০১:০৩ পি.এম
মঙ্গলে পৌঁছানোর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মহাকাশযান মার্স ওডিসি অবিরত কাজ করে যাচ্ছে। ২০০১ সালের ২৪ অক্টোবর মঙ্গলে পৌঁছানোর পর থেকে এটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। বর্তমানে, এটি মহাকাশ গবেষণায় প্রযুক্তির স্থায়িত্ব ও সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
এছাড়াও, নাসার আরেক মহাকাশযান মার্স রিকনাইস্যান্স অরবিটার (এমআরও) দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রথমে, উভয় মহাকাশযানকে কয়েক বছরের জন্য কাজ করার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে তারা কার্যকরী অবস্থায় রয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংগ্রহের ফলে মঙ্গল সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে, গ্রহটিতে অতীতে ও বর্তমানে পানির অস্তিত্ব সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। বছরের পর বছর ধরে সংগৃহীত তথ্য মঙ্গলের ভূমির গঠন ও পরিবর্তন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের আরো স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে। ফলে, মঙ্গলকে এখন কেবল প্রাণহীন পাথুরে গ্রহ হিসেবে দেখা হয় না। বরং এর পরিবেশ ও ভূমিতে সময়ের সাথে নানা পরিবর্তন ঘটছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।
আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে ফলাফল মানবেন কি ট্রাম্প?
যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রহবিজ্ঞানী ব্রায়নি হর্গান মঙ্গল গবেষণায় এই দুই মহাকাশযানের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। নাসার মঙ্গল অভিযানগুলোর জন্য মার্স ওডিসি ও এমআরওকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। মার্স ওডিসি মঙ্গলে বরফের উপস্থিতি শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মাধ্যমে গ্রহটির জলবায়ু ও ভূতত্ত্ব সম্পর্কে নতুন তথ্য পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
অন্যদিকে, এমআরও মঙ্গলের পৃষ্ঠে সময়ের সাথে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটছে তা পর্যবেক্ষণ করেছে। এর সংগ্রহ করা তথ্য থেকে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, কিভাবে গ্রহটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সময়ের সাথে বদলে যাচ্ছে। নাসার বিভিন্ন রোবটযান মঙ্গলে পাঠিয়ে গবেষণা চালানো হয়। এসব রোবটযান সরাসরি পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে না। তাই সেগুলোর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পৃথিবীতে পাঠানোর কাজে মার্স ওডিসি ও এমআরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই দুই মহাকাশযানসহ অন্যান্য মহাকাশযানের সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা মঙ্গল গবেষণাকে আরো কার্যকর করেছে। মহাকাশে দীর্ঘদিন কাজ করা অত্যন্ত কঠিন। মার্স ওডিসি ও এমআরওর দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের পেছনে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি, প্রকৌশলীদের দক্ষতা, বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং কিছুটা সৌভাগ্য। মহাকাশে উচ্চশক্তির বিভিন্ন কণা রয়েছে, যা মহাকাশযানের সংবেদনশীল যন্ত্রপাতির ক্ষতি করতে পারে। এসব ঝুঁকি মোকাবেলা করেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে মহাকাশযানগুলোকে।
পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা উপগ্রহগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সেগুলো পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। কিন্তু মঙ্গলে থাকা মহাকাশযানের ক্ষেত্রে তা অনেক বেশি কঠিন। অনেক সময় সপ্তাহে মাত্র এক বা দুইবার সেগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কলি ক্যাম্পাসের গ্রহ ও মহাকাশ পদার্থবিজ্ঞানী রব লিলিস বলেন, "মঙ্গলে থাকা একটি মহাকাশযানকে বেশিরভাগ সময় নিজে নিজেই কাজ চালিয়ে যেতে হয়।"
আরও পড়ুন: বিচারকের ছেলের গাড়িচাপায় স্কুটিচালকের মৃত্যু, পুলিশপ্রধান বরখাস্ত
মার্স ওডিসি ও এমআরওর দীর্ঘদিনের সাফল্যের পর মঙ্গল অনুসন্ধানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এই দুই মহাকাশযানের মাধ্যমে কি মঙ্গল গবেষণার একটি যুগের অবসান ঘটতে যাচ্ছে? প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে ভবিষ্যতের মঙ্গল অভিযানে নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। এতে লাল গ্রহটি অনুসন্ধান ও গবেষণার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে ভবিষ্যতের অভিযান নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও মার্স ওডিসি ও মার্স রিকনাইস্যান্স অরবিটারের দীর্ঘদিনের সাফল্য মঙ্গলসহ মহাকাশের অন্যান্য অংশ নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন