ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকার সাবরেজিস্টারদের পোস্টিংয়ে লটারি ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী


ঢাকার সাবরেজিস্টারদের পোস্টিংয়ে লটারি ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ঢাকা শহরের সাবরেজিস্টারদের পোস্টিংয়ের জন্য লটারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনলাইনে তালাক ও নিকাহ নিবন্ধন সফটওয়্যারের ব্যবহার বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন একই জায়গায় সাবরেজিস্টারদের থাকার কারণে বদলি করতে গেলে বিভিন্ন দিক থেকে তদবির আসে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে ঢাকা শহরের মধ্যে সাবরেজিস্টারদের পোস্টিং লটারি ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়মনীতি মেনে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির পরিকল্পনা তিতুমীরের

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য সংরক্ষণ এবং তা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, ধাপে ধাপে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য এনআইডি ও পাসপোর্টের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে এসব তথ্য সংযুক্ত হলে একজন ব্যক্তির বিভিন্ন তথ্য একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যাবে। যদি কোনো ব্যক্তি এক জায়গায় বিয়ে করার পর তথ্য গোপন করে অন্য জায়গায় আবার বিয়ে করতে যায়, তাহলে অনলাইনে তার আগের তথ্য দেখা যাবে। তখন পূর্ববর্তী স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া ওই ব্যক্তির আরেকটি বিয়ে নিবন্ধনের বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য থাকলে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বা সন্তানদের পক্ষ থেকে একাধিক দাবি উঠলেও নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে এ ধরনের দাবি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার সুযোগ কমবে এবং রাষ্ট্রের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে।

বিদেশে থাকা বা বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও অনলাইনে সংরক্ষিত বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য কাজে লাগবে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি বিদেশে গিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিতে চান, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে অনলাইনে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে ওই ব্যক্তির প্রকৃত স্ত্রী কে, সে বিষয়ে দ্রুত তথ্য পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে সাগরে গোসল করতে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

আইনমন্ত্রী অনলাইনভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে ঘুস দাবির একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, শরীয়তপুরের নড়িয়া থানায় একজন সাব-ইন্সপেক্টরের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য প্রথমে ২ হাজার ২০০ টাকা, পরে ২ হাজার টাকা ঘুস চাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ৭০০ টাকায় রফাদফা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিবাহসংক্রান্ত নিবন্ধন অনলাইনে এলে এ ধরনের কিছু প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বন্ধে সহায়তা পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, ডিজিটালাইজেশনের বিভিন্ন ব্যবস্থা যখন একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হবে, তখন এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে। জন্মনিবন্ধন, এনআইডি ও পাসপোর্টের তথ্যের মধ্যে যেভাবে সংযোগ রয়েছে, একইভাবে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্যও পর্যায়ক্রমে এনআইডি ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, একটি শিশু জন্মের পর তার জন্মনিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরবর্তীতে ১৮ বছর বয়সে জাতীয় পরিচয়পত্র করার সময় জন্মনিবন্ধনের তথ্য প্রয়োজন হয়। একইভাবে পাসপোর্ট করার সময় জন্মনিবন্ধন ও এনআইডির তথ্যের প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ একজন ব্যক্তির জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: এবার বিআরটি ভাঙতে ব্যয় হবে ৪৫ কোটি টাকা

তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে। বাংলাদেশেও এনআইডি নম্বরের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য সংযুক্ত করার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। বিবাহ নিবন্ধনের তথ্যও যখন এনআইডি ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত হবে, তখন একজন ব্যক্তির তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে পাওয়া সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সম্পত্তি হস্তান্তরের আইনি কাঠামোয় নতুন দিগন্ত উন্মোচন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৩ পি.এম


সম্পত্তি হস্তান্তরের আইনি কাঠামোয় নতুন দিগন্ত উন্মোচন

॥ দিদারুল আলম ॥

ঢাকা, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ : সম্পত্তি দান করার পরও জীবদ্দশায় তা ভোগ ও ব্যবহার করার পূর্ণ আইনি অধিকার সংরক্ষণের সুযোগ রেখে দেশে সম্পত্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬’ পাস হওয়ার মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে এই নতুন দিগন্ত।

