১১:৫৫ পি.এম
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের সাদা বলের দলের প্রধান কোচ হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। তবে অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর প্রত্যাবর্তন এমন একটি মাঠে হচ্ছে, যেখানে গত শীতের অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের বিপর্যয়ের সূচনা হয়েছিল। ম্যাককালাম এখন সেই ব্যর্থতার দিকে ফিরে তাকাতে চান না। বরং তিনি আগামী বছরের ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের জন্য দলের প্রস্তুতি, ফিটনেস এবং খেলার ধরন উন্নত করায় মনোযোগ দিতে চান।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ১৩ নভেম্বর পার্থের অপটাস স্টেডিয়ামে। গত অ্যাশেজে এই মাঠে প্রথম টেস্টে মাত্র দুই দিনে ইংল্যান্ডের বিপর্যয় ঘটেছিল। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড ৪-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল। সেই সিরিজের মাঝপথে ম্যাককালামকে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
গত অ্যাশেজ সফরে মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ডের জন্য ইংল্যান্ড ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। বিশেষ করে গোল্ড কোস্টের নুসায় দলের একটি সফর নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। তবে এবার প্রথম ওয়ানডের আগে প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চান না ম্যাককালাম। ১৩ নভেম্বরের ম্যাচের আগে ৭ নভেম্বর ওয়াকার মাঠে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিরুদ্ধে ৫০ ওভারের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড।
আরও পড়ুন: নতুন দায়িত্ব পেয়ে আশরাফুলের লক্ষ্য, ‘সেরাটা দিতে চাই’
অপটাস স্টেডিয়ামের পিচে বলের বাড়তি লাফ ইংল্যান্ডের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে বলে ম্যাককালাম স্বীকার করেছেন। তবে গত অ্যাশেজের আগে ধীরগতির পিচে অপর্যাপ্ত প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থেকে এবার কী শিক্ষা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি।
ম্যাককালাম বলেছেন, "অস্ট্রেলিয়া সফর সবসময়ই দারুণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ভালো একটি দলের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মাঠে খেলার সুযোগ পাওয়া যাবে।" আগামী বছরের বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে দলের খেলার পদ্ধতি আরও পরীক্ষা করার সুযোগ হবে এই সিরিজে। তিনি মনে করেন, দলকে আরও উন্নতি করতে হবে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহ সেই উন্নতির জন্য ভালো সুযোগ তৈরি করবে।
ইংল্যান্ডের নতুন সাদা বলের দর্শনও পরিষ্কার করেছেন ম্যাককালাম। তাঁর দল আক্রমণাত্মক, শক্তিশালী ও উচ্চগতির ক্রিকেট খেলতে চায়। এই ধরনের ক্রিকেটের জন্য খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই অস্ট্রেলিয়া সফরকে দলের জন্য ফিটনেস বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবেও দেখছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে ইংল্যান্ড পাকিস্তানে তিন দলের ওয়ানডে সিরিজে অংশ নিয়েছিল। সেখানে শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে গড়া সিরিজে চার ম্যাচের তিনটিতে হেরে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থেকে তাদের বিদায় নিতে হয়। এর মধ্যে দুটি হার ছিল বেশ নাটকীয়। তবে ম্যাককালাম মনে করেন, হতাশার পাশাপাশি সেই সিরিজ থেকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছে দল।
আরও পড়ুন: ফিফপ্রো বিশ্বসেরা একাদশের তালিকায় মেসি-এমবাপ্পে-ইয়ামাল, রোনালদোও অন্তর্ভুক্ত
হ্যারি ব্রুক জস বাটলারের কাছ থেকে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব নেওয়ার পর ইংল্যান্ড ২২টি ওয়ানডে খেলেছে। এর মধ্যে জয় ও পরাজয়ের সংখ্যা সমান—১১টি করে। ম্যাককালামের মতে, বর্তমান দলটি এখনো যথেষ্ট অনভিজ্ঞ। খেলোয়াড়রা বেশি ওয়ানডে খেলার সুযোগ পেলে চাপের মুহূর্ত সামলানো এবং ভিন্ন প্রতিপক্ষ ও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।
গত অ্যাশেজের ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে না থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথাই বলেছেন ম্যাককালাম। তিনি মনে করেন, আগের দল এবং বর্তমান দল এক নয়, একইভাবে টেস্ট ক্রিকেট ও সাদা বলের ক্রিকেটও আলাদা। টেস্ট দলের সঙ্গে চার বছর কাজ করার সময়টিকে নিজের ক্রিকেটজীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করলেও এখন তাঁর পুরো মনোযোগ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলকে এগিয়ে নেওয়ার দিকে।
আগামী বিশ্বকাপ শুরু হতে আর প্রায় এক বছর বাকি। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে দলের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে উন্নতি করতে চান ম্যাককালাম। তাঁর লক্ষ্য শুধু ভালো ক্রিকেট খেলা নয়, বড় ট্রফির জন্য ইংল্যান্ডকে প্রস্তুত করা। তবে বিশ্বকাপ জিততে হলে এখন থেকে দলকে আরও উন্নতি করতে হবে—এ বিষয়েও সতর্ক ম্যাককালাম।
আরও পড়ুন: রোনালদোর ছেলে প্রথমবার ডাক পেলেন পর্তুগাল অ-১৭ দলে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন