মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩৫ পি.এম
এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এই সময়ের মধ্যে ১ হাজার ৫৯৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে ডেঙ্গু সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় যেসব রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৫ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরে ৩৮৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩২ জন, খুলনা বিভাগে ২৯০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮২ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩৭ জন, রংপুর বিভাগে ৬৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গুতে ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৫৫ হাজার ১৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের হামলার অব্যাহত হুমকির প্রেক্ষাপটে সউদী আরব কর্তৃপক্ষ দেশের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা বজায় রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সউদী আরবের অর্থনীতিকে অচল করে দেওয়ার এই পরোক্ষ হুমকি আসলে ওয়াশিংটনের জন্য একটি গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে।
জর্জেটাউন ইউনিভার্সিটির কাতারের সহকারী অধ্যাপক লুসিয়ানো জ্যাকারা আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, "হুথিরা কৌশলগতভাবে সউদী আরবকে এই বার্তা দিতে চাইছে যে— রিয়াদ ও তার অর্থনৈতিক কাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার মতো সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা তাদের রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "এবারে হুথিরা বেশ কৌশলী চাল চালছে। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, তাদের মূল লক্ষ্য সউদী আরব এবং দেশটির অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে আঘাত করা।"
ইরানের সাথে হুথিদের জোট এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে এই বিশ্লেষক সতর্ক করে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি নৌ-অবরোধ বা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তেহরানের অর্থনীতিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করে, তবে ইরান ও তার সহযোগীরাও একই পথ বেছে নেবে। হুথিরা এখন ভালো করেই বোঝে যে, কেবল রণক্ষেত্রে সামরিক সুবিধা পেলেই চলবে না; বরং সউদী অর্থনীতিকে বিপদে ফেলতে হলে কৌশলী ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আঘাত হানতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজারে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে, যা পরোক্ষভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর মন্তব্য করেছেন যে, ঝালকাঠির জনগণের সার্বিক উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা অপরিহার্য। উন্নয়ন বঞ্চিত এই এলাকার উন্নয়নের জন্য সকলকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করা।
আজ ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আহম্মদ সোহেল মনজুর এসব বিষয় তুলে ধরেন। সভাটি জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমসহ সরকারি কার্যাবলী তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি সেবায় যেকোনো অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানি রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে সকলকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ঝালকাঠি জেলার চলমান ও প্রস্তাবিত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা করা হয়।
এতে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং ইরানি হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতির একটি চাঞ্চল্যকর চিত্র প্রকাশ করেছে পেন্টাগনের প্রধান তদারকি সংস্থা। সোমবার প্রকাশিত পেন্টাগন ওয়াচডগ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি হামলায় অন্তত ডজনখানেক যুদ্ধবিমান ও সামরিক ড্রোন ধ্বংস হয়েছে এবং শতাধিক ভবন ও অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশ্লেষণে পেন্টাগন রিপোর্টের এই তথ্য উঠে এসেছে, যা ওয়াশিংটনের পূর্ববর্তী স্বীকার করা ক্ষতির তুলনায় অনেক বেশি।
সামরিক বিমান ও ড্রোনের ধ্বংসস্তূপ
রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী অন্তত ৩০টি এমকিউ-৯ রিপার (MQ-9 Reaper) ড্রোন হারিয়েছে। এ ছাড়া এফ-১৫ই (F-15E) যুদ্ধবিমান, অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ (F-35A) স্টিলথ ফাইটার, এ-১০ গ্রাউন্ড-অ্যাটাক এয়ারক্রাফট, কেসি-১৩৫ (KC-135) রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার, এবং বেশ কয়েকটি উদ্ধারকারী ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এমনকি ২৪০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এমকিউ-৪সি ট্রাইটন (MQ-4C Triton) ড্রোন এবং অ্যাপাচি (AH-64 Apache) হেলিকপ্টারও ইরানি হামলার শিকার হয়েছে।
