ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

আজ তিন দফায় ১২ হাজার টাকার বেশি বেড়ে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে


আজ তিন দফায় ১২ হাজার টাকার বেশি বেড়ে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সাম্প্রতিক ৫ দফা সমন্বয়ের মধ্যে ৩ বার বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব সমন্বয়ের মধ্যে সর্বশেষ ১২ হাজার ৭২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। ওই দিন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ (শুক্রবার, ৬ নভেম্বর) মূল্যবান ধাতুটি বিক্রি হচ্ছে সর্বশেষ নির্ধারিত দামে।

একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দাম কার্যকর হয়েছে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে।

আরও পড়ুন: ন্যুনতম মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় সভার তারিখ ৯ নভেম্বর নির্ধারণ

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

বাজুস জানিয়েছে, অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ ও পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেয়া যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।

এর আগে, ৪ নভেম্বর সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। ওই দিন ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের পোশাকশিল্প: সংকট ও উত্তরণের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজন

এখন পর্যন্ত চলতি বছরে দেশের বাজারে ১৩৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম ৬৫ দফা বৃদ্ধি পেয়েছে, ৬৭ দফা কমেছে এবং ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল।

স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেলেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৯১৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ২১৬ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত চলতি বছরে দেশের বাজারে ৭৮ দফা রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম ৩৬ দফা বৃদ্ধি পেয়েছে; বাকি ৪২ দফা কমেছে। ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার এবং কমেছিল মাত্র ৩ বার।

আরও পড়ুন: আকুর দায় শোধের পর দেশের রিজার্ভ কমে ৩৪.৮৫ বিলিয়ন ডলারে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খাগড়াছড়িতে আগুনে ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৩ এম


খাগড়াছড়িতে আগুনে ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই

খাগড়াছড়ি পৌর এলাকার কলাবাগানে আগুনের ফলে ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার রাত পৌনে ৩টার দিকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুন নেভাতে স্থানীয় জনগণ, সেনাবাহিনী এবং পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেছেন। কাঠের দোকান, ফার্নিচার কারখানা সহ ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগুনে পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মুকুল কুমার নাথ জানিয়েছেন, কাঠ ও টিনের কাঠামো থাকার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পানির সংকটের কারণে আগুন নেভাতে সময় লেগেছে। আগুনের ফলে ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং টমটম অটোরিকশা পুড়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্য বদলাতে গিয়ে বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৪ এম


মধ্যপ্রাচ্য বদলাতে গিয়ে বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল: ইরান

ইরানের বাসিজ কমান্ডার হোসেইন তাইয়েব মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে পরিবর্তন শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো নিজেদের মতো করে সাজানোর মার্কিন প্রচেষ্টা উলটো দেশ দুটির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

হোসেইন তাইয়েব তেহরানে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক রেজিস্ট্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় এসব কথা বলেন।

ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আজ আমরা বলতে পারি, আমেরিকা ও ইসরাইলে পরিবর্তন শুরু হয়েছে। শিগগিরই বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রতিফলন দেখতে পাব।’

তাইয়েবের দাবি, বিশ্বজুড়ে মার্কিন জীবনধারা ছড়িয়ে দেওয়ার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ওয়াশিংটনের ছিল, তা এখন খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধ এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও শিল্পীদের আন্দোলন দেশটির নীতির বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান জনমতের প্রতিফলন।

ইরানের এই বাসিজ কমান্ডার আরও দাবি করেন, বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন বাড়ছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের প্রতি মার্কিন জনগণের ক্লান্তিও ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তার এবং অঞ্চলটির রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা পরিবর্তনের মার্কিন প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত ফল বয়ে আনেনি। বরং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতেই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খাদ্যে ভেজাল: মানুষের জীবন নিয়ে নির্মম প্রতারণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৪ এম


খাদ্যে ভেজাল: মানুষের জীবন নিয়ে নির্মম প্রতারণা

মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে একটি হলো নিরাপদ খাদ্য। মুমিনদের উচিত এমন কোনো কাজে আত্মনিয়োগ না করা, যা মানুষের এই অধিকার খর্ব করে। কারণ মানুষ বেঁচে থাকার জন্য খাবার গ্রহণ করে, কিন্তু যদি সেই খাবার মানুষের অসুস্থতা, পঙ্গুত্ব কিংবা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে এটি শুধুমাত্র ব্যবসায়িক অনিয়ম নয়; বরং মানুষের জীবন ও অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সমতুল্য। খাদ্যে ভেজাল মেশানো, নিষিদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহার, পচা-বাসি খাবার বিক্রি, কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন—এসবই জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে।

ইসলাম মানুষের জীবন রক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তাই খাদ্য হালাল হওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও ক্ষতিমুক্ত হওয়া ইসলামী জীবনব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। নিম্নে এ বিষয়ে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হলো—

হালাল ও পবিত্র খাদ্যের নির্দেশনা : পৃথিবীতে বহু ধরনের জিনিস মানুষ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে; কিন্তু মুমিনের জন্য সব খাদ্য গ্রহণ করা হালাল নয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের হালাল ও উত্তম খাবার গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মানুষ! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র রয়েছে, তা থেকে আহার করো।’ (সুরা বাকারাহ, আয়াত : ১৬৮)

এই আয়াতে হালাল ও তায়্যিব—দুটি বিষয় একসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। হালাল অর্থ শরিয়তসম্মত এবং তায়্যিব অর্থ উত্তম, পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন। অর্থাৎ খাবার শুধু বৈধ হলেই যথেষ্ট নয়; তার গুণগত মান ও পবিত্রতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতিকর উপাদান মিশিয়ে কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা এ নির্দেশনার চেতনার পরিপন্থী।

খাদ্যে প্রতারণা নবীজির আদর্শবিরোধী : খাদ্যে ভেজাল মেশানো ও প্রতারণা করা একটি জাতি কিংবা সমাজকে দীর্ঘমেয়াদি বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এ ব্যাপারে আমাদের প্রিয় নবী (সা.) অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। হাদিস শরিফে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) খাদ্যশস্যের একটি স্তূপের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তিনি স্তূপের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দিলেন; ফলে হাতের আঙুলগুলো ভিজে গেল। তিনি বললেন, হে স্তূপের মালিক! এ কি ব্যাপার? লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! এতে বৃষ্টির পানি লেগেছে। তিনি বললেন, সেগুলো তুমি স্তূপের ওপরে রাখলে না কেন? তাহলে লোকেরা দেখে নিতে পারত। জেনে রাখো, যে ব্যক্তি ধোঁকাবাজি করে, আমার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। (মুসলিম, হাদিস : ১৮৫)

এই হাদিসে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এখানে শুধু খাদ্যে ভেজাল নয়, পণ্যের প্রকৃত অবস্থা গোপন করে ক্রেতাকে ঠকানোর বিরুদ্ধেও সতর্ক করা হয়েছে। আজকের দিনে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার নতুন মোড়কে বিক্রি, পণ্যের উপাদান গোপন কিংবা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার—এসবই এ হাদিসের শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

খাদ্যের পবিত্রতা ইবাদতের সঙ্গেও জড়িত : হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা পবিত্র, তিনি পবিত্র ও হালাল বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না।’ (মুসলিম, হাদিস : ২২৩৬)

এ হাদিস প্রমাণ করে, খাদ্যের পবিত্রতা শুধু দেহের বিষয় নয়, মানুষের আত্মিক জীবন ও ইবাদতের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাই খাদ্য যেমন হালাল হতে হবে, খাদ্য কেনা বা সংগ্রহের পদ্ধতি ও অর্থও হালাল হতে হবে।

খাদ্য অপচয় রোধ করতে হবে : খাদ্য মহান আল্লাহর অমূল্য নিয়ামত। খাদ্যের প্রতিটি ক্ষুদ্র অংশ বীজ থেকে শুরু করে আমাদের পাত পর্যন্ত আসার পেছনে বহু মানুষের শ্রম রয়েছে। খাদ্য অপচয় মহান আল্লাহর নিয়ামতের অবমূল্যায়নের শামিল। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে বনি আদম! প্রত্যেক সালাতের সময় তোমরা সুন্দর পোশাক গ্রহণ করো। আর খাও এবং পান করো কিন্তু অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৩১)

মনে রাখতে হবে, খাদ্যে ভেজাল দিয়ে মুনাফা অর্জন সাময়িক কিছু অর্থকড়ি এনে দিলেও তা মানুষের জীবন বিপন্ন করে এবং সমাজে অন্যায় ছড়িয়ে দেয়। নিরাপদ খাদ্য কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়; এটি মানুষের ন্যায্য অধিকার। মানুষের জীবন রক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুমাবারে ১৫টি আমল গুনাহ মাফ করে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৫ এম


জুমাবারে ১৫টি আমল গুনাহ মাফ করে

জুমার দিন সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বিবেচিত। আল্লাহ তাআলা এই দিনকে অন্যান্য দিনের তুলনায় শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন। ফলে, জুমার দিনে মুমিনদের হৃদয়ে এক অপার্থিব সুখের অনুভূতি সৃষ্টি হয়। পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি এবং ভালোবাসার আলো ছড়িয়ে পড়ে। এই দিন বিশেষ কিছু ইবাদত ও আমল রয়েছে, যা মহানবী (সা.)-এর জীবনে দেখা যায়। নিচে সেগুলোর আলোচনা করা হলো—

