বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০২:৫৮ পি.এম
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যার মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ১৯ বারের মতো পিছানোর ঘটনা ঘটেছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ আদালত নির্ধারণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) তদন্ত সংস্থা পুলিশি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল করতে না পেরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন তারিখটি নির্ধারণ করেন। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র ডিবি পুলিশ জমা দেয়। তবে ইনকিলাব মঞ্চ ওই অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয়।
গত ১২ জানুয়ারি মামলাটির শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। ওই দিন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিনের সময় চান। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেন।
সেদিন ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের। পরবর্তীকালে আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দিয়ে দেন।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গেলে তার উপর হামলা হয়। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসবাসকারী এক আততায়ী গুলি করে।
গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর ওই রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরের দুই দিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। পরে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। এরপর থানা-পুলিশের হাত ঘুরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব হয় ডিবির।
তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলো—প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭), হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে বোঝা গেছে, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে’ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘বাধাগ্রস্ত করতে’ এবং ভোটারদের মধ্যে ‘ভয়ভীতি তৈরি করতেই’ আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়ির ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করার আবেদনটি আমলে না নিয়ে খারিজের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা বাদী তামান্না চৌধুরী প্রিয়াঙ্কার জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশটি অপেক্ষমাণ রাখেন।
দুপুর আড়াইটার দিকে আদালত মামলা খারিজের আদেশ দেন। সহকারী বেঞ্চ আবু শাহীন খারিজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা ৩-৫ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় অন্তর্ভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ড. রেজওয়ানা হাসান, সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলম, সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী, সাবেক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মাহফুজ আলম, শিক্ষার্থী সমন্বয়ক আক্তার হোসেন, সংসদ সদস্য মো. হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল হান্নান মাসুদ, সারজিস আলম, সামান্তা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, ডা. তাসনিম জারা, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, আরিফুল ইসলাম আদিব, সালেহ উদ্দিন সিফাত, ইউটিউবার পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসাইন, কনক সারোয়ার, কর্নেল (অব.) নুরনবী, তাহরিমা জান্নাত সুরভী, বুলডোজার জোগানদাতা মো. মিলন, ফাহিম আল চৌধুরী ও আবুল কালাম আজাদ।
মামলায় অভিযোগ রয়েছে যে, আসামিরা গত বছরের ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখ পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে বেআইনি উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কোনো উসকানি ছাড়া ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ভবনের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর ১ থেকে ৯ নম্বর আসামিদের উসকানি, দায়িত্বহীনতা ও মূল নির্দেশনায় বুলডোজার ব্যবহার করে ভবনে ভাঙচুর চালানো হয়। এর ফলে রাষ্ট্র ও স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল্যবান দলিলপত্র এবং সংগৃহীত স্মৃতিচিহ্নসহ বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে চিরতরে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
বাদীপক্ষ দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ৩৭৯, ৩৮০, ৩৯৫, ৪২৭, ৪৩৫, ৪৩৮, ৪৪৮, ৪২০, ৫০৬ ও ৫০৭ ধারাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩/৪ ধারা এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) প্রধান এবং প্রায় ১০০টি দেশের নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরা বুধবার আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আয়ার্সে মাদক পাচার মোকাবেলার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ল্যাটিন আমেরিকার একাধিক যুক্তরাষ্ট্রপন্থী সরকারের মধ্যে আর্জেন্টিনা অন্যতম, যারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ মাদকচক্রবিরোধী জোটে যুক্ত হয়েছে। পত্রিকা এএফপি এই বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে।
ডিইএ’র পরিচালক টেরেন্স কোলের সঙ্গে বৈঠকের সহ-আযোজক নিরাপত্তামন্ত্রী আলেহান্দ্রা মনতেওলিভা এক্সে বলেছেন, ‘মাদকচক্রের সঙ্গে আলোচনা করা যায় না। দৃঢ়তা, সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর এমন কঠোর নীতির মাধ্যমে তাদের মোকাবিলা করতে হবে।’
আর্জেন্টিনায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার লামেলাস সম্মেলনে উল্লেখ করেছেন, ওয়াশিংটন ‘মাদকচক্র, অপরাধী নেটওয়ার্ক এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা এবং গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করছে।’ এসময় তিনি স্প্যানিশ ভাষায় বলেন, ‘কোনো দেশই এর ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। আর কোনো দেশ একা এই লড়াই করতে পারে না।’
১৯৮৩ সালে ডিইএ’র উদ্যোগে শুরু হওয়া বার্ষিক আন্তর্জাতিক মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্মেলন এবারই প্রথম আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনে মেক্সিকোর আলোচিত নিরাপত্তামন্ত্রী ওমর গার্সিয়া হারফুচও উপস্থিত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ক্লদিওয়া শেইনবাউমের সরকারের কার্যক্রমের ফলে শক্তিশালী মাদকচক্রগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক ডজন মাদকচক্রের শীর্ষ নেতাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টিও উত্থাপন করেন।
মাদক পাচার দমনে কঠোর অবস্থানের কারণে ‘ব্যাটম্যান’ নামে পরিচিত হারফুচ এক্সে উল্লেখ করেছেন, ‘সমন্বয়, দৃঢ়তা এবং প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধার সঙ্গে কাজ করলে কোনো অপরাধী সংগঠনই রাষ্ট্রগুলোর চেয়ে শক্তিশালী হতে পারে না।’ তিনি সার্বভৌমত্ব নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, এটি বামপন্থী শেইনবাউমের মাদকবিরোধী যুদ্ধে মার্কিন হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্কবার্তার প্রতিধ্বনি।
মেক্সিকো গত মাসে জানিয়েছে, ২০২৪ সালে মাদকসম্রাট ইসমায়েল ‘এল মায়ো’ সাম্বাদাকে গ্রেফতারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। তাঁকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নেয়া হয়েছিল। বর্তমানে তিনি সেখানকার কারাগারে রয়েছেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ট্রাম্প বারবার অভিযোগ করেছেন, মাদকচক্রগুলো মেক্সিকোকে নিয়ন্ত্রণ করছে। শেইনবাউম মাদকচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সীমান্তের দক্ষিণে মার্কিন সেনা মোতায়েনের হুমকি দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎহীন থাকার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, তারা ট্রান্সফরমার দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন, কিন্তু এখনো ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়নি। এ কারণে তাদের বারবার পুরোনো ট্রান্সফরমার দেওয়া হচ্ছে, ফলে তারা ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে বেলা ১১টা নাগাদ, পৌর শহরের শিমরাইল গ্রামের প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন বাসিন্দা পিডিবি অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এ সময় অফিসের কাচ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং ড্রয়ারের ভাঙচুর করা হয়। স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিমের ওপর হামলাও চালিয়েছে। খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজমের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় আধা ঘণ্টার প্রচেষ্টায় পুলিশ বিক্ষুব্ধ লোকজনকে সরিয়ে এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শিমরাইল গ্রামের বিক্ষোভকারী বাসিন্দা সজিব মিয়া (২৫), নূরুল হক (৬০), আতিকুল ইসলাম (৩৫) ও জহিরুল ইসলাম (২৮) বলেন, 'গত ১৩ আগস্ট রাতে গ্রামের ট্রান্সফরমার নষ্ট হলে বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।'
তারা আরও অভিযোগ করেন, নতুন ট্রান্সফরমার দেওয়ার কথা বলে পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলীকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এক সপ্তাহেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। এ কারণে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যুৎ অফিসে গেছেন। প্রায় এক মাস আগে গ্রামের ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছিল। তখন নতুন ট্রান্সফরমারের পরিবর্তে পুরোনো ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়, যা কিছুদিন পর আবার নষ্ট হয়ে যায়।
এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকট, খাবার সংরক্ষণে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে হামলায় আহত পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, 'বিক্ষুব্ধ লোকজন হামলা শুরু করার আগে কিছু বুঝে ওঠার সময় পাইনি। ট্রান্সফরমারের জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ একদম ভিত্তিহীন। তবে লাইন সংযোগ ও মেরামতের কাজে লাইনম্যানদের কিছু খরচাপাতি বিভিন্ন স্থানে দেওয়া হয়। এলাকাবাসী মূলত নতুন ট্রান্সফরমার চেয়েছিল, কিন্তু আমাদের বিভাগে ট্রান্সফরমারের সংকট থাকায় পুরোনো একটি ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়। এ কারণে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা করেছেন।'
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ঈশ্বরগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলী হামজা ইমাম বলেন, 'শিমরাইল গ্রামের ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার বিষয়টি একাধিকবার জানানো হয়েছিল। কিন্তু ট্রান্সফরমারের সংকট থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ট্রান্সফরমার পেতে দেরি হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'গতকাল রাতেই একটি ট্রান্সফরমার এসেছিল। কিন্তু সেটি পুরোনো হওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন। এতে আমাদের উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম আহত হয়েছেন।'
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আজম বলেন, 'খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। পরে দ্রুত ট্রান্সফরমার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস দেন আবাসিক প্রকৌশলী। এরপর বিক্ষুব্ধ লোকজন সরে যান এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর সদস্যরা আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) একটি কমান্ডারসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাত ৯টার দিকে উখিয়ার ৬ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির এলাকার একটি অভিযানের সময়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন হচ্ছেন মোহাম্মদ আলম ওরফে মুছা (৪০) এবং অন্যজন তার সহযোগী আব্দুল হাফেজ (২২)। এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমিন।
সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে, আরসার কমান্ডার মোহাম্মদ আলম ওরফে মুছা এবং তার সহযোগী আব্দুল হাফেজ ৬ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির এলাকায় অবস্থান করছেন। এরপর অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন যে, তারা আরসার সশস্ত্র সংগঠনের সক্রিয় সদস্য।
সূত্রটি আরও জানায়, মোহাম্মদ আলম ওরফে মুছা উখিয়া থানার একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ২৯ নম্বর আসামি। তার বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় হত্যা, মাদক এবং অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিতর্কিত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