১১:৫৪ পি.এম
সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ঘটছে। দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনা বেড়ে যাওয়ার ফলে সাংবাদিক নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মুক্ত সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে এবং অপরাধ ও অনিয়মের বিস্তার ঘটবে। তাঁরা সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা, পেশাগত নিরাপত্তা জোরদার এবং সাংবাদিকদের ঐক্য সুসংহত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক নির্যাতিত সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ, কুমিল্লার উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে কুমিল্লায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার আট সাংবাদিককে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ, কুমিল্লার সভাপতি ওমর ফারুকী তাপসের সভাপতিত্বে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা কেবল একজন সংবাদকর্মীর ওপর আঘাত নয়, বরং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং জনগণের জানার অধিকারের ওপরও আঘাত। সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হলেও অনেক ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে এগোয় না। এর ফলে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে।
আরও পড়ুন: মৌলভীবাজারে ১৬ বছর বয়সী কিশোরীকে জিম্মি করে ধর্মান্তর ও ধর্ষণের অভিযোগে মানববন্ধন
বক্তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটলেও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নানা ধরনের বাধা, হুমকি ও হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে। এই অবস্থায় স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বক্তারা উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও একাত্তর টিভির নিজস্ব প্রতিবেদক কাজী এনামুল হক ফারুক, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসানাত বাবুল, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার সাদিক হোসেন মামুন, দৈনিক শিরোনামের সম্পাদক নীতিশ সাহা, প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি নজরুল ইসলাম দুলাল, এটিএন বাংলার স্টাফ রিপোর্টার খায়রুল আহসান মানিক, দৈনিক আমাদের সময়ের স্টাফ রিপোর্টার সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজ, দৈনিক আগামীর সময় দক্ষিণ জেলা প্রতিনিধি মীর শাহআলম, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক শাহ আলম শফি, দেবিদ্বার প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, যমুনা টিভির কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন, দৈনিক ভোরের সূর্যোদয়ের সম্পাদক এম ফিরোজ মিয়া, এখন টিভির ব্যুরো প্রধান খালেদ সাইফুল্লাহ, সময় টিভির কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান বাহার রায়হান, দৈনিক আজকের আওয়াজের জেলা প্রতিনিধি মো. শহীদুল্লাহ মিয়াজী, মাই টিভির জেলা প্রতিনিধি আবু মুছা, দৈনিক শিরোনামের প্রধান প্রতিবেদক মোতাহের হোসেন মাহাবুব, পাঠাগার সম্পাদক জামাল উদ্দিন দামাল, দৈনিক আজকের দর্পনের জেলা প্রতিনিধি রবিউল বাশার খান, সময় টিভির জেলা রিপোর্টার জহিরুল হক বাবু, সাপ্তাহিক গোমেতীর প্রকাশক মোবারক হোসেন এবং দৈনিক কুমিল্লার আলোর সম্পাদক জসিম উদ্দিন কনকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা।
আরও পড়ুন: ১১ জেলায় ৮৭৯ জন গ্রেপ্তার, ৩০৩ কিশোর অভিভাবকের জিম্মায় মুক্ত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন