ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে একদিনে ২১৯১ মামলা


ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে একদিনে ২১৯১ মামলা

রাজধানীর ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ১৯১টি মামলা দায়ের করেছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে এসব মামলা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ৭টি বাস, ৮টি কাভার্ডভ্যান, ১০টি সিএনজি এবং ২৩টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১০৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ৪টি বাস, ১০টি ট্রাক, ২টি কাভার্ডভ্যান, ১৫টি সিএনজি এবং ৬৭টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৩৪টি মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা, মোহাম্মদ মসিউর রহমানকে জনপ্রশাসনে ন্যস্ত

ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ১২টি বাস, ১টি ট্রাক, ১২টি কাভার্ডভ্যান, ৭৫টি সিএনজি এবং ২১২টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৮৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ২২টি বাস, ২৭টি ট্রাক, ১৬টি কাভার্ডভ্যান, ৩টি সিএনজি এবং ১২০টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৯৫টি মামলা হয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১৮টি বাস, ৩টি ট্রাক, ১১টি কাভার্ডভ্যান, ৫৬টি সিএনজি এবং ১১১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৮৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ৫টি বাস, ৭টি ট্রাক, ২২টি কাভার্ডভ্যান, ২১টি সিএনজি এবং ৬৯টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৭৬টি মামলা হয়েছে।

ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৩৩টি বাস, ৮টি ট্রাক, ১৪টি কাভার্ডভ্যান, ৮৩টি সিএনজি এবং ১৬৬টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪৩০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ২৮টি বাস, ৬টি ট্রাক, ২৭টি কাভার্ডভ্যান, ৪২টি সিএনজি এবং ১৫৩টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৭৬টি মামলা হয়েছে।

এছাড়া, অভিযানের সময় ৬৩৩টি গাড়ি ডাম্পিং করা হয়েছে এবং ৪২২টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সিপাহী-জনতার বিপ্লব ও সংহতি দিবস ৭ নভেম্বর

ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভক্তদের চাপ নিয়ে মুখ খুললেন এসিদু, স্নেপ চরিত্রে মানবিকতা ফুটানোর প্রতিশ্রুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


ভক্তদের চাপ নিয়ে মুখ খুললেন এসিদু, স্নেপ চরিত্রে মানবিকতা ফুটানোর প্রতিশ্রুতি

হ্যারি পটার সিরিজের সবচেয়ে বিতর্কিত ও জটিল চরিত্র সেভেরাস স্নেপ। অ্যালান রিকম্যানের অনবদ্য অভিনয়ের পর, এইচবিওর আসন্ন হ্যারি পটার সিরিজে এই কালো পোশাকধারী পোশন মাস্টারের ভূমিকায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন পাপ্পা এসিদু। বড় এই দায়িত্ব গ্রহণের পর, ভক্তদের প্রত্যাশার চাপ নিয়ে তিনি মুখ খুলেছেন।

টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাপ্পা জানিয়েছেন যে, এই চরিত্রটি নিয়ে ভক্তদের মনে নানা ধরনের তীব্র অনুভূতি ও প্রত্যাশা বিদ্যমান। তবে তিনি মানুষের মতামতের পেছনে না ছুটে, সম্পূর্ণরূপে নিজের কাজের দিকেই মনোযোগ দিতে চান। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ছোটবেলায় বই পড়ার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এই জাদুকরী জগতের সাথে তার পরিচয় ঘটে।

চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তোলার প্রসঙ্গে পাপ্পা জানান, তার প্রধান লক্ষ্য হলো স্নেপ চরিত্রটিকে যথাসম্ভব মানবিকতা, গভীরতা এবং জটিলতার স্তর দিয়ে ফুটিয়ে তোলা। চরিত্রটির মধ্যে এসব উপাদানের প্রাচুর্য রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং এটিকে নিজের জন্য একটি বিরাট সুযোগ ও সম্মান হিসেবে অভিহিত করেছেন। সেই সাথে, দীর্ঘকাল ধরে এই কাজের সাথে যুক্ত থাকার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবনা আলিয়া মাদরাসায় নজরুল বর্ষের অনুষ্ঠান পালিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


