ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নেপাল ফের বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু


নেপাল ফের বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু

আগস্ট মাসের ভয়াবহ বন্যার ফলে দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থগিত হয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ রপ্তানি গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে পুনরায় শুরু করেছে নেপাল। ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারতের জাতীয় গ্রিড বা ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাংলাদেশের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৬ আগস্ট ভোটেকোশী নদীর তীব্র বন্যায় ত্রিশূলি ও চিলিমে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই কেন্দ্র দুটি থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমতি ছিল। বন্যার কারণে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানিও আংশিকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (এনইএ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠা জানিয়েছেন, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (সিইএ) অন্যান্য বিকল্প জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহের অনুমোদন দেওয়ার পরই এই রপ্তানি পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৬০ হাজার কোটি টাকায় কুমিল্লা–ঢাকা নতুন রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা

নতুন নির্ধারিত ব্যবস্থার অধীনে, এখন থেকে ‘সোলু খোলা’ এবং ‘কাবেলি বি-১’ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে পাঠাবে নেপাল। ‘লোয়ার মোদি খোলা’ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিকে ভারতের হরিয়ানায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। পূর্বে অনুমোদিত ত্রিশূলি, চিলিমে এবং দেবীঘাট কেন্দ্রগুলোর স্থলাভিষিক্ত হলো এই নতুন প্রকল্পগুলো।

দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠা মন্তব্য করেছেন, "বন্যা ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও দ্রুত বাংলাদেশে সরবরাহ চালু করতে পারা এবং অন্যান্য প্রকল্পে বিদ্যুৎ বিক্রি বজায় রাখা নেপালের আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য এক বড় অর্জন। বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ বাণিজ্য বাড়াতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"

এছাড়া, মৌসুমভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (এনইএ) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে ৫ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে নেপাল।

ভারতে বিদ্যুৎ রপ্তানি এবং নেপালের রেকর্ড আয়

আরও পড়ুন: দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান, সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে জয়

এদিকে, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এনইএ ভারতে মোট ৫.৯২৫ বিলিয়ন রুপি (৫৯২.৫ কোটি রুপি) মূল্যের বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে। একাধিক কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও যা গত বছরের একই সময়ের এবং বিগত মাসের আয়ের চেয়েও বেশি।

এনইএ-এর লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এলডিসি)-এর তথ্যমতে, আলোচ্য এক মাসে নেপাল ভারতে ৬৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮৬ হাজার (৬৩৩.৯৮৬ মিলিয়ন) ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি করেছে। বানের তোড়ে ভারতে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদিত কয়েকটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে পড়ায় রপ্তানি সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চূড়ান্ত আয়ে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

গত বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে নেপালের আয় ছিল ৪.৯৬৩ বিলিয়ন রুপি, যা থেকে এবার অতিরিক্ত ৯৬২ মিলিয়ন রুপি বেশি অর্জিত হয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মেয়াদের আয় (৫.০৯২৫ বিলিয়ন রুপি) থেকেও এবার ৮৩২.৫ মিলিয়ন রুপি বেশি আয় করেছে দেশটি।

দুইটি প্রধান মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ বিক্রি করা হয়েছে। এরমধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিদ্যুৎ বিক্রি চুক্তির আওতায় ভারতের হরিয়ানা ও বিহার রাজ্যে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ইন্ডিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জ (আইইএক্স)-এর ডে-অ্যাহেড ও রিয়েল-টাইম মার্কেটে প্রতিযোগিতামূলক দামে বিক্রি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৩৬ জেলায় ১০১ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর

স্বদেশি চাহিদা মেটানোর পর বর্ষাকালে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বাইরে বিক্রি করে থাকে এনইএ। মধ্যমেয়াদী চুক্তির ভিত্তিতে প্রতি বছর জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত হরিয়ানা ও বিহারে এই বিদ্যুৎ পাঠানো হয়।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই নেপাল সর্বমোট ১৬.১৫১৩ বিলিয়ন (১,৬১৫.১৩ কোটি) রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে।

পরিচালক শ্রেষ্ঠা জানিয়েছেন, বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকা সত্ত্বেও সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদে নেপালের রপ্তানি আয় বহুগুণ বেড়েছে। এই সময়ে ভারতে প্রেরিত মোট বিদ্যুতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই গেছে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অধীনে এবং বাকিটা বিক্রি হয়েছে ইন্ডিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ ৭ নিহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২২ বছর পর সেই রক্তাক্ত দিন: র‍্যাবের কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত কাউন্সিলর ও যুবদল নেতা মেহেদী, স্বজনদের আকুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাছুদুর রহমান আসলাম