১. জুমাবারের ফজরের তিলাওয়াত করা : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) শুক্রবার ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা এবং সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৬৮)

জুমার দিনে এই সুরা তিলাওয়াত করার কারণ হলো, এই সুরাতে আদম (আ.)-এর সৃষ্টির কথা, পুনরুত্থানের বিষয় এবং কিয়ামতের দিন সমবেত হওয়ার আলোচনা রয়েছে। তাই এই সুরা পাঠ করে উম্মতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

২. বেশি পরিমাণে দরুদ শরিফ পড়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা জুমার দিন আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়।" (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

৩. জুমার নামাজ আদায় করা : ইসলামের ফরজ বিধানগুলোর মধ্যে জুমার নামাজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আরাফার দিবসের পর এদিন সবচেয়ে বেশি মানুষ একত্রিত হয়। যারা জুমার নামাজকে অলসতা বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ছেড়ে দেয়, তাদের হৃদয়ে আল্লাহ তাআলা মোহর মেরে দেন।

৪. গোসল করা : এই দিনে বিশেষভাবে গোসল করার তাগিদ এসেছে। সালিম (রহ.) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, "যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসে সে যেন গোসল করে আসে।" (তিরমিজি, হাদিস : ৪৯২)

৫. সুগন্ধি ব্যবহার করা : অন্য দিনের তুলনায় এদিন বেশি সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, "আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে।" (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮০)

৬. দ্রুত মসজিদে যাওয়া : জুমার দিনের ফজিলত লাভের জন্য এই আমল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এদিকে বিশেষভাবে মনোযোগী হওয়া উচিত।

৭. ইবাদতে মশগুল থাকা : ইমাম জুমার নামাজে আসার পূর্ব পর্যন্ত নামাজ, জিকির ও তিলাওয়াতে রত থাকা।

৮. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকা : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তার সঙ্গীকে বলল, ‘চুপ থাকো’ সে একটি অনর্থক কাজ করল।" (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ১৪০১)

৯. সুরা কাহফ পড়া : আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তীকাল জ্যোতির্ময় হবে।" (আত-তারগিব, হাদিস : ৭৩৫)

১০. জুমার নামাজের নির্ধারিত সুরা পাঠ করা : নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদের নামাজে ও জুমার নামাজে ‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা’ ও ‘হাল আতা-কা হাদিসুল গা-শিয়াহ’ সুরা দুটি পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯১৩)

কিছু বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) সুরা জুমুআ ও সুরা আলা তিলাওয়াত করতেন।

১১. পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর কাপড় পরিধান করা : আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করে, উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, তার উৎকৃষ্ট পোশাক পরিধান করে এবং আল্লাহ তার পরিবারের জন্য যে সুগন্ধির ব্যবস্থা করেছেন, তা শরীরে লাগায়, এরপর জুমার সালাতে এসে অনর্থক আচরণ না করে এবং দুজনের মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর না হয়, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করা হয়।" (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস : ১০৯৭)

১২. মসজিদে সুগন্ধি লাগানো : ওমর (রা.) জুমার দিন দ্বিপ্রহরে মসজিদে সুগন্ধি লাগানোর জন্য আদেশ করেছেন।

১৩. ক্ষমা প্রার্থনা করা : এদিন মহান রবের পক্ষ থেকে গুনাহ মাফের বারি বর্ষিত হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, "যদি কোনো মুসলিম পবিত্র হয়ে জামে মসজিদের দিকে হাঁটতে থাকে, এরপর ইমাম নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকে, তাহলে এ নামাজ এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গুনাহের কাফফারা (মোচনকারী) হয়ে যাবে, যদি ধ্বংসকারী তথা কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।" (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৩৭২৯)

১৪. মৃতদের জন্য দোয়া করা : জুমার দিন কবরের আজাব মাফ হয়ে যায়। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) জুমার দিন ছাড়া (অন্য দিন) ঠিক দুপুরে নামাজ আদায় করা অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছেন, "জুমার দিন ছাড়া (অন্যান্য দিনে) জাহান্নামের আগুনকে উত্তপ্ত করা হয়।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১০৮৩)

জুমার দিনে বা রাতে যে মারা যাবে, তার জন্য কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে, এটি এই হাদিস থেকে প্রমাণিত। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব দেওয়া হবে না, এটি নিশ্চিত নয়।

১৫. বেশি বেশি দোয়া করা : বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল হয়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "জুমার দিনের মধ্যে অবশ্যই এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করে নিশ্চয়ই তিনি তাকে তা দান করেন।" তিনি বলেন, "সে মুহূর্তটি অতি স্বল্প।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৮৫৮)

বেশির ভাগের মতে, সে সময়টি আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ মুহূর্ত। (জাদুল মাআদ থেকে সংক্ষেপিত)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%