ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

পাকিস্তানে হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ বর্ণনা দিলেন প্রত্যক্ষদর্শীরা


পাকিস্তানে হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ বর্ণনা দিলেন প্রত্যক্ষদর্শীরা

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসের (পিআইএমএস) ম্যাটারনিটি ইউনিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণে ১৪ নবজাতক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আগুন লাগার সময় নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (এনআইসিইউ) প্রধান দরজাটি তালাবদ্ধ ছিল, যা উদ্ধার কার্যক্রমে গুরুতর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরের ঠিক পরেই পিআইএমএসের প্রসূতি ওয়ার্ডে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সন্তান হারানো মা জাওয়েরিয়া এবং অন্যান্য রোগীর আত্মীয়রা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ার জন্য ওয়ার্ডের দরজা লক করে রাখত। দুর্ঘটনার সময় সেখানে কার্যকর কোনো জরুরি বের হওয়ার পথও ছিল না।

হিভসা ওয়ালিদ পিআইএমএস হাসপাতালে তার ননদের সাথে কক্ষটির কাছে অবস্থান করছিলেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের পোশাকশিল্প: সংকট ও উত্তরণের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজন

 

তিনি কয়েকদিন আগে একটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। প্রথমে তিনি চিৎকার শুনে মনে করেছিলেন যে কোনো রোগী মারা গেছে, কিন্তু পরে তিনি ধোঁয়া দেখতে পান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও অভিযোগ করেছেন যে, ফায়ার সার্ভিস এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নেয়। এই কারণে পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় আচ্ছাদিত হয়ে যায়।

রোগীরা ভিতরে আটকে পড়েন। সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, উদ্ধারকারী দল দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্য বদলাতে গিয়ে বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল: ইরান

প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, সকাল ৬:৪৫ মিনিটে গাইনি ওয়ার্ডের নার্সারিতে একটি এয়ার কন্ডিশনারের কম্প্রেসর বিস্ফোরিত হয়ে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এসির আগুন পরে অক্সিজেন লাইনের সংযোগের সংস্পর্শে এসে দ্রুত ও ভয়াবহভাবে পুরো ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে।

ওয়ার্ডে মোট ১৫ নবজাতকের মধ্যে ১৪ শিশুই প্রাণ হারিয়েছে।

 

আরও পড়ুন: ইরানকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরে চার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ইবিতে মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩০ পি.এম


রংপুরে চার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ইবিতে মানববন্ধন

রংপুরে স্কুলের শিক্ষক, স্ত্রী-সন্তানসহ চারজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকালে  ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ইবিস্থ দিনাজপুর জেলা ছাত্র জেলাকল্যাণের আয়োজনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এতে সংগঠনটির অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শোয়াইব বিন আছাদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সমিতির সভাপতি পংকজ রায়, সহ-সভাপতি আশিকুল ইসলাম এবং শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক  সাজিদুর রহমান সাজিদ।

বক্তারা বলেন, মাদকের মতো ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত সিদ্ধার্থ, মুগ্ধসহ জড়িত সকল অপরাধীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

তারা আরও বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ হুমকি। তাই মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে  ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে। মাদক ব্যবসা, সরবরাহ ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ও নিরপেক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অপরাধ দমনে প্রশাসনকে আরও তৎপর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি তদন্তে কোনো ধরনের ফাঁকি বা গাফলতি না রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা রংপুরের এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোরে মৎস্য খামারে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নয়, মাছ মারা গেছে অব্যবস্থাপনায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩২ পি.এম


যশোরে মৎস্য খামারে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নয়, মাছ মারা গেছে অব্যবস্থাপনায়

যশোর, ২৬ আগস্ট, ২০২৬ : জেলার শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সোনামুখী বিল সংলগ্ন এএফ মৎস্য খামারে মাছ মারা যাওয়ার প্রকৃত কারণ ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট নয়, বরং খামারের সার্বিক ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি।

সাম্প্রতিক সময়ে ওই খামারে ব্যাপকহারে মাছ মারা যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। 

এর প্রেক্ষিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত তদন্ত কমিটি গত ২৫ আগস্ট ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে। 

এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ, বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড যাচাই এবং মৎস্য বিভাগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়ের পানির গুণাগুণ পরীক্ষা করা হয়।

তদন্তে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২২ আগস্ট রাত ১টা ৪২ মিনিট থেকে রাত ২টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত মোট প্রায় ৪৪ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এর আগে ও পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। তবে খামারে লোডশেডিংয়ের পূর্ব থেকেই মাছ মারা যেতে থাকে বলে তদন্তে উঠে আসে। ফলে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মাছের মৃত্যু হয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যের কোনো তথ্যগত সমর্থন মেলেনি।

তদন্ত কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়ের পরিস্থিতি ও পানির গুণাগুণ পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, খামারে অতিরিক্ত ঘন মাছের মজুত, উচ্চ আমিষসমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগ, জৈব ও নাইট্রোজেনজাত বর্জ্যের চাপ, ফাইটোপ্ল্যাংকটনের অস্বাভাবিক আধিক্য, পানির পিএইচ ও অ্যামোনিয়ার অসামঞ্জস্য এবং দ্রবীভূত অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা গেছে। 

পাশাপাশি প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত এয়ারেশন ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অনুপস্থিতিও পরিলক্ষিত হয়েছে। এসব কারণের সম্মিলিত প্রভাবই মাছের মৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।

খামার মালিকপক্ষ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মাছ, বৃহৎ বিনিয়োগ ও ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজনীয় জেনারেটর স্থাপন সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন। 

তদন্ত কমিটি বলছে, খামারপক্ষের দাবি করা বিনিয়োগ ও সম্পদের পরিমাণের তুলনায় জরুরি পরিস্থিতিতে এয়ারেশন ব্যবস্থা সচল রাখার উপযোগী বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত সামান্য ছিল। 

এছাড়া ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে খামার মালিকপক্ষের বক্তব্যও বিদ্যুৎ বিভাগের সরবরাহ রেকর্ড ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছে কমিটি।

সার্বিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি প্রতীয়মান হয়েছে যে, মাছের মৃত্যুর প্রধান কারণ বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটি বা ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট নয়, বরং অতিরিক্ত মাছের মজুত ঘনত্বের বিপরীতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা, পর্যাপ্ত এয়ারেশন, বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও যথাযথ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করাসহ খামারের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাই এ বিপর্যয়ের প্রধান কারণ।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বার্থে সঠিক তথ্য উপস্থাপনের লক্ষ্যে যথাযথ ফ্যাক্ট-চেকিং ও তথ্য যাচাই ব্যতীত কোনো বিভ্রান্তিকর, অতিরঞ্জিত বা যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালের ভূমিধস এলাকায় চীনের ড্রোন মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩২ পি.এম


নেপালের ভূমিধস এলাকায় চীনের ড্রোন মোতায়েন

নেপাল ও  তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন ভূমিধস কবলিত এলাকা পর্যবেক্ষণের জন্য দেশটির গিয়িরং শহরের ওপর একটি ড্রোন মোতায়েন করেছে চীন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি’ তাদের জরুরি সাড়াদান কার্যক্রম শুরু করেছে এবং আকাশপথে আরও পর্যবেক্ষণ ও আকাশপথে জরুরি সহায়তা বা পরিবহনের (এয়ারলিফট) পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার এবং ড্রোনগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

দেশটির পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ পর্যটকদের সংখ্যা এখন ৫৭৯-এ দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ৪৬৬ জন ২৮টি ভিন্ন দেশের নাগরিক। এদের মধ্যে ১১৩ জন নেপালি এবং ৫৪ জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এছাড়া নিখোঁজ যুক্তরাজ্যের নাগরিক রয়েছেন ৩৩ জন।

এদিকে নেপালের দক্ষিণে অবস্থিত ভারতের বিহার রাজ্যের কর্মকর্তারা গণ্ডক নদীর কারণে সৃষ্ট বন্যার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী জানিয়েছেন, রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় বাঁধের ওপর নজরদারি, রাতে টহল এবং জরুরি সেবাদানকারী দল মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রেড ক্রস তিন মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউয়ের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। আজ দিনের শুরুর দিকে কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর ওই এলাকায় প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে এবং রাজ্যের তিনটি জেলায় জরুরি দল মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য এসব দল একটি পরিকল্পনাও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের পেছনে বরফধস, বলছেন বিজ্ঞানীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ পি.এম


নেপালে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের পেছনে বরফধস, বলছেন বিজ্ঞানীরা

নেপালের ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের পেছনে হিমবাহের বরফধসের ভূমিকা থাকতে পারে বলে প্রাথমিক মূল্যায়নে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের ধারণা, একটি বরফধস লহেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে দেওয়ার পর সেখানে পানি জমে যায়। পরে সেই পানি প্রবল বেগে নিচের দিকে নেমে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।

