ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে ইসি: সিইসি


ভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে ইসি: সিইসি

॥ হাবিবুর রহমান ॥

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মূল লক্ষ্য হচ্ছে ভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে আয়োজনের টেকসই সংস্কৃতি গড়ে তোলা, যা কেবল একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে নূন্যতম মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা বজায় রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতে আরও উন্নত মান নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একই মানদণ্ড বজায় রাখতে কমিশন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

আরও পড়ুন: ঘোষণা দিয়েও নিরাপত্তার কারণে ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে পারল না সৌদি এয়ারলাইন্স

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সিইসি বলেন, ‘শুধুমাত্র একটা ভালো নির্বাচন করাই আমাদের লক্ষ্য নয়। ভবিষ্যতে যাতে সবগুলো নির্বাচন সেই একই মানদণ্ডের হয়, সেই প্রচেষ্টা আমাদের থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনব্যবস্থা শুধু এককালীন আয়োজন নয়। একটা ভালো নির্বাচন করেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং দেশে একটা ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সব নির্বাচন ওই মানের হয়। সেই ব্যবস্থাটা আমাদের করতে হবে।’

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোও একই মানদণ্ডে আয়োজনের চেষ্টা থাকবে। সম্ভব হলে আরও ভালো নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সব অংশীজনের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

চাপমুক্ত পরিবেশে কাজ করছে ইসি

আরও পড়ুন: সরকারের সমালোচনা করলেই গ্রেপ্তার মানবাধিকারের লঙ্ঘন: আখতার হোসেন

গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, এই অঙ্গীকারই কমিশনকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ভোটিংয়ের মাধ্যমে প্রবাসী ও দেশের অভ্যন্তরে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং কারাবন্দীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। কমিশনের দৃঢ় অঙ্গীকারের কারণেই এসব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। সিইসি বলেন, আমাদের কমিটমেন্টের মধ্যে কোনো খাদ নেই।

আসন্ন ইউপি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনের মতোই আগামী নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। কমিশনের ওপর কোনো পক্ষের চাপ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা সেভাবেই কাজ করছেন। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রার্থীদের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমনকে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠাল আদালত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান সিইসি।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও প্রার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক দলের সমর্থন থাকতে পারে। এ কারণে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রাজনীতিবিদদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

সিইসি বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের সহযোগিতা খুবই দরকার। এজন্য আমরা তাদের সঙ্গে বসার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এই নভেম্বর মাসের মধ্যেই তাদের সঙ্গে বসব আমরা।’

তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া সুষ্ঠু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে এবং পূর্ণমাত্রায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনে জালিয়াতি হলে তা প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের মধ্যে নিরাপদ সড়ক আইন কার্যকর হবে: সড়কমন্ত্রী

ইউপি নির্বাচনে সিসি ক্যামেরা, কঠোর হবে আচরণবিধি

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সিইসি। ভোটকেন্দ্র, ভোটার তালিকা, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, আইনগতভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ এবং আদালতের নির্দেশনার আওতায় থাকা ইউনিয়ন পরিষদগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রতি ধাপে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

ইউপি নির্বাচনে সহিংসতাকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা বেশি ঘটে। এ কারণে আচরণবিধি বাস্তবায়নে কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হবে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বি১/বি২ ভিসায় নতুন নির্দেশনা

তিনি বলেন, প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরে সংযুক্ত করা ক্যামেরাও থাকবে। এতে নির্বাচনে সহিংসতা বা অনিয়মের ঘটনা ঘটলে তা রেকর্ডে থাকবে।

সিইসি বলেন, ‘আচরণবিধি আমরা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। এ ব্যাপারে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে কমিশনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সিইসি।

আরও পড়ুন: আইইডিসিআর কার্যালয়ে ঢুকে পরিচালককে মারধরের অভিযোগ

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত মূল্যায়নে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশন এবং সামগ্রিক নির্বাচনব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। বিশেষ করে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং ভোটকেন্দ্রে নিরাপদে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ ছিল।

সিইসি বলেন, মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা, নির্বাচন কমিশনকে আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং নির্বাচনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ লক্ষ্য অর্জনে ভোটার তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রায় ৭৭ হাজার কর্মী নিয়োগ ও তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

তিনি জানান, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ নারী ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

সিইসি বলেন, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা মানুষের আস্থা ফেরানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

স্বচ্ছতা ও অংশীজনদের সহযোগিতায় গুরুত্ব

ভবিষ্যতে ভালো নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মানুষের আস্থা ধরে রাখা, প্রতিটি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সব অংশীজনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন সিইসি।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপ এমন হতে হবে, যাতে মানুষ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায় এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা গোপনীয়তার সুযোগ না থাকে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল, ভোটার, নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সবার সহযোগিতা কমিশনকে দায়িত্ব পালনে সহায়তা করেছে। ভবিষ্যতের নির্বাচনেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।

সাংবাদিকদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সুযোগ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, সাংবাদিকদের জন্য কমিশনের দরজা উন্মুক্ত। তারা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে সাংবাদিকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নীতিমালা অনুসরণ করে পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।

জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র কমিশন থেকে দেওয়া হবে। স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে প্রেস ক্লাবের সাথে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

তিনি বলেন, কমিশন সব সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চায় এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে সাংবাদিকদের কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে।

অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ প্রতিকারব্যবস্থা কার্যকর রাখার কথা জানান সিইসি।

তিনি বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। নির্বাচনী অনিয়মের প্রতিকার যেন স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত পাওয়া যায়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।

কালো টাকা ব্যবহার ও ভোট কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, এসব অনিয়মের খবর পাওয়া গেলে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিইসি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। সব অংশীজন নিয়ম মেনে নির্বাচনী মাঠে থাকলে কমিশনের জন্য অনিয়ম প্রতিরোধ করা সহজ হবে।

১০ মাস থেকে এক বছরে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন

ইতিহাস ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় দেশের সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সিইসি।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সেবা গ্রহণ করেন। নির্বাচন না হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া উপজেলা পরিষদসহ কয়েকটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও কার্যক্রমের সাথে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্পর্ক রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা প্রয়োজন হয়। এ কারণেও ইউপি নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সিইসি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পরপরই পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিভিন্ন পরীক্ষা, বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষা এবং বর্ষা মৌসুমের সম্ভাব্য বন্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনী সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী থাকবে না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ানোকে একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন সিইসি।

তিনি বলেন, নারী ভোটার পাওয়া গেলেও প্রার্থী হিসেবে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা তুলনামূলক কঠিন। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নিরুৎসাহিত করা, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানিমূলক প্রচারণা নারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে।

এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এক্ষেত্রে শুধু নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; রাজনৈতিক দলসহ সমাজের বিভিন্ন পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে।

সিইসি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোতে এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য আইনে রাখা হয়েছে। তবে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।

তরুণ ভোটারদের জন্য বিশেষ সুযোগ

তরুণদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করতে ভোটার হওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের কথা জানান সিইসি।

তিনি বলেন, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা ভোটার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আগে বছরের ১ জানুয়ারিকে ভিত্তি ধরে বয়স গণনা করা হলেও এবার নতুন সুযোগের ফলে আরও বেশি তরুণ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।

তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও অংশগ্রহণমূলক করতে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সব পক্ষের সহযোগিতায় সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করতে সব অংশীজনের সহযোগিতা কামনা করেন সিইসি।

তিনি বলেন, নির্বাচনে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশন অনিয়ম ও সহিংসতা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে। একইসাথে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও ভোটারদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে কমিশন।

সিইসি বলেন, কমিশন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও মানসম্মত স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে কঙ্গনা, প্রভাস ও রজনীকান্তের উপস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০০ পি.এম


কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে কঙ্গনা, প্রভাস ও রজনীকান্তের উপস্থিতি

কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব আগামী ডিসেম্বরে শুরু হতে যাচ্ছে। এই উৎসবের জন্য কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন টালিউডের ‘বুম্বাদা’ খ্যাত অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী মুখ্য উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকবেন। চলচ্চিত্র উৎসবের সকল পরিকল্পনা মিঠুনের নেতৃত্বে সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) চলচ্চিত্র উৎসবের প্রাক-প্রস্তুতির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, অগ্নিমিত্রা পাল, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং শর্বরী মুখোপাধ্যায়। বৈঠক শেষে মিঠুন চক্রবর্তী জানান, চলচ্চিত্র উৎসব উপলক্ষে কলকাতা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে সাজানো হবে। বিগত সরকারের সময় থেকে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনে বিশেষ অতিথিদের তালিকায় সবসময়ই থাকে আকর্ষণীয় চমক।

এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। উদ্বোধনে উপস্থিত থাকবেন বলিউডের ঠোঁটকাটা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত, বাহুবলী খ্যাত নায়ক প্রভাস এবং দক্ষিণী সিনেমার সুপারস্টার রজনীকান্ত। কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজনে গঠিত সরকারি কমিটির বৈঠকের পর এ তথ্য জানা গেছে।

মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, ‘এবার রজনীকান্ত, প্রভাস, অনুপম খের আসছেন। কথাবার্তা চলছে কঙ্গনা ও পরেশ রাওয়ালের সঙ্গেও। বেশি ভিড় বাড়াতে চাই না। এতেই হয়ে যাবে। বিদেশের কয়েকজন তারকাকে আনারও চেষ্টা করছি।’

নতুন সরকারের অধীনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কোথায় হবে, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ‘ফাটাকেষ্ট’ খ্যাত অভিনেতা বলেন, ‘এবার সম্ভবত ভিক্টোরিয়ায় উদ্বোধন হবে।’ উদ্বোধনে নানা চমক থাকবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। ১৬ ডিসেম্বর থেকে চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হবে এবং এটি চলবে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

গত বছর বলিউড থেকে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শত্রুঘ্ন সিনহা, সুজয় ঘোষ এবং তিলোত্তমা সোম। এর আগে উদ্বোধনী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, সালমান খান, জাভেদ আখতার, শাবানা আজমি, বিদ্যা বালান, রানি মুখার্জি, আনুশকা শর্মা এবং ক্যাটরিনা কাইফের মতো তারকারা। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বলিউডের পাশাপাশি দক্ষিণের ইন্ডাস্ট্রি থেকেও আসছেন রজনীকান্ত ও প্রভাস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুশফিক ইনজুরিতে, সিলেট টেস্টে খেলবেন তো?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০২ পি.এম


মুশফিক ইনজুরিতে, সিলেট টেস্টে খেলবেন তো?

আঙুলে আঘাতের কারণে ঢাকা টেস্টে মুশফিকুর রহিমকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে বিসিবির মেডিকেল ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, সিলেট টেস্টে তাকে সম্পূর্ণ ফিট অবস্থায় পাওয়া যাবে।

গতকাল নেটে ব্যাটিং অনুশীলনের সময় মুশফিক আঙুলে চোট পান। নেট বোলারের একটি বল সরাসরি তার হাতে আঘাত করলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে নেটের পাশে বসে পড়েন। জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজীদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে নেটের বাইরে তার চিকিৎসা চলে।

চোট পাওয়ার পর মুশফিক আর ব্যাটিং করেননি। প্রায় বিশ মিনিট একাডেমি মাঠে চিকিৎসা শেষে ডানহাতের তর্জনিতে টেপ পেঁচিয়ে তিনি ড্রেসিংরুমে ফিরে যান। পরে এক্সরে করে গুরুতর কিছু পাওয়া যায়নি। তবে হাতের ব্যথা পুরোপুরি সেরে না ওঠায় টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে এই ম্যাচের দলে রাখেনি।

মুশফিকের চোটের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে বিসিবির ফিজিও বায়েজীদুল ইসলাম আজ এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘মুশফিকুর রহিম ডান হাতের তর্জনিতে ব্যথা পেয়েছে। পরবর্তী সময় থেকে সে আমাদের পর্যবেক্ষণে ছিল। আজ সকাল পর্যন্ত যথেষ্ট উন্নতি হয়নি। এটা একটা কনটিউশন (থেঁতলে যাওয়া) ইনজুরি। আমরা আশা করছি, আগামী তিন দিনের মধ্যে এটা ঠিক হয়ে যাবে। পরের টেস্টে খেলতে পারবে।’

সিলেটে আগামী ৫ নভেম্বর দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃষ্টি বলয়ের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০২ পি.এম


বৃষ্টি বলয়ের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ দূরবর্তী প্রভাবের কারণে দেশে নতুন করে একটি আংশিক বৃষ্টিবলয় সক্রিয় হতে যাচ্ছে। আগামী ২৭ অক্টোবর রাত থেকে ২ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই বৃষ্টিবলয়ের প্রভাব লক্ষ্য করা যাবে।

বাংলাদেশ ওয়েরদার অবজারভেশন টিম ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই বৃষ্টিবলয়ে দেশের ১০০ শতাংশ এলাকায় বৃষ্টি না হলেও গড়ে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় কমবেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ইউরোপিয়ান মডেল পূর্বাভাস (ECMWF) অনুযায়ী, বৃষ্টিবলয় চলাকালীন দেশের অধিকাংশ এলাকায় আকাশে মেঘের উপস্থিতি থাকবে এবং রোদের পরিমাণ ও তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। বৃষ্টির সময় দেশের কিছু অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকায় সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে, এই বৃষ্টিবলয়ের কারণে দেশের কোথাও বন্যা বা পাহাড়ধসের আশঙ্কা নেই।

