প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং ইরানি হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতির একটি চাঞ্চল্যকর চিত্র প্রকাশ করেছে পেন্টাগনের প্রধান তদারকি সংস্থা। সোমবার প্রকাশিত পেন্টাগন ওয়াচডগ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি হামলায় অন্তত ডজনখানেক যুদ্ধবিমান ও সামরিক ড্রোন ধ্বংস হয়েছে এবং শতাধিক ভবন ও অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশ্লেষণে পেন্টাগন রিপোর্টের এই তথ্য উঠে এসেছে, যা ওয়াশিংটনের পূর্ববর্তী স্বীকার করা ক্ষতির তুলনায় অনেক বেশি।
সামরিক বিমান ও ড্রোনের ধ্বংসস্তূপ
রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী অন্তত ৩০টি এমকিউ-৯ রিপার (MQ-9 Reaper) ড্রোন হারিয়েছে। এ ছাড়া এফ-১৫ই (F-15E) যুদ্ধবিমান, অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ (F-35A) স্টিলথ ফাইটার, এ-১০ গ্রাউন্ড-অ্যাটাক এয়ারক্রাফট, কেসি-১৩৫ (KC-135) রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার, এবং বেশ কয়েকটি উদ্ধারকারী ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এমনকি ২৪০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এমকিউ-৪সি ট্রাইটন (MQ-4C Triton) ড্রোন এবং অ্যাপাচি (AH-64 Apache) হেলিকপ্টারও ইরানি হামলার শিকার হয়েছে।
প্রাণহানি ও আহত সেনা
প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে, এই সংঘাত চলাকালীন অন্তত ১১ জন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা শত্রুর হামলায় (Killed in Action) নিহত হয়েছেন এবং ৭ জন অ-যুদ্ধজনিত দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি ৩০ জুনের মধ্যে অন্তত ৪১৭ জন মার্কিন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন।
সামরিক ঘাঁটি ও কূটনৈতিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত
সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ইনস্টলেশনের শতাধিক ভবনে আঘাত হেনেছে ইরানি মিসাইল ও ড্রোন।
শুধু সামরিক ঘাটেই নয়, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও ইউএই-তে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক দপ্তরগুলোও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই কূটনৈতিক ভবনগুলোর ক্ষতিপূরণ ও পুনর্নির্মাণে প্রায় ১৮৪ মিলিয়ন ডলার খরচ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু ইরাকের মার্কিন মিশনই ৬০০টিরও বেশি হামলার মুখোমুখি হয়ে প্রায় ১৫৭ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
অস্ত্র ও গোলাবারুদের সংকট
পেন্টাগনের রিপোর্টটি ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ অস্ত্র সংকটের বিষয়টিও সামনে এনেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে প্রচুর পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরির দাবি করলেও, পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—অস্ত্র ও গোলাবারুদের ঘাটতির পাশাপাশি সরবরাহের ক্ষেত্রে জটিলতা (Bottlenecks) তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে মার্কিন বাহিনীর এই বিপুল আর্থিক ও সামরিক ক্ষতি একটি বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন