ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

রক্ষীবাহিনীর সময় থেকে এখনো বিচারবহির্ভূত হত্যার একই স্ক্রিপ্ট


রক্ষীবাহিনীর সময় থেকে এখনো বিচারবহির্ভূত হত্যার একই স্ক্রিপ্ট

স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পেছনে ‘আত্মরক্ষা’ ও ‘অস্ত্র উদ্ধারে গুলি’র একই পুরানো স্ক্রিপ্ট ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট বক্তারা। বক্তাদের মতে, বাহিনীগুলো আত্মরক্ষা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমার্থক শব্দ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে, যা বিদ্যমান ফৌজদারি আইনের দুর্বলতাকে প্রকাশ করে।

সোমবার, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর দ্বিতীয় পর্বে বক্তারা এসব মন্তব্য করেন। এবারের সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল স্বাধীনতার পরবর্তী বিতর্কিত ‘জাতীয় রক্ষীবাহিনী’।

সেমিনারে মূল বক্তব্য ও মুক্ত আলোচনা শেষে সভাপতির বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্‌সান মাহমুদ বলেন, স্বাধীনতার পরপরই সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে ভীতিকর দুটি শব্দ ছিল 'রক্ষীবাহিনী' ও 'বাকশাল'। আলোচকেরা আজ সেই রক্ষীবাহিনীর নানা লোমহর্ষক ঘটনা ও ইতিহাস তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে প্রচুর কাজ হলেও ৭২ থেকে ৭৫-এর শাসনকাল নিয়ে মানসম্মত গবেষণা ও দলিলপত্রের অভাব রয়েছে।

আরও পড়ুন: মৌলভীবাজারে ১৬ বছর বয়সী কিশোরীকে জিম্মি করে ধর্মান্তর ও ধর্ষণের অভিযোগে মানববন্ধন

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। তবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের পেছনের ইতিহাস নিরপেক্ষভাবে জানতে হবে। স্বাধীনতার পর যেভাবে একচ্ছত্র শাসন কায়েম করা হয়েছিল, চারটি রাষ্ট্রীয় পত্রিকা ছাড়া সব সংবাদ মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং রক্ষীবাহিনী গড়ে তুলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিচারবহির্ভূত হত্যা শুরু হয়েছিল—সেসব সত্য ইতিহাস তুলে ধরতেই আমরা এই আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, আইনজীবী, শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সেমিনার সিরিজের পরবর্তী পর্বগুলো ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অগ্নিসন্ত্রাসে দায়ী হিসেবে জামায়াতের আমিরকে আইনের আওতায় আনতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ পি.এম


অগ্নিসন্ত্রাসে দায়ী হিসেবে জামায়াতের আমিরকে আইনের আওতায় আনতে হবে

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান দাবি করেছেন যে, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে অগ্নিসন্ত্রাসের জন্য আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাবেশ ও মানববন্ধনে তিনি এই দাবি জানান। পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

রাশেদ খান মন্তব্য করেন, "জামায়াতের আমিরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হলো, গার্মেন্টসে আগুন দেওয়া হলো, এই যে পিকআপে আগুন দেওয়া হলো, জামায়াতের আমির তিনি কি এর দায় এড়াতে পারেন?"

তিনি আরও বলেন, "এই অগ্নিসন্ত্রাসের দায়ী হিসেবে, উসকানিদাতা হিসেবে অবশ্যই জামায়াতের আমিরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।"

এদিকে, রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাসহ গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে পোশাক শ্রমিকরা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। তাদের এই আন্দোলনের ফলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নির্যাতনের বিচারহীনতায় বাড়ছে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ঝুঁকিতে মুক্ত সাংবাদিকতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ পি.এম


নির্যাতনের বিচারহীনতায় বাড়ছে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ঝুঁকিতে মুক্ত সাংবাদিকতা

সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ঘটছে। দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনা বেড়ে যাওয়ার ফলে সাংবাদিক নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মুক্ত সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে এবং অপরাধ ও অনিয়মের বিস্তার ঘটবে। তাঁরা সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা, পেশাগত নিরাপত্তা জোরদার এবং সাংবাদিকদের ঐক্য সুসংহত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক নির্যাতিত সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ, কুমিল্লার উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে কুমিল্লায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার আট সাংবাদিককে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ, কুমিল্লার সভাপতি ওমর ফারুকী তাপসের সভাপতিত্বে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা কেবল একজন সংবাদকর্মীর ওপর আঘাত নয়, বরং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং জনগণের জানার অধিকারের ওপরও আঘাত। সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হলেও অনেক ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে এগোয় না। এর ফলে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে।