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪১ পি.এম


২২ বছর পর সেই রক্তাক্ত দিন: র‍্যাবের কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত কাউন্সিলর ও যুবদল নেতা মেহেদী, স্বজনদের আকুতি

বরিশালের রাজনীতিতে আলোচিত যুবনেতা মাহবুবুল আলম মেহেদীর মৃত্যুর ২২ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০০৪ সালের ২৫ অক্টোবর র‍্যাবের কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হন তিনি। মৃত্যুর সময় মেহেদী ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং তৎকালীন বরিশাল মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। দীর্ঘ ২২ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে পরিবারের পক্ষ থেকে তোলা অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন আলোচনায় রয়েছে। ২২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করে পরিবারের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন। তাঁদের লেখায় উঠে এসেছে মেহেদীর ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক স্মৃতি, অকালমৃত্যুর বেদনা এবং দীর্ঘদিন ধরে বয়ে চলা শোকের কথা।

মেহেদীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর বড় ভাই শফিকুল আলম গুলজারের স্ত্রী আসমা পারভীন রত্না দেবরকে নিয়ে একটি আবেগময় স্মৃতিচারণমূলক পোস্ট দেন। সেখানে তিনি মেহেদীর ব্যক্তিত্ব, শৈশব, পারিবারিক বন্ধন এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে তাঁর বিশেষ অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। পোস্টটি কেবল একজন প্রয়াত স্বজনকে স্মরণ করার আবেগেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং দীর্ঘদিন আগে হারিয়ে যাওয়া একজন প্রিয় মানুষের স্মৃতি কীভাবে পরিবারের মনে আজও জীবন্ত রয়েছে, সেটিও প্রকাশ পেয়েছে তাঁর লেখায়।

আসমা পারভীন রত্নার স্মৃতিচারণে মেহেদী ছিলেন সৌন্দর্য, সৌম্যতা ও সরলতার এক অনন্য সমন্বয়। তাঁর চোখে মেহেদী ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মানুষ। অভিজাত ও সৌম্য চেহারা, মায়াভরা চোখ এবং শিশুর মতো সরল মন তাঁকে পরিবারের অন্যদের কাছে বিশেষ করে তুলেছিল। পোশাক-পরিচ্ছদেও তিনি ছিলেন পরিপাটি। বিশেষ করে পাঞ্জাবি পরলে তাঁকে খুব সুন্দর লাগত বলে স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেন আসমা পারভীন রত্না। ছোটবেলা থেকেই মেহেদী নিজের পরিচ্ছন্নতা ও গোছানো জীবনযাপনের প্রতি যত্নশীল ছিলেন বলেও জানান তিনি।

নিজের বিয়ের সময় মেহেদীর বয়স ১২ থেকে ১৩ বছরের মতো ছিল উল্লেখ করে আসমা পারভীন রত্না লেখেন, চোখের সামনে তাঁকে শৈশব পেরিয়ে কৈশোর এবং পরে তারুণ্যে পা দিতে দেখেছেন। সময়ের সঙ্গে মেহেদীর বেড়ে ওঠা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং নানা স্মৃতি আজও তাঁর মনে অমলিন। পরিবারের সবার অত্যন্ত আদরের এই মানুষটির অকালমৃত্যু যে কতটা গভীর শূন্যতা তৈরি করেছিল, তাঁর স্মৃতিচারণে সেই বেদনার প্রতিফলন দেখা যায়।

মেহেদীর মাতৃহীন শৈশবের কথাও স্মরণ করেন আসমা পারভীন রত্না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মেহেদীর বয়স যখন মাত্র দেড় বছর, তখন তাঁর মা মারা যান। মায়ের স্নেহ, ভালোবাসা ও আঁচলের নিরাপদ আশ্রয় বোঝার আগেই মাতৃহারা হতে হয়েছিল তাঁকে। পরিবারের সদস্যদের ভালোবাসায় বেড়ে ওঠা মেহেদীর জীবনের এই অধ্যায়ও তাঁর স্মৃতিচারণে বিশেষভাবে উঠে এসেছে।

পোস্টের শেষাংশে মেহেদীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে জান্নাতুল ফেরদৌস প্রার্থনা করেন আসমা পারভীন রত্না। তাঁর কবর নূরের আলোয় আলোকিত করা, পরকালের হিসাব সহজ করে দেওয়া এবং জান্নাতে উত্তম স্থান দেওয়ার জন্যও দোয়া করেন তিনি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও একজন প্রিয় স্বজনকে হারানোর বেদনা যে পরিবারের সদস্যদের মনে কতটা গভীরভাবে রয়ে গেছে, তাঁর এই প্রার্থনা ও স্মৃতিচারণে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


