সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:১৩ পি.এম
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা অভিনন্দন প্রস্তাব পাস করেছে। এছাড়া, মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছে মন্ত্রিসভা।
আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণ উপলক্ষে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন প্রস্তাব পাস করা হয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত, যা বাংলাদেশের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রেখেছেন, যেখানে তাঁর পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ২৬ আগস্ট ১৯৮০ তারিখে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রেখেছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রীর মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১ অক্টোবর ১৯৯৩ তারিখে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে বক্তব্য রেখেছিলেন। একই পরিবারের তিনজন সদস্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করা বিশ্ব ইতিহাসে একটি অনন্য ঘটনা।
চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী ৩২টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচি ও সভায় অংশগ্রহণ করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ প্রদানের পাশাপাশি তিনি ৭টি উচ্চ-পর্যায়ের সভায় বক্তব্য রেখেছেন, ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে বিশ্ব পরিসরে তুলে ধরেছে এবং দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে, মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে।
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’-এর ধারা ৬৪-তে নিম্নরূপ সংশোধনের জন্য ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতি তিন কর মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করার বিধানের পরিবর্তে প্রত্যেক কর মেয়াদের জন্য মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করার বিধান পুনঃপ্রবর্তন করা হয়েছে।
১৫তম দিবসে সরকারি ছুটি থাকলে তৎপরবর্তী কার্যদিবসে দাখিলপত্র পেশ করতে হবে। কোনো সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বীমা এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ২০ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করতে পারবে। মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪-তে সংশোধনের জন্য ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতি তিন কর মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করার বিধানের পরিবর্তে প্রত্যেক কর মেয়াদের জন্য মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করার বিধান পুনঃপ্রবর্তন করা হয়েছে।
১৫তম দিবসে সরকারি ছুটি থাকলে তৎপরবর্তী কার্যদিবসে দাখিলপত্র পেশ করতে হবে। কোনো সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বিমা এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ২০ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করতে পারবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের কাছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি বিশেষ অনুরোধ আবু ধাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার পূর্বে ইসরায়েলকে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি—এমন একটি আনুষ্ঠানিক অস্বীকারসূচক বিবৃতি আদায়ের জন্য নেতানিয়াহু চেষ্টা করেছিলেন ইউএই-র কাছে। তবে ইউএই এই অনুরোধকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করে তা নাকচ করে দিয়েছে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনের সূত্রে জানা যায়, গতকাল আবু ধাবি বিমানবন্দরে ইউএই প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি ঝটিকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে বারবার বৈঠকের দিনক্ষণ চাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইউএই প্রেসিডেন্টকে রাজি করানো, যাতে তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন যে— ৭ অক্টোবরের হামলার আগে তিনি নেতানিয়াহুকে কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা দেননি।
তবে ইউএই কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির টানাপোড়েনে জড়াতে ইচ্ছুক নয়। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে কোনো রাজনৈতিক দলের সুবিধা হয়—এমন কোনো কাজ বা বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকতে চায় আবু ধাবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন প্রকল্পের কার্যক্রমে যদি কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি দেখা দেয়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে হবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজসংলগ্ন প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল ও প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অতীতের বন্যার পরিস্থিতি যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই জন্য প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও কারিগরি বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীরা চলে যাবেন; কিন্তু এর সুবিধা ও অসুবিধা স্থানীয় জনগণ ভোগ করবেন। তাই জনগণকে প্রকল্পটি নিজেদের মনে করে এর তদারকিতে সম্পৃক্ত হতে হবে।
