মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৪ এম
নাইজেরিয়ার আবিয়া রাজ্যের দুটি জঙ্গলে সন্দেহভাজন অপরাধীদের আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ২৮টি মানুষের মাথার খুলি ও অন্যান্য হাড় উদ্ধার করেছে। রবিবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উমুয়াকু-ইসুওচি ও ন্নেয়াতোর জঙ্গলে এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। আবিয়া রাজ্য পুলিশ জানায়, রাজ্যজুড়ে সন্দেহভাজন অপরাধীদের আস্তানা ধ্বংস করার চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশের মতে, অভিযানের খবর পেয়ে আস্তানায় অবস্থানরত সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে পৌঁছানোর আগেই পালিয়ে যায়। ফলে আস্তানাগুলো খালি অবস্থায় পাওয়া যায়। দ্য গার্ডিয়ান জানাচ্ছে, অভিযানে পুলিশের সহিংস অপরাধ দমন ইউনিট, অপহরণবিরোধী ইউনিট, গ্যাংবিরোধী ইউনিট, গোয়েন্দা প্রতিক্রিয়া ইউনিট এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দলের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া ইসুওচি পুলিশ সদর দপ্তরের সদস্যরাও অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। আবিয়া রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র মওরিন চিনাকা জানান, বিশেষ পুলিশ দল আস্তানাগুলোতে পৌঁছানোর পর সেখানে থাকা সন্দেহভাজনরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ সদস্যরা ফাঁকা আস্তানাগুলোতে তল্লাশি শুরু করেন।
তল্লাশির সময় পুলিশ সদস্যরা মানুষের দেহাবশেষ দেখতে পান। পরে সেখানে মোট ২৮টি মানুষের মাথার খুলি ও বিভিন্ন হাড় উদ্ধার করা হয়। চিনাকা জানান, পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষগুলো অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের হতে পারে। তবে দেহাবশেষগুলোর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া কিছু দেহাবশেষ ইতিমধ্যে পচে গেছে। এসব দেহাবশেষ কার এবং কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী আস্তানাগুলোতে পৌঁছানোর আগেই সন্দেহভাজনরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
মওরিন চিনাকা বলেন, দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় নিরাপত্তা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আবিয়া রাজ্য পুলিশ কমান্ড জানিয়েছে, সন্দেহভাজন অপরাধীদের খুঁজে বের করতে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উমুয়াকু-ইসুওচি ও ন্নেয়াতোর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের পশ্চিমাঞ্চলে দুটি পৃথক হামলায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ৫০ জনেরও বেশি সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। হামলাগুলোর দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেটের সাহেল শাখা, যা ইসলামিক স্টেট সাহেল প্রদেশ নামে পরিচিত।
রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জানানো হয়, গত বুধবার আবালা-ফিলিঙ্গুয়ে শহরের কাছে সামরিক পুলিশের একটি গাড়িবহরে আকস্মিক হামলা হয়। তিন দিন পর শনিবার বিরনি-এনকনি এলাকায় একটি পৃথক হামলায় ৩০ জনের বেশি সেনা নিহত হন, যা দুটি নিরাপত্তা সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, উভয় হামলাকেই সন্ত্রাসীদের দ্বারা পরিচালিত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়নি। পরবর্তীতে ইসলামিক স্টেটের পশ্চিম আফ্রিকান শাখা হামলা দুটির দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়, যা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে।
২০২৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় আসা সামরিক সরকার জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসলামিক স্টেট ও আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা অব্যাহত রয়েছে।
গত আগস্টেও রাজধানী নিয়ামে বিমানবন্দর ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে বিদ্রোহী সেনাদের হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় সরকারপন্থি বাহিনীকে রাশিয়ার ক্রেমলিন-নিয়ন্ত্রিত আধাসামরিক বাহিনী আফ্রিকা কোরের সদস্যরা সহায়তা করেছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিম নাইজারে বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক ক্ষয়ক্ষতির কারণে সম্মুখসারির সেনাদের মধ্যে হতাশা ক্রমশ বাড়ছে বলে বিশ্লেষক ও নিরাপত্তা সূত্রগুলো মনে করছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বাজারে গতকাল সোমবার সোনার দাম আরও কমানো হয়েছে। এদিন ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি দাম কমানো হয়েছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা।
এর ফলে, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা, যা গতকাল সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। এরপর নতুন করে দাম সমন্বয় না হওয়ায় আজ মঙ্গলবারও সর্বশেষ নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে।
নতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৩৮১ টাকা।
এছাড়াও, ১৮ ক্যারেট সোনার ভরি দাম ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৪ টাকা। সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, বায়ুমান স্কোর ১৯৬ নিয়ে ভারতের কলকাতা তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে।
এই বাতাসের মানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ১৫৯ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা তালিকার ৭ নম্বরে রয়েছে। ঢাকার বাতাসের মানও নাগরিকদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, দূষিত শহরের তালিকায় কলকাতা ১৯৬ স্কোর নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে। এছাড়া, ১৭৫ স্কোর নিয়ে সিঙ্গাপুর দ্বিতীয় স্থানে, ১৭২ স্কোর নিয়ে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর তৃতীয় স্থানে, ১৬৭ স্কোর নিয়ে পাকিস্তানের লাহোর চতুর্থ স্থানে এবং ১৬০ স্কোর নিয়ে কাতারের দোহা পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘অনেক ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে বায়ুর মান ‘মাঝারি বা সহনীয়’ ধরা হয়।
এছাড়া, ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য হয়। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত হয়। স্কোর ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের ৫টি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে।
এই বৈশিষ্ট্যগুলো হলো, বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।
২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো, ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণ সাইটের ধুলা।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে, বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম টানা দ্বিতীয় দিনের জন্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কার কারণে তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, গ্রিনিচ মান সময় রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬৩ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫.৯১ ডলারে পৌঁছেছে।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৭২ সেন্ট বা ০.৮ শতাংশ বেড়ে ৯৩.৩২ ডলারে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বাজারে এখনও প্রভাব ফেলছে। যদিও অঞ্চলটি থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ধীরে ধীরে বাড়ার কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তবে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগই বর্তমানে দাম বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ও দামের ওপর এর প্রভাব আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