ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পাহাড় ঘিরে ভারতের নিয়ন্ত্রণের লড়াই, ৩,০০০ পর্যটককে উদ্ধার করতে সেনাবাহিনী বিপদে


পাহাড় ঘিরে ভারতের নিয়ন্ত্রণের লড়াই, ৩,০০০ পর্যটককে উদ্ধার করতে সেনাবাহিনী বিপদে

সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলির মুখে সেনাবাহিনী পাহাড়ি সড়কে আটকে পড়া প্রায় ৩,০০০ পর্যটককে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে বিপদে পড়েছে। এই ঘটনার পর পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা, দুর্গম এলাকায় সেনা উপস্থিতি, সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যকলাপ এবং রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে পাহাড়ে নেওয়া নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, পর্যটকদের উদ্ধার করতে গেলে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সদস্যরা গুলি ছোড়ে। নিরাপত্তা বাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়। গুলি বিনিময়ের মধ্যে পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। ইউপিডিএফের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, ইউপিডিএফকে ভারত নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক, এবং সবাই ভারতে প্রশিক্ষিত। তারা পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার

এর আগে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশ দেন। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে পর্যটনকেন্দ্র আবার খুলে দেওয়া হবে। বাঘাইহাট জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারিকুল ইমরান জানান, পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে রাজনীতি করা বিএনপির সাবেক নেতা একরামুল করিম মনে করেন, পাহাড়ে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক উপস্থিতি জোরদারে জিয়ার আমলে যে কৌশল নেওয়া হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, জিয়ার ছেলে তারেক রহমান এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তার রয়েছে।

একরামুল সেনাক্যাম্প বাড়ানো, অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব সুদৃঢ় করার পক্ষে মত দেন। তার বক্তব্য, কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী অস্ত্রের জোরে নিজস্ব কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে রাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। কোথায় সেনাক্যাম্প দরকার, কোথায় সীমান্ত নজরদারি বাড়াতে হবে, কোন এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতার ঝুঁকি বেশি—এসব বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সাজেকের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না। তবে একই সঙ্গে সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালি জনগণের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করাও জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন: কুমিল্লার আদালতে মহিলা আ.লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, আটক

জিয়াউর রহমানের আরেক সহযোদ্ধা ও বিবিসি বাংলার সাবেক আঞ্চলিক সংবাদদাতা জাহিদুর করিম কচি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত রাখা এবং অঞ্চলটির ওপর রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে জিয়ার সময়কার পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার মতে, দুর্গম ও সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা উপস্থিতি কার্যকর না রাখা গেলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে বর্তমানের উপযোগী পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

কচির মতে, নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রম, যোগাযোগব্যবস্থা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. এম শাহিদুজ্জামান সামরিক সক্ষমতা, সীমান্ত সুরক্ষা ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, পাহাড় নিয়ে সরকারের এখনই ভাবা দরকার এবং সেখানে সেনা ক্যাম্প বাড়ানো প্রয়োজন।

শান্তিচুক্তির পর প্রত্যাহার ২০০ ক্যাম্প

আরও পড়ুন: কালীগঞ্জে ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের প্রমাণ, ৫ জনের কারাদণ্ড

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সই হওয়ার পর অঞ্চলটি থেকে অস্থায়ী সেনাক্যাম্প প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়। চুক্তির ১৭ নম্বর ধারায় কিছু স্থায়ী সেনা স্থাপনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অবস্থান বাদে অস্থায়ী ক্যাম্প পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের বিধান আছে। আবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা জরুরি প্রয়োজনে বেসামরিক প্রশাসনের অধীন নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের সুযোগও রাখা হয়েছে।

২০০৯ সালের ২৯ জুলাই শেখ হাসিনা সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে এক ব্রিগেড সেনাসদস্য এবং তিনটি পদাতিক ব্যাটালিয়নসহ ৩৫টি অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তির বরাতে তখনকার গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে শান্তিচুক্তির পর বিভিন্ন পর্যায়ে ২০০টি ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