যদি কোথাও নিম্নমানের কাজ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম দেখা যায়, তাহলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী অথবা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানাতে হবে। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্পটির কাজের জন্য প্রায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং এটি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। আগামী ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হবে। এই উপলক্ষে প্রকল্প এলাকায় প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এ সময় ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১ অক্টোবর পরশুরামে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর তীর রক্ষা বাঁধ এবং নিষ্কাশন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে ৮৭ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা মারিয়া দেল কারমেন আবাসকালকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উচ্ছেদের পর স্পেনের আবাসন সংকট, ভাড়ার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং রিয়েল এস্টেট খাতের লাগামহীন ব্যবসার বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ মাদ্রিদের রাস্তায় নেমে এসেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাদ্রিদের অভিজাত রেতিরো এলাকায় উচ্ছেদকৃত অ্যাপার্টমেন্টে এই প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করে আসছিলেন। তার উচ্ছেদের প্রতিবাদে গত শনিবার মাদ্রিদে পুয়ের্তা দেল সল স্কয়ারে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ এখনও স্কয়ারে তাবু খাটিয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছে। রবিবার দ্বিতীয় দিনের মতো সেখানে আরও বিক্ষোভকারী জড়ো হন, যাদের মধ্যে বিভিন্ন বয়সী বাসিন্দা ছিলেন।
বিক্ষোভকারীরা ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা বৃদ্ধি, আবাসন খাতে প্রতারণা প্রতিরোধ এবং বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। ২৭ বছর বয়সী অভিনেত্রী নাতালিয়া নাভারো বলেন, "আবাসন পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। আমরা সবাই রাস্তায় নেমেছি, কারণ আমরা অতিষ্ঠ।" মাদ্রিদ টেন্যান্টস ইউনিয়নের মুখপাত্র আলিসিয়া দেল রিও জানান, "ক্ষোভ ও প্রতিবাদের যে ঢেউ তৈরি হয়েছে, তা এখন আর থামানো যাবে না।" তিনি আরও বলেন, সরকার নতুন আইন না করা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করবেন। অনির্দিষ্ট মেয়াদের ভাড়ার চুক্তি চালু এবং আবাসকালের মতো উচ্ছেদ বন্ধের দাবিও জানান তিনি।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর আবাসকালকে স্ট্রেচারে তার বাড়ি থেকে বের করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। তাকে উচ্ছেদ ঠেকানোর চেষ্টা করা সমর্থকরা তখন তার ডাকনাম ‘মারিকারমেন’ ধরে স্লোগান দেন।
পরে হাসপাতালের বিছানা থেকে ধারণ করা এক ভিডিওতে আবাসকাল বলেন, "নিজের বাড়ি রক্ষা করতে পারেননি, তবে অন্যরা যেন নিজেদের অধিকারের জন্য লড়তে শেখেন, সে জন্য তিনি লড়েছেন।"
উচ্ছেদের ছবি স্পেনজুড়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর সরকারি কর্তৃপক্ষ ও আবাসন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হয়। সমালোচকেরা এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে আবাসনের দাম বাড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন। অনেকেই এসব প্রতিষ্ঠানকে ‘ভালচার ফান্ড’ নামে অভিহিত করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষক সিমন দে লা রিভা বলেন, "সামাজিক অস্থিরতার পেছনে মারিক্যারমেনের ঘটনাটি এক অর্থে শেষ ধাক্কা হিসেবে কাজ করেছে।"
মাদ্রিদে সোশ্যালিস্ট পার্টির এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আবাসকালের উদ্দেশে বলেন, "সরকার আগামী মঙ্গলবার আবাসন নিয়ে একটি রাজকীয় ডিক্রি আনার জন্য দিন-রাত কাজ করছে।" তিনি সেটি জাতীয় সংসদে অনুমোদনের জন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতি শেষবারের মতো চেষ্টা করার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, এই লক্ষ্য পূরণের জন্য বর্তমানে দেশের সক্ষমতা মাত্র ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ। তিনি উল্লেখ করেন, নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে বর্তমান প্রচেষ্টাকে দ্বিগুণ করতে হবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘দ্য ন্যাশনাল কনসালটেশন অন স্কিলস, মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি : দ্য ওয়ে ফরওয়ার্ড ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় পরামর্শ সভায় এসব কথা বলা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে নেদারল্যান্ডসের র্যাডবাউড ইউনিভার্সিটির নেতৃত্বাধীন ‘গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি ফর স্কিলস মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) এ সভার আয়োজন করে।
সাইফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, সরকার এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। কিন্তু বর্তমান ধারায় কাজ চললে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতার ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ বাংলাদেশের রয়েছে। তাই বিদেশে কর্মী পাঠানোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে আরও জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) সদস্য (নিবন্ধন ও সনদায়ন) ও অতিরিক্ত সচিব মো. রবিউল ইসলাম জানান, এনএসডিএর সনদ পেয়েছেন প্রায় সাত লাখ প্রশিক্ষণার্থী। কিন্তু দেশের ভেতরেই এসব সনদের স্বীকৃতি সন্তোষজনক নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “দেশে যদি সন্তোষজনক না হয়, তাহলে বিদেশে কেন তা সন্তোষজনক হবে?”