মাহবুবুল আলম মেহেদী বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং তৎকালীন বরিশাল মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০৪ সালের ২৫ অক্টোবর র‍্যাবের কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘটেছিল পবিত্র রমজান মাসে, সন্ধ্যার পর। সে সময় তাঁর মৃত্যু বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য, অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য সামনে আসে।

একজন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নেতার মৃত্যু ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি করে আসছে তাঁর পরিবার। বিশেষ করে মৃত্যুর পেছনের পরিস্থিতি, ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না এবং ঘটনার পর দায়ের করা মামলা নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি, তদন্তের ফলাফল এবং আদালতের সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ।

মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ২০২২ সালে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়, যখন তাঁর বড় ভাই শফিকুল আলম গুলজার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে পরোক্ষ যোগসাজশের অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্যে তৎকালীন বরিশালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মেহেদীর মৃত্যুর পেছনে সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে আসে।

গুলজারের অভিযোগে বিএনপি নেতা মজিবর রহমান সরোয়ার, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আসাদুজ্জামান খসরু, অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন জুম্মন, কে এম শহিদুল্লাহ ও হাসানের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগও তোলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ তাঁর নিজের বক্তব্য হিসেবে বিবেচ্য। অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও যথাযথ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

শফিকুল আলম গুলজার সে সময় দাবি করেন, মেহেদীর জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ তাঁর প্রতি ঈর্ষান্বিত ছিল। তাঁর অভিযোগ, এই বিরোধের জেরেই মেহেদীকে হত্যার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার সময় গুলি চললেও সেটি দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রকৃতি ও পরিস্থিতি নিয়ে যেসব বিবরণ সামনে এসেছিল, সেগুলো নিয়ে পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে।

গুলজার আরও দাবি করেন, মেহেদীর মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের অজান্তেই মামলাটি খারিজ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ভাইয়ের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কথা বলে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে দীর্ঘদিন ধরে বিচার না পাওয়ার হতাশা এবং ভাইয়ের মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পায়।

তবে গুলজারের এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ ওঠার পর বিএনপি নেতা মজিবর রহমান সরোয়ার তা অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, মেহেদী তাঁদের দলের কর্মী ছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁরা প্রতিবাদ, আন্দোলন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছিলেন। গুলজারের অভিযোগকে তিনি মিথ্যাচার বলে আখ্যা দেন। ফলে ঘটনাটি নিয়ে পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নেতার অস্বীকৃতিও আলোচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ঘটনাটিকে রহস্যজনক হিসেবে উল্লেখ করেন। ঘটনার পেছনের কারণ এবং কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগে তাঁর নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যে একদিকে ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে, অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আপত্তিও প্রকাশ পায়।


মেহেদীর মৃত্যুর ২২ বছর পূর্ণ হলেও ঘটনাটি ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের প্রশ্ন রয়ে গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে পরোক্ষ যোগসাজশ, ঘটনার প্রকৃতি এবং মামলা খারিজ হওয়া নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ও নথিভিত্তিক অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য এবং অভিযোগ অস্বীকারের বিষয়টিও সংবাদে বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার কারণে ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষদর্শী, নথিপত্র ও অন্যান্য প্রমাণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের বাইরে গিয়ে প্রামাণ্য তথ্য, মামলার নথি, তদন্তের ফলাফল এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দায়ী করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি অভিযোগগুলো যাচাই না করে উপেক্ষা করাও যথাযথ হবে না।

মেহেদীর মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারের সদস্যদের আবেগঘন স্মৃতিচারণে আবারও সামনে এসেছে তাঁকে হারানোর দীর্ঘদিনের শোক। আসমা পারভীন রত্নার স্মৃতিতে মেহেদী আজও পরিবারের আদরের, পরিপাটি ও সরল স্বভাবের সেই মানুষটি, যাঁর অনুপস্থিতি সময়ের ব্যবধানেও মুছে যায়নি। অন্যদিকে, তাঁর বড় ভাইয়ের বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন ও ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা।

একজন নির্বাচিত কাউন্সিলর ও যুবদল নেতার মৃত্যুর ২২ বছর পরও ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন ও অভিযোগ আলোচনায় থাকা বিষয়টিকে নতুন করে সামনে এনেছে। পরিবারের দীর্ঘদিনের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং প্রামাণ্য তথ্যের আলোকে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মেহেদীর পরিবার যে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আসছে, সেই প্রত্যাশার নিষ্পত্তি নির্ভর করবে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ, যথাযথ তদন্ত এবং আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেহেরপুরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় মোশারফকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


মেহেরপুরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় মোশারফকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