বক্তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটলেও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নানা ধরনের বাধা, হুমকি ও হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে। এই অবস্থায় স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বক্তারা উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও একাত্তর টিভির নিজস্ব প্রতিবেদক কাজী এনামুল হক ফারুক, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসানাত বাবুল, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার সাদিক হোসেন মামুন, দৈনিক শিরোনামের সম্পাদক নীতিশ সাহা, প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি নজরুল ইসলাম দুলাল, এটিএন বাংলার স্টাফ রিপোর্টার খায়রুল আহসান মানিক, দৈনিক আমাদের সময়ের স্টাফ রিপোর্টার সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজ, দৈনিক আগামীর সময় দক্ষিণ জেলা প্রতিনিধি মীর শাহআলম, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক শাহ আলম শফি, দেবিদ্বার প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, যমুনা টিভির কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন, দৈনিক ভোরের সূর্যোদয়ের সম্পাদক এম ফিরোজ মিয়া, এখন টিভির ব্যুরো প্রধান খালেদ সাইফুল্লাহ, সময় টিভির কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান বাহার রায়হান, দৈনিক আজকের আওয়াজের জেলা প্রতিনিধি মো. শহীদুল্লাহ মিয়াজী, মাই টিভির জেলা প্রতিনিধি আবু মুছা, দৈনিক শিরোনামের প্রধান প্রতিবেদক মোতাহের হোসেন মাহাবুব, পাঠাগার সম্পাদক জামাল উদ্দিন দামাল, দৈনিক আজকের দর্পনের জেলা প্রতিনিধি রবিউল বাশার খান, সময় টিভির জেলা রিপোর্টার জহিরুল হক বাবু, সাপ্তাহিক গোমেতীর প্রকাশক মোবারক হোসেন এবং দৈনিক কুমিল্লার আলোর সম্পাদক জসিম উদ্দিন কনকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অ্যাশেজের ব্যর্থতা ভুলে ওয়ানডেতে নতুন শুরুর পথে ম্যাককালাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৫ পি.এম


অ্যাশেজের ব্যর্থতা ভুলে ওয়ানডেতে নতুন শুরুর পথে ম্যাককালাম

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের সাদা বলের দলের প্রধান কোচ হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। তবে অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর প্রত্যাবর্তন এমন একটি মাঠে হচ্ছে, যেখানে গত শীতের অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের বিপর্যয়ের সূচনা হয়েছিল। ম্যাককালাম এখন সেই ব্যর্থতার দিকে ফিরে তাকাতে চান না। বরং তিনি আগামী বছরের ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের জন্য দলের প্রস্তুতি, ফিটনেস এবং খেলার ধরন উন্নত করায় মনোযোগ দিতে চান।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ১৩ নভেম্বর পার্থের অপটাস স্টেডিয়ামে। গত অ্যাশেজে এই মাঠে প্রথম টেস্টে মাত্র দুই দিনে ইংল্যান্ডের বিপর্যয় ঘটেছিল। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড ৪-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল। সেই সিরিজের মাঝপথে ম্যাককালামকে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

গত অ্যাশেজ সফরে মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ডের জন্য ইংল্যান্ড ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। বিশেষ করে গোল্ড কোস্টের নুসায় দলের একটি সফর নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। তবে এবার প্রথম ওয়ানডের আগে প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চান না ম্যাককালাম। ১৩ নভেম্বরের ম্যাচের আগে ৭ নভেম্বর ওয়াকার মাঠে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিরুদ্ধে ৫০ ওভারের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড।

অপটাস স্টেডিয়ামের পিচে বলের বাড়তি লাফ ইংল্যান্ডের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে বলে ম্যাককালাম স্বীকার করেছেন। তবে গত অ্যাশেজের আগে ধীরগতির পিচে অপর্যাপ্ত প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থেকে এবার কী শিক্ষা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি।

ম্যাককালাম বলেছেন, "অস্ট্রেলিয়া সফর সবসময়ই দারুণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ভালো একটি দলের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মাঠে খেলার সুযোগ পাওয়া যাবে।" আগামী বছরের বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে দলের খেলার পদ্ধতি আরও পরীক্ষা করার সুযোগ হবে এই সিরিজে। তিনি মনে করেন, দলকে আরও উন্নতি করতে হবে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহ সেই উন্নতির জন্য ভালো সুযোগ তৈরি করবে।

ইংল্যান্ডের নতুন সাদা বলের দর্শনও পরিষ্কার করেছেন ম্যাককালাম। তাঁর দল আক্রমণাত্মক, শক্তিশালী ও উচ্চগতির ক্রিকেট খেলতে চায়। এই ধরনের ক্রিকেটের জন্য খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই অস্ট্রেলিয়া সফরকে দলের জন্য ফিটনেস বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবেও দেখছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে ইংল্যান্ড পাকিস্তানে তিন দলের ওয়ানডে সিরিজে অংশ নিয়েছিল। সেখানে শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে গড়া সিরিজে চার ম্যাচের তিনটিতে হেরে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থেকে তাদের বিদায় নিতে হয়। এর মধ্যে দুটি হার ছিল বেশ নাটকীয়। তবে ম্যাককালাম মনে করেন, হতাশার পাশাপাশি সেই সিরিজ থেকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছে দল।

হ্যারি ব্রুক জস বাটলারের কাছ থেকে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব নেওয়ার পর ইংল্যান্ড ২২টি ওয়ানডে খেলেছে। এর মধ্যে জয় ও পরাজয়ের সংখ্যা সমান—১১টি করে। ম্যাককালামের মতে, বর্তমান দলটি এখনো যথেষ্ট অনভিজ্ঞ। খেলোয়াড়রা বেশি ওয়ানডে খেলার সুযোগ পেলে চাপের মুহূর্ত সামলানো এবং ভিন্ন প্রতিপক্ষ ও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।