রবিউল ইসলাম আরও জানান, এনএসডিএর সনদধারীদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ দেশে বা বিদেশে চাকরি পেয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৭০০ জন বিদেশে কাজ করছেন। বর্তমানে এনএসডিএর নিবন্ধিত দক্ষতা প্রশিক্ষণদাতা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৩০০, যা ৩৬৯টি পেশায় প্রশিক্ষণ প্রদান করছে।
তবে, ২২টি মন্ত্রণালয় ও ৩৬টি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বে এনএসডিএতে কর্মকর্তা রয়েছেন মাত্র ১৮ জন।
ওকাপের গবেষণা ব্যবস্থাপক উর্মি জাহানের উপস্থাপিত গবেষণায় প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্যের চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ ৮৯ হাজার ৭৪৫ জন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন। একই সময়ে প্রায় ১৮ লাখ তরুণ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাদের মধ্যে ৪৫ থেকে ৪৭ শতাংশ উপযুক্ত কাজ খুঁজতে সমস্যায় পড়ছেন।
গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ কর্মী আংশিক কর্মসংস্থান বা আন্ডারএমপ্লয়মেন্টের শিকার। দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ কর্মসংস্থানই অনানুষ্ঠানিক খাতে।
উর্মি জাহান বলেন, প্রশিক্ষণের সংখ্যা নয়, বরং কী ধরনের দক্ষতা দেওয়া হচ্ছে, সেই দক্ষতার চাহিদা কোথায় এবং কারা সেই দক্ষতা কাজে লাগাবে—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
গবেষণায় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের মধ্যে দুর্বল যোগাযোগ, ব্যবহারিক ও শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণের সীমাবদ্ধতা, পুরনো পাঠ্যক্রম ও সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণ শেষে গ্র্যাজুয়েটদের অবস্থান সম্পর্কে দুর্বল তথ্যব্যবস্থাকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল ও সবুজ প্রযুক্তির সঙ্গে প্রশিক্ষণের অপর্যাপ্ত সমন্বয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) জাতীয় কর্মসূচি ব্যবস্থাপক রাহনুমা সালাম খান বলেন, দক্ষতার অসামঞ্জস্যকে আলাদা কোনো সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি সামগ্রিক শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাপনার অংশ।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণে বছরের পর বছর বিনিয়োগের পরও বাংলাদেশের বিদেশে কর্মসংস্থানের ৭০ শতাংশের বেশি ঐতিহাসিকভাবে স্বল্পদক্ষ কাজের মধ্যে রয়ে গেছে। অভিবাসন ব্যয় বেশি হওয়ার সঙ্গেও দুর্বল ব্যবস্থাপনার সম্পর্ক রয়েছে। কম শিক্ষিত ও কম সচেতন কর্মীরা সহজেই শোষণের শিকার হন।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ২০০৮ সালে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তির হার ছিল এক শতাংশেরও কম। ২০২৫ সালে তা ২০ শতাংশের বেশি হয়েছে। তবে, প্রশিক্ষণ এখনো শিল্প খাত ও গন্তব্য দেশের চাহিদার সঙ্গে যথেষ্ট সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি বলেন, বিএমইটির ১১০টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু এসব কেন্দ্রের কার্যক্রম প্রকৃত বাজারচাহিদার সঙ্গে পর্যাপ্তভাবে যুক্ত নয়।
ঢাকা টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. সাকাওয়াত আলী বলেন, বাংলাদেশের আরও উন্নত শ্রমবাজার তথ্যব্যবস্থা, শক্তিশালী ভাষা প্রশিক্ষণ এবং গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে এমন চুক্তি প্রয়োজন, যাতে বিদেশে বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার সনদ স্বীকৃতি পায়।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো দেশের শ্রমবাজারে অটোমোবাইল টেকনিশিয়ানের চাহিদা থাকলে বাংলাদেশ থেকে সেখানে নির্মাণ বা টাইলসের কাজের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী পাঠানো হলে দক্ষতার স্পষ্ট অসামঞ্জস্য তৈরি হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালীয় দূতাবাসের অভিবাসন বিশেষজ্ঞ জিউসেপ্পে দি জিওভান্নি বলেন, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ইতালি বাংলাদেশিদের ২০ হাজারের বেশি কাজের ভিসা দিয়েছে। একই সময়ে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি লিবিয়া হয়ে অনিয়মিত পথে ইতালিতে পৌঁছেছেন।
তিনি বলেন, ইতালির কাজের ভিসার সরকারি ফি মাত্র ৬৫ ইউরো। কিন্তু বাংলাদেশি অভিবাসীরা মধ্যস্বত্বভোগীদের ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত দিয়ে থাকেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রথম সচিব লরা কার্তানিয়া লিয়াখ বলেন, ইইউ-বাংলাদেশ ট্যালেন্ট পার্টনারশিপের আওতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও তা এখনো কর্মসংস্থানের সঙ্গে কাঙ্ক্ষিতভাবে যুক্ত হয়নি। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সংস্কারে বাজেট সহায়তা হিসেবে ইইউ প্রায় ৮ কোটি ইউরো বিনিয়োগ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