একই বছরের ২০ আগস্ট তৎকালীন ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল শামীম চৌধুরী জানান, ১৯৯৮-২০০৮ সালের মধ্যে ২০০টি সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে। ক্যাম্প প্রত্যাহার চলমান প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজন হলে সেখানে আবার সেনা মোতায়েন করা যেতে পারে। ওই বছরের ৮ আগস্টের এক প্রতিবেদনে খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি এলাকায় মগাইছড়ি ও ড্যাশবিলের দুটি ক্যাম্প প্রত্যাহারের খবরও প্রকাশিত হয়।

এক বছরে ১২০ নিহত, আলোচনায় ইউপিডিএফ

আরও পড়ুন: বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকেরা বিএনপির রাজনীতিতে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন

চলতি বছরের আগস্টে ঢাকায় ‘রিস্টোরিং পিস অ্যান্ড সভরেনটি ইন দ্য চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস’ শীর্ষক সেমিনারে পার্বত্য চট্টগ্রামের সংঘাতের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। এক্স ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লেফটেন্যান্ট (অব) সাইফুল্লাহ খান সাইফ সেখানে জানান, গত এক বছরে ইউপিডিএফ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও সংঘাতে অন্তত ১২০ জন নিহত হয়েছেন। তার উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, এ সময়ে ৯৬টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ২১ হাজার গুলি বিনিময় হয়েছে। অধ্যাপক শাহিদুজ্জামান বলেন, এ হিসাব পাহাড়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।

সাজেকের সাম্প্রতিক গুলিবর্ষণ ও অবরোধের পর আলোচনায় এসেছে ইউপিডিএফ। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে সংগঠনটির বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদাবাজি, হত্যা ও সশস্ত্র তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনটি এসব অভিযোগের বড় অংশ অস্বীকার করে। তারা নিজেদের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচয় দেয়।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার ও জেএসএসের সন্তু লারমার মধ্যে শান্তিচুক্তি সই হয়। এর বিরোধিতা করেই ইউপিডিএফের যাত্রা। সংগঠনটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রস্তুতি সম্মেলনের মাধ্যমে দলটি গঠিত হয়। সম্মেলনে প্রসীত বিকাশ খীসা আহ্বায়ক ও রবিশংকর চাকমা সদস্যসচিব হন। দলটি পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের মাধ্যমে জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের কথা বলে এবং চুক্তিকে অপূর্ণাঙ্গ মনে করে। চুক্তি-সমর্থক জেএসএসের সঙ্গে তাদের বিরোধ সেই থেকে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনীতির একটি বড় বিষয়।

অপহরণ ও চাঁদাবাজির

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে শীতলা মন্দিরের জমি উদ্ধারের দাবিতে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, গত বছরের এপ্রিলে রাঙামাটির নানিয়ারচরে ডেনমার্কের উন্নয়ন সংস্থা ড্যানিডার তিন কর্মকর্তার অপহরণ থেকে শুরু করে বৈসাবি উৎসবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীর অপহরণ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনা প্রসীত খীসার ইউপিডিএফের কাজ।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন রাঙামাটির কাউখালীর কলমপতি ইউনিয়নে তিনজন অপহৃত হন। নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ইউপিডিএফের প্রসীত অংশ (মূল দল) তাদের অপহরণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সেনাবাহিনীর তৎপরতায় তাদের উদ্ধার করা হয়। চলতি বছরের ২৪ জুলাই খাগড়াছড়ির দীঘিনালার বাবুছড়া ইউনিয়নে ইউপিডিএফের সশস্ত্র দল ৫২ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়।

একই সময়ে আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দীঘিনালার কৃপাপুর এলাকায় মধ্যরাতে চাঁদা আদায়ের সময় ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের এক সশস্ত্র সদস্যকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, ভারতীয় ও চীনা মুদ্রাসহ নগদ টাকা, রাষ্ট্রবিরোধী লিফলেট ও চাঁদার রসিদ বই পাওয়া গেছে।