প্রাণহানি ও আহত সেনা
প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে, এই সংঘাত চলাকালীন অন্তত ১১ জন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা শত্রুর হামলায় (Killed in Action) নিহত হয়েছেন এবং ৭ জন অ-যুদ্ধজনিত দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি ৩০ জুনের মধ্যে অন্তত ৪১৭ জন মার্কিন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন।
সামরিক ঘাঁটি ও কূটনৈতিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত
সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ইনস্টলেশনের শতাধিক ভবনে আঘাত হেনেছে ইরানি মিসাইল ও ড্রোন।
শুধু সামরিক ঘাটেই নয়, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও ইউএই-তে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক দপ্তরগুলোও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই কূটনৈতিক ভবনগুলোর ক্ষতিপূরণ ও পুনর্নির্মাণে প্রায় ১৮৪ মিলিয়ন ডলার খরচ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু ইরাকের মার্কিন মিশনই ৬০০টিরও বেশি হামলার মুখোমুখি হয়ে প্রায় ১৫৭ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
অস্ত্র ও গোলাবারুদের সংকট
পেন্টাগনের রিপোর্টটি ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ অস্ত্র সংকটের বিষয়টিও সামনে এনেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে প্রচুর পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরির দাবি করলেও, পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—অস্ত্র ও গোলাবারুদের ঘাটতির পাশাপাশি সরবরাহের ক্ষেত্রে জটিলতা (Bottlenecks) তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে মার্কিন বাহিনীর এই বিপুল আর্থিক ও সামরিক ক্ষতি একটি বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দৈনিক আজকের সারাদেশ পত্রিকার মালিকানা হস্তান্তরের পর তা অস্বীকার এবং হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় গড়িমসির অভিযোগে সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজের বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও একাধিকবারের নির্বাচিত সাবেক সহসভাপতি শেখ ফয়েজ আহমেদ।
গত ৩০ আগস্ট শেখ ফয়েজ আহমেদ জিডিটি করেন। এর নম্বর ২৪৭৯। জিডিতে পত্রিকার মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়টি অস্বীকার করার অভিযোগের পাশাপাশি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে নিজের জীবনের ক্ষতির আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
জিডি সূত্রে জানা যায়, আর্থিক সংকটের কারণে সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ ২০২০ সালের ২৭ জুলাই ফরিদপুরের বিজ্ঞ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে একটি হস্তান্তরনামা সম্পাদন করে দৈনিক আজকের সারাদেশ পত্রিকার মালিকানা শেখ ফয়েজ আহমেদের কাছে হস্তান্তর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হস্তান্তরনামার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৫৫১ বলে জিডিতে দাবি করা হয়েছে।
শেখ ফয়েজ আহমেদের অভিযোগ, মালিকানা হস্তান্তরের পর সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে একটি সংঘবদ্ধ মহলের প্ররোচনায় তিনি ওই হস্তান্তরের বিষয়টি অস্বীকার করছেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়।
জিডিতে আরও দাবি করা হয়েছে, সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের পর তা পরিশোধ না করার অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে মামলা হয়েছে। ফরিদপুর ও বাগেরহাটের আদালতে তার বিরুদ্ধে চেকসংক্রান্ত মামলাও রয়েছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলার কোনো কোনোটি আদালতের রায় ও সাজা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
এ বিষয়ে শেখ ফয়েজ আহমেদ বলেন, “সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ একজন স্বীকৃত প্রতারক। তাঁর পক্ষে সবকিছু অস্বীকার করা সম্ভব। ফরিদপুরের আদালতে একাধিক চেক প্রতারণা মামলায় তিনি দণ্ডিত হয়েছেন—এ কথা সবাই জানেন।”
তবে সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ বিভিন্ন মাধ্যমে দৈনিক আজকের সারাদেশ পত্রিকা বিক্রি বা হস্তান্তরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, গত ১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার কাদিরদী বাজারে সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজের মালিকানাধীন ‘আজকের সারাদেশ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সেটি সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বৈধ অনুমোদন না থাকা এবং সেখানে অপচিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পত্রিকার মালিকানা হস্তান্তর সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে আইনগত বিষয়টি নির্ধারণের দাবি উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