গত অ্যাশেজের ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে না থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথাই বলেছেন ম্যাককালাম। তিনি মনে করেন, আগের দল এবং বর্তমান দল এক নয়, একইভাবে টেস্ট ক্রিকেট ও সাদা বলের ক্রিকেটও আলাদা। টেস্ট দলের সঙ্গে চার বছর কাজ করার সময়টিকে নিজের ক্রিকেটজীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করলেও এখন তাঁর পুরো মনোযোগ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলকে এগিয়ে নেওয়ার দিকে।

আগামী বিশ্বকাপ শুরু হতে আর প্রায় এক বছর বাকি। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে দলের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে উন্নতি করতে চান ম্যাককালাম। তাঁর লক্ষ্য শুধু ভালো ক্রিকেট খেলা নয়, বড় ট্রফির জন্য ইংল্যান্ডকে প্রস্তুত করা। তবে বিশ্বকাপ জিততে হলে এখন থেকে দলকে আরও উন্নতি করতে হবে—এ বিষয়েও সতর্ক ম্যাককালাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেভেন সিস্টার্সে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে বাংলাদেশের ওপর ভারতের নির্ভরতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১৯ এম


সেভেন সিস্টার্সে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে বাংলাদেশের ওপর ভারতের নির্ভরতা

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্য সেভেন সিস্টার্সে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধির পরিকল্পনায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডর হিসেবে বিবেচনা করছে নয়াদিল্লি। এই উদ্দেশ্যে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মাধ্যমে ৭৬৫ কেভির উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সঞ্চালন লাইন নির্মাণের অনুমতি চেয়েছে ভারত।

তবে, একতরফাভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিতে রাজি নয় ঢাকা। বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, সমান সুবিধা ও আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিডের নিশ্চয়তা ছাড়া এ প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়া হবে না। বিদ্যুৎ বিভাগের উচ্চপর্যায়ের সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা গেলে ভারতের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিবহনের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এই কারণে ভারত প্রস্তাবিত করিডর নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী।

গত ৯ ও ১০ অক্টোবর ভারতের মুম্বাইয়ে বিশ্বব্যাংকের আয়োজনে বিদ্যুৎ সচিবদের সম্মেলনে বিষয়টি উত্থাপন করে নয়াদিল্লি। সম্মেলনে বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে ভারত পার্বতীপুর দিয়ে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ কিলোমিটার সঞ্চালন করিডর ব্যবহারের অনুমতি চায়। প্রস্তাবিত ৭৬৫ কেভি লাইনের মাধ্যমে সেভেন সিস্টার্সে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি করতে চায় ভারত। তারা জানায়, বাংলাদেশও চাইলে এ লাইন ব্যবহার করে নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে।

তবে, বাংলাদেশের অবস্থান এবার আগের মতো একতরফা সুবিধা দেওয়ার নয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নীতিনির্ধারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমান সুযোগ নিশ্চিত না করে এ করিডরের অনুমতি দেওয়া হবে না। নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে ভারত-ভুটান-বাংলাদেশ কিংবা নেপাল-ভারত-বাংলাদেশ, যেকোনো কাঠামোয় আঞ্চলিক গ্রিড গড়ে তোলা যেতে পারে। বাংলাদেশ কোনো একক দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে বহুপক্ষীয় বিদ্যুৎ সহযোগিতা চায়।

বিদ্যুৎখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের এ অবস্থানের ফলে করিডর প্রস্তাবটি কেবল ভারতের বিদ্যুৎ পরিবহনের বিষয় নয়; বরং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যের বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। নেপাল ও ভুটানের জলবিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ নিশ্চিত হলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতও উপকৃত হতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ পরিবহনে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঢাকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

এর আগে ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারত পার্বতীপুর দিয়ে ৭৬৫ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল। ভারতের কাটিহার থেকে আসামের বরনগর পর্যন্ত বিদ্যুৎ পরিবহনের পরিকল্পনায় বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের বিষয়টি ছিল। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ঠিক আগে ১৯ ও ২০ জুলাই দুই দেশের বিদ্যুৎ সচিব পর্যায়ের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হলেও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ওই পরিকল্পনায় ২০২৫ সালে নির্মাণকাজ শুরু করে ২০২৮ সালে শেষ করার লক্ষ্য ছিল।

গত ৬ আগস্ট ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ৭৬৫ কেভি গ্রিড লাইন নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেন। পরে মন্ত্রী বলেন, ভারত যেভাবে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে গ্রিড লাইন নিতে চায়, বাংলাদেশ সেভাবে বিষয়টি বিবেচনা করছে না।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ভারতের প্রস্তাবের বিপরীতে বাংলাদেশের আঞ্চলিক গ্রিডের শর্ত দক্ষিণ এশিয়ায় বিদ্যুৎ সহযোগিতার নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ভারতের কাছে যত বাড়বে, ততই এ বিষয়ে ঢাকার দর-কষাকষির সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%