকি গোপনে হত্যা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলী, ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম, ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ অগণিত মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এখনো বেদনা, অনিশ্চয়তা ও প্রতীক্ষার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

 

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ ভিন্ন মতাবলম্বী কর্মকর্তা, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, গৃহবধূ ও সাধারণ নাগরিকদের বছরের পর বছর আয়নাঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও গুম করে ভিনদেশে ফেলে আসা হয়েছিল। তাঁদের কেউ কেউ ফিরে এলেও অনেকে এখনো নিখোঁজ।’

গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কমিশন এক হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত। নির্বাচনের আগে গুম বেড়ে যাওয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের বেছে বেছে গুম ও গোপনে হত্যার চিত্রও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘কমিশনের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে তবে পথ এখনো অনেক দীর্ঘ। গুমের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারকে রক্ষা এবং গুম চিরতরে নিষিদ্ধ করতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে।’

গুমের শিকার পরিবারগুলোর দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। বছরের পর বছর প্রিয়জনের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্বও রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুইজারল্যান্ডে বন্দুক হামলায় নিহত ১, আহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৩৪ পি.এম


সুইজারল্যান্ডে বন্দুক হামলায় নিহত ১, আহত ৫

সুইজারল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে একটি বন্দুক হামলায় একজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

 

স্থানীয় পুলিশ ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির কাছে

এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

রবিবার সকালে স্থানীয় সময় সুইস পুলিশ জানায়, আরাউ শহরের একটি হিপোড্রোমে আয়োজিত রেভ পার্টিতে হামলার ঘটনা ঘটে। তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে পরপর কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়।

সুইস পুলিশ জানায়, হামলার ঘটনা আরাউ শহরের হিপোড্রোমে রেভ পার্টির সময় ঘটে।

 

ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভিডিওতে পরপর গুলির শব্দ শোনা যায়।

আরগাউ ক্যান্টন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলাকারীকে ধরার জন্য অভিযান চলছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ভিডিও বা ছবি থাকলে তা পুলিশের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সুইজারল্যান্ডে ব্যক্তিগত অস্ত্রের মালিকানার হার অন্যতম বেশি।

 

তবে দেশটিতে এ ধরনের সহিংস বন্দুক হামলা তুলনামূলকভাবে বিরল। ২০১৯ সালে দেশটি আরো কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন অনুমোদন করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় তুলার গুদামে আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৩৫ পি.এম


ঢাকায় তুলার গুদামে আগুন

রাজধানীর খিলগাঁও থানার বাসাবো এলাকায় একটি ঝুট তুলার টিনশেড গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের প্রায় আধা ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে বাসাবোর ওই ঝুট তুলার গোডাউনে আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পাওয়ার পর খিলগাঁও ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এবং বেলা ১২টা ৪ মিনিটে সেখানে পৌঁছায়। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপ ও তৎপরতার মাধ্যমে দুপুর ১২টা ২৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

তাত্ক্ষণিকভাবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্ত শেষে আগুন লাগার কারণ এবং আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%