নতুন আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের আইনি কাঠামোয় ‘জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান’ নামে একটি নতুন পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, সম্পত্তির চূড়ান্ত মালিকানা গ্রহীতার অনুকূলে হস্তান্তর হলেও দাতা যতদিন জীবিত থাকবেন, ততদিন ওই সম্পত্তি নিজের মতো ভোগদখল ও ব্যবহার করার অধিকার রাখবেন।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে জানিয়েছেন, ‘সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আমরা একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছি। এই আইন দ্বারা হেবা কিংবা গিফট বা অন্য কোনোভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরকে বাধাগ্রস্ত করবে না বা ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের একটি বিকল্প করোনারি আনছি। কেউ যদি হেবা করতে চান, হেবা করতে পারবেন। সেখানে কোনো বাধা নেই। কেউ যদি অন্য আইনে সম্পত্তি ডিল করতে চান, সেটাও করতে পারবেন। সেখানেও কোন বাধা নেই।’

ইসলামী আইনের সঙ্গে বৈপরীত্যের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, ‘ইসলামিক ল’ বা হেবা আইনের ওপর কারো হাত দেওয়ার ক্ষমতা নেই। আমরা সেখানে হাত দিইনি। আমরা হেবাকে সংরক্ষণ করেছি। আইনের মধ্যে এক্সপ্রেসলি সেটা বলেছি।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘একটা গ্রুপ এটা নিয়ে পলিটিক্স করার চেষ্টা করছে। এগুলো সাধারণ মানুষ গ্রহণ করছে না। সাধারণ মানুষ এই আইনটাকে খুব পজিটিভলি দেখছে।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬-কে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া বাসস’কে জানিয়েছেন, ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। দেশের বিদ্যমান আইনি কাঠামোয় এটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, আইনটির সংশোধনীর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাবা-মা, দাদা-দাদি বা নানা-নানি, সন্তান-সন্ততি বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার নিজের কাছে রাখতে পারবেন। আইনটিতে এ বিধান সময়োপযোগী সংশোধনী।

সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত সংশোধনী আইনটি যথাযথভাবে যেন সর্বত্র প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর পিতা-মাতার করুণ পরিণতির বহু ঘটনা আমরা দেখেছি।

পিতা-মাতার প্রতি নিজ সন্তানদের অবজ্ঞার বহু নজিরও আমাদের সামনে রয়েছে।

একলাছ ভূঁইয়া বলেন, আমাদের দেশ চলে সাংবিধানিক আইনের অধীনে। দেশে প্রচলিত ও বিদ্যমান আইনি কাঠামোয় সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত পুরনো আইনটির সংশোধন করে জাতীয় সংসদ যে বিধান নিশ্চিত করেছে, এজন্য সরকারকে স্বাগত জানান তিনি।

সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ্ মিয়া বলেন, ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬ অনুযায়ী সম্পত্তি হস্তান্তর বা দানে দাতার জীবনকালীন নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে। দাতা তার জীবদ্দশায় সম্পত্তির পূর্ণ ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার নিজের কাছে অক্ষুন্ন রেখেই পরবর্তী প্রজন্মের অনুকূলে মালিকানা হস্তান্তর করতে পারবেন।

বিশিষ্ট এই আইনজীবী বলেন, সংশোধিত আইনটি সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। এটি পিতা-মাতার প্রতি সন্তানদের দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা এবং পারিবারিক সম্পর্কের ভিতকে মজবুত করবে। পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্বহীন, অমানবিক আচরণ পরিহার ও সতর্ক করতে এ আইনটি সময়োপযোগী এবং আইনি ও সামাজিক সঙ্কটের টেকসই সমাধান।