মেহেরপুর শহরের নতুনপাড়া এলাকায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মোশারফ হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সঙ্গে, তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে মেহেরপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. তাজুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মোশারফ হোসেন মেহেরপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনপাড়া এলাকার নুরন্নেছার ছেলে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল দুপুরে মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রী তার নিজ বাড়িতে কাজ করছিল। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে মোশারফ হোসেন সেখানে প্রবেশ করে এবং ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বাড়িতে একটি মোবাইল ফোনের রিংটোন শুনে ছাত্রীর মা আনোয়ারা খাতুন ফোনটি উদ্ধার করেন। কিছুক্ষণ পর মোশারফ হোসেন এসে ফোনটি নিজের দাবি করে নিয়ে যায়। পরে মেয়ের আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করে তার মা জানতে চাইলে সে ধর্ষণের ঘটনা জানায়। এরপর তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ছাত্রীর মা আনোয়ারা খাতুন বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা করেন। মামলাটি সদর থানার মামলা নম্বর ১৯, জিআর মামলা নম্বর ১১২/২০২৫ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের মামলা নম্বর ২৬/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে মোট ১২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) পারভীন সুলতানা এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মা ব্যারেজের কাজ শুরু হলে ১৯ জেলার ৭ কোটি মানুষ পাবে সুফল: পানিসম্পদমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


পদ্মা ব্যারেজের কাজ শুরু হলে ১৯ জেলার ৭ কোটি মানুষ পাবে সুফল: পানিসম্পদমন্ত্রী

পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজের উদ্বোধন করবেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে পাবনা সুজানগর সাতবাড়ীয়া পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক তৃতীয়াংশ জনগণের জন্য সুবিধা নিশ্চিত হবে, অর্থাৎ ৭ কোটি মানুষ উপকৃত হবে। এটি আমাদের মাস্টারমাইন্ড প্রকল্প এবং এটি একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার ব্যয় ধরা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব দূর হবে এবং কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান করা সম্ভব হবে। জলবিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, নৌ-যোগাযোগ উন্নত হবে এবং মৎস্য উন্নয়ন ঘটবে, পাশাপাশি জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পাবনা, রাজবাড়ীসহ ১৯ জেলার চিত্র পরিবর্তিত হবে।

এ সময় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পাবনা-৫ আসনের সাংসদ সদস্য এড. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সাংসদ সদস্য একেএম সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিচালক হাসান মাহমুদ, জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আদর্শ প্রশিক্ষকের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন আনসার মহাপরিচালক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৭ পি.এম


আদর্শ প্রশিক্ষকের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন আনসার মহাপরিচালক

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ দক্ষ ও উৎপাদনশীল জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা, নৈতিক আদর্শ এবং প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রশিক্ষকদের নিজেদের যোগ্যতা ও নৈতিক আদর্শের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের সামনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে কর্মরত প্রশিক্ষকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দিকনির্দেশনামূলক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মহাপরিচালক আরও বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে প্রশিক্ষকদের নিজেদের সুপ্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে তুলতে হবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় পরিহার করে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, ব্যবহারিক দক্ষতা ও আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে অভিভাবকসুলভ সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একজন আদর্শ প্রশিক্ষকের সফলতা হলো নিজের চেয়ে দক্ষ ও আদর্শবান জনবল তৈরি করা।

বাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আধুনিকায়নের বিষয়ে তিনি জানান, পিটি, ড্রিল ও অস্ত্রচালনা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সময়োপযোগী কারিগরি, কর্মমুখী ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বিবেচনায় একাডেমিতে 6G ওয়েল্ডিং, মেসন, শাটারিং, মোটর ড্রাইভিং, জাপানি ভাষা ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।

মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, দেশের বিশাল যুবসমাজকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তর করা সময়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। জনকেন্দ্রিক বাহিনী হিসেবে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সামাজিক উন্নয়ন, গ্রামীণ অগ্রগতি ও আর্থসামাজিক সমৃদ্ধিতে অবদান রেখে চলেছে। ১৯৭৬ সালে গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) গঠনের মধ্য দিয়ে বাহিনীর কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা, স্বেচ্ছাশ্রম ও নিঃস্বার্থ জনসেবার মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছেন।

বাহিনীর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, ‘আমাদের সদস্যরা এক হাতে অস্ত্র ধারণ করে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, অন্য হাতে অংশ নেবে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে।’

তিনি তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অপরাধ প্রতিরোধে সদস্যদের সতর্ক ও সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেন। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া, তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে জনগণের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

মহাপরিচালক আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আধুনিক ও বহুমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে ওঠা দক্ষ জনশক্তি দেশের নিরাপত্তা, উৎপাদনশীলতা ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সদস্যদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে সহায়ক হবে। প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রমের সমন্বয়ে বাহিনীকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ, একাডেমির কমান্ড্যান্ট ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. সাইফুল্লাহ রাসেলসহ বাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%