গত বছরের ৭ মার্চ কাউখালীর হাজাছড়ি এলাকায় অভিযানের কথা জানায় সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, সেনাসদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ইউপিডিএফ (মূল) সদস্যরা পালিয়ে যান। পরে একটি পিস্তল, ১৭ রাউন্ড গুলি, বাইনোকুলার, ওয়াকিটকি, হার্ডডিস্ক, ইউনিফর্ম ও চাঁদা আদায়ের রসিদ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: দিরাই বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক আব্দুর শহিদ চৌধুরীর নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

একই বছরের ৬ অক্টোবর ভোরে খাগড়াছড়ির পানছড়ির যুবনেশ্বর পাড়ায় অভিযান চলে। সেনাবাহিনীর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শীর্ষ স্থানীয় গ্রুপ কমান্ডার সুমেন চাকমা পালিয়ে যান। সেখান থেকে একটি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি, ওয়াকিটকি চার্জার, মোবাইল ফোন ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে খাগড়াছড়িতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়ায়। এর পর আইএসপিআর দাবি করে, ২৮ সেপ্টেম্বর ইউপিডিএফের সশস্ত্র ক্যাডাররা বর্মাছড়ির বিভিন্ন পাড়া থেকে রামসু বাজারে এসেছিল। অক্টোবরের শেষে আর্য কল্যাণ বিহারে নাশকতার পরিকল্পনার কথাও তাদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

সেনাক্যাম্প স্থাপন নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্মাছড়ির সংশ্লিষ্ট জায়গা রাষ্ট্রের খাস বনভূমি। তাদের অভিযোগ, ইউপিডিএফ সেটিকে মন্দিরের জায়গা বলে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে। জায়গার মালিকানা ও চরিত্র নিয়ে ইউপিডিএফের ভিন্ন অবস্থান রয়েছে। আইএসপিআর ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণের এসব দাবি স্বাধীন সূত্রে যাচাই হয়েছে, এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভাষ্য, ইউপিডিএফ (মূল) সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিক্ষা ব্যবস্থায় আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করছে এবং প্রাথমিক থেকে কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ‘জাতীয়তাবিরোধী’ চিন্তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একই প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংগঠনটি নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠলেও এ নিয়ে সরকারের মাথাব্যথা কম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্যারিসে রাতের কারফিউ ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৯ এম


প্যারিসে রাতের কারফিউ ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের দুটি নির্দিষ্ট এলাকায় রাতের কারফিউ সোমবার (২৬ অক্টোবর) পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। পুলিশের কর্তৃপক্ষ সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্যারিস পুলিশ প্রিফেকচার বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কারফিউয়ের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ঘোষণা দেয়। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে প্লাস দে লা রিপাবলিকের কেন্দ্রীয় চত্বর এবং লে আল এলাকার নির্দিষ্ট কিছু সড়ক ও সংলগ্ন অংশ। ২২ অক্টোবর রাত থেকে ২৬ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত প্রতিদিন এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।

কারফিউটি প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক সবার জন্য প্রযোজ্য। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা, কর্মস্থলে যাতায়াতকারী, ব্যবসায়ী এবং জরুরি সেবার কর্মীদের জন্য ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। তাঁরা প্রয়োজনের সপক্ষে প্রমাণ দেখিয়ে চলাচল করতে পারবেন।

গত ১৭ অক্টোবর জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। প্যারিসের পাশাপাশি লিয়ঁ ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এর পর ১৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সীমিত পরিসরে কারফিউ জারির নির্দেশ দেন।

এদিকে ২৪ ও ২৫ অক্টোবর নতুন বিক্ষোভের কর্মসূচি থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্যদের উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। ফ্রান্সের বাণিজ্যমন্ত্রী সের্ঝ পাপাঁর হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে অন্তত তিন হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লুটপাটের শিকার হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফরিদপুরে সরকারি খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ড্রেজার মালিকের ‘চুরি’ স্বীকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩০ এম


ফরিদপুরে সরকারি খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ড্রেজার মালিকের ‘চুরি’ স্বীকার

ফরিদপুরের সদরপুরে সরকারি খাল থেকে ড্রেজার ব্যবহার করে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে খালের পাড়, সংলগ্ন কৃষিজমি এবং আশপাশের সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কোকারাম সরকারের কান্দি গ্রামের রামনগর খালে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাজল ও মুন্নাফ নামের দুই ব্যক্তি সেখানে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে খালের পাড় ভেঙে যাওয়া, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং আশপাশের সড়ক ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে খালের স্বাভাবিক পরিবেশ ও নাব্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তারা সতর্ক করেছেন যে, এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে এলাকার কৃষিজমি ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

কোকারাম সরকারের কান্দি এলাকার এক কৃষক বলেন, "এ অঞ্চলের মানুষের প্রতিবছরই পদ্মা নদীর ভাঙনের শিকার হতে হয়। এর মধ্যে আবার প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালু তুলছেন। এতে খালের পাশের কৃষিজমি সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা এসব বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।"

ড্রেজার মালিক মুন্নাফ শেখের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "এখান থেকে চুরি করে বালু উত্তোলন করছি। সরকারি কোনো অনুমোদন নেই।"

ড্রেজার মালিক কাজল বলেন, "এভাবে বালু উত্তোলনে কোনো অনুমোদন লাগে না। এটা সরকারি জায়গা নয়, ব্যক্তিগত জমি।"

সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিন বলেন, "সরকারি খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তাল তিউনিসিয়া, পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩০ এম


উত্তাল তিউনিসিয়া, পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ

তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিস এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জেবিনিয়ানায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার, পুলিশি হেফাজতে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়ার কারণে দুই ব্যক্তির মৃত্যুর পর এই অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে।

রাজধানীর উপকন্ঠ ইততাদামেন এলাকায় বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করে, টায়ারে আগুন ধরিয়ে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে। নিহত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদক গিলে ফেলার পর ওই ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে।

জেবিনিয়ানায় নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়ার সময় এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর বিক্ষোভ শুরু হয়। একই সময়ে, স্ফাক্স শহরে এক ছাত্রীকে হাসপাতালে নিতে অ্যাম্বুলেন্সের দেরি হওয়ায় তার মৃত্যুর অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে নেমে আসে।

বিক্ষোভকারীরা একটি গাড়িতে আগুন দেয় এবং টায়ার পোড়ায়, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

অর্থনৈতিক সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জনসেবার অবনতি এই বিক্ষোভগুলোর পেছনে কারণ হিসেবে কাজ করছে, যা তিউনিসিয়ায় নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। এর আগে, শনিবার প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ক্ষুণ্ন এবং অর্থনীতি সামাল দিতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে রাজধানীতে বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার পূর্ব নাখালপাড়ায় ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল রোজিনার নিথর দেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩০ এম


ঢাকার পূর্ব নাখালপাড়ায় ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল রোজিনার নিথর দেহ

ঢাকার পূর্ব নাখালপাড়ার একটি বাসা থেকে রোজিনা খাতুন (৩২) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর নিহতের স্বামী আরিফ ও তার স্কুলপড়ুয়া দুই ছেলেকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে পূর্ব নাখালপাড়ার ৩০০/বি নম্বর বাসা থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোজিনা সপরিবার পূর্ব নাখালপাড়ায় বসবাস করতেন। তার স্বামী আরিফ হাসান বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবসা করেন। তাদের দুটি স্কুলপড়ুয়া ছেলে রয়েছে। জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আরিফ হাসানকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গৃহবধূর মৃত্যু সন্দেহজনক। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, রোজিনার মরদেহ মেঝেতে পড়ে ছিল। তার গলায় ফাঁস লাগানোর চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় রোজিনার স্বামী আরিফ হাসান বাসায় উপস্থিত ছিলেন। তাকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তার কথাবার্তা অসংলগ্ন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর রোজিনার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%