তিনি বলেন, পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং প্রবীণ বয়সে নিজের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা-এই দ্বৈত সংকটের একটি সুষম ও আইনি সমাধান দেবে এই বিধান।

জাতীয় সংসদে পাস ও রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর গত ৮ সেপ্টেম্বর আইনটি সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়। এটি ২০২৬ সালের ১০৫ নং আইন, যা সম্পত্তি হস্তান্তর আইন তথা ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট, ১৮৮২ এর অধিকতর সংশোধনকল্পে প্রণীত আইন।

আইনটি সংশোধন করে প্রকাশিত গেজেটে বলা হয়েছে, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ এর অধীন জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান সংক্রান্ত বিধান সুনির্দিষ্ট করা এবং ওই ভোগাধিকার সুরক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়। আইনটি ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬ নামে অভিহিত হবে। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

আইনটির ধারা ১২২ক-জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে বলা হয়েছে, এই আইনে বা বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো দাতা তার জীবদ্দশায় কোনো সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার নিজের জন্য সংরক্ষণ করে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দান করলে, সেই দান বৈধ হবে।

উপ-ধারা (১)-এর অধীনে দান বৈধ হওয়ার জন্য শর্ত হলো-এই ধরনের দান করতে পারবেন পিতা বা মাতা তার সন্তান বা সন্তানদেরকে; দাদা-দাদি বা নানা-নানি তার নাতি বা নাতনিকে; সন্তান তার পিতা-মাতা বা দাদা-দাদিকে; নাতি-নাতনি তার দাদা-দাদি বা নানা-নানিকে; অথবা স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরকে। তবে, দানটি যদি স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত হয়, তাহলে এই ধারার অধীনে ঘোষণা করে এবং রেজিষ্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী নিবন্ধিত দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে দান করতে হবে।

দাতার জীবদ্দশায় যদি গ্রহীতা মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী সম্পত্তিটি গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরিত হবে। তবে সম্পত্তির ওপর দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার বহাল থাকবে এবং সম্পত্তির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। অর্থাৎ, দানগ্রহীতা মারা গেলেও দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার নষ্ট হবে না।

এই ধারায় সম্পত্তি হস্তান্তরকে এই আইনের অধীনে একটি স্বতন্ত্র বা পৃথক ধরনের হস্তান্তর পদ্ধতি হিসেবে গণ্য করা হবে। এর ফলে এই আইন বা অন্য কোনো প্রচলিত আইনে স্বীকৃত সাধারণ দান, হেবা অথবা অন্য কোনো বৈধ হস্তান্তর পদ্ধতির বৈধতা সীমিত, ক্ষুণ্ন বা প্রভাবিত হবে না।

ধারা ১২২খ-জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক বিষয়ে বলা হয়েছে, কোনো দান একবার নিবন্ধিত হয়ে গেলে সাধারণভাবে তা অপ্রত্যাহারযোগ্য হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হবে- দাতা ও গ্রহীতা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে একটি নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে দানের ফলে সৃষ্ট অধিকার পরিবর্তন, বাতিল বা অন্য কোনোভাবে ব্যবস্থা করতে পারবেন, যদি তা প্রয়োজন হয়-আর্থিক প্রয়োজনের কারণে; চিকিৎসাগত প্রয়োজনের কারণে; শিক্ষাগত প্রয়োজনের কারণে; পারিবারিক প্রয়োজনের কারণে; অথবা অন্য কোনো প্রকৃত ও যৌক্তিক প্রয়োজনের কারণে। অথবা কোনো পক্ষের সম্মতি নেওয়া সম্ভব না হলে-যেমন-সে অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে; নিখোঁজ থাকলে; মানসিকভাবে অক্ষম হলে; আইনগত অক্ষমতা থাকলে; অথবা অন্য কোনো যথেষ্ট কারণ থাকলে, অন্য পক্ষ জেলা জজের কাছে আবেদন করতে পারবেন।