বিভাগভিত্তিক সম্ভাব্য বৃষ্টির পরিমাণ

# রংপুর বিভাগ: গড়ে ৫০ থেকে ৮০ মিলিমিটার (মাঝেমধ্যে ও শেষ দিকে একটানা)।

# রাজশাহী বিভাগ: গড়ে ৪০ থেকে ৬০ মিলিমিটার (আকস্মিকভাবে ও একটানা)।

# খুলনা বিভাগ: গড়ে ৪০ থেকে ৫৫ মিলিমিটার (মাঝেমধ্যে ও কিছুটা একটানা)।

# ঢাকা বিভাগ: গড়ে ৩০ থেকে ৫০ মিলিমিটার (মাঝেমধ্যে ও কিছুটা একটানা)।

# বরিশাল বিভাগ: গড়ে ৩০ থেকে ৪৫ মিলিমিটার (আকস্মিকভাবে ও মাঝেমধ্যে)।

# ময়মনসিংহ বিভাগ: গড়ে ৩০ থেকে ৪০ মিলিমিটার (মাঝেমধ্যে)।

# চট্টগ্রাম বিভাগ: গড়ে ২০ থেকে ৩৫ মিলিমিটার (প্রায়ই স্বল্পস্থায়ীভাবে)।

# সিলেট বিভাগ: গড়ে ২০ থেকে ৩০ মিলিমিটার (আকস্মিকভাবে ও মাঝেমধ্যে)।

জেলাভিত্তিক সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত (মিমি)

# খুলনা বিভাগ: বাগেরহাট উত্তর ৫০, বাগেরহাট দক্ষিণ ৬০, চুয়াডাঙ্গা ৬৫, যশোর ৬০, ঝিনাইদহ ৬০, খুলনা উত্তর ৬০, খুলনা দক্ষিণ ৬৫, কুষ্টিয়া ৬৫, মাগুরা ৫৫, মেহেরপুর ৬৫, নড়াইল ৫৫, সাতক্ষীরা উত্তর ৬৫, সাতক্ষীরা দক্ষিণ ৭০।

রাজশাহী বিভাগ: বগুড়া ৬০, জয়পুরহাট ৭০, নওগাঁ ৬৫, নাটোর ৬০, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৭৫, পাবনা ৬০, রাজশাহী ৬০, সিরাজগঞ্জ ৫০।

# রংপুর বিভাগ: দিনাজপুর ৬৮, গাইবান্ধা ৮০, কুড়িগ্রাম ৭০, লালমনিরহাট ৬০, নীলফামারী ৫৮, পঞ্চগড় ৮০, রংপুর ৬০, ঠাকুরগাঁও ৭৫।

# ঢাকা বিভাগ: ঢাকা ৪০, ফরিদপুর ৪৫, গাজীপুর ৪০, গোপালগঞ্জ ৫০, কিশোরগঞ্জ ২৫, মাদারীপুর ৪০, মানিকগঞ্জ ২৮, মুন্সিগঞ্জ ২৮, নারায়ণগঞ্জ ২৫, নরসিংদী ২০, রাজবাড়ী ৪০, শরীয়তপুর ৩৮, টাঙ্গাইল ২০।

# বরিশাল বিভাগ: বরিশাল ৩০, ভোলা উত্তর ৩০, ভোলা দক্ষিণ ৩৫, বরগুনা ৩০, ঝালকাঠি ৩২, পটুয়াখালী উত্তর ২০, পটুয়াখালী দক্ষিণ ২৫, পিরোজপুর উত্তর ৩৫, পিরোজপুর দক্ষিণ ৩৬।

# ময়মনসিংহ বিভাগ: জামালপুর ৩০, ময়মনসিংহ উত্তর ২৮, ময়মনসিংহ দক্ষিণ ২৫, নেত্রকোনা ২৫, শেরপুর ৩০।

# চট্টগ্রাম বিভাগ: বান্দরবান উত্তর ২৫, বান্দরবান দক্ষিণ ২০, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১৫, চাঁদপুর ২৫, চট্টগ্রাম উত্তর ১৫, চট্টগ্রাম দক্ষিণ ১৮, কুমিল্লা উত্তর ১৫, কুমিল্লা দক্ষিণ ১৮, কক্সবাজার উত্তর ২৫, কক্সবাজার দক্ষিণ ৩০, সন্দ্বীপ ৩৫, ফেনী ৩০, খাগড়াছড়ি উত্তর ১০, খাগড়াছড়ি দক্ষিণ ১২, লক্ষ্মীপুর ১৬, নোয়াখালী উত্তর ১৫, নোয়াখালী দক্ষিণ ২০, রাঙামাটি উত্তর ১০, রাঙামাটি দক্ষিণ ১২।

# সিলেট বিভাগ: হবিগঞ্জ ১৫, মৌলভীবাজার ১২, সুনামগঞ্জ ১৫, সিলেট ২৫।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মঙ্গলে নাসার ওডিসির দুই দশকের সাফল্য ও নতুন তথ্যের উন্মোচন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৩ পি.এম


মঙ্গলে নাসার ওডিসির দুই দশকের সাফল্য ও নতুন তথ্যের উন্মোচন

মঙ্গলে পৌঁছানোর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মহাকাশযান মার্স ওডিসি অবিরত কাজ করে যাচ্ছে। ২০০১ সালের ২৪ অক্টোবর মঙ্গলে পৌঁছানোর পর থেকে এটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। বর্তমানে, এটি মহাকাশ গবেষণায় প্রযুক্তির স্থায়িত্ব ও সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

এছাড়াও, নাসার আরেক মহাকাশযান মার্স রিকনাইস্যান্স অরবিটার (এমআরও) দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রথমে, উভয় মহাকাশযানকে কয়েক বছরের জন্য কাজ করার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে তারা কার্যকরী অবস্থায় রয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংগ্রহের ফলে মঙ্গল সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে, গ্রহটিতে অতীতে ও বর্তমানে পানির অস্তিত্ব সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। বছরের পর বছর ধরে সংগৃহীত তথ্য মঙ্গলের ভূমির গঠন ও পরিবর্তন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের আরো স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে। ফলে, মঙ্গলকে এখন কেবল প্রাণহীন পাথুরে গ্রহ হিসেবে দেখা হয় না। বরং এর পরিবেশ ও ভূমিতে সময়ের সাথে নানা পরিবর্তন ঘটছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রহবিজ্ঞানী ব্রায়নি হর্গান মঙ্গল গবেষণায় এই দুই মহাকাশযানের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। নাসার মঙ্গল অভিযানগুলোর জন্য মার্স ওডিসি ও এমআরওকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। মার্স ওডিসি মঙ্গলে বরফের উপস্থিতি শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মাধ্যমে গ্রহটির জলবায়ু ও ভূতত্ত্ব সম্পর্কে নতুন তথ্য পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

অন্যদিকে, এমআরও মঙ্গলের পৃষ্ঠে সময়ের সাথে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটছে তা পর্যবেক্ষণ করেছে। এর সংগ্রহ করা তথ্য থেকে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, কিভাবে গ্রহটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সময়ের সাথে বদলে যাচ্ছে। নাসার বিভিন্ন রোবটযান মঙ্গলে পাঠিয়ে গবেষণা চালানো হয়। এসব রোবটযান সরাসরি পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে না। তাই সেগুলোর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পৃথিবীতে পাঠানোর কাজে মার্স ওডিসি ও এমআরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এই দুই মহাকাশযানসহ অন্যান্য মহাকাশযানের সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা মঙ্গল গবেষণাকে আরো কার্যকর করেছে। মহাকাশে দীর্ঘদিন কাজ করা অত্যন্ত কঠিন। মার্স ওডিসি ও এমআরওর দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের পেছনে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি, প্রকৌশলীদের দক্ষতা, বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং কিছুটা সৌভাগ্য। মহাকাশে উচ্চশক্তির বিভিন্ন কণা রয়েছে, যা মহাকাশযানের সংবেদনশীল যন্ত্রপাতির ক্ষতি করতে পারে। এসব ঝুঁকি মোকাবেলা করেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে মহাকাশযানগুলোকে।

পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা উপগ্রহগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সেগুলো পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। কিন্তু মঙ্গলে থাকা মহাকাশযানের ক্ষেত্রে তা অনেক বেশি কঠিন। অনেক সময় সপ্তাহে মাত্র এক বা দুইবার সেগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কলি ক্যাম্পাসের গ্রহ ও মহাকাশ পদার্থবিজ্ঞানী রব লিলিস বলেন, "মঙ্গলে থাকা একটি মহাকাশযানকে বেশিরভাগ সময় নিজে নিজেই কাজ চালিয়ে যেতে হয়।"

মার্স ওডিসি ও এমআরওর দীর্ঘদিনের সাফল্যের পর মঙ্গল অনুসন্ধানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এই দুই মহাকাশযানের মাধ্যমে কি মঙ্গল গবেষণার একটি যুগের অবসান ঘটতে যাচ্ছে? প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে ভবিষ্যতের মঙ্গল অভিযানে নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। এতে লাল গ্রহটি অনুসন্ধান ও গবেষণার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে ভবিষ্যতের অভিযান নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও মার্স ওডিসি ও মার্স রিকনাইস্যান্স অরবিটারের দীর্ঘদিনের সাফল্য মঙ্গলসহ মহাকাশের অন্যান্য অংশ নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%