পাবনা আলিয়া মাদরাসায় নজরুল বর্ষের অনুষ্ঠান পালিত

নজরুল বর্ষ উপলক্ষে পাবনা আলিয়া কামিল মাদরাসায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে পাবনা শহরের আলিয়া মাদরাসা মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ইসলামিক গজল (হামদ নাত) এবং কবিতা আবৃত্তি করেন প্রতিযোগিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন, যেখানে সাম্য, তারুণ্য এবং বিদ্রোহী কবির ভাবনা তুলে ধরা হয়।

পাবনা আলিয়া কামিল মাদরাসায় অধ্যক্ষ মো আনছারুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাবনা জেলা শিক্ষা অফিসার মো আব্দুর রাজ্জাক, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (অর্থ ও হিসাব) সহকারী পরিচালক মো রুমী কিসলু, এবং বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও মাদরাসার দাতা সদস্য মো রেহানুল ইসলাম বুলাল। জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতা প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. ইকবাল হোসাইন এবং পাবনা আলিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাবির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ৭৪ শিক্ষক-শিক্ষার্থী পেলেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৫ পি.এম


রাবির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ৭৪ শিক্ষক-শিক্ষার্থী পেলেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ৬৮ শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে, যা ভালো ফলাফল অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, শিক্ষা, গবেষণা, প্রকাশনা ও পেশাগত অবদানের জন্য অনুষদের ছয় শিক্ষককেও এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের হাতে ডিনস অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন।

সূত্র জানায়, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৩.৮৫ সিজিপিএ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৬৮ জনকে এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিবিএ পর্যায়ের ২৮ জন এবং এমবিএ পর্যায়ের ৪০ জন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অ awardপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের ১৩ জন, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৯ জন, মার্কেটিং বিভাগের ২৭ জন, ফাইন্যান্স বিভাগের ২ জন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের ৬ জন এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ১১ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। পুরস্কার হিসেবে তাদের ক্রেস্ট, সনদ ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। তিনি উল্লেখ করেন, "আজ একটি বিশেষ দিন। আজ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।" তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ করেন, প্রতিবছর যেন এ আয়োজন অব্যাহত রাখা হয়।

তিনি আরও বলেন, "যারা আজ সম্মাননা পেয়েছ, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, এই স্বীকৃতি পাওয়ার পর তোমাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। এই অর্জন ধরে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করবে।

ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শিউলি বলেন, "আমাকে এই সম্মাননা প্রদানের জন্য আমার বিভাগসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমার এই অর্জন সহজে আসেনি। এর পেছনে রয়েছে অনেক ত্যাগ, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়।" তিনি বাবা-মায়ের দোয়া ও সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনার কথা উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, "বিবিএ ও এমবিএ পর্যায়ে অসাধারণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের এবং গবেষণা, প্রকাশনা ও পেশাগত অবদানের জন্য পুরস্কৃত শিক্ষকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।"

তিনি আরও বলেন, "এই অর্জন কেবল একটি সনদ, অর্থমূল্য বা পুরস্কার নয়; বরং শিক্ষার্থীদের নিষ্ঠা, অধ্যবসায়, সততা ও একাডেমিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ অর্জন ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের পথচলাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশের উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত কবীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশিদ। এছাড়াও, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মতিয়ার রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উল্লাপাড়ায় ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী তৃতীয় লিঙ্গের নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আবুসুফিয়ান,সিরাজগঞ্জ

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৫ পি.এম


উল্লাপাড়ায় ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী তৃতীয় লিঙ্গের নারী

৩ নভেম্বর ২০২৬

সমাজের নানা অবহেলা, বঞ্চনা আর প্রতিকূলতাকে জয় করে নিজের চেষ্টায় স্বাবলম্বী হয়েছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার তৃতীয় লিঙ্গের নারী স্বপ্না (২৩)। একসময় জীবিকার প্রয়োজনে মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে হতো তাঁকে। কিন্তু কারও কাছে হাত না পেতে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে শুরু করেন ছাগল পালন। মাত্র দুটি ছাগল দিয়ে শুরু করা তাঁর সেই উদ্যোগ এখন পরিণত হয়েছে একটি ছোট খামারে। বর্তমানে সেখানে রয়েছে ১৮টি ছাগল। কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য মনোবল দিয়ে গড়ে তোলা এই খামারই এখন তাঁর জীবিকার প্রধান অবলম্বন।

স্বপ্নার বাড়ি উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুর মিলপাড়া এলাকায়। রেলওয়ের জায়গায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন তিনি। তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম ও মা নুরজাহান বেগম। ছোটবেলায় বাবা-মা তাঁর নাম রেখেছিলেন স্বপন। স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনাও করেছেন। পরবর্তী সময়ে জীবনের নানা বাস্তবতায় স্বপন থেকে পরিচিতি পান স্বপ্না নামে।

স্বপ্না জানান, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হওয়ায় জীবিকার জন্য একসময় অন্যের কাছে সাহায্য চাইতে হতো তাঁকে। এ সময় নানা মানুষের কটূক্তি ও নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজের উপার্জনের পথ খুঁজতে উৎসাহিত করে। অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর ছাগল পালনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হলে বাবা-মায়ের সহযোগিতায় শুরু করেন খামার।

স্বপ্নার মা নুরজাহান বেগম বলেন, তাঁদের নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই। সরকারি জায়গায় বসবাস করেন তাঁরা। সংসার চালাতেও অনেক কষ্ট করতে হয়। পাশের বাড়িতে একজনকে ছাগল পালন করতে দেখে স্বপ্নারও ছাগল কেনার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে তাঁর বাবা ১৩ হাজার ও ১৪ হাজার টাকা দিয়ে দুটি ছাগল কিনে দেন। সেই দুটি ছাগল থেকেই শুরু হয় স্বপ্নার খামারের পথচলা।

শুরুতে অল্পসংখ্যক ছাগল নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও ধীরে ধীরে খামার বড় করার চেষ্টা করেন তিনি। একপর্যায়ে ছাগলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২টিতে। কিন্তু হঠাৎ রোগে আক্রান্ত হয়ে ছয়টি ছাগল মারা গেলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি ছাগল মারা যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়লেও হাল ছাড়েননি তিনি। নতুন করে উদ্যোগ নিয়ে আবারও খামার গড়ে তোলেন। বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে ১৮টি ছাগল। এর মধ্যে তোতা, হরিয়ানা, বিটল, যমুনাপাড়ি ও ব্ল্যাক বেঙ্গলসহ বিভিন্ন জাতের ছাগল রয়েছে। তাঁর দাবি, জাত ও আকারভেদে প্রতিটি ছাগলের বাজারমূল্য এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত।

স্বপ্না জানান, খামারের পাঠা প্রজননের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা আয় হয়। পাশাপাশি বছর শেষে বিক্রির উপযোগী ছাগল বিক্রি করেও ভালো অর্থ পাওয়া যায়। গত বছর চট্টগ্রামে বিভিন্ন পূজা উপলক্ষে ১০টি ছাগল বিক্রি করে মোট ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

স্বপ্না বলেন, ‘আমি চাই না জীবিকার জন্য আর কারও কাছে হাত পাততে হোক। নিজের পরিশ্রমে কিছু করে বাঁচতে চাই। এই খামার দিয়েই আমার সংসার চলে। অনেক কষ্ট করে খামারটি দাঁড় করিয়েছি। মাঝেমধ্যে ছাগল মারা যাওয়ায় লোকসান হয়েছে, তবুও দমে যাইনি। আমার স্বপ্ন, খামারটিকে আরও বড় করা। সরকার সহযোগিতা করলে উন্নত জাতের ছাগল পালন, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আরও ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারব। পাশাপাশি অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করতে চাই।’

স্বপ্নার এই উদ্যোগ শুধু তাঁর নিজের জীবিকার পথই তৈরি করেনি, বরং সমাজের প্রচলিত নেতিবাচক ধারণার বিপরীতে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রয়োজনীয় পুঁজি, সরকারি সহযোগিতা ও পশুপালনবিষয়ক প্রশিক্ষণ পেলে তাঁর খামারটি আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। স্বপ্নার প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর তাঁর পাশে দাঁড়াবে, যাতে আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বড় উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%