জেলা জজ ধারা ১২২ক-এর অধীনে সৃষ্ট অধিকার পরিবর্তন, বাতিল বা অন্য কোনোভাবে ব্যবস্থাপনার অনুমতি দিতে পারবেন, যদি উপ-ধারা (১)(ক)-এ বর্ণিত প্রয়োজনীয়তার কোনো একটি বিদ্যমান থাকে। জেলা জজের আদেশের আগে করণীয় (২) উপ-ধারা (১)-এর (খ) দফার অধীনে কোনো আদেশ দেওয়ার আগে জেলা জজকে-(ক) সম্পত্তি বা সংশ্লিষ্ট অধিকারে স্বার্থ রয়েছে এমন সব ব্যক্তিকে নোটিশ দিতে হবে (খ) প্রয়োজন মনে করলে যথাযথ তদন্ত বা অনুসন্ধান করতে হবে; এবং (গ) নিশ্চিত হতে হবে যে আবেদনটি সৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি সুষম আইনি সুরক্ষা ব্যবস্থা। বিদ্যমান পারিবারিক সংকট দূর করার পাশাপাশি প্রবীণদের আত্মমর্যাদা ও আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই নতুন আইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিমির হবু বরের আসল পেশা আন্তর্জাতিক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার জানা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৪ পি.এম


মিমির হবু বরের আসল পেশা আন্তর্জাতিক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার জানা গেল

টালিউডের অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যিনি তার ব্যক্তিগত জীবনকে সবার চোখের আড়ালে রেখেছিলেন, তিনি এখন কলকাতার এক মহাপুরুষের মন জয় করেছেন। এই খবরটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

নেটপাড়ায় জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে— কে সেই পাত্র? কিছু মানুষের মতে, তিনি ভারতীয় নৌসেনার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তবে প্রকৃত তথ্য ভিন্ন। তিনি নৌসেনার জওয়ান কিংবা অফিসার নন, বরং পেশায় একজন আন্তর্জাতিক স্তরের সফল মেরিন ইঞ্জিনিয়ার, যার নাম সিদ্ধার্থ।

তিনি কলকাতার একটি প্রখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘কলকাটা বয়েজ স্কুল’ থেকে পড়াশোনা করেছেন। এরপর নৌ-প্রকৌশল বা মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে আন্তর্জাতিক মার্চেন্ট নেভি দুনিয়ায় প্রবেশ করেন। ২০০৮ সালের মার্চ মাস থেকে তিনি যুক্তরাজ্যের একটি নামকরা আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থা 'Shell Ship Management Limited'-এর সঙ্গে কাজ করছেন।

শিক্ষানবিস হিসেবে তার ক্যারিয়ার শুরু হলেও, দীর্ঘ বছরের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মাধ্যমে আজ তিনি সেই বহুজাতিক সংস্থার দায়িত্বশীল সিনিয়র মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। বিশাল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ইঞ্জিন রুম সামলানো এবং সমুদ্রে ভেসে বেড়ানোই তার পেশা।

মিমি চক্রবর্তীর বিয়ের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে তুঙ্গে পৌঁছেছে। নিকটাত্মীয় ও বন্ধুদের কাছে খবর পৌঁছেছে। আগামী নভেম্বর মাসে আইনি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করবেন মিমি ও সিদ্ধার্থ। এরপর ডিসেম্বর মাসে পাহাড়ি শহর কালিম্পংয়ে তাদের চোখধাঁধানো ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’-এর আয়োজন হবে।

মিমি এতদিন কাজ এবং পোষ্যদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, কিন্তু এখন সিদ্ধার্থের সঙ্গে তার জীবনে নতুন বসন্ত এসেছে। সমুদ্র ও জাহাজ সামলানো সিদ্ধার্থের সঙ্গে টালিউড কুইনের এই রূপকথার বাঁধন দেখতে তার ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

বিনোদন জগতের উজ্জ্বল পরিবেশের থেকে সিদ্ধার্থের জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন। যদিও তিনি সরাসরি রুপালি পর্দার সঙ্গে যুক্ত নন, তবুও টালিপাড়ার বেশ কয়েকজন তারকা বন্ধুর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।

বিশেষ করে গত বছরের দুর্গাপূজার আড্ডায় মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে হাসিমুখে দেখা গিয়েছিল সিদ্ধার্থকে। অনুরাগী ও মিডিয়ার নজর এড়িয়ে এতদিন বিষয়টি গোপন থাকলেও সম্প্রতি তাদের সম্পর্কের রসায়ন প্রকাশ্যে এসেছে।

তবে অবাক করার বিষয় হলো, মিমি চক্রবর্তী এখনও সিদ্ধার্থকে ইনস্টাগ্রামে ফলো করেননি। অন্তত তার ভ্যারিফায়েড প্রোফাইল থেকে এটি স্পষ্ট যে, তিনি এখনও সেই বন্দোবস্ত করেননি!

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৫ পি.এম


মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে যে, হামলার উদ্দেশ্যে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজনকে জড়ো করার চেষ্টা করা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা গেট এলাকায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ পোস্টের কারণে এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। সজল নামের একজন ব্যক্তি ফেসবুকে ওই পোস্টটি প্রকাশ করেন এবং নিজেকে বিএল কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী তার পরিচয় নিশ্চিত করতে তাকে খাজা গেট এলাকায় ডেকে আনেন।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিনুল হক আবির জানান, অভিযুক্ত সজলকে প্রাথমিকভাবে নিয়ে আসার চেষ্টা চলাকালীন স্থানীয় কিছু ব্যক্তি এসে বাধা দেন। তারা নিজেদের বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল বা স্থানীয় ট্রাকস্ট্যান্ডের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। বিতর্কিত পোস্টটি তাদের সামনে পড়লে স্থানীয়রা ওই যুবককে মারধর শুরু করেন।

তিনি বলেন, পোস্টটি বিশ্ববিদ্যালয়সংক্রান্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মূল দাবি ছিল বিষয়টির সুরাহা যেন বাইরের কেউ না করে, বরং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে ক্যাম্পাসের গেটের অভ্যন্তরে নিয়ে আসেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশকে খবর দেন।

আর্কিটেকচার ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ রাতুল বলেন, ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কথা বলার চেষ্টা করলে সেখানে স্থানীয় দুই-তিনজন মুরুব্বি উপস্থিত ছিলেন। তাদের খাজা গেটে আসতে বলা হলে অভিযুক্ত যুবকসহ তারা সেখানে আসেন। খাজা গেটে বসার পর কথা বলার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে থাকা দুজন হঠাৎ করে উঠে ওই যুবককে মারধর শুরু করেন।

তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীরা তাদের থামানোর চেষ্টা করে এবং যুবককে ক্যাম্পাসের গেটের ভেতরে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। তখন বাইরে থাকা কয়েকজন বহিরাগত এসে গেটে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন এবং জোরপূর্বক গেট সামান্য ফাঁকা করে যুবকটিকে টেনে বের করে নিয়ে যান। পরে দৌড়ে ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে তাকে পুনরায় ধরে এনে ডিএসএর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, সজলের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোনে মাদকসংক্রান্ত কথোপকথন ও বার্তার তথ্য পাওয়া যায়। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দা বাবু, মনিরুজ্জামান লেলিন ও রহিমের নেতৃত্বে পরে সেখানে বাইরের কিছু লোকজনকে নিয়ে আসা হয়। ওই ব্যক্তিকে মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে শিক্ষার্থীরা তাকে ফিরিয়ে এনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।

একপর্যায়ে স্থানীয়দের সঙ্গে আসা লোকজন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা করে এবং তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এ সময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার জন্য লোকজন জড়ো করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনায় কয়েকজন আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তারা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। পরে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে সেখানে থাকা লোকজন সরে যায়।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া সজলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন মন্তব্য করেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, ইতিমধ্যে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছেন। মসজিদে মাইকিং করে এ ধরনের ঘোষণা কারা দিয়েছে এবং কারা এর পেছনে দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে যে অভিযোগ দায়ের করা হবে, সেখানেও এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে।

এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আলোচনা করে সমাধান করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোবেলের নতুন ভিডিওতে স্ত্রী ও সন্তানসহ সুখী সংসারের চিত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৫ পি.এম


নোবেলের নতুন ভিডিওতে স্ত্রী ও সন্তানসহ সুখী সংসারের চিত্র

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল, অসাধারণ কণ্ঠ প্রতিভা ও সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, ব্যক্তিগত ও আইনি বিতর্কের কারণে তার ক্যারিয়ারে বারবার ছন্দপতন ঘটেছে। ২০১৮ সালে ভারতের জনপ্রিয় সংগীত রিয়েলিটি শো সা রে গা মা পা বাংলা-তে অংশগ্রহণ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন নোবেল।

কিন্তু পরবর্তীতে গানের ক্যারিয়ারের চেয়ে মাদককাণ্ড, নারীঘটিত নানা অভিযোগ এবং মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে বারবার খবরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। তবে এসব বিতর্ক পেছনে ফেলে, বর্তমানে নোবেল একজন ‘ফ্যামিলিম্যান’ হিসেবে পরিচিত। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে তার সুখের সংসার দেখে ভক্ত-অনুরাগীরা নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন। নোবেলের দায়িত্বশীল ও পারিবারিক রূপ দেখে তারা উচ্ছ্বসিত।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছেন নোবেল। সেখানে একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলে বসে ছেলেকে কোলে নিয়ে গিটার বাজাচ্ছেন এই সংগীতশিল্পী। ভিডিওটি তার স্ত্রী ধারণ করেছেন।

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ির নবাববাড়ি থেকে পোস্ট করা আরেক ভিডিওতে দেখা গেছে, নোবেল ছেলেকে জেমসের বিখ্যাত ‘বাবা’ গানটি গেয়ে শোনাচ্ছেন। এছাড়া ‘বাপজানের সঙ্গে সকালের আড্ডা’ বা ‘মাই ফ্যামিলি’ ক্যাপশনে স্ত্রী-পুত্রের সঙ্গে মিষ্টি মুহূর্তের ছবিও শেয়ার করেছেন এ সংগীতশিল্পী।

সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনরা তার ছবি ও ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে এ সংগীতশিল্পীকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন। নোবেলের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে এক নেটিজেন লিখেছেন— ‘সুখী পরিবার। তবে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিনগুলো ভালো কাটুক, এই দোয়া’। আরেক নেটিজেন লিখেছেন— ‘জীবনটা এবার সুন্দর করে তিনজন মিলে গুছিয়ে নেন’। অন্য আরেক নেটিজেন লিখেছেন— ‘মাশাআল্লাহ ভাইয়া, আমরা আপনাকে এভাবেই দেখতে চাই’।

অতীত ভুলে নোবেল যেন গানে মনোযোগ দিয়েছেন এবং বিতর্কমুক্ত জীবন কাটান— এখন ভক্তদের এটাই চাওয়া। এতসব বিতর্কের পর এ সংগীতশিল্পীর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা ভক্তদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে, তা বলাই বাহুল্য।

গত বছর বড় এক বিতর্কে জড়িয়েছিলেন নোবেল। ২০২৫ সালের ১৯ জুন কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে তার বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলার বাদীকেই বিয়ে করেন এ সংগীতশিল্পী। বর্তমানে সেই স্ত্রীর সঙ্গেই সুন্দর জীবন পার করছেন তিনি, তাদের ঘর আলো করে এসেছে এক পুত্রসন্তান। কিছু দিন আগেই একমঞ্চে ছেলেকে প্রকাশ্যে এনে ভক্ত-অনুরাগীদের চমকে দিয়েছিলেন নোবেল। আর এখন তার ফেসবুক পেজজুড়ে শুধুই স্ত্রী ও সন্তানের ছবি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%