জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
১০:২৮ পি.এম
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের আবাসন এলাকায় সামাজিক সংগঠন সবুজ বাংলাদেশ, রাজবাড়ী জেলা শাখার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২০টি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ আহমেদ আশিক, বহরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুবেল মাহমুদ সুমন, সবুজ বাংলাদেশ রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি মোঃ মাসুদ রানা, সহ-সাধারণ সম্পাদক মিতা খাতুন, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক সুমাইয়া আক্তারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়রা।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেন, বৃক্ষ আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
সবুজ বাংলাদেশ একটি সামাজিক সংগঠন হিসেবে পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও বালিয়াকান্দিসহ রাজবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার পুলিশ সুপারের বাসভবনের ব্যারাক থেকে হাবিবুর রহমান (৩৩) নামে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যারাকে স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে থেকে ওই পুলিশ সদস্য আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তিনি কী কারণে আত্মহত্যার করেন তা জানা যায়নি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিনের শহরের সরকারি বাসভবনের ব্যারাক থেকে ওই পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম।
নিহত হাবিবুর রহমানের বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার সরদারপাড়ায়। তিনি ওই এলাকার মন্টু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট ঢাকা থেকে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের বাংলোয় গার্ডের দায়িত্বে যোগ দেন নায়েক হাবিবুর রহমান। এ দিন বিকেলে ব্যারাকের ওয়াশরুমের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। পরে গার্ড কমান্ডার সোহেল মিয়া কয়েকবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে অন্য সদস্যদের সহায়তায় দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় হাবিবুরকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসের (পিআইএমএস) ম্যাটারনিটি ইউনিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণে ১৪ নবজাতক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আগুন লাগার সময় নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (এনআইসিইউ) প্রধান দরজাটি তালাবদ্ধ ছিল, যা উদ্ধার কার্যক্রমে গুরুতর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরের ঠিক পরেই পিআইএমএসের প্রসূতি ওয়ার্ডে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সন্তান হারানো মা জাওয়েরিয়া এবং অন্যান্য রোগীর আত্মীয়রা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ার জন্য ওয়ার্ডের দরজা লক করে রাখত। দুর্ঘটনার সময় সেখানে কার্যকর কোনো জরুরি বের হওয়ার পথও ছিল না।
হিভসা ওয়ালিদ পিআইএমএস হাসপাতালে তার ননদের সাথে কক্ষটির কাছে অবস্থান করছিলেন।
তিনি কয়েকদিন আগে একটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। প্রথমে তিনি চিৎকার শুনে মনে করেছিলেন যে কোনো রোগী মারা গেছে, কিন্তু পরে তিনি ধোঁয়া দেখতে পান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও অভিযোগ করেছেন যে, ফায়ার সার্ভিস এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নেয়। এই কারণে পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় আচ্ছাদিত হয়ে যায়।
রোগীরা ভিতরে আটকে পড়েন। সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, উদ্ধারকারী দল দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল।
প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, সকাল ৬:৪৫ মিনিটে গাইনি ওয়ার্ডের নার্সারিতে একটি এয়ার কন্ডিশনারের কম্প্রেসর বিস্ফোরিত হয়ে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এসির আগুন পরে অক্সিজেন লাইনের সংযোগের সংস্পর্শে এসে দ্রুত ও ভয়াবহভাবে পুরো ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে।
ওয়ার্ডে মোট ১৫ নবজাতকের মধ্যে ১৪ শিশুই প্রাণ হারিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরে স্কুলের শিক্ষক, স্ত্রী-সন্তানসহ চারজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ইবিস্থ দিনাজপুর জেলা ছাত্র জেলাকল্যাণের আয়োজনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এতে সংগঠনটির অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শোয়াইব বিন আছাদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সমিতির সভাপতি পংকজ রায়, সহ-সভাপতি আশিকুল ইসলাম এবং শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সাজিদুর রহমান সাজিদ।
বক্তারা বলেন, মাদকের মতো ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত সিদ্ধার্থ, মুগ্ধসহ জড়িত সকল অপরাধীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
তারা আরও বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ হুমকি। তাই মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে। মাদক ব্যবসা, সরবরাহ ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ও নিরপেক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অপরাধ দমনে প্রশাসনকে আরও তৎপর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি তদন্তে কোনো ধরনের ফাঁকি বা গাফলতি না রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা রংপুরের এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোর, ২৬ আগস্ট, ২০২৬ : জেলার শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সোনামুখী বিল সংলগ্ন এএফ মৎস্য খামারে মাছ মারা যাওয়ার প্রকৃত কারণ ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট নয়, বরং খামারের সার্বিক ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি।
সাম্প্রতিক সময়ে ওই খামারে ব্যাপকহারে মাছ মারা যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়।
এর প্রেক্ষিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত তদন্ত কমিটি গত ২৫ আগস্ট ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে।
এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ, বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড যাচাই এবং মৎস্য বিভাগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়ের পানির গুণাগুণ পরীক্ষা করা হয়।
তদন্তে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২২ আগস্ট রাত ১টা ৪২ মিনিট থেকে রাত ২টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত মোট প্রায় ৪৪ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এর আগে ও পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। তবে খামারে লোডশেডিংয়ের পূর্ব থেকেই মাছ মারা যেতে থাকে বলে তদন্তে উঠে আসে। ফলে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মাছের মৃত্যু হয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যের কোনো তথ্যগত সমর্থন মেলেনি।
তদন্ত কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়ের পরিস্থিতি ও পানির গুণাগুণ পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, খামারে অতিরিক্ত ঘন মাছের মজুত, উচ্চ আমিষসমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগ, জৈব ও নাইট্রোজেনজাত বর্জ্যের চাপ, ফাইটোপ্ল্যাংকটনের অস্বাভাবিক আধিক্য, পানির পিএইচ ও অ্যামোনিয়ার অসামঞ্জস্য এবং দ্রবীভূত অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা গেছে।
পাশাপাশি প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত এয়ারেশন ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অনুপস্থিতিও পরিলক্ষিত হয়েছে। এসব কারণের সম্মিলিত প্রভাবই মাছের মৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।
খামার মালিকপক্ষ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মাছ, বৃহৎ বিনিয়োগ ও ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজনীয় জেনারেটর স্থাপন সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন।
তদন্ত কমিটি বলছে, খামারপক্ষের দাবি করা বিনিয়োগ ও সম্পদের পরিমাণের তুলনায় জরুরি পরিস্থিতিতে এয়ারেশন ব্যবস্থা সচল রাখার উপযোগী বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত সামান্য ছিল।
এছাড়া ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে খামার মালিকপক্ষের বক্তব্যও বিদ্যুৎ বিভাগের সরবরাহ রেকর্ড ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছে কমিটি।
সার্বিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি প্রতীয়মান হয়েছে যে, মাছের মৃত্যুর প্রধান কারণ বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটি বা ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট নয়, বরং অতিরিক্ত মাছের মজুত ঘনত্বের বিপরীতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা, পর্যাপ্ত এয়ারেশন, বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও যথাযথ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করাসহ খামারের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাই এ বিপর্যয়ের প্রধান কারণ।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বার্থে সঠিক তথ্য উপস্থাপনের লক্ষ্যে যথাযথ ফ্যাক্ট-চেকিং ও তথ্য যাচাই ব্যতীত কোনো বিভ্রান্তিকর, অতিরঞ্জিত বা যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