০১:২২ পি.এম
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, ঢাকায় ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য আটটি আলাদা জোন তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনের জন্য ই-রিকশার আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে। এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে না পারে, সেই ব্যবস্থাও রাখা হবে। এর পাশাপাশি, প্রধান সড়কে ই-রিকশার চলাচল নিষিদ্ধ করা হবে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা বিন ওসমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট আটটি জোনে ই-রিকশার চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। কোন ই-রিকশা কোন সড়কে চলবে, সেটি সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে নির্ধারণ করবে। ই-রিকশা শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচল করতে পারবে।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত
তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকায় দুই ও চার যাত্রী বহন করতে সক্ষম এমন ই-রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ছয় যাত্রী বহনকারী ই-রিকশাকে ঢাকা শহরে নিবন্ধন দেওয়া হবে না। জেলা শহর ও গ্রামীণ এলাকায় দুই, চার ও ছয় যাত্রী বহনকারী ই-রিকশার নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে।
মীর শাহে আলম জানান, ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা তৈরির কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, নীতিমালাটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং সম্পন্ন হওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যে অথবা যত দ্রুত সম্ভব, এটি জারি করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত নীতিমালায় ই-রিকশা নিবন্ধনের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অথবা সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখার প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার কথা রয়েছে। এর পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস সনদও প্রয়োজন হবে।
তিনি জানান, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা ই-রিকশার নিবন্ধন প্রদান করবে। ই-রিকশা তৈরির কারখানাগুলোকেও নির্দিষ্ট ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। বুয়েট বা অন্য কোনো প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ই-রিকশা তৈরি করতে হবে। কারখানার জন্য সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে লাইসেন্স গ্রহণ করা আবশ্যক।
আরও পড়ুন: সঙ্গীতশিল্পী আসিফের গাড়িতে গুলি চালানো হয়েছে
চার্জিং ব্যবস্থার বিষয়ে নীতিমালায় শর্ত রাখা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে ই-রিকশার চার্জিং পয়েন্টগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব চার্জিং পয়েন্টের জন্যও সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে।
তিনি বলেন, নির্ধারিত নকশা ও কারিগরি মান মেনে তৈরি ই-রিকশাই নিবন্ধনের আওতায় আসবে। নীতিমালা জারি হলে ই-রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
ঢাকার যানজট ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, এসব সমস্যা দীর্ঘদিনের। একসঙ্গে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য সময় প্রয়োজন।
তিনি জানান, বাসস্ট্যান্ডের বাইরে গাড়ি পার্কিং বন্ধ করা এবং ঢাকার পাইকারি কাঁচাবাজার শহরের বাইরে স্থানান্তরের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব উদ্যোগের দৃশ্যমান ফল পেতে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবের ৩ শহরে জরুরি সতর্কতা জারি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন