ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আবহাওয়ার আগাম বার্তা পাচ্ছেন কৃষকরা


কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আবহাওয়ার আগাম বার্তা পাচ্ছেন কৃষকরা

একেএম রাশেদ শাহরিয়ার

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : কৃষক কার্ডধারীদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস পৌঁছাবে। এর ফলে কৃষকরা বৃষ্টি, তাপমাত্রার পরিবর্তন এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক হতে পারবেন।

স্বাভাবিক সময়ে ৬ ঘণ্টা পরপর এবং দুর্যোগকালীন সময়ে প্রয়োজন অনুসারে একাধিকবার আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষকদের কাছে এসএমএসের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন: লংগদুতে সার বিতরণ ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের উদ্বোধন, প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সরকারের কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় এই সুবিধা চালু করা হচ্ছে। আবহাওয়ার আগাম তথ্যের পাশাপাশি কৃষি উপকরণ সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ, সেচ সুবিধা ও কৃষি বীমাসহ ১০ ধরনের সেবা কৃষক কার্ডধারীরা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার আগামী চার বছরে দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অতিবৃষ্টি, খরা, তাপমাত্রার পরিবর্তন এবং ঝড়ের কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যদি কৃষকরা সময়মতো আবহাওয়ার পূর্বাভাস পান, তাহলে তারা চাষাবাদ, সেচ, সার প্রয়োগ, বালাইনাশক ব্যবহার এবং ফসল সংগ্রহের বিষয়ে আগাম সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবেন।

কৃষক কার্ডধারীদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাঠানোর উদ্যোগটি কৃষকদের কাছে আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে কৃষকদের আলাদাভাবে প্রতিবার আবহাওয়ার তথ্য খুঁজতে হবে না, বরং নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের মোবাইল ফোনে বার্তা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

আরও পড়ুন: বিমান বাহিনীর সহায়তায় ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ সফলভাবে সম্পন্ন

যেমন, ধান কাটার সময় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে আগাম বার্তা পেয়ে কৃষকরা দ্রুত ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিতে পারবেন। একইভাবে বৃষ্টির পূর্বাভাস অনুযায়ী সেচের প্রয়োজন নির্ধারণ করা সম্ভব হলে পানি ও উৎপাদন ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ঝড় বা প্রতিকূল আবহাওয়ার সতর্কতা কৃষকদের ফসল ও কৃষি উপকরণ সুরক্ষায় প্রস্তুতি নিতেও সহায়তা করবে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন কৃষি তথ্য সার্ভিস বা এআইএস। কৃষি বিষয়ে তথ্য, পরামর্শ এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান কৃষকদের কাছে পৌঁছানোর দায়িত্ব পালনকারী প্রতিষ্ঠানটি কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় স্বয়ংক্রিয় এসএমএসের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস সরবরাহ করবে।

দেশের কৃষকদের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডারের আওতায় এনে তাদের কাছে সরকারি কৃষিসেবা পৌঁছানোর লক্ষ্যে কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার।

কৃষক কার্ড কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হলো প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে তাদের জন্য সরকারি সহায়তা ও সেবা প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করা। এই লক্ষ্যে কৃষকদের ব্যক্তিগত ও কৃষিসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কেশবপুরে আমন ক্ষেতে ভাইরাসের আক্রমণ, ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার মধ্যে ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম এগিয়েছে। এসব ব্লকে এখন পর্যন্ত ২২ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে ৯ লাখ।

গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি উপকরণ সহায়তা পাওয়ার জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক।

এর আগে, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় আটটি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়। এ পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়।

প্রকল্পের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মো. রাকিবুজ্জামান খান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও তাদের চাহিদা নিরূপণের মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়নে সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে উঠলে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।

আরও পড়ুন: সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম পেলে ডিলারশিপ বাতিলের হুঁশিয়ারি কৃষিমন্ত্রীর

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও কার্যকর করা। এ জন্য তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কার্যক্রমকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষকদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাঠানোর উদ্যোগটি এ সমন্বিত সেবাব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর মাধ্যমে কৃষকরা আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে চাষাবাদের পরিকল্পনা সাজানো এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

তিনি আরও বলেন, কৃষি উৎপাদনে আবহাওয়ার প্রভাব বিবেচনায় সময়মতো পূর্বাভাস পাওয়া কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সেলিম খান বলেন, সঠিক সময়ে তথ্য পৌঁছালে কৃষকরা ফসলের পরিচর্যা, সেচ ব্যবস্থাপনা, সার প্রয়োগ এবং ফসল সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

আরও পড়ুন: পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ও মৎস্যসম্পদ

কৃষি সচিব আরও বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও কৃষি ব্লককে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্প।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনবিআর-এর তদন্তে দুই পোশাক কারখানায় ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


এনবিআর-এর তদন্তে দুই পোশাক কারখানায় ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : দুই পোশাক কারখানা অবৈধভাবে খোলাবাজারে কাপড় বিক্রি এবং কম মূল্যে রপ্তানি প্রদর্শনের মাধ্যমে ১০২ কোটি ৫৭ লাখ ১৩ হাজার ১২৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) পৃথকভাবে এই রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি উদঘাটন করেছে।

এনবিআরের আজকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান দুটি হল রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড এবং লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেড। রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকা এবং লিশা টেক্সের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিআইসির তদন্ত দল উভয় প্রতিষ্ঠানের কারখানা ও গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাঁচামালের মজুদ যাচাই করেছে। আমদানি ও রপ্তানির তথ্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে অনিয়ম শনাক্ত করা হয়েছে।

রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ৪১টি ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশনের (ইউডি) আওতায় বন্ড সুবিধায় ২ হাজার ৮৬২ টন ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় আমদানি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২৩৭ টন বা ৭৮ শতাংশ কাপড় কারখানার গুদামে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, রপ্তানির হিসাবেও এসব কাপড়ের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তে দেখা গেছে, বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে কাপড় সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে।

এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানির নথিতে সুতা ও নিট কাপড়ের হিসাব পাওয়া গেলেও ওভেন পলিয়েস্টার কাপড়ের বড় ধরনের ঘাটতি শনাক্ত হয়েছে। ৩১টি ইউডিতে কোনো রপ্তানি না হওয়া সত্ত্বেও ৩০টিতে আমদানি করা কাপড়ের পুরোটা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আংশিক রপ্তানি হওয়া ১০টি ইউডিতেও আমদানি করা কাপড়ের প্রায় ৫৩ শতাংশের হিসাব পাওয়া যায়নি।

পরিদর্শনে পুরো কারখানায় ৬৯ হাজার ৩৮২ কেজি সুতা, ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯৭ পিস তৈরি পোশাক এবং মাত্র ২৫ হাজার ৫৩৩ দশমিক ৫০ কেজি ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় পাওয়া যায়। এই কাপড়ের পরিমাণ মোট আমদানির মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া কাপড়ের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ১৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, লিশা টেক্সের বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার কেজি পলিয়েস্টার কাপড় কারখানায় পাওয়া যায়নি। তদন্তে উঠে এসেছে যে, এসব কাপড় বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এই খাতেই প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি শনাক্ত হয়েছে।

এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনুমোদনের চেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করলেও চুক্তিমূল্যের তুলনায় কম রপ্তানিমূল্য দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। ইউডির বাইরে স্থানীয় উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত পূরণ না করার বিষয়টিও তদন্তে পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চার লাখের বেশি পিস পোশাকের আনুষঙ্গিক কাঁচামাল অনুমোদন ছাড়াই মূসক পরিশোধ না করে স্থানীয় বাজার থেকে কেনা হয়েছে। লাইসেন্সবিহীন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার কিট ব্যাগ সরবরাহের মাধ্যমে মূসক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মোট ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে।

এনবিআর জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে সিআইসির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইয়েমেনের বন্দর ও তেল স্থাপনায় সৌদি হামলায় ৭ জন আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৮ পি.এম


ইয়েমেনের বন্দর ও তেল স্থাপনায় সৌদি হামলায় ৭ জন আহত

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : ইয়েমেনের হোদেইদা প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরীয় বন্দর ও তেল স্থাপনায় সৌদি আরবের হামলায় সাতজন আহত হয়েছেন। এ তথ্য সোমবার জানায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।

হুথি গোষ্ঠী, যা ইরান সমর্থিত, তারা দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ইয়েমেন, যা বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ, সেখানে গৃহযুদ্ধ নতুন করে শুরু হওয়ার পর থেকে এ সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি সানা থেকে এ খবর প্রকাশ করে।

হুতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের রস ঈসা বন্দরে হামলায় চারজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। পাশাপাশি বাজিল জেলার একটি তেল স্থাপনায় হামলায় আরও তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, “তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে বারবার এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে ইয়েমেনে সংঘটিত ধারাবাহিক যুদ্ধাপরাধের তালিকায় এসব হামলা নতুন করে যুক্ত হচ্ছে।”

এর আগে হুতিদের আল-মাসিরাহ টেলিভিশন চ্যানেল জানায়, সৌদি আরব রস ঈসা বন্দরের একটি জেটি ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা হোদেইদা সমুদ্রবন্দরটি তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও ত্রাণ সরবরাহের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ। শহরটির উত্তরে অবস্থিত রস ঈসা বন্দর দিয়ে তেল আমদানি ও মজুত করা হয়।

হুতি গণমাধ্যম আরও জানায়, রোববার একই প্রদেশে হোদেইদা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদেও হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে, এলাকার দুই বাসিন্দা এএফপিকে জানান, তারা সেখানে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হুথিদের ব্যবহৃত “গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ নিষ্ক্রিয় করতে” তারা একটি “নির্ভুল সামরিক অভিযান” চালিয়েছে।

২০২২ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি গত জুলাইয়ে ভেঙে পড়ে। সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেনের আকাশসীমা উপেক্ষা করে হুতিরা ইরানের একটি বিমানকে রাজধানী সানায় অবতরণের অনুমতি দেওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এরপর থেকেই ধারাবাহিক হামলা শুরু হয়।

জাতিসংঘ জানায়, ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ৩ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালকিনিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান, তিন দোকানিকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রিপোর্ট- শাহ্ জালাল সরদার,কালকিনি ( মাদারীপুর)

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৯ পি.এম


কালকিনিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান, তিন দোকানিকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা

মাদারীপুরের কালকিনিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগে তিন দোকানিকে মোট ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে কালকিনি পৌর মাছ বাজার, কাঁচাবাজার ও মাংস বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে গরু, ছাগল ও মুরগির মাংসের দোকানগুলোতে তদারকি করা হয়। এ সময় ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার দায়ে তিন দোকানিকে জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন মাদারীপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শুচন্দল মন্ডল। এসময় সাথে ছিলেন একরাম হোসেন,সেনেটারী ইন্সপেক্টর, কালকিনি এবং কালকিনি থানা পুলিশ।

এদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানের খবর পেয়ে বাজারের অধিকাংশ দোকান বন্ধ করে ব্যবসায়ীদের পালিয়ে যেতে দেখা যায়।

ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান সহকারী পরিচালক ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ ‘কোনো কাজ না করার’ দিবস পালিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৯ পি.এম


আজ ‘কোনো কাজ না করার’ দিবস পালিত

সকাল থেকে রাত অবধি কাজের শেষ নেই। অফিস, ব্যবসা, সংসার, বা ব্যক্তিগত দায়িত্ব; সবকিছু সামলাতে গিয়ে নিজের জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিদিনের এই ব্যস্ততা থেকে অন্তত এক দিনের বিরতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা মনে করিয়ে দিতে পালিত হয় ‘জিরো টাস্কিং ডে’ বা কাজ না করার দিবস। আজ রোববার (১ নভেম্বর), দিনটি সেই বিশেষ দিবস।

প্রতি বছর নভেম্বরের প্রথম রোববার পালন করা হয় জিরো টাস্কিং ডে (Zero Tasking Day)। এই দিনটির মূল ভাবনা হলো, অন্তত একটি দিন কাজের তালিকা, সময়সীমা ও দায়িত্বের চাপ থেকে দূরে থাকা। এদিন নতুন কোনো কাজ শেষ করার তাড়া না রেখে নিজের পছন্দমতো সময় কাটানো কিংবা একেবারেই কিছু না করার জন্য উৎসাহিত করা হয়।

যেভাবে শুরু হলো দিবসটি

লেখক ও জীবনযাপনবিষয়ক পরামর্শক ন্যান্সি ক্রিস্টি জিরো টাস্কিং ডে পালনের ধারণাটি সামনে নিয়ে আসেন। ব্যস্ত জীবনে কাজের তালিকা থেকে একের পর এক দায়িত্ব শেষ করাকেই মানুষ অধিক গুরুত্ব দেয়। এর বাইরেও নিজের সঙ্গে সময় কাটানো, বিশ্রাম নেওয়া এবং ব্যক্তিগত ভালো লাগাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরাই ছিল তার উদ্দেশ্য।

দিনটির সঙ্গে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের সম্পর্কও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ যেসব দেশে এই সময় গণনার নিয়ম চালু আছে, সেখানে নভেম্বরের প্রথম রবিবার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়। ফলে অতিরিক্ত পাওয়া এক ঘণ্টা কাজের পেছনে ব্যয় না করে বিশ্রাম ও নিজের যত্নে কাজে লাগানোর ধারণা থেকেই দিবসটির প্রচলন।

সূত্র: ডেজ অব দ্য ইয়ার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%