মোঃ সোহেল রানা, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি
১০:২৭ পি.এম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম মন্তব্য করেছেন, ‘শেখ হাসিনার এই মাটিতে কোনোদিন সমাধি হবে না, ফিরে আসার কোনো সমাদরও হবে না। তার কর্মফলই তার পতনের কারণ।’
বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই কথা বলেন।
সারজিস আলম উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা পরিষদে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচন করা আবশ্যক। যদি জেলা পরিষদকে কোনো রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কমিটিতে পরিণত করা হয়, তাহলে সেখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না। তিনি একইসাথে পার্বত্য তিন জেলায় ৫০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে বড় বড় বরাদ্দ এলেও প্রত্যন্ত এলাকার যোগাযোগ, চিকিৎসা ও শিক্ষাব্যবস্থায় এখনো সংকট বিদ্যমান। উন্নয়নের অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে রাজনৈতিক অধিকার ও স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সেই জায়গা থেকেই এনসিপি পরিবর্তনের রাজনীতি নিয়ে সামনে এসেছে।
সভায় এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সারোয়ার তুষার, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, এনসিপি চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজাউদ্দীন, জাতীয় যুব শক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ, এনসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিয় চাকমা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাহেদুল আলম শাকিল, শ্রমিক শক্তির সংগঠক মো. আমির উদ্দিন চৌধুরী এবং জেলা কমিটির সহ-সভাপতি রিন্টু দেওয়ানসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অপুর পক্ষ থেকে ‘শিকার’ টিমের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বার্তা প্রদান করা হয়েছে।
নেপালে আকস্মিক বন্যা (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) ও ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট বিপর্যয়ের মাঝে ঢাকাই সিনেমার পরিচিত অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস এবং তার নতুন সিনেমা ‘শিকার’-এর পুরো শুটিং ইউনিট সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত ও সুস্থ অবস্থায় রয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে, অভিনেত্রী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য এই স্বস্তির খবর জানিয়ে দেন।
ফেসবুক পেজে অপু বিশ্বাস উল্লেখ করেন, নেপালে আকস্মিক ভূমিকম্প ও বন্যার কারণে শত শত বিদেশি পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যেই আমরা ‘শিকার’ সিনেমার টিম বর্তমানে নেপালে অবস্থান করছি। ভূমিকম্প ও বন্যার খবর শোনার পর থেকেই অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী, ভক্ত, সাংবাদিক, আত্মীয়-স্বজন ও প্রিয়জনরা ফোন ও মেসেজের মাধ্যমে আমাদের খোঁজ নিচ্ছেন—আমরা কেমন আছি এবং নিরাপদে আছি কি না। সবার ভালোবাসা, উদ্বেগ ও আন্তরিকতার জন্য আমি হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
অপু আল্লাহর প্রশংসা করে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর রহমতে আমরা ‘শিকার’ সিনেমার পুরো টিম নিরাপদ স্থানে আছি এবং সবাই সুস্থ ও ভালো আছি।
নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে পৌঁছেছে। বুধবার সকালে, তিব্বত সীমান্তবর্তী একটি অঞ্চলে এই বন্যায় গ্রাম ও বেশ কয়েকটি প্রকল্প এলাকা ভেসে গেছে। এই ঘটনায় ভারতীয় শতাধিকসহ কয়েক শ পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন।
উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নেপাল সেনাবাহিনীর ১৪টি হেলিকপ্টার এবং দুর্যোগ মোকাবিলা দল মোতায়েন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের আবাসন এলাকায় সামাজিক সংগঠন সবুজ বাংলাদেশ, রাজবাড়ী জেলা শাখার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২০টি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ আহমেদ আশিক, বহরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুবেল মাহমুদ সুমন, সবুজ বাংলাদেশ রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি মোঃ মাসুদ রানা, সহ-সাধারণ সম্পাদক মিতা খাতুন, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক সুমাইয়া আক্তারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়রা।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেন, বৃক্ষ আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
সবুজ বাংলাদেশ একটি সামাজিক সংগঠন হিসেবে পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও বালিয়াকান্দিসহ রাজবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার পুলিশ সুপারের বাসভবনের ব্যারাক থেকে হাবিবুর রহমান (৩৩) নামে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যারাকে স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে থেকে ওই পুলিশ সদস্য আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তিনি কী কারণে আত্মহত্যার করেন তা জানা যায়নি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিনের শহরের সরকারি বাসভবনের ব্যারাক থেকে ওই পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম।
নিহত হাবিবুর রহমানের বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার সরদারপাড়ায়। তিনি ওই এলাকার মন্টু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট ঢাকা থেকে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের বাংলোয় গার্ডের দায়িত্বে যোগ দেন নায়েক হাবিবুর রহমান। এ দিন বিকেলে ব্যারাকের ওয়াশরুমের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। পরে গার্ড কমান্ডার সোহেল মিয়া কয়েকবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে অন্য সদস্যদের সহায়তায় দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় হাবিবুরকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসের (পিআইএমএস) ম্যাটারনিটি ইউনিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণে ১৪ নবজাতক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আগুন লাগার সময় নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (এনআইসিইউ) প্রধান দরজাটি তালাবদ্ধ ছিল, যা উদ্ধার কার্যক্রমে গুরুতর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরের ঠিক পরেই পিআইএমএসের প্রসূতি ওয়ার্ডে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সন্তান হারানো মা জাওয়েরিয়া এবং অন্যান্য রোগীর আত্মীয়রা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ার জন্য ওয়ার্ডের দরজা লক করে রাখত। দুর্ঘটনার সময় সেখানে কার্যকর কোনো জরুরি বের হওয়ার পথও ছিল না।
হিভসা ওয়ালিদ পিআইএমএস হাসপাতালে তার ননদের সাথে কক্ষটির কাছে অবস্থান করছিলেন।
তিনি কয়েকদিন আগে একটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। প্রথমে তিনি চিৎকার শুনে মনে করেছিলেন যে কোনো রোগী মারা গেছে, কিন্তু পরে তিনি ধোঁয়া দেখতে পান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও অভিযোগ করেছেন যে, ফায়ার সার্ভিস এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নেয়। এই কারণে পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় আচ্ছাদিত হয়ে যায়।
রোগীরা ভিতরে আটকে পড়েন। সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, উদ্ধারকারী দল দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল।
প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, সকাল ৬:৪৫ মিনিটে গাইনি ওয়ার্ডের নার্সারিতে একটি এয়ার কন্ডিশনারের কম্প্রেসর বিস্ফোরিত হয়ে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এসির আগুন পরে অক্সিজেন লাইনের সংযোগের সংস্পর্শে এসে দ্রুত ও ভয়াবহভাবে পুরো ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে।
ওয়ার্ডে মোট ১৫ নবজাতকের মধ্যে ১৪ শিশুই প্রাণ হারিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