তবে কোনো হিমবাহ-হ্রদের পানি উপচে পড়া কিংবা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণেও বন্যাটি হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত কায়াস্থ জানিয়েছেন, নেপাল ও চীনের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে।

গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, একটি বরফধস লহেন্দে নদীতে পড়ে সেটির প্রবাহ আটকে দিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে পানি জমে গিয়ে পরে তা প্রবল বেগে নিচের দিকে নেমে আসে।

কায়াস্থ বলেন, নেপালের দিক থেকে একটি বরফধস লহেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে দিয়েছিল—এমন তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে তিব্বতের দিকেও একটি ভূমিকম্প হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বতের ভূখণ্ডে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল গোসাইনকুণ্ড থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে।

কায়াস্থ বলেন, কোনো হিমবাহ-হ্রদের পানি উপচে পড়া কিংবা বাঁধ ভেঙে বন্যা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। অতীতেও ওই এলাকায় হিমবাহ-হ্রদের পানি উপচে আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটেছে।

গত বছরের ৮ জুলাইও ভোতেকোশি নদীতে একই ধরনের আকস্মিক বন্যা হয়েছিল। তখন নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছিল, রাসুয়া জেলার নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে লহেন্দে নদীতে একটি হিমবাহ-হ্রদের পানি উপচে বন্যা হয়েছিল। সেন্টিনেল স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করেও হিমবাহ-হ্রদ ভেঙে যাওয়াকে বন্যার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

কায়াস্থ বলেন, ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি বড় হিমবাহ-হ্রদ রয়েছে। গত বছরও একই ধরনের ঘটনায় লহেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে গিয়েছিল। এবারও প্রাথমিকভাবে একটি বরফধস এবং সম্ভবত হিমবাহ-হ্রদের পানি উপচে পড়াকে বন্যার কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারী বৃষ্টিপাতকে প্রধান কারণ মনে করছেন না বিজ্ঞানীরা

কায়াস্থ ভারী বৃষ্টিপাতকে বন্যার প্রধান কারণ হিসেবে নাকচ করে দিয়ে বলেন, বন্যাটি যেভাবে আকস্মিকভাবে হয়েছে, তাতে উজানে কোনো বাধার কারণে জমে থাকা পানি হঠাৎ নেমে আসার বিষয়টিই বেশি সম্ভাব্য।

তিনি বলেন, এটি কোনো স্বাভাবিক বন্যা ছিল না। বন্যার ধরন দেখে মনে হচ্ছে, হঠাৎ করে পানির প্রবল স্রোত নেমে এসেছে।

জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) মুখপাত্র শান্তি মাহাতও একটি নদীর প্রবাহ বরফধসে আটকে যাওয়ার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

চীনের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্যটি পেয়েছে সমন্বিত পার্বত্য উন্নয়নের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র (আইসিআইএমওডি)। পরে তারা তা নেপাল কর্তৃপক্ষকে জানায়।

শান্তি মাহাত বলেন, এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আইসিআইএমওডি অন্য পাশ থেকে পাওয়া তথ্য নেপাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শেয়ার করেছে। এটি কেবল প্রাথমিক মূল্যায়ন। আপাতত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে বন্যার কারণ আরও পরিষ্কার হবে।

নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগও জানিয়েছে, নেপাল বা তিব্বতের কোথাও কোনো হিমবাহ-হ্রদের পানি উপচে পড়ার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

রাসুয়া বন্যা নিয়ে প্রকাশিত বিশেষ হালনাগাদ তথ্যে বিভাগটি জানায়, মঙ্গলবার বা বুধবার রাসুয়া এলাকায় কোনো ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি। বুধবারও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ছিল না। বৃষ্টিবাহী মেঘ তৈরির সম্ভাবনা ছিল বৃহস্পতিবার থেকে।

নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক

সকালের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর নেপাল সরকার জানিয়েছে, এ ঘটনায় এ পর্যন্ত অন্তত ২২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, তারা মোট ৩৮৪ জন পর্যটককে নিখোঁজ হিসেবে শনাক্ত করেছে। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে থাকা ভ্রমণকারীদের অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ১২ জন ব্রিটিশ, ১০৫ জন ভারতীয়, ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়, ১৭ জন মালয়েশীয়, ৪ জন দক্ষিণ আফ্রিকান, ৩ জন আমেরিকান, ১ জন অস্ট্রেলীয় ও ১ জন ডাচ নাগরিক রয়েছেন।

এ ছাড়া আরও ১১১ জন নিখোঁজ ব্যক্তির জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে তাদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%